📄 কোরআনের নির্দেশনা ও আত্মরক্ষামূলক জিহাদ
ইতিহাসগ্রন্থ সামনেই রয়েছে। এতে কোনো প্রকার মতপার্থক্য ব্যতীত বর্ণিত রয়েছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের তিপ্পান্ন বছর এভাবে কেটেছে, প্রাথমিক নিঃসম্বলতা ও অসহায়ত্বের পর যখন ইসলাম এক ধরণের বাহ্যিক শক্তি লাভও করেছে এবং বড় বড় বীর সাহসী ও ধনী ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তখনও ইসলাম কোনো কাফিরের উপর হাত উঠায় নি বরং জালিমদের জুলুমের জবাব পর্যন্ত দেয় নি। অথচ মক্কার কাফিরদের পক্ষ থেকে শুধু মাত্র মহানবী-এর পবিত্র সত্তায় নয় বরং তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারীদের উপর এমন নির্যাতন চালিয়েছিল যা বর্ণনার অতীত। কুরাইশ কাফিররা, যারা সব ধরণের শক্তি ও প্রভাব রাখত তারা তাঁকে কষ্ট দিতে বরং হত্যা করতে কোনো সম্ভাব্য উপায় হাতছাড়া করে নি। যেমন তিন বছর যাবত তাঁর আত্মীয়-স্বজনসহ অবরুদ্ধ থাকা, তাঁর সাথে সকল কুরাইশদের একেবারে সম্পর্ক ছিন্ন করা, তাঁকে হত্যার চক্রান্ত, সাহাবায়ে কেরামকে সব রকমের কষ্ট দেওয়া ইত্যাদি যা সবই আপনারা অবগত রয়েছেন।
নির্যাতনের যত ধরণ ছিল সবই মুসলমানদের উপর চলেছিল, কিন্তু কুরআন তার অনুসারীদের ধৈর্য, সংযম ও সহনশীল হওয়ার পরামর্শ ছাড়া যুদ্ধ করার অনুমতি দেয় নি। এ সময় যে জিহাদের নির্দেশ ছিল তা হলো কাফিরদের উপদেশমূলক কথা বলে নিজ প্রতিপালকের দিকে দাওয়াত দাও। যদি মুখোমুখি কথাবার্তার সুযোগ আসে তবে সুন্দরভাবে নম্র ভদ্র কথা বলে তাদের প্রতিহত কর এবং কুরআনের স্পষ্ট দলিল প্রমাণের মাধ্যমে মৌন জিহাদ কর যেন তারা সত্যকে বুঝতে পারে। ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلُهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ এর মর্মার্থ এটাই।
📄 ইসলামে জিহাদের বাস্তবতা
জিহাদ ফরয হওয়ার উদ্দেশ্য এ নয়, মানুষের ঘাড়ে তলোয়ার রেখে বলা হবে, মুসলমান হয়ে যাও বা অন্য কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে তাদেরকে ইসলামে প্রবেশ করানো হবে বরং জিহাদের সাথে জিযিয়ার (যা কাফিরদের নিরাপত্তার জন্য তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়) হুকুম এবং কাফিরদেরকে যিম্মী সাব্যস্ত করে তাদের জান-মালের হেফাযত পুরোপুরি মুসলমানদেরই মতো করা সম্পর্কে ইসলামি বিধান স্বয়ং এ প্রমাণ বহন করে, জিহাদ ফরয হওয়ার পরও ইসলাম কোনো কাফিরকে ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে কস্মিনকালেও বাধ্যতা আরোপ করে নি। তাই একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির অবশ্য কর্তব্য হল-স্থির চিত্তে এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা, ইসলামে কোনো উদ্দেশ্যে ও কী কী উপকারিতার কারণে জিহাদ ফরয করা হয়েছে। তখন তাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, যেমনিভাবে সে ধর্ম পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না যা মানুষকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে জোর করে স্বীয় অনুসারী বানায়, তেমনিভাবে সে ধর্মও পূর্ণাঙ্গ নয় যাতে রাজনীতি নেই এবং সে রাজনীতিও পূর্ণাঙ্গ নয় যার সাথে তরবারী থাকে না। রাজনীতিবিহীন ধর্ম পূর্ণাঙ্গ নয় আবার তলোয়ার বা শাসনবিহীন রাজনীতি পরিপূর্ণ নয়। সে চিকিৎসক নিজের পেশায় দক্ষ নয় যে শুধু পট্টি বাঁধতে ও ব্যান্ডেজ লাগাতে জানে, কিন্তু পঁচে যাওয়া ও নষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অস্ত্রোপচার করতে জানে না।
📄 ধর্মের পূর্ণাঙ্গতা কীসের মধ্যে
রাজনীতিবিহীন ধর্ম পূর্ণাঙ্গ নয় আবার তলোয়ার বা শাসনবিহীন রাজনীতি পরিপূর্ণ নয়। সে চিকিৎসক নিজের পেশায় দক্ষ নয় যে শুধু পট্টি বাঁধতে ও ব্যান্ডেজ লাগাতে জানে, কিন্তু পঁচে যাওয়া ও নষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অস্ত্রোপচার করতে জানে না। জনৈক কবি বলেন: তুমি আরব জোটেই থাক বা আজম জোটে, কিছুই তোমার থাকবে না, যদি কলম-তরবারী এক সাথে না রাখ। আসল কথা হল, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় চিন্তা এবং অনুভূতি যখন পূর্ণতার সীমায় পৌঁছে যায়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে ওই সমস্ত শরিয়তকে সর্বশেষ শরিয়তে মুহাম্মদীর অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয় এবং চিরকালের জন্য এর পরিধি ভৌগোলিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে রেখে সমগ্র বিশ্বজগতের ওপর ব্যাপক করে দেওয়া হয়।
📄 রণক্ষেত্রে কাকে হত্যা করা যাবে
রণক্ষেত্রে প্রবল প্রতিদ্বন্দী ও যুদ্ধের সময় নিজ প্রতিপক্ষের সেসব লোককে হত্যা করার অনুমতি ইসলাম দেয়, যাদের ব্যাধি সংক্রামক ছিল অর্থাৎ যারা ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পরিকল্পনা করত এবং যুদ্ধে অবতীর্ণ হত। এমন পরিস্থিতিতেও তাদের স্ত্রী, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, যুদ্ধ বিরত ধর্মীয় পুরোহিতরাও রণাঙ্গনে হত্যার পর্যায় থেকে মুক্ত ছিল। যেসব লোক চাপে পড়ে যুদ্ধ করতে এসেছে তারাও মুসলমানদের হাত থেকে নিরাপদ ছিল। ইকরামা রাযি. বর্ণনা করেন, বদর যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাশিম গোত্র থেকে আগত কোনো ব্যক্তি তোমাদের সামনে পড়লে তাকে হত্যা করো না। কেননা, তারা স্বেচ্ছায় যুদ্ধে আসেনি। তাদেরকে বাধ্য করে আনা হয়েছে। (কানয: ১৩৫)