📄 তাবুক যুদ্ধ এবং ইসলামে চাঁদা প্রচলন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন। কিন্তু তখন দুর্ভিক্ষের কারণে মুসলমানরা ছিল অভাব-অনটন ও আর্থিক দৈন্যতার শিকার। তাছাড়া প্রচণ্ড গরম ছিল। এতদসত্বেও আত্মত্যাগী সাহাবায়ে কেরামের মাঝে শুরু হয়ে গেল জিহাদের পূর্ণ প্রস্তুতি। জিহাদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ শুরু হলে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ঘরের সমস্ত আসবাব এনে জমা দিলেন। হযরত উসমান রাযি. দিলেন যুদ্ধ উপকরণের এক বিপুল ভাণ্ডার। যার মধ্যে ছিল ৯ শ উট ও ১ শ ঘোড়া।
📄 কতিপয় মুজেযা
অভিযানে যাওয়ার পথে হযরত আবু যর গিফারি রাযি.-কে সকল থেকে পৃথক হয়ে একাকী পথ চলতে দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে পার্থিব জগত থেকে পৃথক হয়ে চলবে, পৃথক জীবন-যাপন করবে এবং জনপদ থেকে দূরে কোথাও পৃথক হয়েই মৃত্যুবরণ করবে। পরবর্তীতে ঠিক এমনই হয়েছিল। অভিযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটটি হারিয়ে গেলে তাঁকে অহির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, উটের লাগাম একটি গাছের সাথে অমুক স্থানে জড়িয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, ঘটনাটি ঠিক তদ্রুপই।
অবশেষে তাবুক গিয়ে দেখা গেল সেখানে মানুষের কোনো চিহ্নমাত্রও নেই। হিরাক্লিয়াস হেমস চলে গিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালেদ বিন ওয়ালিদকে উকাইদির নামক এক খ্রিস্টানের কাছে পাঠালেন এবং ভবিষ্যৎদ্বাণী স্বরূপ বললেন, তুমি রাত্রি বেলায় তার সাক্ষাৎ পাবে। খালিদ রাযি. সেখানে পৌঁছলে ঠিক এ ঘটনাই দেখতে পেলেন এবং তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে এলেন।
মুসলিম বাহিনী সেখানে ১৫/২০ দিন অবস্থান করেন। কিন্তু কোনো যুদ্ধ হয় নি। তাই ফিরে আসার মনস্থ করেন। এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সর্বশেষ যুদ্ধ। ৯ম হিজরির রমযান মাসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা এসে পৌঁছেন।
টিকাঃ
১. সীরাতে মুগলতাঈ: ৭৭
📄 মসজিদে যেরারে অগ্নিসংযোগ
মুতা অভিযান থেকে ফিরে আসার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের নামে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার উদ্দেশ্যে মুনাফিক কর্তৃক নির্মিত মসজিদে যেরারে অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দেন। মুসলমানদের সাথে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা তার নাম মসজিদ রেখেছিল। মসজিদে যেরার প্রকৃত পক্ষে কোনো মসজিদই ছিল না।
📄 দলে দলে ইসলাম গ্রহণ
হুদাইবিয়ার সন্ধির পর যখন রাস্তা নিরাপদ হয়ে গেল তখন ইসলাম ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করল। যার জন্য নিরাপদ পরিবেশেরই প্রয়োজন ছিল। আর এ কারণেই আসমানি দফতরে এ সন্ধিকে বিজয় নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও কিছু সংখ্যক লোক কুরাইশদের চাপের মুখে ইসলাম গ্রহণে সক্ষম হচ্ছিল না। মক্কা বিজয় এ সমস্যারও অবসান ঘটিয়ে দেয়। এদিকে কুরআন শরীফ আরবের ঘরে ঘরে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও স্বীয় অলৌকিক ক্ষমতা বলে সকলের হৃদয় মন জয় করে নেয়। যার ফলশ্রুতিতে যে সব লোক কোনো এক সময় ইসলাম ও মুসলমানদের চেহারা দেখতেও প্রস্তুত ছিল না, তারাই এখন দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে প্রতিনিধি দলের আকারে মহানবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে স্বেচ্ছায় উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ পূর্বক স্বীয় জান-মাল কোরবান করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এ সকল প্রতিনিধি দলের অধিকাংশই নবম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আগমন করেছিল।