📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত হাফসা ও যয়নাব রাযি. বিবাহ

📄 হযরত হাফসা ও যয়নাব রাযি. বিবাহ


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয় হিজরির শাবান মাসে উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা এবং রমযান মাসে হযরত যয়নব বিনতে খোযায়মাকে বিবাহ করেন।

টিকাঃ
১. সীরাতে মোগলতাই

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ওহুদ যুদ্ধ

📄 ওহুদ যুদ্ধ


ওহুদ মদিনার নিকটবর্তী একটি পাহাড়ের নাম। যে স্থানে ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং যেখানে হযরত হারুন আ.-কেও সমাহিত করা হয়েছিল। সর্বসম্মত মতানুসারে এ যুদ্ধ হিজরি তৃতীয় সনে শাওয়াল মাসে সংঘটিত হয়। তবে এর সঠিক তারিখ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। যেমন-৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ইত্যাদি।

বদর যুদ্ধে পরাজিত মুশরিকগণ এক বছর পর যুদ্ধে ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে উঠে কিছুটা শান্ত হলে তাদের মধ্যে পুনরায় প্রতিশোধের স্পৃহা বাড়তে লাগল। এবার তারা খুবই সতর্কতার সাথে মদিনা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত সমরোপকরণ ও রসদসহ তিন হাজার সৈন্য নিয়ে মদিনার দিকে অগ্রসর হতে লাগল। এ বাহিনীর মধ্যে ছিল তিন হাজার উট, সাতশ বর্ম, দুশ ঘোড়া এবং রণক্ষেত্রে যোদ্ধাদের আত্মমর্যাদা ও ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে যুদ্ধে উত্তেজিত করা এবং যদি পালায় তাহলে গালি ও অভিশাপ দিয়ে লজ্জা দান করার জন্য ১৪ জন মহিলা।

এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা হযরত আব্বাস রাযি. যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তিনি তখনও মক্কায়ই অবস্থান করছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ রণপ্রস্তুতির বিস্তারিত বর্ণনা লিখে একজন দ্রুতগামী দূতের মাধ্যমে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। তিনি এ সংবাদ পাওয়া মাত্রই দু ব্যক্তিকে সঠিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠালেন। তারা ফিরে এসে খবর দিল, কুরাইশ বাহিনী মদিনার উপকণ্ঠে পৌঁছে গেছে। যেহেতু শহরের উপর হামলা করার আশঙ্কা ছিল, তাই শহরের চতুর্দিকে পাহারার ব্যবস্থা করা হল। পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এক হাজার সাহাবীর এর বাহিনীসহ শহরের বাইরে তাশরিফ আনলেন। যার মধ্যে আবদুল্লাহ বিন উবাই মুনাফিকও ছিল। কিন্তু তারা সকলে রাস্তা থেকেই ফিরে গেল। যার ফলে মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা হয়ে গেল মাত্র সাত শ জন।

টিকাঃ
১. যুরকানী: ২/২০

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সৈন্য বিন্যস্তকরণ এবং অল্প বয়সী সাহাবাগণের জিহাদের আকাঙ্ক্ষা

📄 সৈন্য বিন্যস্তকরণ এবং অল্প বয়সী সাহাবাগণের জিহাদের আকাঙ্ক্ষা


মদিনা থেকে বেরিয়ে যখন সৈন্যদের যাচাই বাছাই করা হল তখন অল্প বয়স্ক বালকদের ফেরত পাঠান হল। কিন্তু ছেলেদের মধ্যে জিহাদের আগ্রহ ও স্পৃহা এত প্রবল ছিল, রাফে বিন খাদিজকে যখন বলা হল, "তোমার বয়স কম তুমি ফিরে যাও"। তখন তিনি পায়ের আঙ্গুলে ভর করে উঁচু হয়ে দাঁড়ালেন, যেন তাকে বড় মনে হয়। সুতরাং তাকে জিহাদে নিয়ে যাওয়া হল। এ ঘটনা দেখে সমবয়সী সামুরা বিন জুনদুব নামক এক বালক আরয করল, আমি তো রাফেকে কুস্তিতে হারিয়ে দেই। তাই তাকে যদি জিহাদে নেওয়া হয় তাহলে আমাকে তো বিনা দ্বিধায় নেওয়া উচিত। তার মন্তব্য অনুযায়ী উভয়কে কুস্তিতে লাগিয়ে দেওয়া হলে সামুরা রাফেকে হারিয়ে দিল এবং তাঁকেও জিহাদে নিয়ে নেওয়া হল।

রণাঙ্গনে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৈনিকদের কাতার ঠিক করলেন। ওহুদ পর্বতটি ছিল পেছনের দিকে। তাই সেদিক থেকে আক্রমণের আশঙ্কা ছিল বিধায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫০ জন লোককে পাহাড়ের ওপর প্রহরায় নিযুক্ত করে বললেন, "মুসলমানদের জয় পরাজয় যাই হোক না কেন তোমরা কোনো অবস্থায়ই নিজ স্থান ছাড়বে না।"

লড়াই শুরু হল এবং দীর্ঘক্ষণ তুমুল লড়াইয়ের পর শত্রুপক্ষ পিছু হটে গেলে মুসলমানদের বিজয় সম্ভাব্য হয়ে উঠল। তখন কুরাইশগণ দিশেহারা হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল এবং এদিকে মুসলমানগণ গনিমতের মাল সংগ্রহ করতে শুরু করে দিলেন। এ অবস্থা দেখে পেছন দিকে পাহাড়ের ওপর প্রহরায় নিয়োজিত ব্যক্তিগণও স্বীয় স্থান ত্যাগ করে গনিমতের মালের নিকট এলেন। তাদের আমীর আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাযি. বারবার নিষেধ করলেও তারা এখানে প্রহরায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই এ কথা মনে করে ঐ স্থান পরিত্যাগ করলেন এবং মাত্র কয়েকজন সাহাবী তথায় থেকে গেলেন।

এ অবস্থা দেখে খালেদ বিন ওয়ালিদ (যিনি তখনও মুসলমান হন নি, কাফেরদের পক্ষ হতে যুদ্ধ করছিলেন) পেছন দিক থেকে হঠাৎ হামলা করলেন। আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের এবং তার সাথে অবশিষ্ট সাথী-সঙ্গীরা তাদের সঙ্গে মরণপণ লড়াই করলেন। অবশেষে সকলেই শহিদ হয়ে গেলেন। তখন রাস্তা কন্টকমুক্ত হয়ে পড়ল এবং খালেদ বিন ওয়ালিদ তার সাথীদের নিয়ে মুসলমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। উভয় বাহিনী এমনভাবে মিশ্রিত হয়ে গেল, মুসলমানগণ নিজেরাই মুসলমানদের হাতে শহিদ হতে লাগলেন। মুসআব বিন উমায়ের রাযি. শহিদ হলেন। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারার সঙ্গে তাঁর চেহারার যথেষ্ট মিল ছিল, তাই তিনি শাহাদাতবরণ করলে এ কথা ছড়িয়ে পড়ল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শহিদ হয়ে গেছেন। কোনো কোনো বর্ণনা মতে, কোনো শয়তান বা মুশরিক উচ্চ স্বরে ঘোষণা করে ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শহিদ হয়ে গেছেন।

টিকাঃ
১. তারীখে তাবারী: ৩ খন্ড
২. যুরকানী শরহে মাওয়াহিব

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 নবীজীর চেহারা মোবারক আহত হওয়া

📄 নবীজীর চেহারা মোবারক আহত হওয়া


কুরাইশদের প্রসিদ্ধ বীর আবদুল্লাহ ইবনে কামিয়াহ মুসলিম সেনাদের ব্যুহ অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারকের ওপর তলোয়ার মারল। যার ফলে শিরস্ত্রাণের দুটি কড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারকে ঢুকে গেল এবং একটি দাঁত মোবারক শহিদ হয়ে গেল।

হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. ক্ষতস্থান থেকে কড়া বের করার জন্য অগ্রসর হওয়া মাত্র আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ রাযি. কসম দিয়ে বললেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে খেদমতটুকু আমাকে করার সুযোগ দিন। তিনি সম্মুখে অগ্রসর হয়ে হাতের পরিবর্তে স্বীয় মুখ দ্বারা টান দিলে প্রথম বারে একটি কড়া বের হয়ে গেল বটে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই টানের প্রচণ্ডতায় আবু উবাইদার একটি দাঁত ভেঙ্গে গেল। এ দৃশ্য দেখে দ্বিতীয় কড়াটি বের করার জন্য হযরত সিদ্দীক আকবার রাযি. অগ্রসর হলে আবু উবাইদা রাযি. পুনরায় কসম খেয়ে তাকে বাধা দিয়ে নিজেই পূর্বের মতো মুখ দিয়ে দ্বিতীয় কড়াটি বের করে আনলেন এবং এর সঙ্গে সঙ্গে আবু উবাইদা রাযি.-এর আরো একটি দাঁত ভেঙ্গে গেল। এ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গর্তে পতিত হয়েছিলেন যা কাফেররা মুসলমানদের উদ্দেশ্যে খনন করেছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px