📄 মদীনায় ইসলামের প্রথম মাদ্রাসা
মদিনায় পৌঁছে আউস ও খাযরাজের নেতৃবৃন্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ মর্মে পত্র পাঠালেন— আলহামদু লিল্লাহ! মদিনায় ইসলামের যথেষ্ট প্রসার ঘটেছে। এখন এমন কোনো লোক আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন; যিনি আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেবেন, মানুষদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করবেন, আমাদেরকে শরিয়তের হুকুম-আহকাম শিক্ষা দেবেন এবং নামাযে আমাদের ইমামতি করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুরোধক্রমে হযরত মুসআব বিন উমায়ের রাযি. কে কুরআন শিক্ষাদানের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। এভাবে মদিনায় ইসলামের সর্ব প্রথম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
হজের মৌসুমে মদিনা থেকে একটি বড় কাফেলা মক্কায় পৌঁছেন। তাদের মধ্যে ৭০ জন পুরুষ আর ২ জন মহিলা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। রাতের বেলা তাদের সঙ্গে আকাবার সন্নিকটে মিলিত হওয়ার অঙ্গীকার করেন। ওয়াদা অনুযায়ী মধ্যরাতে সকলেই সেখানে সমবেত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আব্বাস রাযি. ও সেরাতে নবীজির সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। সমবেত জনতার সম্মুখে হযরত আব্বাস রাযি. ভাষণ দিলেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: আমার এ ভাতিজা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা স্বীয় গোত্রের মাঝে সম্মানে ও সুরক্ষিতভাবে বসবাস করে আসছে। এখন তোমরা যারা তাঁকে মদিনায় নিতে এসেছ, তোমরা ভেবে দেখ, যদি তোমরা তাঁকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করতে পার এবং শত্রুর হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করতে পার; তা হলে এ দায়িত্ব গ্রহণ কর নতুবা তাঁকে স্বীয় গোত্রেই থাকতে দাও।
এ প্রস্তাব শুনে কাফেলার সর্দার দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, নিশ্চয় আমরা তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আর আমাদের ইচ্ছা হল আমরা তাঁর বাইআত পূর্ণ করব। এ ঘোষণা শুনে (ওয়াদা ও বাইআত দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে) হযরত আসওয়াদ বিন যুরারাহ বলে উঠলেন, হে মদিনাবাসী! একটু থামুন, আপনারা আজ কীসের ওপর বাইআত গ্রহণ করেছেন, তা কি অনুভব করতে পেরেছেন? ভালো করে বুঝে নিন, এ বাইআত সমগ্র আরব অনারবের মধ্যে এক মোকাবেলা ও বিরোধিতার অঙ্গীকার। যদি আপনারা তা রক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন তাহলে বাইআত গ্রহণ করুন। অন্যথায় নিজেদের অক্ষমতার কথা জানিয়ে দিন। এ কথা শুনে সকলে সমস্বরে বলে উঠলেন: আমরা কোনো অবস্থাতেই এ বাইআত থেকে পিছু হটব না। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আল্লাহর রাসুল! আমরা যদি এ অঙ্গীকার পূর্ণ করি তা হলে আমরা এর কী প্রতিদান পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর প্রতিদান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। একথা শুনে সকলে বললেন, আমরা এর ওপরই রাজি আছি। আপনি হাত মোবারক এগিয়ে দিন, আমরা বাইয়াত গ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত বাড়িয়ে দিলে সকলেই বাইয়াত লাভে ধন্য হলেন।
মহান রাব্বুল আলামিন জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভদৃষ্টি এবং কয়েকটি কথা সে লোকগুলোর ওপর এমন প্রভাব ফেলল, অল্প কিছুক্ষণের সাহচর্যে পার্থিব সম্পদের মোহ, সম্মান-প্রতিপত্তি ও অর্থ-কড়ির মহব্বত তাদের অন্তর থেকে নিঃশেষ হয়ে গিয়ে কেবলমাত্র এক আল্লাহর মহব্বত তাদের অন্তরের গভীরে এমনভাবে বদ্ধমূল হল, জান-মাল, ইজ্জত-আবরু সব কিছুই তাঁর মোকাবেলায় কুরবান করার জন্য তারা প্রস্তুত হয়ে গেলেন। শুধু তারাই নয় তাঁদের সন্তানদের মধ্যেও অনুপ্রেরণা অব্যাহত ছিল।
বাইআতে অংশগ্রহণকারিণী হযরত উম্মে উমারার সাহেবজাদা হযরত হাবীব রাযি.-কে মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার মুসায়লামা কাযযাব গ্রেফতার করে নানা ধরণের নির্যাতন করে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সাথে হত্যা করে ফেলে। কিন্তু তিনি অঙ্গীকারের বিপক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। মুসায়লামা তাঁকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি মুহাম্মদকে নবী বলে স্বীকার কর? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। পুনরায় জিজ্ঞেস করল, তুমি কি এ মর্মে সাক্ষ্য দাও, আমিও আল্লাহর নবী? তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই না। অতঃপর শরীরের একটি অঙ্গ কেটে ফেলত। এমনিভাবে এক এক অঙ্গ করে শরীরের একটি অঙ্গ অত্যন্ত নির্দয়ভাবে টুকরো করে ফেলা হয়। অবশেষে তিনি শহিদ হয়ে গেলেন। কিন্তু জায়েয হওয়া সত্ত্বেও তিনি ইসলামের অঙ্গীকারের বিরুদ্ধে কোনো শব্দও মুখ থেকে বের করা পছন্দ করলেন না। এরপর আকাবা নামক স্থানে সবাই বাইআত গ্রহণ করলেন। এ সময় বাইআত গ্রহণকারী পুরুষদের সংখ্যা ৭৩ ও মহিলাদের সংখ্যা ছিল ২ জন। এ বাইআতের নাম বাইআতে "আকবায়ে সানিয়া"। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের মধ্যে থেকে ১২জনকে সমস্ত কাফেলার জিম্মাদার মনোনীত করে দিলেন।
মদিনায় পৌঁছে আউস ও খাযরাজের নেতৃবৃন্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ মর্মে পত্র পাঠালেন— আলহামদু লিল্লাহ! মদিনায় ইসলামের যথেষ্ট প্রসার ঘটেছে। এখন এমন কোনো লোক আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন; যিনি আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেবেন, মানুষদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করবেন, আমাদেরকে শরিয়তের হুকুম-আহকাম শিক্ষা দেবেন এবং নামাযে আমাদের ইমামতি করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুরোধক্রমে হযরত মুসআব বিন উমায়ের রাযি. কে কুরআন শিক্ষাদানের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। এভাবে মদিনায় ইসলামের সর্ব প্রথম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
হজের মৌসুমে মদিনা থেকে একটি বড় কাফেলা মক্কায় পৌঁছেন। তাদের মধ্যে ৭০ জন পুরুষ আর ২ জন মহিলা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। রাতের বেলা তাদের সঙ্গে আকাবার সন্নিকটে মিলিত হওয়ার অঙ্গীকার করেন। ওয়াদা অনুযায়ী মধ্যরাতে সকলেই সেখানে সমবেত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আব্বাস রাযি. ও সেরাতে নবীজির সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। সমবেত জনতার সম্মুখে হযরত আব্বাস রাযি. ভাষণ দিলেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: আমার এ ভাতিজা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা স্বীয় গোত্রের মাঝে সম্মানে ও সুরক্ষিতভাবে বসবাস করে আসছে। এখন তোমরা যারা তাঁকে মদিনায় নিতে এসেছ, তোমরা ভেবে দেখ, যদি তোমরা তাঁকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করতে পার এবং শত্রুর হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করতে পার; তা হলে এ দায়িত্ব গ্রহণ কর নতুবা তাঁকে স্বীয় গোত্রেই থাকতে দাও।
এ প্রস্তাব শুনে কাফেলার সর্দার দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, নিশ্চয় আমরা তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আর আমাদের ইচ্ছা হল আমরা তাঁর বাইআত পূর্ণ করব। এ ঘোষণা শুনে (ওয়াদা ও বাইআত দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে) হযরত আসওয়াদ বিন যুরারাহ বলে উঠলেন, হে মদিনাবাসী! একটু থামুন, আপনারা আজ কীসের ওপর বাইআত গ্রহণ করেছেন, তা কি অনুভব করতে পেরেছেন? ভালো করে বুঝে নিন, এ বাইআত সমগ্র আরব অনারবের মধ্যে এক মোকাবেলা ও বিরোধিতার অঙ্গীকার। যদি আপনারা তা রক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন তাহলে বাইআত গ্রহণ করুন। অন্যথায় নিজেদের অক্ষমতার কথা জানিয়ে দিন। এ কথা শুনে সকলে সমস্বরে বলে উঠলেন: আমরা কোনো অবস্থাতেই এ বাইআত থেকে পিছু হটব না। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আল্লাহর রাসুল! আমরা যদি এ অঙ্গীকার পূর্ণ করি তা হলে আমরা এর কী প্রতিদান পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর প্রতিদান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। একথা শুনে সকলে বললেন, আমরা এর ওপরই রাজি আছি। আপনি হাত মোবারক এগিয়ে দিন, আমরা বাইয়াত গ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত বাড়িয়ে দিলে সকলেই বাইয়াত লাভে ধন্য হলেন।
মহান রাব্বুল আলামিন জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভদৃষ্টি এবং কয়েকটি কথা সে লোকগুলোর ওপর এমন প্রভাব ফেলল, অল্প কিছুক্ষণের সাহচর্যে পার্থিব সম্পদের মোহ, সম্মান-প্রতিপত্তি ও অর্থ-কড়ির মহব্বত তাদের অন্তর থেকে নিঃশেষ হয়ে গিয়ে কেবলমাত্র এক আল্লাহর মহব্বত তাদের অন্তরের গভীরে এমনভাবে বদ্ধমূল হল, জান-মাল, ইজ্জত-আবরু সব কিছুই তাঁর মোকাবেলায় কুরবান করার জন্য তারা প্রস্তুত হয়ে গেলেন। শুধু তারাই নয় তাঁদের সন্তানদের মধ্যেও অনুপ্রেরণা অব্যাহত ছিল।
বাইআতে অংশগ্রহণকারিণী হযরত উম্মে উমারার সাহেবজাদা হযরত হাবীব রাযি.-কে মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার মুসায়লামা কাযযাব গ্রেফতার করে নানা ধরণের নির্যাতন করে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সাথে হত্যা করে ফেলে। কিন্তু তিনি অঙ্গীকারের বিপক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। মুসায়লামা তাঁকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি মুহাম্মদকে নবী বলে স্বীকার কর? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। পুনরায় জিজ্ঞেস করল, তুমি কি এ মর্মে সাক্ষ্য দাও, আমিও আল্লাহর নবী? তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই না। অতঃপর শরীরের একটি অঙ্গ কেটে ফেলত। এমনিভাবে এক এক অঙ্গ করে শরীরের একটি অঙ্গ অত্যন্ত নির্দয়ভাবে টুকরো করে ফেলা হয়। অবশেষে তিনি শহিদ হয়ে গেলেন। কিন্তু জায়েয হওয়া সত্ত্বেও তিনি ইসলামের অঙ্গীকারের বিরুদ্ধে কোনো শব্দও মুখ থেকে বের করা পছন্দ করলেন না। এরপর আকাবা নামক স্থানে সবাই বাইআত গ্রহণ করলেন। এ সময় বাইআত গ্রহণকারী পুরুষদের সংখ্যা ৭৩ ও মহিলাদের সংখ্যা ছিল ২ জন। এ বাইআতের নাম বাইআতে "আকবায়ে সানিয়া"। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের মধ্যে থেকে ১২জনকে সমস্ত কাফেলার জিম্মাদার মনোনীত করে দিলেন।
📄 মদীনায় হিজরতের সূচনা
কুরাইশরা যখন উক্ত বাইআতের সংবাদ শুনল তখন তারা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। ফলে তারা মুসলমানদের অশান্তি, কষ্ট-যাতনা দেওয়া হতে ক্ষণিকের জন্যও বিরত থাকল না। এমন জটিল ও নাজুক পরিস্থিতিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবীগণকে মদিনা শরিফে হিজরত করার পরামর্শ দেন। সেমতে সাহাবীগণ ক্রমে ক্রমে কুরাইশদের অগোচরে একজন দুজন করে মক্কা থেকে মদিনা অভিমুখে হিজরত করা শুরু করে দিলেন। এভাবে যেতে যেতে অবশেষে মক্কায় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ও আলি রাযি. এবং শিশু-নারী ও অসমর্থ কিছু পুরুষ ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। সিদ্দিকে আকবার রাযি. ও হিজরতের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন— অপেক্ষা কর, আল্লাহ পাক আমাকেও হিজরতের অনুমতি দিয়ে দেবেন হয়তো। তাই তিনি সে অপেক্ষায় থাকলেন এবং বাহনের জন্য দুটি উটনী প্রস্তুত রাখলেন। একটি নিজের জন্য এবং অপরটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য।
কুরাইশরা যখন উক্ত বাইআতের সংবাদ শুনল তখন তারা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। ফলে তারা মুসলমানদের অশান্তি, কষ্ট-যাতনা দেওয়া হতে ক্ষণিকের জন্যও বিরত থাকল না। এমন জটিল ও নাজুক পরিস্থিতিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবীগণকে মদিনা শরিফে হিজরত করার পরামর্শ দেন। সেমতে সাহাবীগণ ক্রমে ক্রমে কুরাইশদের অগোচরে একজন দুজন করে মক্কা থেকে মদিনা অভিমুখে হিজরত করা শুরু করে দিলেন। এভাবে যেতে যেতে অবশেষে মক্কায় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ও আলি রাযি. এবং শিশু-নারী ও অসমর্থ কিছু পুরুষ ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। সিদ্দিকে আকবার রাযি. ও হিজরতের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন— অপেক্ষা কর, আল্লাহ পাক আমাকেও হিজরতের অনুমতি দিয়ে দেবেন হয়তো। তাই তিনি সে অপেক্ষায় থাকলেন এবং বাহনের জন্য দুটি উটনী প্রস্তুত রাখলেন। একটি নিজের জন্য এবং অপরটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য।
📄 নবীজির হিজরত
মক্কার কুরাইশ কাফেররা যখন মুসলমানদের হিজরতের এ অবস্থা দেখতে পেল, তখন তারা দারুন নদওয়ায় (বৈঠকখানা) চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একত্র হল এবং নবীজির ব্যাপারে কী করা যায় তা আলোচনা করল। কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গ্রেফতার করার পক্ষে অভিমত দিল। কেউ দেশান্তর করার মত দিল। কিন্তু তাদের ধূর্ত লোকেরা বলল, গ্রেফতার করার পরিকল্পনা সহজ হবে না। এজন্য, তাঁর সাথীরা তাঁকে আমাদের থেকে সহজে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত দেশান্তর করার পরিকল্পনা; এটা বাস্তবিক আমাদের জন্য আরো ক্ষতির কারণ হবে। কেন না এ অবস্থায় মক্কা ও আশেপাশের লোকেরা তাঁর উত্তম চরিত্র, মিষ্টি মধুর কথাবার্তা ও আল্লাহর পবিত্র বাণীর প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে যাবে। পরিশেষে তিনি তাদের সকলকে নিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ করবেন।
হতভাগা আবু জাহল এ অভিমত পেশ করল, তাঁকে হত্যা করা হোক এবং হত্যা কাজে প্রতি গোত্র থেকে এক একজন ব্যক্তি শরিক হোক। তাহলে আবদে মানাফ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) গোত্র এর প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হবে না। উপস্থিত সকল সদস্য এ অভিমতকে পছন্দ করল। আর সকল গোত্র থেকে এক একজন যুবককে সংগঠিত করে তাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হল, অমুক রাতে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের এই পরামর্শের কথা জানিয়ে দিলেন এবং হিজরতের আদেশ প্রদান করলেন। যে রাতে কুরাইশ কাফেররা তাদের হীন ষড়যন্ত্র কার্যকর করার পদক্ষেপ নিল এবং বিভিন্ন গোত্র থেকে বাছাইকৃত যুবকরা তাঁর বাড়ির চারিদিকে ঘেরাও করে বসেছিল, সে রাতেই তিনি হিজরত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং আলি রাযি.-কে বললেন, তুমি আমার বিছানায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাক যেন আমার অনুপস্থিতি কাফেররা টের না পায়। এর পরই তিনি ঘর থেকে বের হলেন। দেখলেন ঘরের সাথে এক দল কাফের ওৎ পেতে বসে আছে। তিনি সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করতে করতে বের হলেন এবং যখন— فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ "আমি তাদের চোখে পর্দা ফেলে দিয়েছি, ফলে তারা দেখেতে পাচ্ছে না।" এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন আয়াতকে বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করলেন। ফলে আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের চোখে পর্দা ফেলে দিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেল না। তিনি তাদের সকলের নাকের ডগা ডিঙ্গিয়ে আবু বকর রাযি.-এর বাসায় গেলেন। আর তিনি তো পূর্ব থেকেই বাহন ও পথ প্রর্দশক প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক রাযি. রাসূলের সহযাত্রী হলেন এবং বাড়ির পিছনের একটি দরজা দিয়ে বের হয়ে মক্কার অদূরবর্তী সাওর পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলেন।
মক্কার কুরাইশ কাফেররা যখন মুসলমানদের হিজরতের এ অবস্থা দেখতে পেল, তখন তারা দারুন নদওয়ায় (বৈঠকখানা) চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একত্র হল এবং নবীজির ব্যাপারে কী করা যায় তা আলোচনা করল। কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গ্রেফতার করার পক্ষে অভিমত দিল। কেউ দেশান্তর করার মত দিল। কিন্তু তাদের ধূর্ত লোকেরা বলল, গ্রেফতার করার পরিকল্পনা সহজ হবে না। এজন্য, তাঁর সাথীরা তাঁকে আমাদের থেকে সহজে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত দেশান্তর করার পরিকল্পনা; এটা বাস্তবিক আমাদের জন্য আরো ক্ষতির কারণ হবে। কেন না এ অবস্থায় মক্কা ও আশেপাশের লোকেরা তাঁর উত্তম চরিত্র, মিষ্টি মধুর কথাবার্তা ও আল্লাহর পবিত্র বাণীর প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে যাবে। পরিশেষে তিনি তাদের সকলকে নিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ করবেন।
হতভাগা আবু জাহল এ অভিমত পেশ করল, তাঁকে হত্যা করা হোক এবং হত্যা কাজে প্রতি গোত্র থেকে এক একজন ব্যক্তি শরিক হোক। তাহলে আবদে মানাফ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) গোত্র এর প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হবে না। উপস্থিত সকল সদস্য এ অভিমতকে পছন্দ করল। আর সকল গোত্র থেকে এক একজন যুবককে সংগঠিত করে তাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হল, অমুক রাতে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের এই পরামর্শের কথা জানিয়ে দিলেন এবং হিজরতের আদেশ প্রদান করলেন। যে রাতে কুরাইশ কাফেররা তাদের হীন ষড়যন্ত্র কার্যকর করার পদক্ষেপ নিল এবং বিভিন্ন গোত্র থেকে বাছাইকৃত যুবকরা তাঁর বাড়ির চারিদিকে ঘেরাও করে বসেছিল, সে রাতেই তিনি হিজরত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং আলি রাযি.-কে বললেন, তুমি আমার বিছানায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাক যেন আমার অনুপস্থিতি কাফেররা টের না পায়। এর পরই তিনি ঘর থেকে বের হলেন। দেখলেন ঘরের সাথে এক দল কাফের ওৎ পেতে বসে আছে। তিনি সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করতে করতে বের হলেন এবং যখন— فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ "আমি তাদের চোখে পর্দা ফেলে দিয়েছি, ফলে তারা দেখেতে পাচ্ছে না।" এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন আয়াতকে বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করলেন। ফলে আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের চোখে পর্দা ফেলে দিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেল না। তিনি তাদের সকলের নাকের ডগা ডিঙ্গিয়ে আবু বকর রাযি.-এর বাসায় গেলেন। আর তিনি তো পূর্ব থেকেই বাহন ও পথ প্রর্দশক প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক রাযি. রাসূলের সহযাত্রী হলেন এবং বাড়ির পিছনের একটি দরজা দিয়ে বের হয়ে মক্কার অদূরবর্তী সাওর পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলেন।
📄 সওওর পাহাড়ের গুহায় অবস্থান
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওর পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিলেন। এদিকে কাফের পাহারাদার যুবকরা সকাল পর্যন্ত তাঁর বাইরে আগমনের অপেক্ষায় থাকল। কিন্তু পরিশেষে তারা অবগত হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জায়গায় আলি রাযি. আছেন। তারা অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত হয়ে চতুর্দিকে অনুসন্ধানী দল পাঠাল। কতিপয় পদচিহ্ন বিশারদ লোক মরুভূমির মাটিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করে ঠিক ওই গুহার কাছে উপনীত হল। গুহার মধ্যে উঁকি দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেত। কেন না তিনি সম্মুখে ছিলেন। এমতাবস্থায় আবু বকর সিদ্দিক রাযি. দুশ্চিন্তায় বিচলিত হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শঙ্কিত হয়ো না। আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। আল্লাহর কি অপূর্ব কুদরত, তাদের সকলের দৃষ্টি ঐ গুহা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হল। তারা একটু উঁকি দিয়েও দেখেনি বরং সবচেয়ে চতুর উমাইয়া বিন খলফ বলল, এখানে তাদের থাকা অসম্ভব। কেন না আল্লাহর হুকুমে রাতের মধ্যেই গুহার মুখে মাকড়সা জাল তৈরি করে এবং বন্য কবুতর বাসা বাঁধে। হযরত সহল রহ. বলেন, হেরেমের কবুতরের বংশধর ঐ কবুতর থেকেই চলে আসছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. সহ এ গুহায় একাধারে তিনরাত লুকিয়ে থাকেন। অবশেষে অনুসন্ধানকারীরা নিরাশ হয়ে পড়ল। এখানে তিন দিন অবস্থানকালে আবু বকর রাযি.-এর পুত্র আবদুল্লাহ রাতের অন্ধকারে গোপনে তাদের নিকট যেতেন এবং ভোর হওয়ার পূর্বে মক্কাতে ফিরে আসতেন। সারা দিন কুরাইশদের পরিকল্পনা শুনতেন এবং রাতে তাদের নিকট বর্ণনা করতেন। তাঁর বোন আসমা প্রতিরাতে খাদ্য দ্রব্য পাঠিয়ে দিতেন। আরবরা যেহেতু অতি সহজে পদচিহ্ন চিনতে পারত তাই আবদুল্লাহ স্বীয় গোলামকে ওই গুহা পর্যন্ত মেষ চরাতে যাওয়ার নির্দেশ দিত। যাতে করে পদচিহ্ন মুছে যায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওর পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিলেন। এদিকে কাফের পাহারাদার যুবকরা সকাল পর্যন্ত তাঁর বাইরে আগমনের অপেক্ষায় থাকল। কিন্তু পরিশেষে তারা অবগত হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জায়গায় আলি রাযি. আছেন। তারা অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত হয়ে চতুর্দিকে অনুসন্ধানী দল পাঠাল। কতিপয় পদচিহ্ন বিশারদ লোক মরুভূমির মাটিতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করে ঠিক ওই গুহার কাছে উপনীত হল। গুহার মধ্যে উঁকি দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেত। কেন না তিনি সম্মুখে ছিলেন। এমতাবস্থায় আবু বকর সিদ্দিক রাযি. দুশ্চিন্তায় বিচলিত হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শঙ্কিত হয়ো না। আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। আল্লাহর কি অপূর্ব কুদরত, তাদের সকলের দৃষ্টি ঐ গুহা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হল। তারা একটু উঁকি দিয়েও দেখেনি বরং সবচেয়ে চতুর উমাইয়া বিন খলফ বলল, এখানে তাদের থাকা অসম্ভব। কেন না আল্লাহর হুকুমে রাতের মধ্যেই গুহার মুখে মাকড়সা জাল তৈরি করে এবং বন্য কবুতর বাসা বাঁধে। হযরত সহল রহ. বলেন, হেরেমের কবুতরের বংশধর ঐ কবুতর থেকেই চলে আসছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. সহ এ গুহায় একাধারে তিনরাত লুকিয়ে থাকেন। অবশেষে অনুসন্ধানকারীরা নিরাশ হয়ে পড়ল। এখানে তিন দিন অবস্থানকালে আবু বকর রাযি.-এর পুত্র আবদুল্লাহ রাতের অন্ধকারে গোপনে তাদের নিকট যেতেন এবং ভোর হওয়ার পূর্বে মক্কাতে ফিরে আসতেন। সারা দিন কুরাইশদের পরিকল্পনা শুনতেন এবং রাতে তাদের নিকট বর্ণনা করতেন। তাঁর বোন আসমা প্রতিরাতে খাদ্য দ্রব্য পাঠিয়ে দিতেন। আরবরা যেহেতু অতি সহজে পদচিহ্ন চিনতে পারত তাই আবদুল্লাহ স্বীয় গোলামকে ওই গুহা পর্যন্ত মেষ চরাতে যাওয়ার নির্দেশ দিত। যাতে করে পদচিহ্ন মুছে যায়।