📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কেবলা পরিবর্তন, বদরের যুদ্ধ এবং সারিয়ায়ে আবদুল্লাহ বিন জাহাশ

📄 কেবলা পরিবর্তন, বদরের যুদ্ধ এবং সারিয়ায়ে আবদুল্লাহ বিন জাহাশ


দ্বিতীয় হিজরি সনে ইসলামের ইতিহাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়। এ সনেই মুসলমানদের কেবলা পরিবর্তিত হয়ে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে নির্ধারিত হয়। এছাড়া সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ এ সনেই সংঘটিত হয়েছিল। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম গনিমত বা যুদ্ধলব্ধ মাল এই হিজরি সনেই অর্জিত হয়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কেবলা পরিবর্তন

📄 কেবলা পরিবর্তন


ইসলামের ইতিহাসে এ হিজরী সনে এক বিরাট পরিবর্তন সূচিত হয় তা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনের ঐকান্তিক ইচ্ছানুযায়ী বায়তুল মুকাদ্দাসের পরিবর্তে কাবা শরীফকে মুসলমানদের কেবলা নির্ধারণ করা হয়। এ কাবা শরীফই পৃথিবীর প্রথম ঘর এবং এরই দিকে মুখ করে আল্লাহ পাকের ইবাদতের জন্যে জমা হওয়ার লক্ষ্যে এটাকে মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু বানানো হয়। এই পরিবর্তনকে তাহবীলে কেবলা বলে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ইসলামের প্রথম গনিমত

📄 ইসলামের প্রথম গনিমত


এ সনের রজব মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশকে ১২ সদস্যের এক মুহাজির দলের আমীর বানিয়ে কুরাইশ কাফেলার মোকাবেলায় প্রেরণ করেন। মোকাবেলা হলে প্রতিপক্ষের কাফেলার প্রধান নিহত ও অপর দুজন বন্দি হওয়ার পর অবশিষ্ট সকলে পালিয়ে গেল এবং প্রচুর গনিমতের মাল মুসলমানদের হস্তগত হল। মুসলিম সেনাপতি তা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের মাঝে বণ্টন করে এক পঞ্চমাংশ বায়তুল মালের জন্য আলাদা করে রাখলেন। কোনো কোনো বর্ণনা মতে সমস্ত গনিমতের মাল নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হলে তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে নিষিদ্ধ মাস অর্থাৎ রজব মাসে যুদ্ধ করার অনুমতি দেইনি। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধ হতে ফারেগ হওয়ার পর এ যুদ্ধের মালে গনিমতের সাথে উক্ত মাল বণ্টন করে দেন। এ ঘটনার পর সমগ্র আরবে প্রচার হয়ে গেল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ মাসগুলোতেও যুদ্ধ-বিগ্রহ জায়েয করে দিয়েছেন। এ সময় তাদের অপপ্রচারের জবাবে আয়াত নাযিল হয়: 'তারা আপনাকে নিষিদ্ধ মাসে লড়াই করা সম্পর্কে প্রশ্ন করে'।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 বদর যুদ্ধ

📄 বদর যুদ্ধ


মদিনা মুনাওয়ারা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে অবস্থিত একটি কূপের নাম বদর। এ কূপের নামানুসারে একটি জনপদও সেখানে গড়ে উঠেছে। কুরাইশদের একটা বিরাট বাণিজ্য কাফেলা সিরিয়া থেকে ফিরছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সংবাদ পেয়ে দ্বিতীয় হিজরী ১২ই রমযান তিনশ চৌদ্দজন মুহাজির ও আনসার সাহাবী সঙ্গে নিয়ে স্বয়ং তাদের মোকাবেলার জন্য বের হন। রাওহা নামক স্থানে পৌঁছে তাবু স্থাপন করলেন। কুরাইশ কাফেলার সর্দার এ সংবাদ পেয়ে চিরাচরিত রাস্তা ছেড়ে সমুদ্র উপকূল দিয়ে অগ্রসর হতে লাগল। কুরাইশদের ৯শ ৫০ জন যুবকের এক বিশাল বাহিনী মক্কা থেকে রওনা হলো। এ বাহিনীর মধ্যে কুরাইশদের সব বড় বড় সর্দার এবং বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ শরীক ছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px