📄 ইসলামের প্রথম গনিমত
এ সনের রজব মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশকে ১২ সদস্যের এক মুহাজির দলের আমীর বানিয়ে কুরাইশ কাফেলার মোকাবেলায় প্রেরণ করেন। মোকাবেলা হলে প্রতিপক্ষের কাফেলার প্রধান নিহত ও অপর দুজন বন্দি হওয়ার পর অবশিষ্ট সকলে পালিয়ে গেল এবং প্রচুর গনিমতের মাল মুসলমানদের হস্তগত হল। মুসলিম সেনাপতি তা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের মাঝে বণ্টন করে এক পঞ্চমাংশ বায়তুল মালের জন্য আলাদা করে রাখলেন। কোনো কোনো বর্ণনা মতে সমস্ত গনিমতের মাল নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হলে তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে নিষিদ্ধ মাস অর্থাৎ রজব মাসে যুদ্ধ করার অনুমতি দেইনি। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধ হতে ফারেগ হওয়ার পর এ যুদ্ধের মালে গনিমতের সাথে উক্ত মাল বণ্টন করে দেন। এ ঘটনার পর সমগ্র আরবে প্রচার হয়ে গেল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ মাসগুলোতেও যুদ্ধ-বিগ্রহ জায়েয করে দিয়েছেন। এ সময় তাদের অপপ্রচারের জবাবে আয়াত নাযিল হয়: 'তারা আপনাকে নিষিদ্ধ মাসে লড়াই করা সম্পর্কে প্রশ্ন করে'।
📄 বদর যুদ্ধ
মদিনা মুনাওয়ারা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে অবস্থিত একটি কূপের নাম বদর। এ কূপের নামানুসারে একটি জনপদও সেখানে গড়ে উঠেছে। কুরাইশদের একটা বিরাট বাণিজ্য কাফেলা সিরিয়া থেকে ফিরছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সংবাদ পেয়ে দ্বিতীয় হিজরী ১২ই রমযান তিনশ চৌদ্দজন মুহাজির ও আনসার সাহাবী সঙ্গে নিয়ে স্বয়ং তাদের মোকাবেলার জন্য বের হন। রাওহা নামক স্থানে পৌঁছে তাবু স্থাপন করলেন। কুরাইশ কাফেলার সর্দার এ সংবাদ পেয়ে চিরাচরিত রাস্তা ছেড়ে সমুদ্র উপকূল দিয়ে অগ্রসর হতে লাগল। কুরাইশদের ৯শ ৫০ জন যুবকের এক বিশাল বাহিনী মক্কা থেকে রওনা হলো। এ বাহিনীর মধ্যে কুরাইশদের সব বড় বড় সর্দার এবং বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ শরীক ছিল।
📄 সাহাবীদের আত্মোৎসর্গ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিক এবং অন্যান্য সাহাবী তাদের নিজ নিজ জান ও মাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে পেশ করে দিলেন। উমায়ের বিন ওয়াক্কাস রাযি. তখন অল্প বয়স্ক ছিলেন, তবুও তাকে জিহাদে নিয়ে নেওয়া হল। আনসারদের মধ্য হতে খাযরাজ গোত্রের সর্দার সাদ ইবনে উবাদা দাঁড়িয়ে বললেন, “আল্লাহর কসম! আপনার হুকুমে আমরা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তেও প্রস্তুত।" হযরত মিকদাদ রাযি. আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার ডানে-বামে এবং সামনে-পিছনে থেকে যুদ্ধ করব। তার এ বক্তব্য শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই খুশি হলেন এবং তাদেরকে সামনে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিলেন।
📄 গায়েবি সাহায্য
আল্লাহ পাক তো পূর্বেই বিজয় এবং সাহায্যের অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি এমনই করলেন, যুদ্ধের সময় বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ায় জমিনের বালুকারাশি জমে গেল যার ফলে সমস্ত সৈন্য তৃপ্তি সহকারে পানি পান করল এবং তাদের নিজ নিজ পাত্রসমূহ ভরে নিল। আর বাকি পানি মাটিতে চৌবাচ্চা বানিয়ে আটকিয়ে রাখল। অন্যদিকে উক্ত বৃষ্টি কাফিরদের মাটিকে এমন কর্দমাক্ত করে দিল, তাদের চলাফেরা দুষ্কর হয়ে পড়ল। উভয় দল যখন যুদ্ধের জন্যে মুখোমুখি হল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের সারি ঠিক করার জন্যে স্বয়ং দাঁড়িয়ে গেলেন।