📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হুনাইনের যুদ্ধ

📄 হুনাইনের যুদ্ধ


মক্কা বিজয়ের পর সাধারণভাবে আরবরা ইসলাম কবুল করে। কেননা তাদের অধিকাংশ ছিল সে সব লোক যারা ইসলামের সত্যতার ওপর পূর্ণ বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও কুরাইশদের প্রতিপত্তির ভয়ে প্রকাশ্যে মুসলমান হওয়া থেকে বিরত ছিল এবং মক্কা বিজয়ের অপেক্ষায় ছিল। মক্কা বিজয়ের পর তারা সকলে দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিল। অবশিষ্ট আরবদের আর ইসলামের মোকাবেলা করার মতো দুঃসাহস বাকি থাকল না। অবশ্য হাওয়াযিন ও সাকিফ গোত্রদ্বয় নিজস্ব আত্মমর্যাদাবোধের কারণে মুসলমানদের সাথে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ হয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি ১২ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী যুদ্ধের জন্য সমবেত করলেন। যাদের মধ্যে দশ হাজার ছিলেন আনসার ও মুহাজির যারা মক্কা বিজয়ের সময় সঙ্গে ছিলেন। আর দু হাজার সেসব নও মুসলিম যারা মক্কা বিজয়ের সময় মুসলমান হয়েছিলেন।

এটা ছিল ইসলামি বাহিনীর তখনকার সময় পর্যন্ত সর্ববৃহৎ সংখ্যা। অষ্টম হিজরির ৬ শাওয়াল আল্লাহর এ বাহিনী যুদ্ধের জন্য রওনা হয়। তারা যখন হুনাইন উপত্যকার কাছে পৌঁছলেন তখন পাহাড়ের ঘাটিতে লুকিয়ে থাকা শত্রু সেনারা অতর্কিতভাবে মুসলমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তখনো যেহেতু মুসলিম বাহিনী নিজেদের সৈন্যদের কাতার বিন্যাসও করে নি তাই ইসলামি সৈন্যের অগ্রভাগ প্রথমে কিছুটা পিছু হটতে লাগল। এ পিছু হটার বাহ্যিক কারণ যদিও মুসলিম বাহিনীর কাতার বিন্যাসের অপ্রস্তুতিকে দায়ি করা হয়, কিন্তু তার প্রকৃতকারণ ওটাই যেদিকে পবিত্র কুরআনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মুসলমানরা তখন তাদের চিরাচরিত অভ্যাসের বিপরীত নিজস্ব সংখ্যাধিক্য ও সাজ-সরঞ্জাম দেখে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন। কোনো কোনো সাহাবা এমনকি হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি.-এর মুখ দিয়েও একথা বের হয়েছিল, "আজ আমরা কোনো মতেই পরাজিত হতে পারি না।”

তাই মহান রাব্বুল আলামিন তাদেরকে সতর্ক করার জন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। যেন মুসলমানরা বুঝতে সক্ষম হয়, আমাদের যুদ্ধের হার-জিতটা বাহুবল আর তীর-তলোয়ারের খেলা নয়। বরং তা তো একমাত্র আল্লাহ পাকেরই হাতে। নার্গিসের কি শক্তি আছে বলো, মাতাল করে মোরে আড়ালে তার যে আছে বিরাজ, স্মরি তারই জোরে। বদরের যুদ্ধে নিরস্ত্র অবস্থায় মুসলিম বাহিনীর মহান বিজয় আর হুনাইনে (ব্যাপক সমরাস্ত্র ও সংখ্যাধিক্য সত্ত্বেও প্রথমে) পরাজয় বরণের রহস্য এটিই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দুটি বর্ম পরিহিত অবস্থায় দুলদুল নামক একটি সাদা খচ্চরের ওপর আরোহী ছিলেন। মুসলিম সেনাদেরকে পিছু হটতে দেখে হুযুরের নির্দেশে হযরত আব্বাস রাযি. এক বীরত্বপূর্ণ আওয়াজ দিতে বলেন। যা শুনে সকলের স্খলিত পা পুনরায় জমে গেল এবং উভয় পক্ষে ঘোরতর লড়াই শুরু হয়ে গেল।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 একটি মুজেযা

📄 একটি মুজেযা


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুষ্টি মাটি নিয়ে শত্রুবাহিনীর দিকে নিক্ষেপ করলেন। আল্লাহর কুদরত সে মাটিকে বিরোধী শিবিরের প্রতিটি সৈন্যের চোখে এমনভাবে পৌঁছিয়ে দিলেন, একজনও এ থেকে রক্ষা পেল না। (মুগলতাই: ৭২) অবশেষে শত্রুবাহিনী ভীত সন্ত্রস্ত ও পরাজিত হয়ে পলায়ন করে। মুসলমানরা প্রতিশোধের স্পৃহায় বাচ্চা এবং মহিলাদের প্রতি হস্ত প্রসারিত করতে উদ্যত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজ থেকে তাদেরকে নিষেধ করলেন। (মুগলতাই: ৭২)

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 তায়েফ অভিযান

📄 তায়েফ অভিযান


এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফের প্রতি দৃষ্টি দিলেন। যেখানে ছিল হাওয়াযিন ও বনি সাকিফের কেন্দ্র। মুসলমানগণ আনুমানিক আঠার দিন পর্যন্ত তায়েফ অবরোধ করে রাখেন, কিন্তু তখনো বিজয় অর্জিত হল না। অতঃপর অবরোধ প্রত্যাহার করে সেখান থেকে ফিরে গেলেন। পথিমধ্যে জিরানা নামক স্থানে পৌঁছলে তায়েফের হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হুনাইনের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর হাতে তাদের বন্দীদের মুক্তি দান করার আবেদন জানায়, তাদের আবেদন মনযুর করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মুক্তি দিয়ে দেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ থেকে মদিনা ফিরে আসলে তায়েফের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাযির হয়ে মুসলমান হওয়ার আবেদন জানায় এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করে সকলেই ধন্য হয়। (মুগলতাই: ৭৪)

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ওমরায়ে জিরানা

📄 ওমরায়ে জিরানা


অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিরানা থেকেই ওমরা পালনের ইচ্ছা পোষণ করেন। ইহরাম বেঁধে মক্কা মুআযযমায় তাশরিফ নিয়ে যান এবং ওমরা শেষে পুনরায় মদিনায় ফিরে আসেন। অষ্টম হিজরির ৬ যিকদাহ মাসে তিনি মদিনা প্রবেশ করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px