📄 ইসলামে জিহাদের বাস্তবতা
জিহাদ ফরয হওয়ার উদ্দেশ্য এ নয়, মানুষের ঘাড়ে তলোয়ার রেখে বলা হবে, মুসলমান হয়ে যাও বা অন্য কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে তাদেরকে ইসলামে প্রবেশ করানো হবে বরং জিহাদের সাথে জিযিয়ার (যা কাফিরদের নিরাপত্তার জন্য তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়) হুকুম এবং কাফিরদেরকে যিম্মী সাব্যস্ত করে তাদের জান-মালের হেফাযত পুরোপুরি মুসলমানদেরই মতো করা সম্পর্কে ইসলামি বিধান স্বয়ং এ প্রমাণ বহন করে, জিহাদ ফরয হওয়ার পরও ইসলাম কোনো কাফিরকে ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে কস্মিনকালেও বাধ্যতা আরোপ করে নি। তাই একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির অবশ্য কর্তব্য হল-স্থির চিত্তে এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা, ইসলামে কোনো উদ্দেশ্যে ও কী কী উপকারিতার কারণে জিহাদ ফরয করা হয়েছে। তখন তাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, যেমনিভাবে সে ধর্ম পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না যা মানুষকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে জোর করে স্বীয় অনুসারী বানায়, তেমনিভাবে সে ধর্মও পূর্ণাঙ্গ নয় যাতে রাজনীতি নেই এবং সে রাজনীতিও পূর্ণাঙ্গ নয় যার সাথে তরবারী থাকে না। রাজনীতিবিহীন ধর্ম পূর্ণাঙ্গ নয় আবার তলোয়ার বা শাসনবিহীন রাজনীতি পরিপূর্ণ নয়। সে চিকিৎসক নিজের পেশায় দক্ষ নয় যে শুধু পট্টি বাঁধতে ও ব্যান্ডেজ লাগাতে জানে, কিন্তু পঁচে যাওয়া ও নষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অস্ত্রোপচার করতে জানে না।
📄 ধর্মের পূর্ণাঙ্গতা কীসের মধ্যে
রাজনীতিবিহীন ধর্ম পূর্ণাঙ্গ নয় আবার তলোয়ার বা শাসনবিহীন রাজনীতি পরিপূর্ণ নয়। সে চিকিৎসক নিজের পেশায় দক্ষ নয় যে শুধু পট্টি বাঁধতে ও ব্যান্ডেজ লাগাতে জানে, কিন্তু পঁচে যাওয়া ও নষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অস্ত্রোপচার করতে জানে না। জনৈক কবি বলেন: তুমি আরব জোটেই থাক বা আজম জোটে, কিছুই তোমার থাকবে না, যদি কলম-তরবারী এক সাথে না রাখ। আসল কথা হল, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় চিন্তা এবং অনুভূতি যখন পূর্ণতার সীমায় পৌঁছে যায়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে ওই সমস্ত শরিয়তকে সর্বশেষ শরিয়তে মুহাম্মদীর অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয় এবং চিরকালের জন্য এর পরিধি ভৌগোলিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে রেখে সমগ্র বিশ্বজগতের ওপর ব্যাপক করে দেওয়া হয়।
📄 রণক্ষেত্রে কাকে হত্যা করা যাবে
রণক্ষেত্রে প্রবল প্রতিদ্বন্দী ও যুদ্ধের সময় নিজ প্রতিপক্ষের সেসব লোককে হত্যা করার অনুমতি ইসলাম দেয়, যাদের ব্যাধি সংক্রামক ছিল অর্থাৎ যারা ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পরিকল্পনা করত এবং যুদ্ধে অবতীর্ণ হত। এমন পরিস্থিতিতেও তাদের স্ত্রী, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, যুদ্ধ বিরত ধর্মীয় পুরোহিতরাও রণাঙ্গনে হত্যার পর্যায় থেকে মুক্ত ছিল। যেসব লোক চাপে পড়ে যুদ্ধ করতে এসেছে তারাও মুসলমানদের হাত থেকে নিরাপদ ছিল। ইকরামা রাযি. বর্ণনা করেন, বদর যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাশিম গোত্র থেকে আগত কোনো ব্যক্তি তোমাদের সামনে পড়লে তাকে হত্যা করো না। কেননা, তারা স্বেচ্ছায় যুদ্ধে আসেনি। তাদেরকে বাধ্য করে আনা হয়েছে। (কানয: ১৩৫)
📄 জিহাদ ও পাশ্চাত্য সভ্যতার স্বরূপ
জিহাদ কখনো সভ্যতার দাবিদার ইউরোপীয় জাতিসমূহের মতো বিশ্বব্যাপী ধ্বংসলীলা ও আতংক সৃষ্টিকারী যুদ্ধের মতো ছিল না। যাদের চিন্তা-চেতনায় ব্যক্তি বা জাতিগত আক্রোশই ঠাঁই পায়। ফলে নির্বিচারে দোষী, নির্দোষ, অপরাধী, নিরাপরাধ এমনকি শহরের পর শহর নির্দয়ভাবে ধ্বংস করা হয়। বাস্তব ব্যাপার হল, মানুষ অন্যের চোখে পতিত সামান্য খড়কুটাকে দেখতে পায় কিন্তু নিজের চোখের কড়িকাঠকেও উপেক্ষা করে চলে। পরোয়া নাহি আপন দোষের এলজাম ছেড়ে মানুষে গায় ছড়াল ইসলাম তলোয়ার জোরে এমন কুৎসাও মানুষ গায়? কামান বারুদ করিল কি ভবে দাওনা জবাব তার তরে? সারকথা হল, আত্নরক্ষা ও আক্রমণাত্মক জিহাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল উত্তম চরিত্রের বিকাশ সাধন, ইসলামের সংরক্ষণ এবং ইসলাম প্রচারের পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা হত তা অপসারণ করা।
টিকাঃ
১. যমিনের উপর যা কিছু আছে সব ধ্বংসশীল।
২. যদি ইউরোপের রক্তাক্ত ইতিহাস সামনে রাখা হয়, যা ইংল্যান্ডের উত্থান ও পতনের সাথে সম্পর্কিত, তাহলে তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির রহস্য উদঘাটিত হয়ে যাবে।