📄 বদরের যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে মুসলমানদের আচরণ
বদর যুদ্ধের বন্দীরা মদিনায় পৌঁছার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন বন্দীদেরকে যত্নের সাথে রাখে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ নির্দেশের প্রতিক্রিয়া এমন হল যে সাহাবাগণ বন্দীদের খানা খাওয়াচ্ছিলেন আর নিজেরা শুধু খেজুর খেয়ে কাটাতে লাগলেন। হযরত মুসআব বিন উমায়ের রাযি.-এর ভাই আবু আযীযও উক্ত বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার বর্ণনা হল, আমাকে যে আনসারীর নিকট সোপর্দ করা হয়েছিল, তিনি খানা এলে রুটির পাত্রটি আমার সামনে রেখে দিতেন আর নিজে শুধু খেজুর খেয়ে থাকতেন। পরে সিদ্ধান্ত করা হল যে মুক্তিপণ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
📄 ইসলামী সাম্য
বন্দীদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা হযরত আব্বাস রাযি. ও ছিলেন। হযরত আব্বাস রাযি. রাতের বেলায় শৃঙ্খলের যাতনায় কাতরাচ্ছিলেন। এ আওয়াজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘুম ভেঙ্গে গেল। ইসলামি সমতার বিধানে আপন-পর, দোস্ত-দুশমন সকলে ছিল সমান। তাই আনসাররা আব্বাসের ফিদিয়া মাফ করে দিতে চাইলেও নবীজি অনুমতি দেননি। সবার মতো তার নিকট থেকেও মুক্তিপণ আদায় করা হল। এমনকি বিত্তবান হওয়ায় তাঁর থেকে কিছু বেশি আদায় করা হয়েছিল।
📄 আবুল আসের ইসলাম গ্রহণ
মুক্তির শর্তানুযায়ী আবুল আস মক্কায় পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা হযরত যয়নব রাযি. কে মদিনায় পাঠিয়ে দিলেন। আবুল আস ছিলেন একজন নামকরা ব্যবসায়ী। দ্বিতীয়বার গ্রেফতার ও মুক্তি পাওয়ার পর তিনি মক্কায় ফিরে সমস্ত অংশীদারদের হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি মদিনায় হিজরত করেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, পাছে কেউ না বলে যে দেনা ফাঁকি দিতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাই মক্কায় গিয়ে সব চুকিয়ে তিনি মুসলমান হন।
📄 ইসলামী রাজনীতি ও শিক্ষার উন্নতি
যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে যারা মুক্তিপণ দিতে অক্ষম ছিল তন্মধ্যে যারা কিছু লেখা পড়া জানত তাদেরকে বলা হল, তোমরা দশটি করে মুসলিম শিশুদের লেখা শিখিয়ে দাও; এটাই তোমাদের মুক্তিপণ। হযরত যায়েদ বিন সাবেত রাযি. এভাবেই লেখা শিখেছিলেন। এটি ছিল তৎকালীন সময়ের এক অনন্য শিক্ষা কৌশল।