📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 মদীনায় হিজরতের সূচনা

📄 মদীনায় হিজরতের সূচনা


কুরাইশরা যখন উক্ত বাইআতের সংবাদ শুনল তখন তারা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। ফলে তারা মুসলমানদের অশান্তি, কষ্ট-যাতনা দেওয়া হতে ক্ষণিকের জন্যও বিরত থাকল না। এমন জটিল ও নাজুক পরিস্থিতিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবীগণকে মদিনা শরিফে হিজরত করার পরামর্শ দেন। সেমতে সাহাবীগণ ক্রমে ক্রমে কুরাইশদের অগোচরে একজন দুজন করে মক্কা থেকে মদিনা অভিমুখে হিজরত করা শুরু করে দিলেন। এভাবে যেতে যেতে অবশেষে মক্কায় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ও আলি রাযি. এবং শিশু-নারী ও অসমর্থ কিছু পুরুষ ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। সিদ্দিকে আকবার রাযি. ও হিজরতের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন— অপেক্ষা কর, আল্লাহ পাক আমাকেও হিজরতের অনুমতি দিয়ে দেবেন হয়তো। তাই তিনি সে অপেক্ষায় থাকলেন এবং বাহনের জন্য দুটি উটনী প্রস্তুত রাখলেন। একটি নিজের জন্য এবং অপরটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য।

কুরাইশরা যখন উক্ত বাইআতের সংবাদ শুনল তখন তারা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। ফলে তারা মুসলমানদের অশান্তি, কষ্ট-যাতনা দেওয়া হতে ক্ষণিকের জন্যও বিরত থাকল না। এমন জটিল ও নাজুক পরিস্থিতিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবীগণকে মদিনা শরিফে হিজরত করার পরামর্শ দেন। সেমতে সাহাবীগণ ক্রমে ক্রমে কুরাইশদের অগোচরে একজন দুজন করে মক্কা থেকে মদিনা অভিমুখে হিজরত করা শুরু করে দিলেন। এভাবে যেতে যেতে অবশেষে মক্কায় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ও আলি রাযি. এবং শিশু-নারী ও অসমর্থ কিছু পুরুষ ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। সিদ্দিকে আকবার রাযি. ও হিজরতের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন— অপেক্ষা কর, আল্লাহ পাক আমাকেও হিজরতের অনুমতি দিয়ে দেবেন হয়তো। তাই তিনি সে অপেক্ষায় থাকলেন এবং বাহনের জন্য দুটি উটনী প্রস্তুত রাখলেন। একটি নিজের জন্য এবং অপরটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 নবীজির হিজরত

📄 নবীজির হিজরত


মক্কার কুরাইশ কাফেররা যখন মুসলমানদের হিজরতের এ অবস্থা দেখতে পেল, তখন তারা দারুন নদওয়ায় (বৈঠকখানা) চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একত্র হল এবং নবীজির ব্যাপারে কী করা যায় তা আলোচনা করল। কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গ্রেফতার করার পক্ষে অভিমত দিল। কেউ দেশান্তর করার মত দিল। কিন্তু তাদের ধূর্ত লোকেরা বলল, গ্রেফতার করার পরিকল্পনা সহজ হবে না। এজন্য, তাঁর সাথীরা তাঁকে আমাদের থেকে সহজে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত দেশান্তর করার পরিকল্পনা; এটা বাস্তবিক আমাদের জন্য আরো ক্ষতির কারণ হবে। কেন না এ অবস্থায় মক্কা ও আশেপাশের লোকেরা তাঁর উত্তম চরিত্র, মিষ্টি মধুর কথাবার্তা ও আল্লাহর পবিত্র বাণীর প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে যাবে। পরিশেষে তিনি তাদের সকলকে নিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ করবেন।

হতভাগা আবু জাহল এ অভিমত পেশ করল, তাঁকে হত্যা করা হোক এবং হত্যা কাজে প্রতি গোত্র থেকে এক একজন ব্যক্তি শরিক হোক। তাহলে আবদে মানাফ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) গোত্র এর প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হবে না। উপস্থিত সকল সদস্য এ অভিমতকে পছন্দ করল। আর সকল গোত্র থেকে এক একজন যুবককে সংগঠিত করে তাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হল, অমুক রাতে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের এই পরামর্শের কথা জানিয়ে দিলেন এবং হিজরতের আদেশ প্রদান করলেন। যে রাতে কুরাইশ কাফেররা তাদের হীন ষড়যন্ত্র কার্যকর করার পদক্ষেপ নিল এবং বিভিন্ন গোত্র থেকে বাছাইকৃত যুবকরা তাঁর বাড়ির চারিদিকে ঘেরাও করে বসেছিল, সে রাতেই তিনি হিজরত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং আলি রাযি.-কে বললেন, তুমি আমার বিছানায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাক যেন আমার অনুপস্থিতি কাফেররা টের না পায়। এর পরই তিনি ঘর থেকে বের হলেন। দেখলেন ঘরের সাথে এক দল কাফের ওৎ পেতে বসে আছে। তিনি সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করতে করতে বের হলেন এবং যখন— فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ "আমি তাদের চোখে পর্দা ফেলে দিয়েছি, ফলে তারা দেখেতে পাচ্ছে না।" এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন আয়াতকে বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করলেন। ফলে আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের চোখে পর্দা ফেলে দিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেল না। তিনি তাদের সকলের নাকের ডগা ডিঙ্গিয়ে আবু বকর রাযি.-এর বাসায় গেলেন। আর তিনি তো পূর্ব থেকেই বাহন ও পথ প্রর্দশক প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক রাযি. রাসূলের সহযাত্রী হলেন এবং বাড়ির পিছনের একটি দরজা দিয়ে বের হয়ে মক্কার অদূরবর্তী সাওর পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলেন।

মক্কার কুরাইশ কাফেররা যখন মুসলমানদের হিজরতের এ অবস্থা দেখতে পেল, তখন তারা দারুন নদওয়ায় (বৈঠকখানা) চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একত্র হল এবং নবীজির ব্যাপারে কী করা যায় তা আলোচনা করল। কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গ্রেফতার করার পক্ষে অভিমত দিল। কেউ দেশান্তর করার মত দিল। কিন্তু তাদের ধূর্ত লোকেরা বলল, গ্রেফতার করার পরিকল্পনা সহজ হবে না। এজন্য, তাঁর সাথীরা তাঁকে আমাদের থেকে সহজে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত দেশান্তর করার পরিকল্পনা; এটা বাস্তবিক আমাদের জন্য আরো ক্ষতির কারণ হবে। কেন না এ অবস্থায় মক্কা ও আশেপাশের লোকেরা তাঁর উত্তম চরিত্র, মিষ্টি মধুর কথাবার্তা ও আল্লাহর পবিত্র বাণীর প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে যাবে। পরিশেষে তিনি তাদের সকলকে নিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ করবেন।

হতভাগা আবু জাহল এ অভিমত পেশ করল, তাঁকে হত্যা করা হোক এবং হত্যা কাজে প্রতি গোত্র থেকে এক একজন ব্যক্তি শরিক হোক। তাহলে আবদে মানাফ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) গোত্র এর প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হবে না। উপস্থিত সকল সদস্য এ অভিমতকে পছন্দ করল। আর সকল গোত্র থেকে এক একজন যুবককে সংগঠিত করে তাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হল, অমুক রাতে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের এই পরামর্শের কথা জানিয়ে দিলেন এবং হিজরতের আদেশ প্রদান করলেন। যে রাতে কুরাইশ কাফেররা তাদের হীন ষড়যন্ত্র কার্যকর করার পদক্ষেপ নিল এবং বিভিন্ন গোত্র থেকে বাছাইকৃত যুবকরা তাঁর বাড়ির চারিদিকে ঘেরাও করে বসেছিল, সে রাতেই তিনি হিজরত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং আলি রাযি.-কে বললেন, তুমি আমার বিছানায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাক যেন আমার অনুপস্থিতি কাফেররা টের না পায়। এর পরই তিনি ঘর থেকে বের হলেন। দেখলেন ঘরের সাথে এক দল কাফের ওৎ পেতে বসে আছে। তিনি সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করতে করতে বের হলেন এবং যখন— فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ "আমি তাদের চোখে পর্দা ফেলে দিয়েছি, ফলে তারা দেখেতে পাচ্ছে না।" এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন আয়াতকে বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করলেন। ফলে আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের চোখে পর্দা ফেলে দিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেল না। তিনি তাদের সকলের নাকের ডগা ডিঙ্গিয়ে আবু বকর রাযি.-এর বাসায় গেলেন। আর তিনি তো পূর্ব থেকেই বাহন ও পথ প্রর্দশক প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক রাযি. রাসূলের সহযাত্রী হলেন এবং বাড়ির পিছনের একটি দরজা দিয়ে বের হয়ে মক্কার অদূরবর্তী সাওর পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সওওর পাহাড়ের গুহায় অবস্থান

📄 সওওর পাহাড়ের গুহায় অবস্থান


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওর পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিলেন। এদিকে কাফের পাহারাদার যুবকরা সকাল পর্যন্ত তাঁর বাইরে আগমনের অপেক্ষায় থাকল। কিন্তু পরিশেষে তারা অবগত হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জায়গায় আলি রাযি. আছেন। তারা অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত হয়ে চতুর্দিকে অনুসন্ধানী দল পাঠাল। কতিপয় পদচিহ্ন বিশারদ লোক মরুভূমির মাটিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করে ঠিক ওই গুহার কাছে উপনীত হল। গুহার মধ্যে উঁকি দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেত। কেন না তিনি সম্মুখে ছিলেন। এমতাবস্থায় আবু বকর সিদ্দিক রাযি. দুশ্চিন্তায় বিচলিত হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শঙ্কিত হয়ো না। আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। আল্লাহর কি অপূর্ব কুদরত, তাদের সকলের দৃষ্টি ঐ গুহা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হল। তারা একটু উঁকি দিয়েও দেখেনি বরং সবচেয়ে চতুর উমাইয়া বিন খলফ বলল, এখানে তাদের থাকা অসম্ভব। কেন না আল্লাহর হুকুমে রাতের মধ্যেই গুহার মুখে মাকড়সা জাল তৈরি করে এবং বন্য কবুতর বাসা বাঁধে। হযরত সহল রহ. বলেন, হেরেমের কবুতরের বংশধর ঐ কবুতর থেকেই চলে আসছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. সহ এ গুহায় একাধারে তিনরাত লুকিয়ে থাকেন। অবশেষে অনুসন্ধানকারীরা নিরাশ হয়ে পড়ল। এখানে তিন দিন অবস্থানকালে আবু বকর রাযি.-এর পুত্র আবদুল্লাহ রাতের অন্ধকারে গোপনে তাদের নিকট যেতেন এবং ভোর হওয়ার পূর্বে মক্কাতে ফিরে আসতেন। সারা দিন কুরাইশদের পরিকল্পনা শুনতেন এবং রাতে তাদের নিকট বর্ণনা করতেন। তাঁর বোন আসমা প্রতিরাতে খাদ্য দ্রব্য পাঠিয়ে দিতেন। আরবরা যেহেতু অতি সহজে পদচিহ্ন চিনতে পারত তাই আবদুল্লাহ স্বীয় গোলামকে ওই গুহা পর্যন্ত মেষ চরাতে যাওয়ার নির্দেশ দিত। যাতে করে পদচিহ্ন মুছে যায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওর পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিলেন। এদিকে কাফের পাহারাদার যুবকরা সকাল পর্যন্ত তাঁর বাইরে আগমনের অপেক্ষায় থাকল। কিন্তু পরিশেষে তারা অবগত হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জায়গায় আলি রাযি. আছেন। তারা অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত হয়ে চতুর্দিকে অনুসন্ধানী দল পাঠাল। কতিপয় পদচিহ্ন বিশারদ লোক মরুভূমির মাটিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করে ঠিক ওই গুহার কাছে উপনীত হল। গুহার মধ্যে উঁকি দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেত। কেন না তিনি সম্মুখে ছিলেন। এমতাবস্থায় আবু বকর সিদ্দিক রাযি. দুশ্চিন্তায় বিচলিত হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শঙ্কিত হয়ো না। আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। আল্লাহর কি অপূর্ব কুদরত, তাদের সকলের দৃষ্টি ঐ গুহা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হল। তারা একটু উঁকি দিয়েও দেখেনি বরং সবচেয়ে চতুর উমাইয়া বিন খলফ বলল, এখানে তাদের থাকা অসম্ভব। কেন না আল্লাহর হুকুমে রাতের মধ্যেই গুহার মুখে মাকড়সা জাল তৈরি করে এবং বন্য কবুতর বাসা বাঁধে। হযরত সহল রহ. বলেন, হেরেমের কবুতরের বংশধর ঐ কবুতর থেকেই চলে আসছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. সহ এ গুহায় একাধারে তিনরাত লুকিয়ে থাকেন। অবশেষে অনুসন্ধানকারীরা নিরাশ হয়ে পড়ল। এখানে তিন দিন অবস্থানকালে আবু বকর রাযি.-এর পুত্র আবদুল্লাহ রাতের অন্ধকারে গোপনে তাদের নিকট যেতেন এবং ভোর হওয়ার পূর্বে মক্কাতে ফিরে আসতেন। সারা দিন কুরাইশদের পরিকল্পনা শুনতেন এবং রাতে তাদের নিকট বর্ণনা করতেন। তাঁর বোন আসমা প্রতিরাতে খাদ্য দ্রব্য পাঠিয়ে দিতেন। আরবরা যেহেতু অতি সহজে পদচিহ্ন চিনতে পারত তাই আবদুল্লাহ স্বীয় গোলামকে ওই গুহা পর্যন্ত মেষ চরাতে যাওয়ার নির্দেশ দিত। যাতে করে পদচিহ্ন মুছে যায়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সওওর পাহাড়ের গুহা থেকে মদীনা অভিমুখে যাত্রা

📄 সওওর পাহাড়ের গুহা থেকে মদীনা অভিমুখে যাত্রা


সাওর গুহায় অবস্থানের তৃতীয় দিনে ৪ঠা রবিউল আউয়াল সোমবার আমের বিন ফুহাইরা (আবু বকর রাযি.-এর আযাদকৃত গোলাম) ঐ বাহন উটনী দুটি নিয়ে যায়। সাথে ছিল আবদুল্লাহ বিন উরাইকিত। তাঁকে উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে পূর্বেই পথপ্রদর্শনের জন্য সাথে নেওয়া হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক উটনীর ওপর আরোহণ করেন। আর আবু বকর রাযি. অন্য উটনীর ওপর। খেদমতের জন্য আমের বিন ফুহাইরাকে তিনি নিজের পিছনে বসান। আর আব্দুল্লাহ বিন উরাইকিত সামনে থেকে রাস্তা দেখাতে থাকে।

সাওর গুহায় অবস্থানের তৃতীয় দিনে ৪ঠা রবিউল আউয়াল সোমবার আমের বিন ফুহাইরা (আবু বকর রাযি.-এর আযাদকৃত গোলাম) ঐ বাহন উটনী দুটি নিয়ে যায়। সাথে ছিল আবদুল্লাহ বিন উরাইকিত। তাঁকে উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে পূর্বেই পথপ্রদর্শনের জন্য সাথে নেওয়া হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক উটনীর ওপর আরোহণ করেন। আর আবু বকর রাযি. অন্য উটনীর ওপর। খেদমতের জন্য আমের বিন ফুহাইরাকে তিনি নিজের পিছনে বসান। আর আব্দুল্লাহ বিন উরাইকিত সামনে থেকে রাস্তা দেখাতে থাকে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px