📄 রণক্ষেত্রে কাকে হত্যা করা যাবে
রণক্ষেত্রে প্রবল প্রতিদ্বন্দী ও যুদ্ধের সময় নিজ প্রতিপক্ষের সেসব লোককে হত্যা করার অনুমতি ইসলাম দেয়, যাদের ব্যাধি সংক্রামক ছিল অর্থাৎ যারা ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পরিকল্পনা করত এবং যুদ্ধে অবতীর্ণ হত। এমন পরিস্থিতিতেও তাদের স্ত্রী, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, যুদ্ধ বিরত ধর্মীয় পুরোহিতরাও রণাঙ্গনে হত্যার পর্যায় থেকে মুক্ত ছিল। যেসব লোক চাপে পড়ে যুদ্ধ করতে এসেছে তারাও মুসলমানদের হাত থেকে নিরাপদ ছিল। ইকরামা রাযি. বর্ণনা করেন, বদর যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাশিম গোত্র থেকে আগত কোনো ব্যক্তি তোমাদের সামনে পড়লে তাকে হত্যা করো না। কেননা, তারা স্বেচ্ছায় যুদ্ধে আসেনি। তাদেরকে বাধ্য করে আনা হয়েছে। (কানয: ১৩৫)
📄 জিহাদ ও পাশ্চাত্য সভ্যতার স্বরূপ
জিহাদ কখনো সভ্যতার দাবিদার ইউরোপীয় জাতিসমূহের মতো বিশ্বব্যাপী ধ্বংসলীলা ও আতংক সৃষ্টিকারী যুদ্ধের মতো ছিল না। যাদের চিন্তা-চেতনায় ব্যক্তি বা জাতিগত আক্রোশই ঠাঁই পায়। ফলে নির্বিচারে দোষী, নির্দোষ, অপরাধী, নিরাপরাধ এমনকি শহরের পর শহর নির্দয়ভাবে ধ্বংস করা হয়। বাস্তব ব্যাপার হল, মানুষ অন্যের চোখে পতিত সামান্য খড়কুটাকে দেখতে পায় কিন্তু নিজের চোখের কড়িকাঠকেও উপেক্ষা করে চলে। পরোয়া নাহি আপন দোষের এলজাম ছেড়ে মানুষে গায় ছড়াল ইসলাম তলোয়ার জোরে এমন কুৎসাও মানুষ গায়? কামান বারুদ করিল কি ভবে দাওনা জবাব তার তরে? সারকথা হল, আত্নরক্ষা ও আক্রমণাত্মক জিহাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল উত্তম চরিত্রের বিকাশ সাধন, ইসলামের সংরক্ষণ এবং ইসলাম প্রচারের পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা হত তা অপসারণ করা।
টিকাঃ
১. যমিনের উপর যা কিছু আছে সব ধ্বংসশীল।
২. যদি ইউরোপের রক্তাক্ত ইতিহাস সামনে রাখা হয়, যা ইংল্যান্ডের উত্থান ও পতনের সাথে সম্পর্কিত, তাহলে তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির রহস্য উদঘাটিত হয়ে যাবে।
📄 পর্যালোচনা
উল্লিখিত সকল ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের এ ধারণা মিথ্যা ও ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়, ইসলামি জিহাদ দ্বারা মানুষকে মুসলমান বানাতে বাধ্য করা হয় এবং লুটপাট করে জীবিকার সংস্থান করা হয়। এমনিভাবে ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সাহাবাগণের কর্ম তৎপরতা একত্র করলে সন্দেহের অবকাশ থাকে না, ইসলাম যেমন প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ ফরয করেছে তেমনি অগ্রসরমান ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে বাধাবিপত্তি নিরসন করার জন্য আক্রমণাত্মক জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত অপরিহার্য করেছে। আত্মরক্ষামূলক জিহাদের উদ্দেশ্য যেমনি মানুষকে জোরপূর্বক মুসলমান বানানো নয় তেমনি আক্রমণাত্মক জিহাদের উদ্দেশ্য তা হতে পারে না।
টিকাঃ
১. এ সমস্ত বিষয় আল্লামা মুহাম্মদ করদে আলি রচিত غابر الانس وحاضرها গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, যাতে ইংল্যান্ডের অতীত ও বর্তমানকালের তুলনামূলক আলোচনা করে দেখিয়েছেন।
📄 গাযওয়া, সারিয়ার সংখ্যা
হিজরতের পর যখন ইসলাম মদিনায় এক প্রকার রাষ্ট্রীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামকে জিহাদের অনুমতি প্রদান করা হয় এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হতে লাগল। কোনো কোনো জিহাদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সশরীরে উপস্থিত হন। আবার কোনো কোনোটিতে বিশেষ বিশেষ সাহাবার নেতৃত্বে সৈন্য পাঠানো হয়। ঐতিহাসিকদের পরিভাষায় প্রথম প্রকার জিহাদকে গাযওয়া এবং দ্বিতীয় প্রকারকে সারিয়া বলা হয়। গাযওয়ার মোট সংখ্যা ২৩। তন্মধ্যে ৯টিতে যুদ্ধ হয় অন্যগুলোতে হয় নি। সারিয়া মোট ৪৩ টি। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হল, এ সব যুদ্ধে মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা সমরসজ্জা ও রসদ-পত্র স্বল্প হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিজয় তাদের পক্ষেই ছিল। (২৩+৪৩)=৬৬।