📄 হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-এর ইমামতি
ধীরে ধীরে রোগ এত বৃদ্ধি পেল, তিনি মসজিদে যাওয়ার শক্তিও হারিয়ে ফেললেন। তাই তিনি বললেন, সিদ্দিকে আকবারকে বললেন, তিনি যেন নামাযের ইমামতি করেন। হযরত সিদ্দিকে আকবার আনুমানিক ১৭ ওয়াক্ত নামাযের ইমামতি করেন। ঘটনাক্রমে একদিন সিদ্দীকে আকবার রাযি. ও আব্বাস রাযি. আনসারদের এক সমাবেশের নিকট দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় দেখলেন, তারা কাঁদছেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন- হুযুরের মজলিসের কথা স্মরণ করে আমরা কাঁদছি। হযরত আব্বাস রাযি. এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৌঁছিয়ে দিলে তিনি একদিন আলি রাযি. ও হযরত ফযল রাযি.-এর কাঁধের উপর ভর দিয়ে বাইরে তাশরিরফ আনলেন। তখন হযরত আব্বাস রাযি. আগে আগে চলছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে প্রথম সিঁড়িতেই বসে পড়েন আর উপরে উঠতে পারছিলেন না।
ধীরে ধীরে রোগ এত বৃদ্ধি পেল, তিনি মসজিদে যাওয়ার শক্তিও হারিয়ে ফেললেন। তাই তিনি বললেন, সিদ্দিকে আকবারকে বললেন, তিনি যেন নামাযের ইমামতি করেন। হযরত সিদ্দিকে আকবার আনুমানিক ১৭ ওয়াক্ত নামাযের ইমামতি করেন। ঘটনাক্রমে একদিন সিদ্দীকে আকবার রাযি. ও আব্বাস রাযি. আনসারদের এক সমাবেশের নিকট দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় দেখলেন, তারা কাঁদছেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন- হুযুরের মজলিসের কথা স্মরণ করে আমরা কাঁদছি। হযরত আব্বাস রাযি. এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৌঁছিয়ে দিলে তিনি একদিন আলি রাযি. ও হযরত ফযল রাযি.-এর কাঁধের উপর ভর দিয়ে বাইরে তাশরিরফ আনলেন। তখন হযরত আব্বাস রাযি. আগে আগে চলছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে প্রথম সিঁড়িতেই বসে পড়েন আর উপরে উঠতে পারছিলেন না।
📄 শেষ নবীর শেষ ভাষণ
“হে মানবমণ্ডলী! আমি জানতে পেরেছি, তোমরা তোমাদের নবীর মৃত্যুর ব্যাপারে শঙ্কিত। আমার পূর্বে কি আর কোনো নবী চিরঞ্জীব ছিলেন, আমিও তদ্রুপ হব? আমি আমার পালনকর্তার (রবের) সাথে মিলিত হতে চলে যাব। আর তোমরাও আমার সাথে মিলিত হবে। তোমাদের মিলন কেন্দ্র হবে "হাউজে কাউসার"। সুতরাং যার আকাঙ্ক্ষা আছে কেয়ামতের দিন হাউজে কাউসার থেকে পানি পান করে তৃপ্ত হবে, সে যেন স্বীয় হাত ও যবানকে অনর্থক ও অহেতুক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে। আমি তোমাদেরকে "মুহাজির" ভাইদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার উপদেশ দিচ্ছি। আর মুহাজিররা যেন পরস্পরে ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে চলে। মানুষ যদি আল্লাহর হুকুম মেনে চলে তাহলে তাদের শাসকবর্গও তাদের সাথে ইনসাফ করেন, আর যদি তারা স্বীয় পরওয়ারদেগার-এর নাফরমান ও অবাধ্য হয় তাহলে শাসকগণও তাদের উপর নির্দয় আচরণ করেন।
অতঃপর তিনি ঘরে তাশরিফ নিয়ে গেলেন। মৃত্যুর পাঁচ দিন বা তিন দিন পূর্বে পুনরায় একবার ঘর থেকে বের হন, তখন তাঁর মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. তখন নামাযের ইমামতি করছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে পেছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হাতের ইশারায় নিষেধ করলেন এবং নিজে আবু বকর রাযি. বাম পাশে বসে গেলেন। অতঃপর নামায শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন: “আবু বকর আমার সবচেয়ে বেশি হিতাকাঙ্খী। আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কাউকে খলীল বা প্রকৃত বন্ধু বানাতাম তাহলে আবু বকরকেই বানাতাম। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আমার কোনো খলীল বা প্রকৃত বন্ধু নেই। তাই আবু বকর আমার দোস্ত ও ভাই। তিনি আরো বলেন: মসজিদের দিকে যত লোকের (ঘরের) দরজা আছে আবু বকর এর দরজা ব্যতীত অন্য সবারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক।"
টিকাঃ
১. ফাতহুল বারী: ৩৫৬
“হে মানবমণ্ডলী! আমি জানতে পেরেছি, তোমরা তোমাদের নবীর মৃত্যুর ব্যাপারে শঙ্কিত। আমার পূর্বে কি আর কোনো নবী চিরঞ্জীব ছিলেন, আমিও তদ্রুপ হব? আমি আমার পালনকর্তার (রবের) সাথে মিলিত হতে চলে যাব। আর তোমরাও আমার সাথে মিলিত হবে। তোমাদের মিলন কেন্দ্র হবে "হাউজে কাউসার"। সুতরাং যার আকাঙ্ক্ষা আছে কেয়ামতের দিন হাউজে কাউসার থেকে পানি পান করে তৃপ্ত হবে, সে যেন স্বীয় হাত ও যবানকে অনর্থক ও অহেতুক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে। আমি তোমাদেরকে "মুহাজির" ভাইদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার উপদেশ দিচ্ছি। আর মুহাজিররা যেন পরস্পরে ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে চলে। মানুষ যদি আল্লাহর হুকুম মেনে চলে তাহলে তাদের শাসকবর্গও তাদের সাথে ইনসাফ করেন, আর যদি তারা স্বীয় পরওয়ারদেগার-এর নাফরমান ও অবাধ্য হয় তাহলে শাসকগণও তাদের উপর নির্দয় আচরণ করেন।
অতঃপর তিনি ঘরে তাশরিফ নিয়ে গেলেন। মৃত্যুর পাঁচ দিন বা তিন দিন পূর্বে পুনরায় একবার ঘর থেকে বের হন, তখন তাঁর মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. তখন নামাযের ইমামতি করছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে পেছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হাতের ইশারায় নিষেধ করলেন এবং নিজে আবু বকর রাযি. বাম পাশে বসে গেলেন। অতঃপর নামায শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন: “আবু বকর আমার সবচেয়ে বেশি হিতাকাঙ্খী। আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কাউকে খলীল বা প্রকৃত বন্ধু বানাতাম তাহলে আবু বকরকেই বানাতাম। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আমার কোনো খলীল বা প্রকৃত বন্ধু নেই। তাই আবু বকর আমার দোস্ত ও ভাই। তিনি আরো বলেন: মসজিদের দিকে যত লোকের (ঘরের) দরজা আছে আবু বকর এর দরজা ব্যতীত অন্য সবারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক।"
টিকাঃ
১. ফাতহুল বারী: ৩৫৬
📄 নবীজীর অন্তিম বাণীসমূহ
রবিউল আউয়ালের ২ তারিখ সোমবার লোকেরা ফজরের নামায হযরত আবু বকর সিদ্দিীক রাযি.-এর পেছনে আদায় করছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কামরার পর্দা উঠিয়ে লোকদের দেখলেন এবং মুচকি হাসলেন। হযরত সিদ্দিকে আকবার এটা দেখে পেছনে সরে যাচ্ছিলেন এবং আনন্দের আতিশয্যে সাহাবায়ে কিরামের মনও বিক্ষিপ্ত হতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাতের ইশারায় বললেন তুমিই নামায পূর্ণ কর। এ বলে তিনি পর্দা ছেড়ে দিয়ে ভেতরে চলে গেলেন। এরপর আর কখনো ঘর থেকে বের হন নি। সেদিনই তিনি যোহরের নামাযের পর এ নশ্বর জগৎ ত্যাগ করে পরম বন্ধু আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হয়ে যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুখারী শরীফের সঠিক বর্ণনা অনুযায়ী তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর মাত্র।
ইনতেকালের তারিখ নিয়ে প্রচলিত মত হল ১২ ই রবিউল আউয়াল মৃত্যু হয়। কিন্তু গণনা অনুযায়ী তারিখ ২রা রবিউল আউয়াল। হাফেয ইবনে হাজার রহ. সহি বুখারীর শরাহর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার পর বলেছেন, তারিখ ২রা রবিউল আউয়াল। অনুলিখনের ভুলে ২ এর জায়গায় ১২ হয়ে গেছে। হাফেয মুগলতাঈ ২ তারিখকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন-অন্তিম রোগ শয্যায় শায়িত অবস্থায় কখনো কখনো চেহারা মোবারক থেকে চাদর উঠিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন- ইহুদি খৃস্টানদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত এজন্য পতিত হয়েছিল যে তারা তাদের নবীদের কবর সমূহকে সিজদার স্থান বানিয়েছিল। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাদের দিকে তাকিয়ে বলছিলেন: “হে আল্লাহ আমি রফীকে আলা বা পরম বন্ধুকে পছন্দ করি।” কোনো কোনো বর্ণনায় আছে: অন্তিম মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে যতক্ষণ আওয়াজ শোনা গিয়েছে ততক্ষণ ‘আসসালাতু আসসালাতু’ (তোমরা নামাযে অবহেলা করো না) এ বাক্যসমূহই জারি ছিল। ইমাম বায়হাকী রহ. হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাযি. থেকে বর্ণনা করেন: মুখে “নামায ও ওই সমস্ত লোকদের হক বা দায়িত্বের প্রতি ভালো করে খেয়াল রাখবে, যারা তোমাদের অধীন” এই বাক্যটি উচ্চারিত হচ্ছিল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের সংবাদ সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সকলে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। হযরত সিদ্দীকে আকবার রাযি. সেখানে উপস্থি হয়ে সকলকে ধৈর্য্যধারণের উপদেশ দিয়ে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দান করেন। ভাষণে তিনি বলেন- "যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইবাদত করত তারা জেনে রাখুক যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইনতেকাল করেছেন। আর যারা মহান রাব্বুল আলামীনের ইবাদত করত তারা জেনে রাখুক তিনি "চিরঞ্জীব সর্বদা বিরাজমান তিনি এখনো জীবিত আছেন।"
সোমবার দিনের বাকি অংশসহ বুধবার রাত পর্যন্ত কাফন-দাফনে বিলম্ব হয়ে যায়। বুধবার রাত্রে হযরত আলি রাযি. ও আব্বাস রাযি. প্রমুখ সাহাবায়ে কিরাম দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোসল ও কাফন কার্য সম্পাদনের পর তাঁর নামাযে জানাযা পড়া হয়। হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী হযরত আয়েশা রাযি. এর গৃহের ওই স্থানে কবর খনন করা হয় যেখানে তিনি ইনতেকাল করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর খনন করেন হযরত আবু তালহা রাযি.। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কবর শরীফে অবতরণ করান হযরত আলি ও আব্বাস রাযি. প্রমুখ সাহাবাগণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর শরীফ অর্ধহাত পরিমাণ উঁচু রাখা হয়।
রবিউল আউয়ালের ২ তারিখ সোমবার লোকেরা ফজরের নামায হযরত আবু বকর সিদ্দিীক রাযি.-এর পেছনে আদায় করছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কামরার পর্দা উঠিয়ে লোকদের দেখলেন এবং মুচকি হাসলেন। হযরত সিদ্দিকে আকবার এটা দেখে পেছনে সরে যাচ্ছিলেন এবং আনন্দের আতিশয্যে সাহাবায়ে কিরামের মনও বিক্ষিপ্ত হতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাতের ইশারায় বললেন তুমিই নামায পূর্ণ কর। এ বলে তিনি পর্দা ছেড়ে দিয়ে ভেতরে চলে গেলেন। এরপর আর কখনো ঘর থেকে বের হন নি। সেদিনই তিনি যোহরের নামাযের পর এ নশ্বর জগৎ ত্যাগ করে পরম বন্ধু আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হয়ে যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুখারী শরীফের সঠিক বর্ণনা অনুযায়ী তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর মাত্র।
ইনতেকালের তারিখ নিয়ে প্রচলিত মত হল ১২ ই রবিউল আউয়াল মৃত্যু হয়। কিন্তু গণনা অনুযায়ী তারিখ ২রা রবিউল আউয়াল। হাফেয ইবনে হাজার রহ. সহি বুখারীর শরাহর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার পর বলেছেন, তারিখ ২রা রবিউল আউয়াল। অনুলিখনের ভুলে ২ এর জায়গায় ১২ হয়ে গেছে। হাফেয মুগলতাঈ ২ তারিখকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন-অন্তিম রোগ শয্যায় শায়িত অবস্থায় কখনো কখনো চেহারা মোবারক থেকে চাদর উঠিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন- ইহুদি খৃস্টানদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত এজন্য পতিত হয়েছিল যে তারা তাদের নবীদের কবর সমূহকে সিজদার স্থান বানিয়েছিল। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাদের দিকে তাকিয়ে বলছিলেন: “হে আল্লাহ আমি রফীকে আলা বা পরম বন্ধুকে পছন্দ করি।” কোনো কোনো বর্ণনায় আছে: অন্তিম মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে যতক্ষণ আওয়াজ শোনা গিয়েছে ততক্ষণ ‘আসসালাতু আসসালাতু’ (তোমরা নামাযে অবহেলা করো না) এ বাক্যসমূহই জারি ছিল। ইমাম বায়হাকী রহ. হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাযি. থেকে বর্ণনা করেন: মুখে “নামায ও ওই সমস্ত লোকদের হক বা দায়িত্বের প্রতি ভালো করে খেয়াল রাখবে, যারা তোমাদের অধীন” এই বাক্যটি উচ্চারিত হচ্ছিল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের সংবাদ সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সকলে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। হযরত সিদ্দীকে আকবার রাযি. সেখানে উপস্থি হয়ে সকলকে ধৈর্য্যধারণের উপদেশ দিয়ে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দান করেন। ভাষণে তিনি বলেন- "যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইবাদত করত তারা জেনে রাখুক যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইনতেকাল করেছেন। আর যারা মহান রাব্বুল আলামীনের ইবাদত করত তারা জেনে রাখুক তিনি "চিরঞ্জীব সর্বদা বিরাজমান তিনি এখনো জীবিত আছেন।"
সোমবার দিনের বাকি অংশসহ বুধবার রাত পর্যন্ত কাফন-দাফনে বিলম্ব হয়ে যায়। বুধবার রাত্রে হযরত আলি রাযি. ও আব্বাস রাযি. প্রমুখ সাহাবায়ে কিরাম দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোসল ও কাফন কার্য সম্পাদনের পর তাঁর নামাযে জানাযা পড়া হয়। হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী হযরত আয়েশা রাযি. এর গৃহের ওই স্থানে কবর খনন করা হয় যেখানে তিনি ইনতেকাল করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর খনন করেন হযরত আবু তালহা রাযি.। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কবর শরীফে অবতরণ করান হযরত আলি ও আব্বাস রাযি. প্রমুখ সাহাবাগণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর শরীফ অর্ধহাত পরিমাণ উঁচু রাখা হয়।
📄 নবীজীর চরিত্র
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকলের চেয়ে বেশি সাহসী বীর ও সবচেয়ে বেশি দানশীল। তাঁর কাছে কেউ কিছু চাইলে সাথে সাথে তা দান করে দিতেন। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি ধৈর্য্যশীল ও সহনশীল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকলের চেয়ে বেশি লজ্জাশীল। তাঁর দৃষ্টি কখনো কারো চেহারার উপর স্থির হয়ে থাকত না। নিজের ব্যক্তিগত কোন ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না এবং রাগান্বিতও হতেন না। কিন্তু দীনের ব্যাপারে কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ (সীমালঙ্গন) তিনি সহ্য করতে পারতেন না। যখন তাকে দুটি কাজের কোনো একটি করার অধিকার দেওয়া হত তখন তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। তিনি শসা এবং খরবুষা ফল খেজুরের সঙ্গে মিশিয়ে খেতেন।
হযরত আবু হোরায়রা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ জীবনভর কখনো যবের রুটি পেট ভরে আহার করেন নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারে কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হত, দু মাস যাবত চুলায় আগুন জ্বালানোর সুযোগ হত না। তিনি নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন এবং নিজের কাপড়ে নিজেই তালি লাগাতেন। ধনী বা গরীব হোক যে কেউ তাকে দাওয়াত দিলে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করতেন। সর্বদা আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন ও অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতেন। সুঘ্রাণ ছিল তাঁর পছন্দনীয়। হিজরত পরবর্তী নয় বছরের সাহচর্যে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র ছিল আল-কুরআন। হযরত আনাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর শরীর মোবারকের সৌরভের ন্যায় এত উত্তম অন্য কোন সৌরভের ঘ্রাণ আমি গ্রহণ করি নি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকলের চেয়ে বেশি সাহসী বীর ও সবচেয়ে বেশি দানশীল। তাঁর কাছে কেউ কিছু চাইলে সাথে সাথে তা দান করে দিতেন। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি ধৈর্য্যশীল ও সহনশীল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকলের চেয়ে বেশি লজ্জাশীল। তাঁর দৃষ্টি কখনো কারো চেহারার উপর স্থির হয়ে থাকত না। নিজের ব্যক্তিগত কোন ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না এবং রাগান্বিতও হতেন না। কিন্তু দীনের ব্যাপারে কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ (সীমালঙ্গন) তিনি সহ্য করতে পারতেন না। যখন তাকে দুটি কাজের কোনো একটি করার অধিকার দেওয়া হত তখন তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। তিনি শসা এবং খরবুষা ফল খেজুরের সঙ্গে মিশিয়ে খেতেন।
হযরত আবু হোরায়রা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ জীবনভর কখনো যবের রুটি পেট ভরে আহার করেন নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারে কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হত, দু মাস যাবত চুলায় আগুন জ্বালানোর সুযোগ হত না। তিনি নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন এবং নিজের কাপড়ে নিজেই তালি লাগাতেন। ধনী বা গরীব হোক যে কেউ তাকে দাওয়াত দিলে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করতেন। সর্বদা আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন ও অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতেন। সুঘ্রাণ ছিল তাঁর পছন্দনীয়। হিজরত পরবর্তী নয় বছরের সাহচর্যে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র ছিল আল-কুরআন। হযরত আনাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর শরীর মোবারকের সৌরভের ন্যায় এত উত্তম অন্য কোন সৌরভের ঘ্রাণ আমি গ্রহণ করি নি।