📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 বনি তামিম গোত্রের প্রতিনিধি দল

📄 বনি তামিম গোত্রের প্রতিনিধি দল


বনি তামীম গোত্রের লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলাপ-আলোচনার পর সম্মিলিতভাবে সকলেই মুসলমান হয়ে দেশে ফিরে যায়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 বনি সাদ বিন বকরের প্রতিনিধি দল

📄 বনি সাদ বিন বকরের প্রতিনিধি দল


এ প্রতিনিধি দলের নেতা ছিলেন যিমাম বিন সালাবা। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিভিন্ন বিষয়ের উপর বেশ কিছু প্রশ্ন করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিয়ে তাকে ইসলাম সম্পর্কিত সকল দ্বিধা-দ্বন্ধের অবসান ঘটিয়ে দেন। অতঃপর তিনি মুসলমান হয়ে নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে লোকদের মাঝে দীনের দাওয়াত দেন, যার ফলে গোত্রের সকলে মুসলমান হয়ে যায়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কিন্দা-এর প্রতিনিধি দল

📄 কিন্দা-এর প্রতিনিধি দল


সূরা সাফফাত-এর প্রথম কয়েকটি আয়াত শুনেই তাদের মনে ইসলাম স্থান করে নেয়।

বনি আবদুল কায়েসের প্রতিনিধি দল:
বনি আবদুল কায়েস গোত্রের লোকেরা পূর্বে ছিল খ্রিস্টান। অতঃপর সকলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে মুসলমান হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ইসলামের জরুরি বিষয়গুলোর ওপর তালিম দেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 বনি হানিফার প্রতিনিধি দল

📄 বনি হানিফার প্রতিনিধি দল


বনি হানিফার লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে মুসলমান হয়। এদের মধ্যে মুসায়লামাও অন্তর্ভূক্ত ছিল। মুসায়লামা পরবর্তীতে নবুয়তির দাবি করে এবং মুসায়লামা কায্যাব নামে প্রসিদ্ধ হয়। আর মিথ্যা নবুয়তের দাবি করার কারণেই সে হযরত সিদ্দীকে আকবার রা.-এর খেলাফতকালে সাহাবায়ে কেরামের হাতে সাথী-সঙ্গীসহ নিহত হয়।

উল্লেখ্য: মুসায়লামা কাযযাব নবুয়তের দাবি করার সময়ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কুরআন ও ইসলামের অস্বীকারকারী ছিল না। ইমামুল হাদীস ওয়াত তাফসির শায়খ আবু জাফর তাবারী স্বীয় ইতিহাস গ্রন্থে লিখেন, মুসায়লামা স্বীয় মুয়াযযিনকে আযানের মধ্যে اَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ বলার নির্দেশ দিয়েছিল।

কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর কোনো প্রকার নবুয়তের দাবিই বৈধ নয় বরং কুরআন হাদীস ও ইজমার অসংখ্য দলীল দ্বারা এ কথাই প্রমাণিত হয়, সাধারণভাবে নবুয়তের দাবিই খতমে নবুওয়তকে অস্বীকার করার নামান্তর। তাই সাহাবায়ে কেরামের সম্মিলিত মত এই, মুসায়লামা যে শরিয়তহীন নবী দাবি করেছে, তা কুফরী এবং ধর্ম ছেড়ে দিয়ে মুরতাদ হয়ে যাওয়ার শামিল এবং সাহাবায়ে কেরামের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই তার সাথে জিহাদ করা হয়েছিল। তার আযান, নামায ও কুরআন তিলাওয়াত তাদের কাফির বলা থেকে বিরত রাখেনি।

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর নবুয়তীর দাবি মুসায়লামার দাবি অপেক্ষা জঘন্যতম। তার অপরাধ শুধু এ নয় যে সে নিজেকে সকল নবীর চেয়ে উত্তম দাবি করে বরং অনেক নবীদের ব্যাপারে এমন দুঃখজনক ও অশালীন অবমাননাকর মন্তব্য করে, যা কোনো সভ্যলোকের পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ করে হযরত ঈসা আ.-কে সে নগ্ন ভাষায় এমন সব বাজারী গালি দিয়েছে যা শুনে কোন মুসলমানের পক্ষেই ধৈর্য্যধারণ করা সম্ভব নয়, যার সত্যতা খোদ তার রচিত কিতাব দ্বারা সকলেই যাচাই করে নিতে পারে।

এ ধরণের আরো অসংখ্য মুশরিকসুলভ দাবির প্রেক্ষিতে আলেমগণ সম্মিলিতভাবে যদি তার কুফরির ফতোয়া দেয়, এবং তার নামায, রোযা ও তাদের চিন্তা প্রসূত ইসলাম প্রচারের পরোয়া না করে তাহলে তা হবে সাহাবায়ে কেরামের আদর্শেরই পূর্ণ অনুসরণ। এ ব্যাপারে ওলামাদের সমালোচনা করা কোনো মতেই উচিত নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px