📄 উম্মে মাবাদ পরিবারের ইসলাম গ্রহণ
মদিনার পথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে মাবাদ বিনতে খালেদ নামের জনৈকা মহিলার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার একটি বকরি ছিল। কিন্তু দুধ দিত না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরির স্তনে হাত বুলিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তা দুধে ভরপুর হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পান করলেন ও সফরসঙ্গীদের পান করালেন। এ বরকত স্থায়ীভাবে অব্যাহত থাকল। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চলে গেলেন তখন উম্মে মাবাদের স্বামী ঘরে ফিরল এবং বকরির দুধের আশ্চর্যজনক ঘটনা দেখে বিস্মিত হল। কারণ জিজ্ঞেস করলে উম্মে মাবাদ বলল, একজন অত্যন্ত ভদ্র যুবক স্বল্প সময়ের জন্য আমাদের এখানে মেহমান হয়ে ছিল। তাঁর হাতের বরকতে এত সব হয়েছে। স্বামী একথা শুনে মন্তব্য করল, আল্লাহর কসম! তিনি মক্কাবাসী সম্মানিত ব্যক্তি বলে মনে হয়। এক বর্ণনায় আছে, এরপর তারা উভয়ে (স্বামী-স্ত্রী) হিজরত করে এবং মদিনায় পৌঁছে মুসলমান হয়ে যায়।
📄 কুবা পল্লীতে অবস্থান
এখান থেকে রওনা হয়ে তিনি কুবা পৌঁছেন। কুবা মদিনা নগরের কাছাকাছি একটি পল্লী। মদিনাবাসী আনসাররা যখন সংবাদ পেলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসছেন, তখন থেকে স্বাগতম ও অভ্যর্থনা জানাবার জন্য প্রত্যহ তারা বসতি এলাকার বাইরে আসত। এদিনও তারা যথারীতি অপেক্ষা করে ফিরে গিয়েছিল। ইতোমধ্যে হঠাৎ শোনা গেল 'এতদিন তারা যার জন্য অপেক্ষায় ছিল, তিনি শুভাগমন করেছেন।' তাঁর শুভাগমনে সবাই আনন্দ উচ্ছাসের সাথে অভ্যর্থনা জানাল।
মহানবী ও তাঁর সাথীবর্গ চৌদ্দদিন কুবায় অবস্থান করেন। [কুবায় অবস্থানের ব্যাপারে আরও বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। তিনদিন, চারদিন, পাঁচদিন এবং কোনো বর্ণনায় বাইশ দিনও উল্লেখ রয়েছে। এ সময়েই তিনি কুবায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এটিই ইসলামের নির্মিত প্রথম মসজিদ।]
📄 হযরত আলী রাযি.-এর হিজরত
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমানতদারী যেহেতু কাফিরদের নিকটও স্বীকৃত ছিল, তাই তাঁর নিকট লোকেরা আমানত রাখত। হিজরতের সময়ে তিনি হযরত আলী রাযি.-কে এ জন্য রেখে এসেছিলেন, তাঁর নিকট লোকদের যেসব আমানত ছিল তা যেন তিনি তাদেরকে বুঝিয়ে দেন এবং পরে মদিনায় হিজরত করেন।
📄 হিজরি সন গণনা
হিজরতের সময় থেকে হযরত ওমর রাযি. ইসলামি হিজরী সন ও তারিখ চালু করেন এবং মুহররম মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে নির্ধারণ করেন।