📄 সাহাবীদের আত্মোৎসর্গ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিক এবং অন্যান্য সাহাবী তাদের নিজ নিজ জান ও মাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে পেশ করে দিলেন। উমায়ের বিন ওয়াক্কাস রাযি. তখন অল্প বয়স্ক ছিলেন, তবুও তাকে জিহাদে নিয়ে নেওয়া হল। আনসারদের মধ্য হতে খাযরাজ গোত্রের সর্দার সাদ ইবনে উবাদা দাঁড়িয়ে বললেন, “আল্লাহর কসম! আপনার হুকুমে আমরা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তেও প্রস্তুত।" হযরত মিকদাদ রাযি. আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার ডানে-বামে এবং সামনে-পিছনে থেকে যুদ্ধ করব। তার এ বক্তব্য শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই খুশি হলেন এবং তাদেরকে সামনে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিলেন।
📄 গায়েবি সাহায্য
আল্লাহ পাক তো পূর্বেই বিজয় এবং সাহায্যের অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি এমনই করলেন, যুদ্ধের সময় বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ায় জমিনের বালুকারাশি জমে গেল যার ফলে সমস্ত সৈন্য তৃপ্তি সহকারে পানি পান করল এবং তাদের নিজ নিজ পাত্রসমূহ ভরে নিল। আর বাকি পানি মাটিতে চৌবাচ্চা বানিয়ে আটকিয়ে রাখল। অন্যদিকে উক্ত বৃষ্টি কাফিরদের মাটিকে এমন কর্দমাক্ত করে দিল, তাদের চলাফেরা দুষ্কর হয়ে পড়ল। উভয় দল যখন যুদ্ধের জন্যে মুখোমুখি হল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের সারি ঠিক করার জন্যে স্বয়ং দাঁড়িয়ে গেলেন।
📄 মুসলমানদের অঙ্গীকার পূরণ
ঠিক যুদ্ধ শুরুর মুহূর্তে হযরত হুয়াইফা এবং আবু হাসান নামক দু সাহাবী যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য এসে পৌঁছেন। কিন্তু পথিমধ্যের ঘটনা বর্ণনা করে তাঁরা বলেন, কাফেরগণ আমাদের পথরোধ করে জিজ্ঞাসা করেছিল, তোমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহায্যের জন্যে যাচ্ছ? আমরা তখন অস্বীকার করি এবং যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করার অঙ্গীকার করে ফেলি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদের এ অঙ্গীকারের কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি উভয়কে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ থেকে নিষেধ করে বললেন, আমরা সর্বাবস্থায়ই অঙ্গীকার পালন করে যাব। আমাদের জন্যে আল্লাহর সাহায্যই যথেষ্ট।
📄 বিস্ময়কর আত্মোৎসর্গ
যখন উভয় পক্ষ পরস্পর মুখোমুখি হল, তখন দেখা গেল, বহু আপনজন ও কলিজার টুকরা তলোয়ারের নাগালের মধ্যে আছে। হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. এর পুত্র (যিনি তখনও কাফির ছিলেন) যখন মাঠে আসলেন, তখন স্বয়ং হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-এর তরবারি তার দিকে অগ্রসর হল। উতবা সামনে আসামাত্র তার পুত্র হযরত হোযায়ফা রাযি. তরবারি উচিয়ে বের হয়ে আসলেন। হযরত ওমর রাযি.-এর মামা ময়দানে অগ্রসর হলে 'ফারুকি তলোয়ার' স্বয়ং তার মীমাংসা করে দিল। তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে অন্যদিকে সাইয়্যিদুনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে আল্লাহর সাহায্য কামনায় রত আছেন। অবশেষে তিনি গায়েবি সুসংবাদে আশ্বস্ত হলেন।