📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 জিহাদ ও পাশ্চাত্য সভ্যতার স্বরূপ

📄 জিহাদ ও পাশ্চাত্য সভ্যতার স্বরূপ


জিহাদ কখনো সভ্যতার দাবিদার ইউরোপীয় জাতিসমূহের মতো বিশ্বব্যাপী ধ্বংসলীলা ও আতংক সৃষ্টিকারী যুদ্ধের মতো ছিল না। যাদের চিন্তা-চেতনায় ব্যক্তি বা জাতিগত আক্রোশই ঠাঁই পায়। ফলে নির্বিচারে দোষী, নির্দোষ, অপরাধী, নিরাপরাধ এমনকি শহরের পর শহর নির্দয়ভাবে ধ্বংস করা হয়। বাস্তব ব্যাপার হল, মানুষ অন্যের চোখে পতিত সামান্য খড়কুটাকে দেখতে পায় কিন্তু নিজের চোখের কড়িকাঠকেও উপেক্ষা করে চলে। পরোয়া নাহি আপন দোষের এলজাম ছেড়ে মানুষে গায় ছড়াল ইসলাম তলোয়ার জোরে এমন কুৎসাও মানুষ গায়? কামান বারুদ করিল কি ভবে দাওনা জবাব তার তরে? সারকথা হল, আত্নরক্ষা ও আক্রমণাত্মক জিহাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল উত্তম চরিত্রের বিকাশ সাধন, ইসলামের সংরক্ষণ এবং ইসলাম প্রচারের পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা হত তা অপসারণ করা।

টিকাঃ
১. যমিনের উপর যা কিছু আছে সব ধ্বংসশীল।
২. যদি ইউরোপের রক্তাক্ত ইতিহাস সামনে রাখা হয়, যা ইংল্যান্ডের উত্থান ও পতনের সাথে সম্পর্কিত, তাহলে তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির রহস্য উদঘাটিত হয়ে যাবে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 পর্যালোচনা

📄 পর্যালোচনা


উল্লিখিত সকল ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের এ ধারণা মিথ্যা ও ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়, ইসলামি জিহাদ দ্বারা মানুষকে মুসলমান বানাতে বাধ্য করা হয় এবং লুটপাট করে জীবিকার সংস্থান করা হয়। এমনিভাবে ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সাহাবাগণের কর্ম তৎপরতা একত্র করলে সন্দেহের অবকাশ থাকে না, ইসলাম যেমন প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ ফরয করেছে তেমনি অগ্রসরমান ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে বাধাবিপত্তি নিরসন করার জন্য আক্রমণাত্মক জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত অপরিহার্য করেছে। আত্মরক্ষামূলক জিহাদের উদ্দেশ্য যেমনি মানুষকে জোরপূর্বক মুসলমান বানানো নয় তেমনি আক্রমণাত্মক জিহাদের উদ্দেশ্য তা হতে পারে না।

টিকাঃ
১. এ সমস্ত বিষয় আল্লামা মুহাম্মদ করদে আলি রচিত غابر الانس وحاضرها গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, যাতে ইংল্যান্ডের অতীত ও বর্তমানকালের তুলনামূলক আলোচনা করে দেখিয়েছেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 গাযওয়া, সারিয়ার সংখ্যা

📄 গাযওয়া, সারিয়ার সংখ্যা


হিজরতের পর যখন ইসলাম মদিনায় এক প্রকার রাষ্ট্রীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামকে জিহাদের অনুমতি প্রদান করা হয় এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হতে লাগল। কোনো কোনো জিহাদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সশরীরে উপস্থিত হন। আবার কোনো কোনোটিতে বিশেষ বিশেষ সাহাবার নেতৃত্বে সৈন্য পাঠানো হয়। ঐতিহাসিকদের পরিভাষায় প্রথম প্রকার জিহাদকে গাযওয়া এবং দ্বিতীয় প্রকারকে সারিয়া বলা হয়। গাযওয়ার মোট সংখ্যা ২৩। তন্মধ্যে ৯টিতে যুদ্ধ হয় অন্যগুলোতে হয় নি। সারিয়া মোট ৪৩ টি। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হল, এ সব যুদ্ধে মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা সমরসজ্জা ও রসদ-পত্র স্বল্প হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিজয় তাদের পক্ষেই ছিল। (২৩+৪৩)=৬৬।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হিজরি সনভিত্তিক গাযওয়া ও সারিয়ার পরিসংখ্যান

📄 হিজরি সনভিত্তিক গাযওয়া ও সারিয়ার পরিসংখ্যান


হাদিস ও ঐতিহাসিকগণের পরিভাষায় অতি সাধারণ ঘটনাকেও গাযওয়া ও সারিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেমন ২/১ ব্যক্তি কোনো অপরাধীকে বন্দী করতে গেল, বা কয়েকজন লোক কোনো সাধারণ গোত্রের সংশোধন বা খোঁজ-খবর নিতে গেল। এমন স্বাভাবিক ঘটনাকে সারিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গাযওয়া শব্দটিও ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এ কারণে উভয় প্রকারের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৬। নতুবা আমাদের প্রয়োগ অনুযায়ী জিহাদ ও গাযওয়া দ্বারা যে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধকে বুঝানো হয় তা এ সবের কয়েকটিই মাত্র। নিচে এর একটি পরিসংখ্যান দেওয়া হলো।

ফন্ট সাইজ
15px
17px