📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হোদায়বিয়ার সন্ধি, বাইয়াতে রিদওয়ান, রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ইসলামের দাওয়াত

📄 হোদায়বিয়ার সন্ধি, বাইয়াতে রিদওয়ান, রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ইসলামের দাওয়াত


ষষ্ঠ হিজরির যিলকদ মাসের প্রথম দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র মক্কা গমনের ইচ্ছায় ওমরা পালনের এহরাম বাঁধলেন। সাহাবাগণের এক বিরাট জামাত (যাদের সংখ্যা ১৪/১৫শ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফরসঙ্গী হলেন।

টিকাঃ
১. সীরাতে মুগলতাঈ

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 বাইয়াতে রিদওয়ান, রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ইসলামের দাওয়াত

📄 বাইয়াতে রিদওয়ান, রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ইসলামের দাওয়াত


হযরত উসমান রাযি. মক্কায় পৌঁছলে কুরাইশরা তাঁকে আটক করে ফেলল। এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়ল, কাফেররা হযরত উসমান রাযি.-কে হত্যা করে ফেলেছে। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি একটি বাবলা গাছের নিচে বসে সাহাবায়ে কেরামগের কাছ থেকে যুদ্ধের বাইআত নিলেন। এ বাইআতের কথা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ রয়েছে। একে বাইআতে রিযওয়ান নামে অভিহিত করা হয়। পরে জানা গেল, সংবাদটি মিথ্যা। বরং কুরাইশরা সাহাল বিন আমরকে সন্ধির শর্তাবলী চূড়ান্ত করার নিমিত্তে সেখানে প্রেরণ করেছে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হুদায়বিয়া

📄 হুদায়বিয়া


মক্কা মুআযযমা থেকে এক মনযিল দূরে অবস্থিত একটি কূপের নামানুসারে উক্ত গ্রামের নাম হুদাইবিয়া বলে প্রসিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় পৌঁছে অবস্থান নিলেন। সেখানে একটি কূপ ছিল সম্পূর্ণ শুষ্ক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতে তাতে এত বিপুল পানির উৎপত্তি হল যাতে সকলে তৃপ্তি সহকারে পানি পান করল। এখানে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উসমান রাযি. কে মক্কায় পাঠিয়ে দিলেন। কুরাইশদেরকে এ ব্যাপারে অবগত করা হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখন শুধুমাত্র বাইতুল্লাহ শরীফের যিয়ারত ও ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে আগমন করেছেন। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।

কুরাইশরা সাহাল বিন আমরকে সন্ধির শর্তাবলী চূড়ান্ত করার নিমিত্তে সেখানে প্রেরণ করল। উভয়পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিম্নের শর্তাবলী চূড়ান্ত হয় এবং দশ বছরের জন্য একটি সন্ধিপত্র লেখা হয়।

(১) মুসলমানরা এ বছর ফেরত চলে যাবে।
(২) পরবর্তী বছর শুধুমাত্র তিনদিন অবস্থান করে চলে যাবে।
(৩) সশস্ত্র অবস্থায় আসতে পারবে না। সঙ্গে তরবারি থাকলে তা কোষবদ্ধ অবস্থায় রাখতে হবে।
(৪) মক্কা থেকে কোন মুসলমানকে তাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে না। আর যদি কোনো মুসলমান মক্কায় থাকতে চায় তাহলে তাকে বাধা দিতে পারবে না। যদি কোনো ব্যক্তি মক্কা থেকে মদিনায় চলে যায় তাহলে তাকে কাফেরদের কাছে ফেরত দিতে হবে, আর মদিনা থেকে কোনো লোক মক্কায় চলে এলে কাফেররা তাকে হস্তান্তর করবে না।

এ সকল শর্ত যদিও মুসলমানদের বিপক্ষে ছিল এবং এ সন্ধি ছিল মুসলমানদের প্রকাশ্য পরাজয়সুলভ সন্ধি। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন একে প্রকাশ্য বিজয় নামে আখ্যা দিয়েছেন। এ সফরেই সূরা ফাতাহ অবতীর্ণ হয়। এভাবে নতি স্বীকারের মাধ্যমে সন্ধি করা ছিল সম্পূর্ণরূপে সাহাবায়ে কেরামের অপছন্দনীয়। হযরত ওমর ফারুক রাযি. বারবার তাঁর মনের অবস্থা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে পেশ করেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটাই আল্লাহর নির্দেশ এবং আমাদের ভবিষ্যতের সকল সফলতা এরই মধ্যে নিহিত রয়েছে। বাস্তবিকই পরবর্তী সকল ঘটনাবলী রহস্যাবৃত এ জটিলতার সকল জট খুলে দিল। কেননা সন্ধির ফলে তারা নির্বিঘ্নে মক্কা-মদিনার মধ্যে যাতায়াত শুরু করে দিলেন।

টিকাঃ
১. সীরাতে মুগলতাঈ

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 রাজা বাদশাদের কাছে দাওয়াতি পত্র প্রেরণ

📄 রাজা বাদশাদের কাছে দাওয়াতি পত্র প্রেরণ


এ সন্ধির ফলে রাস্তা নিরাপদ হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইচ্ছা করছিলেন হকের এ আওয়াজ বিশ্বের সকল রাজা-বাদশার কাছেও পৌঁছিয়ে দেবেন। সে হিসেবে আমর বিন উমাইয়াকে হাবশার বাদশা আসহামা নাজ্জাশীর নিকট পত্র দিয়ে তথায় প্রেরণ করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র পত্রখানির প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেন। প্রথমে তাকে চোখের সঙ্গে লাগালেন এবং সিংহাসন ছেড়ে নিচে নেমে মাটিতেই বসে পড়লেন এবং সন্তুষ্টচিত্তে ইসলাম কবুল করে নিলেন। নাজ্জাশী বাদশা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশাতেই ইনতেকাল করেন।

হযরত দাহইয়া কালবী রাযি. কে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে প্রেরণ করেন রোমসম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে। তিনিও অকাট্য দলিল প্রমাণাদি ও পূর্বের আসমানি কিতাব থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা জানতে পেরেছিলেন। তাই তিনি তৎক্ষণাত ইসলাম গ্রহণের সংকল্প নেন। কিন্তু তাঁর এ সিদ্ধান্তে প্রজাসাধারণ ক্ষেপে গেল। অতঃপর যখন তার এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেল, যদি আমি মুসলমান হয়ে যাই তাহলে এরা আমাকে ক্ষমতাচ্যূত করে ছাড়বে। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রইলেন।

হযরত আবদুল্লাহ বিন হুযায়ফা রাযি. কে দাওয়াতি পত্র দিয়ে ইরানের সম্রাট খসরু পারভেজের কাছে পাঠালেন। কিন্তু সে হতভাগা হুযুরের পবিত্র পত্রটির সঙ্গে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করল। সে পত্রটিকে ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি তার জন্য এ বলে বদদুআ করলেন, আল্লাহ তাআলা তার রাজ্যকেও টুকরা টুকরা করে দিন যেরূপ সে আমার পত্র ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলেছে। সাইয়েদুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআ বিফলে যাওয়ার নয়। অল্প দিন পরই খসরু পারভেজ তারই পুত্র শেরওয়ার হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়।

হযরত হাতেব বিন আবি বালতায়া রাযি.-কে মিশর ও ইস্কান্দারিয়ার (আলেকজান্দ্রিয়া) সম্রাট মুকাওকাসের কাছে প্রেরণ করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার হৃদয়েও ইসলামের সত্যতা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বিশ্বাস সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। ফলে তিনি হযরত হাতেব রাযি.-এর সঙ্গে উত্তম আচরণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কিছু উপঢৌকন পাঠিয়ে দেন। তন্মধ্যে মারিয়া কিবতিয়া নামে একজন বাদী ও দুলদুল নামে একটি খচ্চরও ছিল। অন্য এক বর্ণনায় আছে এক হাজার দীনার ও বিশ জোড়া জামাকাপড়ও ছিল।

হযরত আমর বিন আস রাযি. কে আম্মানের দুই সম্রাট অর্থাৎ জাইকার ও আবদুল্লাহর কাছে প্রেরণ করেন। তারাও ব্যক্তিগত অনুসন্ধান ও পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব পড়াশোনা করে রাসূলের নবুয়তের সত্যতা সম্পর্কে অবগত হন। তাই তারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকেই প্রজাদের কাছ থেকে যাকাত উসুল করে হযরত আমর বিন আস রাযি. এর কাছে জমা দেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px