📄 নবীজীর চেহারা মোবারক আহত হওয়া
কুরাইশদের প্রসিদ্ধ বীর আবদুল্লাহ ইবনে কামিয়াহ মুসলিম সেনাদের ব্যুহ অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারকের ওপর তলোয়ার মারল। যার ফলে শিরস্ত্রাণের দুটি কড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারকে ঢুকে গেল এবং একটি দাঁত মোবারক শহিদ হয়ে গেল।
হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. ক্ষতস্থান থেকে কড়া বের করার জন্য অগ্রসর হওয়া মাত্র আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাযি. কসম দিয়ে বললেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে খেদমতটুকু আমাকে করার সুযোগ দিন। তিনি সম্মুখে অগ্রসর হয়ে হাতের পরিবর্তে স্বীয় মুখ দ্বারা টান দিলে প্রথম বারে একটি কড়া বের হয়ে গেল বটে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই টানের প্রচণ্ডতায় আবু উবাইদার একটি দাঁত ভেঙ্গে গেল। এ দৃশ্য দেখে দ্বিতীয় কড়াটি বের করার জন্য হযরত সিদ্দীক আকবার রাযি. অগ্রসর হলে আবু উবাইদা রাযি. পুনরায় কসম খেয়ে তাকে বাধা দিয়ে নিজেই পূর্বের মতো মুখ দিয়ে দ্বিতীয় কড়াটি বের করে আনলেন এবং এর সঙ্গে সঙ্গে আবু উবাইদা রাযি.-এর আরো একটি দাঁত ভেঙ্গে গেল। এ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গর্তে পতিত হয়েছিলেন যা কাফেররা মুসলমানদের উদ্দেশ্যে খনন করেছিল।
📄 সাহাবীদের জীবন কুরবান
এ ভয়াবহ অবস্থা দেখে নিবেদিতপ্রাণ সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘিরে রাখলেন। চারদিক থেকে বৃষ্টির মত তীর ও তলোয়ারের আঘাত আসছিল। কিন্তু এ সকল আঘাত সাহাবাগণ নিজেদের উপর গ্রহণ করছিলেন। হযরত আবু দারদা রাযি. ঝুঁকে পড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ঢাল হয়ে গেলেন। যে সকল তীর আসছিল তা সব তাঁর পিঠে বিদ্ধ হচ্ছিল। হযরত তালহা রাযি. তীর এবং তলোয়ারকে স্বীয় শরীর পেতে ফেরাতে লাগলেন। তাতে তাঁর আঙুল কেটে পড়ে গেল। যুদ্ধের শেষে দেখা গেল, তাঁর শরীরে ৭০ টিরও বেশি জখম রয়েছে।
হযরত আবু তালহা রাযি. একটি ঢালের সাহায্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করছিলেন। তিনি যখন মাথা তুলে সৈন্যদের অবস্থা লক্ষ্য করতেন তখন হযরত আবু তালহা রাযি. বলতেন, আল্লাহর রাসূল, আপনি মাথা উঠাবেন না, শত্রু পক্ষের কোনো তীর এসে যেন আপনার শরীর মোবারকে না লাগে। এ জন্যে তো আপনার পূর্বে আমাদের শরীর প্রস্তুত আছে।
এক সাহাবী আরয করলেন, আল্লাহর রাসূল! আমি কতল হয়ে গেলে, আমার ঠিকানা কোথায় হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেন, "জান্নাতে"। তখন উক্ত সাহাবীর নিকট কিছু খেজুর ছিল যা তিনি খাচ্ছিলেন। কথা শোনামাত্র সেগুলো নিক্ষেপ করে সোজা রণক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তুমুল যুদ্ধ করতে করতে শহিদ হয়ে গেলেন।
হতভাগা কুরাইশরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করছিল। কিন্তু রাহমাতুলিল আলামীনের পবিত্র মুখে এ ভয়াবহ মুহূর্তেও এ ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হচ্ছিল- "হে আল্লাহ! আমার কওমকে মাফ করে দাও, কেননা তারা জানে না।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারক থেকে রক্ত ঝরছিল। আর দয়ার আধার কোনো কাপড় ইত্যাদি দ্বারা তা মুছতে মুছতে বলছিলেন: "এ রক্তের এক ফোঁটাও যদি জমিনে পতিত হত তবে সকলের উপর আল্লাহর শাস্তি নাযিল হয়ে যেত। এ যুদ্ধে কাফিরদের মাত্র ২২ কি ২৩ জন মারা যায় আর মুসলমানদের ৭০ জন শাহাদাত বরণ করেন।
টিকাঃ
১. কানযুল উম্মাল ৫/২৭৮
২. ফাতহুল বারী