📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সারিয়ায়ে উসামা

📄 সারিয়ায়ে উসামা


মক্কা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর একাদশ হিজরির ২৬ সফর রোজ সোমবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোমানদের সাথে জিহাদের জন্য সিদ্দিক আকবার রাযি. ফারুকে আযম রাযি. ও আবু উবায়দা রাযি. এর মতো শীর্ষ স্থানীয় সাহাবীদের সমন্বয়ে এক বাহিনী গঠন করেন। সে বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন হযরত উসামা রাযি। এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর প্রেরিত সর্বশেষ অভিযান যার ব্যবস্থাপনা তিনি নিজেই করেছিলেন। এ বাহিনী রওনা করার পূর্বেই তিনি জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়েন।

মক্কা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর একাদশ হিজরির ২৬ সফর রোজ সোমবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোমানদের সাথে জিহাদের জন্য সিদ্দিক আকবার রাযি. ফারুকে আযম রাযি. ও আবু উবায়দা রাযি. এর মতো শীর্ষ স্থানীয় সাহাবীদের সমন্বয়ে এক বাহিনী গঠন করেন। সে বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন হযরত উসামা রাযি। এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর প্রেরিত সর্বশেষ অভিযান যার ব্যবস্থাপনা তিনি নিজেই করেছিলেন। এ বাহিনী রওনা করার পূর্বেই তিনি জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়েন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 অন্তিম রোগ

📄 অন্তিম রোগ


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাদশ হিজরির ২৮ সফর বুধবার দিবাগত রাতে বাকিয়ে গারকাদ নামক কবরস্থানে গিয়ে কবরবাসীদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করেন। দুআ শেষে তিনি বলেন, হে কবরবাসী! তোমাদের কবরের বর্তমান অবস্থা মোবারক হোক। কেননা পৃথিবীতে এখন ফেৎনা ফাসাদ ছড়িয়ে পড়েছে। অতঃপর সেখান থেকে ফিরে আসতেই মাথা ব্যথা ও জ্বর শুরু হয়ে যায়। সহি বর্ণনা মতে এই জ্বর একাধারে তেরদিন স্থায়ী ছিল। এবং এ রোগেই তিনি ইনতেকাল করেন। এ সময়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী স্বীয় স্ত্রীগণের গৃহ পালাক্রমে পরিবর্তন করতে থাকেন। কিন্তু যখন রোগের মাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘ হয়ে গেল তখন অসুস্থতার দিনগুলো আয়েশা রাযি. গৃহে কাটানোর জন্য অন্যান্য বিবিগণের নিকট অনুমতি চাইলে সবাই অনুমতি দিয়ে দিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাদশ হিজরির ২৮ সফর বুধবার দিবাগত রাতে বাকিয়ে গারকাদ নামক কবরস্থানে গিয়ে কবরবাসীদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করেন। দুআ শেষে তিনি বলেন, হে কবরবাসী! তোমাদের কবরের বর্তমান অবস্থা মোবারক হোক। কেননা পৃথিবীতে এখন ফেৎনা ফাসাদ ছড়িয়ে পড়েছে। অতঃপর সেখান থেকে ফিরে আসতেই মাথা ব্যথা ও জ্বর শুরু হয়ে যায়। সহি বর্ণনা মতে এই জ্বর একাধারে তেরদিন স্থায়ী ছিল। এবং এ রোগেই তিনি ইনতেকাল করেন। এ সময়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী স্বীয় স্ত্রীগণের গৃহ পালাক্রমে পরিবর্তন করতে থাকেন। কিন্তু যখন রোগের মাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘ হয়ে গেল তখন অসুস্থতার দিনগুলো আয়েশা রাযি. গৃহে কাটানোর জন্য অন্যান্য বিবিগণের নিকট অনুমতি চাইলে সবাই অনুমতি দিয়ে দিলেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-এর ইমামতি

📄 হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-এর ইমামতি


ধীরে ধীরে রোগ এত বৃদ্ধি পেল, তিনি মসজিদে যাওয়ার শক্তিও হারিয়ে ফেললেন। তাই তিনি বললেন, সিদ্দিকে আকবারকে বললেন, তিনি যেন নামাযের ইমামতি করেন। হযরত সিদ্দিকে আকবার আনুমানিক ১৭ ওয়াক্ত নামাযের ইমামতি করেন। ঘটনাক্রমে একদিন সিদ্দীকে আকবার রাযি. ও আব্বাস রাযি. আনসারদের এক সমাবেশের নিকট দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় দেখলেন, তারা কাঁদছেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন- হুযুরের মজলিসের কথা স্মরণ করে আমরা কাঁদছি। হযরত আব্বাস রাযি. এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৌঁছিয়ে দিলে তিনি একদিন আলি রাযি. ও হযরত ফযল রাযি.-এর কাঁধের উপর ভর দিয়ে বাইরে তাশরিরফ আনলেন। তখন হযরত আব্বাস রাযি. আগে আগে চলছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে প্রথম সিঁড়িতেই বসে পড়েন আর উপরে উঠতে পারছিলেন না।

ধীরে ধীরে রোগ এত বৃদ্ধি পেল, তিনি মসজিদে যাওয়ার শক্তিও হারিয়ে ফেললেন। তাই তিনি বললেন, সিদ্দিকে আকবারকে বললেন, তিনি যেন নামাযের ইমামতি করেন। হযরত সিদ্দিকে আকবার আনুমানিক ১৭ ওয়াক্ত নামাযের ইমামতি করেন। ঘটনাক্রমে একদিন সিদ্দীকে আকবার রাযি. ও আব্বাস রাযি. আনসারদের এক সমাবেশের নিকট দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় দেখলেন, তারা কাঁদছেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন- হুযুরের মজলিসের কথা স্মরণ করে আমরা কাঁদছি। হযরত আব্বাস রাযি. এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৌঁছিয়ে দিলে তিনি একদিন আলি রাযি. ও হযরত ফযল রাযি.-এর কাঁধের উপর ভর দিয়ে বাইরে তাশরিরফ আনলেন। তখন হযরত আব্বাস রাযি. আগে আগে চলছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে প্রথম সিঁড়িতেই বসে পড়েন আর উপরে উঠতে পারছিলেন না।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 শেষ নবীর শেষ ভাষণ

📄 শেষ নবীর শেষ ভাষণ


“হে মানবমণ্ডলী! আমি জানতে পেরেছি, তোমরা তোমাদের নবীর মৃত্যুর ব্যাপারে শঙ্কিত। আমার পূর্বে কি আর কোনো নবী চিরঞ্জীব ছিলেন, আমিও তদ্রুপ হব? আমি আমার পালনকর্তার (রবের) সাথে মিলিত হতে চলে যাব। আর তোমরাও আমার সাথে মিলিত হবে। তোমাদের মিলন কেন্দ্র হবে "হাউজে কাউসার"। সুতরাং যার আকাঙ্ক্ষা আছে কেয়ামতের দিন হাউজে কাউসার থেকে পানি পান করে তৃপ্ত হবে, সে যেন স্বীয় হাত ও যবানকে অনর্থক ও অহেতুক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে। আমি তোমাদেরকে "মুহাজির" ভাইদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার উপদেশ দিচ্ছি। আর মুহাজিররা যেন পরস্পরে ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে চলে। মানুষ যদি আল্লাহর হুকুম মেনে চলে তাহলে তাদের শাসকবর্গও তাদের সাথে ইনসাফ করেন, আর যদি তারা স্বীয় পরওয়ারদেগার-এর নাফরমান ও অবাধ্য হয় তাহলে শাসকগণও তাদের উপর নির্দয় আচরণ করেন।

অতঃপর তিনি ঘরে তাশরিফ নিয়ে গেলেন। মৃত্যুর পাঁচ দিন বা তিন দিন পূর্বে পুনরায় একবার ঘর থেকে বের হন, তখন তাঁর মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. তখন নামাযের ইমামতি করছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে পেছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হাতের ইশারায় নিষেধ করলেন এবং নিজে আবু বকর রাযি. বাম পাশে বসে গেলেন। অতঃপর নামায শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন: “আবু বকর আমার সবচেয়ে বেশি হিতাকাঙ্খী। আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কাউকে খলীল বা প্রকৃত বন্ধু বানাতাম তাহলে আবু বকরকেই বানাতাম। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আমার কোনো খলীল বা প্রকৃত বন্ধু নেই। তাই আবু বকর আমার দোস্ত ও ভাই। তিনি আরো বলেন: মসজিদের দিকে যত লোকের (ঘরের) দরজা আছে আবু বকর এর দরজা ব্যতীত অন্য সবারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক।"

টিকাঃ
১. ফাতহুল বারী: ৩৫৬

“হে মানবমণ্ডলী! আমি জানতে পেরেছি, তোমরা তোমাদের নবীর মৃত্যুর ব্যাপারে শঙ্কিত। আমার পূর্বে কি আর কোনো নবী চিরঞ্জীব ছিলেন, আমিও তদ্রুপ হব? আমি আমার পালনকর্তার (রবের) সাথে মিলিত হতে চলে যাব। আর তোমরাও আমার সাথে মিলিত হবে। তোমাদের মিলন কেন্দ্র হবে "হাউজে কাউসার"। সুতরাং যার আকাঙ্ক্ষা আছে কেয়ামতের দিন হাউজে কাউসার থেকে পানি পান করে তৃপ্ত হবে, সে যেন স্বীয় হাত ও যবানকে অনর্থক ও অহেতুক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে। আমি তোমাদেরকে "মুহাজির" ভাইদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার উপদেশ দিচ্ছি। আর মুহাজিররা যেন পরস্পরে ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে চলে। মানুষ যদি আল্লাহর হুকুম মেনে চলে তাহলে তাদের শাসকবর্গও তাদের সাথে ইনসাফ করেন, আর যদি তারা স্বীয় পরওয়ারদেগার-এর নাফরমান ও অবাধ্য হয় তাহলে শাসকগণও তাদের উপর নির্দয় আচরণ করেন।

অতঃপর তিনি ঘরে তাশরিফ নিয়ে গেলেন। মৃত্যুর পাঁচ দিন বা তিন দিন পূর্বে পুনরায় একবার ঘর থেকে বের হন, তখন তাঁর মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. তখন নামাযের ইমামতি করছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে পেছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হাতের ইশারায় নিষেধ করলেন এবং নিজে আবু বকর রাযি. বাম পাশে বসে গেলেন। অতঃপর নামায শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন: “আবু বকর আমার সবচেয়ে বেশি হিতাকাঙ্খী। আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কাউকে খলীল বা প্রকৃত বন্ধু বানাতাম তাহলে আবু বকরকেই বানাতাম। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আমার কোনো খলীল বা প্রকৃত বন্ধু নেই। তাই আবু বকর আমার দোস্ত ও ভাই। তিনি আরো বলেন: মসজিদের দিকে যত লোকের (ঘরের) দরজা আছে আবু বকর এর দরজা ব্যতীত অন্য সবারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক।"

টিকাঃ
১. ফাতহুল বারী: ৩৫৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px