📄 তাবুক যুদ্ধ, হজ্জুল ইসলাম, প্রতিনিধি দলের আগমন এবং দলে দলে ইসলাম গ্রহণ
তায়েফ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর নবম হিজরির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন, মুতার যুদ্ধে পরাজিত রোমানরা মুসলমানদের সাথে পুনরায় যুদ্ধের জন্য তাবুক নামক স্থানে (মদিনা থেকে ১৪ মনযিল দূরত্বে অবস্থিত) বিপুল সৈন্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে।
📄 তাবুক যুদ্ধ এবং ইসলামে চাঁদা প্রচলন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন। কিন্তু তখন দুর্ভিক্ষের কারণে মুসলমানরা ছিল অভাব-অনটন ও আর্থিক দৈন্যতার শিকার। তাছাড়া প্রচণ্ড গরম ছিল। এতদসত্বেও আত্মত্যাগী সাহাবায়ে কেরামের মাঝে শুরু হয়ে গেল জিহাদের পূর্ণ প্রস্তুতি। জিহাদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ শুরু হলে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ঘরের সমস্ত আসবাব এনে জমা দিলেন। হযরত উসমান রাযি. দিলেন যুদ্ধ উপকরণের এক বিপুল ভাণ্ডার। যার মধ্যে ছিল ৯ শ উট ও ১ শ ঘোড়া।
📄 কতিপয় মুজেযা
অভিযানে যাওয়ার পথে হযরত আবু যর গিফারি রাযি.-কে সকল থেকে পৃথক হয়ে একাকী পথ চলতে দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে পার্থিব জগত থেকে পৃথক হয়ে চলবে, পৃথক জীবন-যাপন করবে এবং জনপদ থেকে দূরে কোথাও পৃথক হয়েই মৃত্যুবরণ করবে। পরবর্তীতে ঠিক এমনই হয়েছিল। অভিযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটটি হারিয়ে গেলে তাঁকে অহির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, উটের লাগাম একটি গাছের সাথে অমুক স্থানে জড়িয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, ঘটনাটি ঠিক তদ্রুপই।
অবশেষে তাবুক গিয়ে দেখা গেল সেখানে মানুষের কোনো চিহ্নমাত্রও নেই। হিরাক্লিয়াস হেমস চলে গিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালেদ বিন ওয়ালিদকে উকাইদির নামক এক খ্রিস্টানের কাছে পাঠালেন এবং ভবিষ্যৎদ্বাণী স্বরূপ বললেন, তুমি রাত্রি বেলায় তার সাক্ষাৎ পাবে। খালিদ রাযি. সেখানে পৌঁছলে ঠিক এ ঘটনাই দেখতে পেলেন এবং তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে এলেন।
মুসলিম বাহিনী সেখানে ১৫/২০ দিন অবস্থান করেন। কিন্তু কোনো যুদ্ধ হয় নি। তাই ফিরে আসার মনস্থ করেন। এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সর্বশেষ যুদ্ধ। ৯ম হিজরির রমযান মাসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা এসে পৌঁছেন।
টিকাঃ
১. সীরাতে মুগলতাঈ: ৭৭
📄 মসজিদে যেরারে অগ্নিসংযোগ
মুতা অভিযান থেকে ফিরে আসার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের নামে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার উদ্দেশ্যে মুনাফিক কর্তৃক নির্মিত মসজিদে যেরারে অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দেন। মুসলমানদের সাথে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা তার নাম মসজিদ রেখেছিল। মসজিদে যেরার প্রকৃত পক্ষে কোনো মসজিদই ছিল না।