📄 ইসলামী সাম্য
বন্দীদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা হযরত আব্বাস রাযি. ও ছিলেন। হযরত আব্বাস রাযি. রাতের বেলায় শৃঙ্খলের যাতনায় কাতরাচ্ছিলেন। এ আওয়াজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘুম ভেঙ্গে গেল। ইসলামি সমতার বিধানে আপন-পর, দোস্ত-দুশমন সকলে ছিল সমান। তাই আনসাররা আব্বাসের ফিদিয়া মাফ করে দিতে চাইলেও নবীজি অনুমতি দেননি। সবার মতো তার নিকট থেকেও মুক্তিপণ আদায় করা হল। এমনকি বিত্তবান হওয়ায় তাঁর থেকে কিছু বেশি আদায় করা হয়েছিল।
📄 আবুল আসের ইসলাম গ্রহণ
মুক্তির শর্তানুযায়ী আবুল আস মক্কায় পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা হযরত যয়নব রাযি. কে মদিনায় পাঠিয়ে দিলেন। আবুল আস ছিলেন একজন নামকরা ব্যবসায়ী। দ্বিতীয়বার গ্রেফতার ও মুক্তি পাওয়ার পর তিনি মক্কায় ফিরে সমস্ত অংশীদারদের হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি মদিনায় হিজরত করেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, পাছে কেউ না বলে যে দেনা ফাঁকি দিতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাই মক্কায় গিয়ে সব চুকিয়ে তিনি মুসলমান হন।
📄 ইসলামী রাজনীতি ও শিক্ষার উন্নতি
যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে যারা মুক্তিপণ দিতে অক্ষম ছিল তন্মধ্যে যারা কিছু লেখা পড়া জানত তাদেরকে বলা হল, তোমরা দশটি করে মুসলিম শিশুদের লেখা শিখিয়ে দাও; এটাই তোমাদের মুক্তিপণ। হযরত যায়েদ বিন সাবেত রাযি. এভাবেই লেখা শিখেছিলেন। এটি ছিল তৎকালীন সময়ের এক অনন্য শিক্ষা কৌশল।
📄 এ সনের বিবিধ ঘটনা
এ বছর রবিবার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধ থেকে যখন ফিরে এলেন তখন লোকজন তাঁর কন্যা হযরত রুকাইয়া রাযি. কে দাফন সম্পন্ন করে। বদর যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর এ বছরই সর্বপ্রথম ঈদুল ফিতরের নামায পড়া হয়। রমযানের রোযা, সদকাতুল ফিতর এবং যাকাতও এ বছর ওয়াজিব হয়। এ সনেরই যিলহজ মাসে হযরত ফাতেমা রাযি.-এর বিবাহ মুবারক সম্পন্ন হয়। এ বছরই মদিনার ইহুদি গোত্র বনি কাইনুকার অবাধ্যতার দরুন তাদেরকে মদিনা থেকে বহিষ্কার করা হয়।