📄 বিস্ময়কর আত্মোৎসর্গ
যখন উভয় পক্ষ পরস্পর মুখোমুখি হল, তখন দেখা গেল, বহু আপনজন ও কলিজার টুকরা তলোয়ারের নাগালের মধ্যে আছে। হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. এর পুত্র (যিনি তখনও কাফির ছিলেন) যখন মাঠে আসলেন, তখন স্বয়ং হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-এর তরবারি তার দিকে অগ্রসর হল। উতবা সামনে আসামাত্র তার পুত্র হযরত হোযায়ফা রাযি. তরবারি উচিয়ে বের হয়ে আসলেন। হযরত ওমর রাযি.-এর মামা ময়দানে অগ্রসর হলে 'ফারুকি তলোয়ার' স্বয়ং তার মীমাংসা করে দিল। তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে অন্যদিকে সাইয়্যিদুনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে আল্লাহর সাহায্য কামনায় রত আছেন। অবশেষে তিনি গায়েবি সুসংবাদে আশ্বস্ত হলেন।
📄 আবু জাহেলের পতন
আবু জাহেলের দুষ্টুমী এবং ইসলামের প্রতি দুশমনী যেহেতু সকলের নিকট প্রসিদ্ধ ছিল, এ কারণে আনসারদের মধ্য থেকে হযরত মুআওয়ায ও হযরত মাআয রাযি. নামে দু ভাই অঙ্গীকার করেছিল, আবু জাহেলকে হত্যা করবে। আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাযি. ইশারায় দেখিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু ভাই বাজপাখির মতো উড়ে গিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। মুহূর্তে আবু জাহেলের রক্তাক্ত দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। আবু জেহেলের পুত্র ইকরামা (যিনি পরে মুসলমান হয়েছিলেন) পিছন থেকে এসে হযরত মাআয রাযি. এর কাঁধে আঘাত করল, এতে তার কাঁধ কেটে গেল। কিন্তু এক হাত সামান্য চামড়ার সঙ্গে ঝুলে রইল। মুয়ায রাযি. এহেন কর্তিত হাত নিয়েও প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতায় জিহাদ চালাতে লাগলেন।
📄 এক আশ্চর্যজনক মুজেযা
আল্লাহর হুকুমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুষ্টি কঙ্কর শত্রুবাহিনীর দিকে নিক্ষেপ করে সাহাবীদের বললেন : অকস্মাৎ শত্রুদের ওপর হামলা কর। একদিকে মুসলিম বাহিনীর ক্ষুদ্র দলটি অগ্রসর হচ্ছিল, অন্যদিকে আল্লাহ ফেরেশতাদের একটি দল মুসলমানদের সাহায্যে পাঠিয়ে স্বীয় সাহায্যের অঙ্গীকার পূরণ করলেন। যুদ্ধে কুরাইশদের বড় বড় সর্দার প্রাণ হারালে সাধারণ সৈন্যদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ল এবং তারা পালাতে শুরু করল। সর্বমোট ৭০ জন কাফির নিহত এবং ৭০ জন বন্দী হল। কুরাইশদের বড় বড় সর্দার উৎবা, শাইবা, আবু জাহেল, উমাইয়া বিন খালফ সকলে প্রাণ হারাল। অন্যদিকে মুসলমানদের মধ্যে সর্বমোট চৌদ্দজন শাহাদাত বরণ করলেন।
📄 বদরের যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে মুসলমানদের আচরণ
বদর যুদ্ধের বন্দীরা মদিনায় পৌঁছার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, তারা যেন বন্দীদেরকে যত্নের সাথে রাখে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ নির্দেশের প্রতিক্রিয়া এমন হল যে সাহাবাগণ বন্দীদের খানা খাওয়াচ্ছিলেন আর নিজেরা শুধু খেজুর খেয়ে কাটাতে লাগলেন। হযরত মুসআব বিন উমায়ের রাযি.-এর ভাই আবু আযীযও উক্ত বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার বর্ণনা হল, আমাকে যে আনসারীর নিকট সোপর্দ করা হয়েছিল, তিনি খানা এলে রুটির পাত্রটি আমার সামনে রেখে দিতেন আর নিজে শুধু খেজুর খেয়ে থাকতেন। পরে সিদ্ধান্ত করা হল যে মুক্তিপণ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।