📄 রাজা বাদশাদের কাছে দাওয়াতি পত্র প্রেরণ
এ সন্ধির ফলে রাস্তা নিরাপদ হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইচ্ছা করছিলেন হকের এ আওয়াজ বিশ্বের সকল রাজা-বাদশার কাছেও পৌঁছিয়ে দেবেন। সে হিসেবে আমর বিন উমাইয়াকে হাবশার বাদশা আসহামা নাজ্জাশীর নিকট পত্র দিয়ে তথায় প্রেরণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র পত্রখানির প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেন। প্রথমে তাকে চোখের সঙ্গে লাগালেন এবং সিংহাসন ছেড়ে নিচে নেমে মাটিতেই বসে পড়লেন এবং সন্তুষ্টচিত্তে ইসলাম কবুল করে নিলেন। নাজ্জাশী বাদশা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশাতেই ইনতেকাল করেন।
হযরত দাহইয়া কালবী রাযি. কে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে প্রেরণ করেন রোমসম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে। তিনিও অকাট্য দলিল প্রমাণাদি ও পূর্বের আসমানি কিতাব থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা জানতে পেরেছিলেন। তাই তিনি তৎক্ষণাত ইসলাম গ্রহণের সংকল্প নেন। কিন্তু তাঁর এ সিদ্ধান্তে প্রজাসাধারণ ক্ষেপে গেল। অতঃপর যখন তার এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেল, যদি আমি মুসলমান হয়ে যাই তাহলে এরা আমাকে ক্ষমতাচ্যূত করে ছাড়বে। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রইলেন।
হযরত আবদুল্লাহ বিন হুযায়ফা রাযি. কে দাওয়াতি পত্র দিয়ে ইরানের সম্রাট খসরু পারভেজের কাছে পাঠালেন। কিন্তু সে হতভাগা হুযুরের পবিত্র পত্রটির সঙ্গে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করল। সে পত্রটিকে ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি তার জন্য এ বলে বদদুআ করলেন, আল্লাহ তাআলা তার রাজ্যকেও টুকরা টুকরা করে দিন যেরূপ সে আমার পত্র ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলেছে। সাইয়েদুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআ বিফলে যাওয়ার নয়। অল্প দিন পরই খসরু পারভেজ তারই পুত্র শেরওয়ার হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়।
হযরত হাতেব বিন আবি বালতায়া রাযি.-কে মিশর ও ইস্কান্দারিয়ার (আলেকজান্দ্রিয়া) সম্রাট মুকাওকাসের কাছে প্রেরণ করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার হৃদয়েও ইসলামের সত্যতা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বিশ্বাস সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। ফলে তিনি হযরত হাতেব রাযি.-এর সঙ্গে উত্তম আচরণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কিছু উপঢৌকন পাঠিয়ে দেন। তন্মধ্যে মারিয়া কিবতিয়া নামে একজন বাদী ও দুলদুল নামে একটি খচ্চরও ছিল। অন্য এক বর্ণনায় আছে এক হাজার দীনার ও বিশ জোড়া জামাকাপড়ও ছিল।
হযরত আমর বিন আস রাযি. কে আম্মানের দুই সম্রাট অর্থাৎ জাইকার ও আবদুল্লাহর কাছে প্রেরণ করেন। তারাও ব্যক্তিগত অনুসন্ধান ও পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব পড়াশোনা করে রাসূলের নবুয়তের সত্যতা সম্পর্কে অবগত হন। তাই তারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকেই প্রজাদের কাছ থেকে যাকাত উসুল করে হযরত আমর বিন আস রাযি. এর কাছে জমা দেন।
📄 হযরত খালিদ ও আমর ইবনুল আস রাযি.-এর ইসলাম গ্রহণ
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ তখনো সব কটি জিহাদে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছিলেন। অধিকাংশ যুদ্ধে বিশেষ করে ওহুদ যুদ্ধে তারই কারণে কাফেরদের স্খলিত পা পুনরায় জমে গিয়েছিল। কিন্তু হুদাইবিয়ার সন্ধির পর তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে সফর করেন। পথিমধ্যে আমর ইবনুল আসের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে আলাপ-আলোচনায় জানতে পারলেন, তিনিও একই উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এরপর উভয়ে একত্রে এসে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হন।
টিকাঃ
১. ইসাবা