📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সুরাকা বিন মালিকের মাটিতে ধসে যাওয়া

📄 সুরাকা বিন মালিকের মাটিতে ধসে যাওয়া


এদিকে শিকার হাতছাড়া হয়ে গেছে ভেবে কুরাইশ অনুসন্ধানী দল দ্রুতগতিতে মক্কার অলি গলি তন্ন তন্ন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে লাগল। তন্মধ্যে সুরাকা বিন মালিক এ পথ ধরে খুঁজতে খুঁজতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একেবারে কাছে এসে পৌঁছল। ঠিক এমনি মুহূর্তে তার ঘোড়া গুরুতরভাবে হোঁচট খেল এবং সে ঘোড়ার পিঠ হতে মাটিতে পড়ে গেল। প্রথমবার আঘাত সামলে নিয়ে আবার ঘোড়ায় আরোহণ করে সামনে অগ্রসর হল। কিছু দূর যেতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরআন পাঠের শব্দ শুনতে পেল। সে সময় আবু বকর রাযি. বারবার মুখ ফিরিয়ে তার দিকে তাকাতে লাগলেন, কিন্তু রাসুল তার দিকে একবারও তাকান নি। সে যখন খুব কাছে এল তখন ঘোড়া দ্বিতীয়বার মাটিতে ধসে যায় এবং সুরাকা লুটিয়ে পড়ল। এবারও সে কোনো রকমে নিজে উঠে এবং ঘোড়াকে তুলে সামনে বাড়াবার চেষ্টা করল। শত চেষ্টা করেও সে বিফল হল।

অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ক্ষমা ও আশ্রয় প্রার্থনা করে। ফলে হুযুরের বরকতে ঘোড়া সচল হয়। যখন ঘোড়াটির পা মাটির ভেতর থেকে উঠে এল তখন সে দেখল, পায়ের সে গর্তগুলো থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ফলে সে আশঙ্কায় ভেঙে পড়ল। পরিশেষে হুযুরের নিকট গিয়ে নতি স্বীকার করল এবং নিজের সব পাথেয়, জিনিসপত্র, উট ইত্যাদি তাঁর নিকট হস্তান্তর করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, যেহেতু তুমি ইসলাম গ্রহণ কর নি, তাই আমি তোমার মাল গ্রহণ করতে পারি না। তবে এতটুকুই যথেষ্ট, তুমি কারো নিকট আমাদের অবস্থা বলবে না। সুরাকা ফিরে গেল। কিন্তু এ ঘটনা হুযুরের সম্পর্কে যতদিন আশঙ্কা ছিল ততদিন কারো নিকট প্রকাশ করেনি।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সুরাকার মুখে নবুয়তের স্বীকৃতি

📄 সুরাকার মুখে নবুয়তের স্বীকৃতি


কিছু দিন পর সুরাকা আবু জাহেলের নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করে কিছু কবিতা আবৃত্তি করল। [আসল কবিতা এইগুলি নহে। এই কবিতাগুলি সীরাতে মোগলতাঈ গ্রন্থে ত্রুটিযুক্ত ছিল। রাওযুল-উনস গ্রন্থের ২য় পৃষ্ঠা হতে এগুলোকে সংশোধন করা হয়েছে।] যার অর্থ এরূপ— 'হে আবুল হিকাম (আবু জাহেল) লাতের (একটি মূর্তি, কুরাইশরা এর পূজা করত) শপথ দিয়ে বলছি, তুমি যদি আমার ঘোড়াটির পা হাঁটু পর্যন্ত মাটিতে দেবে যাওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে, তবে এ ব্যাপারে তোমার কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকত না, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য নবী। আমার মতে, তোমার অপরিহার্য কর্তব্য হল, তাঁর সাথে বিরোধিতা থেকে বিরত থাকা এবং লোকদেরকেও তাঁর বিরোধিতা করতে নিষেধ করে দেওয়া। কেন না, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অল্পকালের মধ্যে তাঁর সফলতা ও বিজয়ের পতাকা এমনভাবে গোটা বিশ্বে চমকে যাবে, সমস্ত মানুষ তখন কামনা করবে, আমরা তাঁর নিকট নতিস্বীকার করে সন্ধি ও শান্তিচুক্তি করে নিলে কতই না ভালো হত।' (মুগলতাঈ: ২৫)

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 উম্মে মাবাদ পরিবারের ইসলাম গ্রহণ

📄 উম্মে মাবাদ পরিবারের ইসলাম গ্রহণ


মদিনার পথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে মাবাদ বিনতে খালেদ নামের জনৈকা মহিলার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার একটি বকরি ছিল। কিন্তু দুধ দিত না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরির স্তনে হাত বুলিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তা দুধে ভরপুর হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পান করলেন ও সফরসঙ্গীদের পান করালেন। এ বরকত স্থায়ীভাবে অব্যাহত থাকল। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চলে গেলেন তখন উম্মে মাবাদের স্বামী ঘরে ফিরল এবং বকরির দুধের আশ্চর্যজনক ঘটনা দেখে বিস্মিত হল। কারণ জিজ্ঞেস করলে উম্মে মাবাদ বলল, একজন অত্যন্ত ভদ্র যুবক স্বল্প সময়ের জন্য আমাদের এখানে মেহমান হয়ে ছিল। তাঁর হাতের বরকতে এত সব হয়েছে। স্বামী একথা শুনে মন্তব্য করল, আল্লাহর কসম! তিনি মক্কাবাসী সম্মানিত ব্যক্তি বলে মনে হয়। এক বর্ণনায় আছে, এরপর তারা উভয়ে (স্বামী-স্ত্রী) হিজরত করে এবং মদিনায় পৌঁছে মুসলমান হয়ে যায়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কুবা পল্লীতে অবস্থান

📄 কুবা পল্লীতে অবস্থান


এখান থেকে রওনা হয়ে তিনি কুবা পৌঁছেন। কুবা মদিনা নগরের কাছাকাছি একটি পল্লী। মদিনাবাসী আনসাররা যখন সংবাদ পেলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসছেন, তখন থেকে স্বাগতম ও অভ্যর্থনা জানাবার জন্য প্রত্যহ তারা বসতি এলাকার বাইরে আসত। এদিনও তারা যথারীতি অপেক্ষা করে ফিরে গিয়েছিল। ইতোমধ্যে হঠাৎ শোনা গেল 'এতদিন তারা যার জন্য অপেক্ষায় ছিল, তিনি শুভাগমন করেছেন।' তাঁর শুভাগমনে সবাই আনন্দ উচ্ছাসের সাথে অভ্যর্থনা জানাল।

মহানবী ও তাঁর সাথীবর্গ চৌদ্দদিন কুবায় অবস্থান করেন। [কুবায় অবস্থানের ব্যাপারে আরও বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। তিনদিন, চারদিন, পাঁচদিন এবং কোনো বর্ণনায় বাইশ দিনও উল্লেখ রয়েছে। এ সময়েই তিনি কুবায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এটিই ইসলামের নির্মিত প্রথম মসজিদ।]

ফন্ট সাইজ
15px
17px