📄 ইসরার সম্পর্কে চাক্ষুস প্রমাণ
সকালে যখন কুরাইশদের মাঝে এ খবর ছড়িয়ে পড়ল তখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। কেউ হাতে তালি দিতে লাগল, কেউ তো অবাক বিস্ময়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। আবার কেউ ঠাট্টাচ্ছলে হাসাহাসি শুরু করে দিল। অতঃপর সকলে ঘটনার সত্যাসত্য যাচাইয়ের জন্য প্রশ্ন করতে শুরু করলো। কেউ জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা বলুন তো বায়তুল মুকাদ্দাস এর নির্মাণশৈলী ও গঠন প্রণালী কেমন? তা পাহাড় থেকে কতটুকু ব্যবধানে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির পূর্ণ নকশা বলে দিলেন। এমনি ধরনের আরো বিভিন্ন প্রশ্ন তারা করতে লাগল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঠিক উত্তর দিতে লাগলেন। এক পর্যায়ে তারা এমন সব অবান্তর প্রশ্ন শুরু করে দিল, যা একবার দেখে কেউ বলতে পারে না। যেমন মসজিদের দরজা কয়টি? কয়টি তাক? ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এ সমস্ত জিনিস কেউ গণনাই করে রাখে না। তাই তিনি বিরক্তিবোধ করতে লাগলেন। তখনই মুজেযা স্বরূপ মসজিদে আকসা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে তুলে ধরা হল। আর তিনি দেখে দেখে গণনা করে সব কিছু বলে দিতে লাগলেন। এ সংবাদ আবু বকর রাযি. শোনামাত্রই বলে উঠলেন: أَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল"। এদিকে কুরাইশরাও সকলে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল এবং পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, তিনি মসজিদের বিস্তারিত বিবরণ তো ঠিকই দিয়েছেন। অতঃপর তারা আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-কে সম্বোধন করে বলল, তুমি কি একথা বিশ্বাস কর, তিনি এক রাতে মসজিদে আকসা পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় ফিরে আসতে পারেন? হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. বলেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক অবিশ্বাস্য বিষয়েও তাঁকে বিশ্বাস করি। যেখানে সকাল সন্ধ্যার সামান্য ব্যবধানে তাঁর কাছে আসমানি খবরাখবর সরবরাহ হয়ে থাকে, সেখানে এই সামান্য ব্যাপারে কোনো প্রকার সংশয় সৃষ্টির অবকাশ কোথায়? আমি সব কিছুকে এক বাক্যে বিশ্বাস করি। এ কারণেই হযরত আবু বকর রাযি.-কে "সিদ্দিক” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
সকালে যখন কুরাইশদের মাঝে এ খবর ছড়িয়ে পড়ল তখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। কেউ হাতে তালি দিতে লাগল, কেউ তো অবাক বিস্ময়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। আবার কেউ ঠাট্টাচ্ছলে হাসাহাসি শুরু করে দিল। অতঃপর সকলে ঘটনার সত্যাসত্য যাচাইয়ের জন্য প্রশ্ন করতে শুরু করলো। কেউ জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা বলুন তো বায়তুল মুকাদ্দাস এর নির্মাণশৈলী ও গঠন প্রণালী কেমন? তা পাহাড় থেকে কতটুকু ব্যবধানে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির পূর্ণ নকশা বলে দিলেন। এমনি ধরনের আরো বিভিন্ন প্রশ্ন তারা করতে লাগল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঠিক উত্তর দিতে লাগলেন। এক পর্যায়ে তারা এমন সব অবান্তর প্রশ্ন শুরু করে দিল, যা একবার দেখে কেউ বলতে পারে না। যেমন মসজিদের দরজা কয়টি? কয়টি তাক? ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এ সমস্ত জিনিস কেউ গণনাই করে রাখে না। তাই তিনি বিরক্তিবোধ করতে লাগলেন। তখনই মুজেযা স্বরূপ মসজিদে আকসা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে তুলে ধরা হল। আর তিনি দেখে দেখে গণনা করে সব কিছু বলে দিতে লাগলেন। এ সংবাদ আবু বকর রাযি. শোনামাত্রই বলে উঠলেন: أَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল"। এদিকে কুরাইশরাও সকলে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল এবং পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, তিনি মসজিদের বিস্তারিত বিবরণ তো ঠিকই দিয়েছেন। অতঃপর তারা আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-কে সম্বোধন করে বলল, তুমি কি একথা বিশ্বাস কর, তিনি এক রাতে মসজিদে আকসা পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় ফিরে আসতে পারেন? হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. বলেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক অবিশ্বাস্য বিষয়েও তাঁকে বিশ্বাস করি। যেখানে সকাল সন্ধ্যার সামান্য ব্যবধানে তাঁর কাছে আসমানি খবরাখবর সরবরাহ হয়ে থাকে, সেখানে এই সামান্য ব্যাপারে কোনো প্রকার সংশয় সৃষ্টির অবকাশ কোথায়? আমি সব কিছুকে এক বাক্যে বিশ্বাস করি। এ কারণেই হযরত আবু বকর রাযি.-কে "সিদ্দিক” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
📄 কুরাইশ কাফেরদের চাক্ষুস সাক্ষ্য
কুরাইশরা পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল, আচ্ছা বলুন তো আমাদের যেই বাণিজ্য কাফেলাটি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে তারা কোথায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "রওহা” নামক স্থানে অমুক গোত্রের একটি বাণিজ্য কাফেলাকে আমি অতিক্রম করি, তাদের উট হারিয়ে গিয়েছিল। তারা সকলে উটের তালাশে চলে গিয়েছিল। আমি তাদের উটের হাওদার নিকট গিয়ে দেখি সেখানে কেউ উপস্থিত নেই। তাদের একটি মাটির পাত্রে পানি রাখা ছিল। আমি সেখান থেকে পানি পান করলাম। অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটিকে অমুক স্থানে অতিক্রম করি। বোরাক তাদের নিকটবর্তী হলে তাদের উটগুলো ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে দিল। তাদের মধ্যে যে লাল উটটি সাদা ও কালো রংয়ের থলে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। ওটা তো অজ্ঞান হয়ে পড়েই গেল। অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটি আমরা অতিক্রম করি "তানইম" স্থানে যার সর্বাগ্রে ছিল একটি খাকি রংয়ের উট যার পৃষ্ঠে ছিল কালো চট ও দুইটি কালো থলে। কাফেলাটি অচিরেই তোমাদের কাছে এসে পড়বে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, কবে নাগাদ তারা এসে পৌঁছবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা বুধবারে এসে যাবে। বাস্তবিকই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনার সাথে সব কিছুই মিলে গেল। পরবর্তীতে কাফেলা ফিরে এসে হুযুরের সমস্ত বর্ণনার সত্যতা স্বীকার করে। যখন কুরাইশদের উপর মহান রাব্বুল আলামিনের সকল প্রমাণাদি পূর্ণ হয়ে গেল এবং এই বিস্ময়কর ভ্রমণের ব্যাপারে স্বয়ং তাদের লোকেরাই সাক্ষ্য দিয়ে দিল, তখন সেসব হঠকারী লোকগুলোর মেরাজের সত্যতা অস্বীকার করা এছাড়া আর কোনো পন্থাই বাকি রইল না, তারা এ সফরকে নিছক একটি যাদু এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদুকর আখ্যা দিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করল।
কুরাইশরা পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল, আচ্ছা বলুন তো আমাদের যেই বাণিজ্য কাফেলাটি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে তারা কোথায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "রওহা” নামক স্থানে অমুক গোত্রের একটি বাণিজ্য কাফেলাকে আমি অতিক্রম করি, তাদের উট হারিয়ে গিয়েছিল। তারা সকলে উটের তালাশে চলে গিয়েছিল। আমি তাদের উটের হাওদার নিকট গিয়ে দেখি সেখানে কেউ উপস্থিত নেই। তাদের একটি মাটির পাত্রে পানি রাখা ছিল। আমি সেখান থেকে পানি পান করলাম। অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটিকে অমুক স্থানে অতিক্রম করি। বোরাক তাদের নিকটবর্তী হলে তাদের উটগুলো ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে দিল। তাদের মধ্যে যে লাল উটটি সাদা ও কালো রংয়ের থলে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। ওটা তো অজ্ঞান হয়ে পড়েই গেল। অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটি আমরা অতিক্রম করি "তানইম" স্থানে যার সর্বাগ্রে ছিল একটি খাকি রংয়ের উট যার পৃষ্ঠে ছিল কালো চট ও দুইটি কালো থলে। কাফেলাটি অচিরেই তোমাদের কাছে এসে পড়বে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, কবে নাগাদ তারা এসে পৌঁছবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা বুধবারে এসে যাবে। বাস্তবিকই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনার সাথে সব কিছুই মিলে গেল। পরবর্তীতে কাফেলা ফিরে এসে হুযুরের সমস্ত বর্ণনার সত্যতা স্বীকার করে। যখন কুরাইশদের উপর মহান রাব্বুল আলামিনের সকল প্রমাণাদি পূর্ণ হয়ে গেল এবং এই বিস্ময়কর ভ্রমণের ব্যাপারে স্বয়ং তাদের লোকেরাই সাক্ষ্য দিয়ে দিল, তখন সেসব হঠকারী লোকগুলোর মেরাজের সত্যতা অস্বীকার করা এছাড়া আর কোনো পন্থাই বাকি রইল না, তারা এ সফরকে নিছক একটি যাদু এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদুকর আখ্যা দিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করল।
📄 মদীনায় ইসলাম
দীর্ঘ দশটি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে আরব গোত্রের মাঝে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। আরবের এমন কোনো মজলিস ও লোক সমাগম বাকি থাকেনি, যেখানে গিয়ে তিনি দীনের দাওয়াত পৌঁছাননি। হজের মৌসুম, উকায মেলা, যিলমাজায প্রভৃতি স্থানে ঘুরে ঘুরে গিয়ে লোকদেরকে সত্যের পথে আহবান জানাতেন। কিন্তু তারা প্রতি উত্তরে এই বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নানাবিধ কষ্ট দিত ও ঠাট্টা করত, আগে নিজের কওমকে মুসলমান বানিয়ে পরে আমাদেরকে হেদায়েত করতে আসুন। এভাবেই দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গেল।
যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইসলামের প্রসার ও উন্নতি দিতে ইচ্ছা করলেন, তখন আউস গোত্রের কিছু লোককে মদিনা থেকে নবীজির খেদমতে প্রেরণ করে দিলেন। যাদের মধ্য হতে আসওয়াদ বিন যুরারা ও যাকওয়ান বিন আবদে কায়স নামক দুজন লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। পরের বছরও তাদের মধ্য হতে আরো কিছু লোক আসে। তন্মধ্যে মতান্তরে ছয় বা আট জন লোক মুসলমান হয়ে যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন— তোমরা কি আল্লাহর বাণী প্রচারে আমাকে সাহায্য করবে? তারা বলল, আল্লাহর রাসূল! এখন আমাদের আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মাঝে গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। [ঐ সময় মদিনায় দু দল লোকের বাস ছিল। (১) মুশরিক (২) ইহুদি। মুশরিকরা দুটি বিরাট গোত্রে বিভক্ত ছিল— আওস ও খাযরাজ। এ দু দল সর্বদা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। প্রায় ১২০ বছর তাদের পারস্পরিক যুদ্ধ চলতে থাকে। এভাবে ইহুদিরাও দুভাগে বিভক্ত ছিল। বনু কুরায়যা ও বনু নযির। এ দুগোত্রও পরস্পর শত্রুতায় লিপ্ত ছিল।]
আপনি যদি এ মুহূর্তে মদিনায় তাশরিফ নিয়ে যান তাহলে আপনার হাতে বায়আত গ্রহণের ব্যাপারে সকলে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে না। আপাতত আপনি আপনার এ ইচ্ছা এক বছরের জন্য মুলতবি রাখুন। হতে পারে শীঘ্রই আমাদের পরস্পরে সন্ধি হয়ে যাবে। আগামী বছর পুনরায় আমরা আপনার খেদমতে উপস্থিত হব। তখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এরূপ আলাপ-আলোচনার পর তারা মদিনায় ফিরে গেলেন। মদিনায় সর্বপ্রথম বনি যুরায়ক মসজিদে কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করা হয়।
দীর্ঘ দশটি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে আরব গোত্রের মাঝে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। আরবের এমন কোনো মজলিস ও লোক সমাগম বাকি থাকেনি, যেখানে গিয়ে তিনি দীনের দাওয়াত পৌঁছাননি। হজের মৌসুম, উকায মেলা, যিলমাজায প্রভৃতি স্থানে ঘুরে ঘুরে গিয়ে লোকদেরকে সত্যের পথে আহবান জানাতেন। কিন্তু তারা প্রতি উত্তরে এই বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নানাবিধ কষ্ট দিত ও ঠাট্টা করত, আগে নিজের কওমকে মুসলমান বানিয়ে পরে আমাদেরকে হেদায়েত করতে আসুন। এভাবেই দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গেল।
যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইসলামের প্রসার ও উন্নতি দিতে ইচ্ছা করলেন, তখন আউস গোত্রের কিছু লোককে মদিনা থেকে নবীজির খেদমতে প্রেরণ করে দিলেন। যাদের মধ্য হতে আসওয়াদ বিন যুরারা ও যাকওয়ান বিন আবদে কায়স নামক দুজন লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। পরের বছরও তাদের মধ্য হতে আরো কিছু লোক আসে। তন্মধ্যে মতান্তরে ছয় বা আট জন লোক মুসলমান হয়ে যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন— তোমরা কি আল্লাহর বাণী প্রচারে আমাকে সাহায্য করবে? তারা বলল, আল্লাহর রাসূল! এখন আমাদের আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মাঝে গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। [ঐ সময় মদিনায় দু দল লোকের বাস ছিল। (১) মুশরিক (২) ইহুদি। মুশরিকরা দুটি বিরাট গোত্রে বিভক্ত ছিল— আওস ও খাযরাজ। এ দু দল সর্বদা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। প্রায় ১২০ বছর তাদের পারস্পরিক যুদ্ধ চলতে থাকে। এভাবে ইহুদিরাও দুভাগে বিভক্ত ছিল। বনু কুরায়যা ও বনু নযির। এ দুগোত্রও পরস্পর শত্রুতায় লিপ্ত ছিল।]
আপনি যদি এ মুহূর্তে মদিনায় তাশরিফ নিয়ে যান তাহলে আপনার হাতে বায়আত গ্রহণের ব্যাপারে সকলে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে না। আপাতত আপনি আপনার এ ইচ্ছা এক বছরের জন্য মুলতবি রাখুন। হতে পারে শীঘ্রই আমাদের পরস্পরে সন্ধি হয়ে যাবে। আগামী বছর পুনরায় আমরা আপনার খেদমতে উপস্থিত হব। তখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এরূপ আলাপ-আলোচনার পর তারা মদিনায় ফিরে গেলেন। মদিনায় সর্বপ্রথম বনি যুরায়ক মসজিদে কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করা হয়।
📄 মদীনায় ইসলামের প্রথম মাদ্রাসা
মদিনায় পৌঁছে আউস ও খাযরাজের নেতৃবৃন্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ মর্মে পত্র পাঠালেন— আলহামদু লিল্লাহ! মদিনায় ইসলামের যথেষ্ট প্রসার ঘটেছে। এখন এমন কোনো লোক আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন; যিনি আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেবেন, মানুষদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করবেন, আমাদেরকে শরিয়তের হুকুম-আহকাম শিক্ষা দেবেন এবং নামাযে আমাদের ইমামতি করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুরোধক্রমে হযরত মুসআব বিন উমায়ের রাযি. কে কুরআন শিক্ষাদানের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। এভাবে মদিনায় ইসলামের সর্ব প্রথম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
হজের মৌসুমে মদিনা থেকে একটি বড় কাফেলা মক্কায় পৌঁছেন। তাদের মধ্যে ৭০ জন পুরুষ আর ২ জন মহিলা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। রাতের বেলা তাদের সঙ্গে আকাবার সন্নিকটে মিলিত হওয়ার অঙ্গীকার করেন। ওয়াদা অনুযায়ী মধ্যরাতে সকলেই সেখানে সমবেত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আব্বাস রাযি. ও সেরাতে নবীজির সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। সমবেত জনতার সম্মুখে হযরত আব্বাস রাযি. ভাষণ দিলেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: আমার এ ভাতিজা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা স্বীয় গোত্রের মাঝে সম্মানে ও সুরক্ষিতভাবে বসবাস করে আসছে। এখন তোমরা যারা তাঁকে মদিনায় নিতে এসেছ, তোমরা ভেবে দেখ, যদি তোমরা তাঁকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করতে পার এবং শত্রুর হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করতে পার; তা হলে এ দায়িত্ব গ্রহণ কর নতুবা তাঁকে স্বীয় গোত্রেই থাকতে দাও।
এ প্রস্তাব শুনে কাফেলার সর্দার দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, নিশ্চয় আমরা তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আর আমাদের ইচ্ছা হল আমরা তাঁর বাইআত পূর্ণ করব। এ ঘোষণা শুনে (ওয়াদা ও বাইআত দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে) হযরত আসওয়াদ বিন যুরারাহ বলে উঠলেন, হে মদিনাবাসী! একটু থামুন, আপনারা আজ কীসের ওপর বাইআত গ্রহণ করেছেন, তা কি অনুভব করতে পেরেছেন? ভালো করে বুঝে নিন, এ বাইআত সমগ্র আরব অনারবের মধ্যে এক মোকাবেলা ও বিরোধিতার অঙ্গীকার। যদি আপনারা তা রক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন তাহলে বাইআত গ্রহণ করুন। অন্যথায় নিজেদের অক্ষমতার কথা জানিয়ে দিন। এ কথা শুনে সকলে সমস্বরে বলে উঠলেন: আমরা কোনো অবস্থাতেই এ বাইআত থেকে পিছু হটব না। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আল্লাহর রাসুল! আমরা যদি এ অঙ্গীকার পূর্ণ করি তা হলে আমরা এর কী প্রতিদান পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর প্রতিদান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। একথা শুনে সকলে বললেন, আমরা এর ওপরই রাজি আছি। আপনি হাত মোবারক এগিয়ে দিন, আমরা বাইয়াত গ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত বাড়িয়ে দিলে সকলেই বাইয়াত লাভে ধন্য হলেন।
মহান রাব্বুল আলামিন জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভদৃষ্টি এবং কয়েকটি কথা সে লোকগুলোর ওপর এমন প্রভাব ফেলল, অল্প কিছুক্ষণের সাহচর্যে পার্থিব সম্পদের মোহ, সম্মান-প্রতিপত্তি ও অর্থ-কড়ির মহব্বত তাদের অন্তর থেকে নিঃশেষ হয়ে গিয়ে কেবলমাত্র এক আল্লাহর মহব্বত তাদের অন্তরের গভীরে এমনভাবে বদ্ধমূল হল, জান-মাল, ইজ্জত-আবরু সব কিছুই তাঁর মোকাবেলায় কুরবান করার জন্য তারা প্রস্তুত হয়ে গেলেন। শুধু তারাই নয় তাঁদের সন্তানদের মধ্যেও অনুপ্রেরণা অব্যাহত ছিল।
বাইআতে অংশগ্রহণকারিণী হযরত উম্মে উমারার সাহেবজাদা হযরত হাবীব রাযি.-কে মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার মুসায়লামা কাযযাব গ্রেফতার করে নানা ধরণের নির্যাতন করে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সাথে হত্যা করে ফেলে। কিন্তু তিনি অঙ্গীকারের বিপক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। মুসায়লামা তাঁকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি মুহাম্মদকে নবী বলে স্বীকার কর? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। পুনরায় জিজ্ঞেস করল, তুমি কি এ মর্মে সাক্ষ্য দাও, আমিও আল্লাহর নবী? তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই না। অতঃপর শরীরের একটি অঙ্গ কেটে ফেলত। এমনিভাবে এক এক অঙ্গ করে শরীরের একটি অঙ্গ অত্যন্ত নির্দয়ভাবে টুকরো করে ফেলা হয়। অবশেষে তিনি শহিদ হয়ে গেলেন। কিন্তু জায়েয হওয়া সত্ত্বেও তিনি ইসলামের অঙ্গীকারের বিরুদ্ধে কোনো শব্দও মুখ থেকে বের করা পছন্দ করলেন না। এরপর আকাবা নামক স্থানে সবাই বাইআত গ্রহণ করলেন। এ সময় বাইআত গ্রহণকারী পুরুষদের সংখ্যা ৭৩ ও মহিলাদের সংখ্যা ছিল ২ জন। এ বাইআতের নাম বাইআতে "আকবায়ে সানিয়া"। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের মধ্যে থেকে ১২জনকে সমস্ত কাফেলার জিম্মাদার মনোনীত করে দিলেন।
মদিনায় পৌঁছে আউস ও খাযরাজের নেতৃবৃন্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ মর্মে পত্র পাঠালেন— আলহামদু লিল্লাহ! মদিনায় ইসলামের যথেষ্ট প্রসার ঘটেছে। এখন এমন কোনো লোক আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন; যিনি আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেবেন, মানুষদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান করবেন, আমাদেরকে শরিয়তের হুকুম-আহকাম শিক্ষা দেবেন এবং নামাযে আমাদের ইমামতি করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুরোধক্রমে হযরত মুসআব বিন উমায়ের রাযি. কে কুরআন শিক্ষাদানের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। এভাবে মদিনায় ইসলামের সর্ব প্রথম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
হজের মৌসুমে মদিনা থেকে একটি বড় কাফেলা মক্কায় পৌঁছেন। তাদের মধ্যে ৭০ জন পুরুষ আর ২ জন মহিলা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। রাতের বেলা তাদের সঙ্গে আকাবার সন্নিকটে মিলিত হওয়ার অঙ্গীকার করেন। ওয়াদা অনুযায়ী মধ্যরাতে সকলেই সেখানে সমবেত হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আব্বাস রাযি. ও সেরাতে নবীজির সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। সমবেত জনতার সম্মুখে হযরত আব্বাস রাযি. ভাষণ দিলেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: আমার এ ভাতিজা (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা স্বীয় গোত্রের মাঝে সম্মানে ও সুরক্ষিতভাবে বসবাস করে আসছে। এখন তোমরা যারা তাঁকে মদিনায় নিতে এসেছ, তোমরা ভেবে দেখ, যদি তোমরা তাঁকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করতে পার এবং শত্রুর হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করতে পার; তা হলে এ দায়িত্ব গ্রহণ কর নতুবা তাঁকে স্বীয় গোত্রেই থাকতে দাও।
এ প্রস্তাব শুনে কাফেলার সর্দার দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, নিশ্চয় আমরা তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আর আমাদের ইচ্ছা হল আমরা তাঁর বাইআত পূর্ণ করব। এ ঘোষণা শুনে (ওয়াদা ও বাইআত দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে) হযরত আসওয়াদ বিন যুরারাহ বলে উঠলেন, হে মদিনাবাসী! একটু থামুন, আপনারা আজ কীসের ওপর বাইআত গ্রহণ করেছেন, তা কি অনুভব করতে পেরেছেন? ভালো করে বুঝে নিন, এ বাইআত সমগ্র আরব অনারবের মধ্যে এক মোকাবেলা ও বিরোধিতার অঙ্গীকার। যদি আপনারা তা রক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন তাহলে বাইআত গ্রহণ করুন। অন্যথায় নিজেদের অক্ষমতার কথা জানিয়ে দিন। এ কথা শুনে সকলে সমস্বরে বলে উঠলেন: আমরা কোনো অবস্থাতেই এ বাইআত থেকে পিছু হটব না। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আল্লাহর রাসুল! আমরা যদি এ অঙ্গীকার পূর্ণ করি তা হলে আমরা এর কী প্রতিদান পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর প্রতিদান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। একথা শুনে সকলে বললেন, আমরা এর ওপরই রাজি আছি। আপনি হাত মোবারক এগিয়ে দিন, আমরা বাইয়াত গ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত বাড়িয়ে দিলে সকলেই বাইয়াত লাভে ধন্য হলেন।
মহান রাব্বুল আলামিন জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভদৃষ্টি এবং কয়েকটি কথা সে লোকগুলোর ওপর এমন প্রভাব ফেলল, অল্প কিছুক্ষণের সাহচর্যে পার্থিব সম্পদের মোহ, সম্মান-প্রতিপত্তি ও অর্থ-কড়ির মহব্বত তাদের অন্তর থেকে নিঃশেষ হয়ে গিয়ে কেবলমাত্র এক আল্লাহর মহব্বত তাদের অন্তরের গভীরে এমনভাবে বদ্ধমূল হল, জান-মাল, ইজ্জত-আবরু সব কিছুই তাঁর মোকাবেলায় কুরবান করার জন্য তারা প্রস্তুত হয়ে গেলেন। শুধু তারাই নয় তাঁদের সন্তানদের মধ্যেও অনুপ্রেরণা অব্যাহত ছিল।
বাইআতে অংশগ্রহণকারিণী হযরত উম্মে উমারার সাহেবজাদা হযরত হাবীব রাযি.-কে মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার মুসায়লামা কাযযাব গ্রেফতার করে নানা ধরণের নির্যাতন করে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সাথে হত্যা করে ফেলে। কিন্তু তিনি অঙ্গীকারের বিপক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। মুসায়লামা তাঁকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি মুহাম্মদকে নবী বলে স্বীকার কর? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। পুনরায় জিজ্ঞেস করল, তুমি কি এ মর্মে সাক্ষ্য দাও, আমিও আল্লাহর নবী? তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই না। অতঃপর শরীরের একটি অঙ্গ কেটে ফেলত। এমনিভাবে এক এক অঙ্গ করে শরীরের একটি অঙ্গ অত্যন্ত নির্দয়ভাবে টুকরো করে ফেলা হয়। অবশেষে তিনি শহিদ হয়ে গেলেন। কিন্তু জায়েয হওয়া সত্ত্বেও তিনি ইসলামের অঙ্গীকারের বিরুদ্ধে কোনো শব্দও মুখ থেকে বের করা পছন্দ করলেন না। এরপর আকাবা নামক স্থানে সবাই বাইআত গ্রহণ করলেন। এ সময় বাইআত গ্রহণকারী পুরুষদের সংখ্যা ৭৩ ও মহিলাদের সংখ্যা ছিল ২ জন। এ বাইআতের নাম বাইআতে "আকবায়ে সানিয়া"। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের মধ্যে থেকে ১২জনকে সমস্ত কাফেলার জিম্মাদার মনোনীত করে দিলেন।