📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ইসরা ও মেরাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

📄 ইসরা ও মেরাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা


এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার হাতিমে শায়িত ছিলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, তিনি স্বীয় বাড়িতে শুয়েছিলেন। এমন সময় হযরত মীকাঈল আ. ও জিবরাঈল আ. তাশরিফ নিয়ে এসে বললেন— আমাদের সঙ্গে চলুন। তাঁকে বোরাক নামক এক বাহনে আরোহণ করানো হল। যার চলার গতি এত দ্রুত ছিল, দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে সেটি কদম ফেলত। এরূপ দ্রুত গতিতে চলে প্রথমে তাঁকে সিরিয়ার মসজিদে আকসায় নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পূর্বের সকল নবীকে একত্র করে রেখেছিলেন; মুজেযাস্বরূপ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে। এখানে পৌঁছে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আযান দেন। আযানের পর সকল নবী ও রাসূলগণ নামাযের প্রস্তুতিস্বরূপ কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। সকলেই এই অপেক্ষায় ছিলেন, নামায কে পড়াবেন। জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত মোবারক ধরে তাঁকে আগে বাড়িয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সমবেত সকল নবী রাসূল ও ফেরেশতাদের নামাযের জামাতে ইমামতি করেন। বোরাকের পিঠে চড়ে পার্থিব জগতের সফর এখানে এসেই শেষ হয়।

অতঃপর পর্যায়ক্রমে তাঁকে সকল আকাশে সফর করানো হয়। তিনি প্রথম আকাশে হযরত আদম আ. এর সঙ্গে, দ্বিতীয় আকাশে হযরত ঈসা আ., তৃতীয় আকাশে হযরত ইউসুফ আ., চতুর্থ আকাশে হযরত ইদরীস আ., পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন আ. ষষ্ঠ আকাশে হযরত মূসা আ. ও সপ্তম আকাশে হযরত ইবরাহীম আ. এর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন।

অতঃপর তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন। পথিমধ্যে হাউজে কাউসার অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের মহান কুদরতের সৃষ্ট এমন বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক জিনিস প্রত্যক্ষ করেন, যা আজ পর্যন্ত কোনো চোখ দেখেনি। কোনো কান তা শ্রবণ করেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়পটে তাঁর ধারণাও জন্মেনি। অতঃপর হুযুরের সম্মুখে জাহান্নাম উপস্থিত করা হল যা ছিল সর্বপ্রকার শাস্তি ও প্রজ্জ্বলিত আগুনের তীব্রদাহে পরিপূর্ণ। যার সম্মুখে শক্ত পাথর ও লোহার মতো কঠিন বস্তুরও কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সেখানে তিনি একদল লোক দেখতে পেলেন, যারা মৃত জানোয়ার ভক্ষণ করছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? জিবরাঈল আ. উত্তর দিলেন, এরা ঐ সমস্ত লোক যারা দুনিয়ায় মানুষের গোশত ভক্ষণ করত। গীবত বা পরনিন্দা করত। অতঃপর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো সম্মুখে অগ্রসর হলেন। আর জিবরাঈল আ. সেখানেই রয়ে গেলেন। কেন না সেখান থেকে সামনে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি তাঁর ছিল না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের দিদার লাভে ধন্য হন। সঠিক বর্ণনা অনুযায়ী সেই যিয়ারত হৃদয়ের অনুভূতি দ্বারা সংঘটিত হয়নি বরং চর্মচক্ষু দ্বারাই সংঘটিত হয়েছিল। হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. সহ সকল মুহাক্কিক সাহাবায়ে কেরাম ও ইমামগণের অভিমতও তাই। সেখানে পৌছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে যান এবং মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করেন। তখনই পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ হয়। এরপর তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন। সেখান হতে পুনরায় তিনি বুরাকে চড়ে মক্কার দিকে চলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে কুরাইশদের তিনটি বাণিজ্য কাফেলার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে অনেককে তিনি সালাম দিয়েছেন। তারা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গলার আওয়াজ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে মক্কায় এসে এ ঘটনার সাক্ষ্য প্রদান করে। প্রভাতের পূর্বেই এই বরকতময় ভ্রমণ সমাপ্ত হয়।

এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার হাতিমে শায়িত ছিলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, তিনি স্বীয় বাড়িতে শুয়েছিলেন। এমন সময় হযরত মীকাঈল আ. ও জিবরাঈল আ. তাশরিফ নিয়ে এসে বললেন— আমাদের সঙ্গে চলুন। তাঁকে বোরাক নামক এক বাহনে আরোহণ করানো হল। যার চলার গতি এত দ্রুত ছিল, দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে সেটি কদম ফেলত। এরূপ দ্রুত গতিতে চলে প্রথমে তাঁকে সিরিয়ার মসজিদে আকসায় নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পূর্বের সকল নবীকে একত্র করে রেখেছিলেন; মুজেযাস্বরূপ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে। এখানে পৌঁছে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আযান দেন। আযানের পর সকল নবী ও রাসূলগণ নামাযের প্রস্তুতিস্বরূপ কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। সকলেই এই অপেক্ষায় ছিলেন, নামায কে পড়াবেন। জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত মোবারক ধরে তাঁকে আগে বাড়িয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সমবেত সকল নবী রাসূল ও ফেরেশতাদের নামাযের জামাতে ইমামতি করেন। বোরাকের পিঠে চড়ে পার্থিব জগতের সফর এখানে এসেই শেষ হয়।

অতঃপর পর্যায়ক্রমে তাঁকে সকল আকাশে সফর করানো হয়। তিনি প্রথম আকাশে হযরত আদম আ. এর সঙ্গে, দ্বিতীয় আকাশে হযরত ঈসা আ., তৃতীয় আকাশে হযরত ইউসুফ আ., চতুর্থ আকাশে হযরত ইদরীস আ., পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন আ. ষষ্ঠ আকাশে হযরত মূসা আ. ও সপ্তম আকাশে হযরত ইবরাহীম আ. এর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন।

অতঃপর তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন। পথিমধ্যে হাউজে কাউসার অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের মহান কুদরতের সৃষ্ট এমন বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক জিনিস প্রত্যক্ষ করেন, যা আজ পর্যন্ত কোনো চোখ দেখেনি। কোনো কান তা শ্রবণ করেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়পটে তাঁর ধারণাও জন্মেনি। অতঃপর হুযুরের সম্মুখে জাহান্নাম উপস্থিত করা হল যা ছিল সর্বপ্রকার শাস্তি ও প্রজ্জ্বলিত আগুনের তীব্রদাহে পরিপূর্ণ। যার সম্মুখে শক্ত পাথর ও লোহার মতো কঠিন বস্তুরও কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সেখানে তিনি একদল লোক দেখতে পেলেন, যারা মৃত জানোয়ার ভক্ষণ করছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? জিবরাঈল আ. উত্তর দিলেন, এরা ঐ সমস্ত লোক যারা দুনিয়ায় মানুষের গোশত ভক্ষণ করত। গীবত বা পরনিন্দা করত। অতঃপর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো সম্মুখে অগ্রসর হলেন। আর জিবরাঈল আ. সেখানেই রয়ে গেলেন। কেন না সেখান থেকে সামনে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি তাঁর ছিল না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের দিদার লাভে ধন্য হন। সঠিক বর্ণনা অনুযায়ী সেই যিয়ারত হৃদয়ের অনুভূতি দ্বারা সংঘটিত হয়নি বরং চর্মচক্ষু দ্বারাই সংঘটিত হয়েছিল। হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. সহ সকল মুহাক্কিক সাহাবায়ে কেরাম ও ইমামগণের অভিমতও তাই। সেখানে পৌছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে যান এবং মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করেন। তখনই পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ হয়। এরপর তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন। সেখান হতে পুনরায় তিনি বুরাকে চড়ে মক্কার দিকে চলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে কুরাইশদের তিনটি বাণিজ্য কাফেলার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে অনেককে তিনি সালাম দিয়েছেন। তারা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গলার আওয়াজ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে মক্কায় এসে এ ঘটনার সাক্ষ্য প্রদান করে। প্রভাতের পূর্বেই এই বরকতময় ভ্রমণ সমাপ্ত হয়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ইসরার সম্পর্কে চাক্ষুস প্রমাণ

📄 ইসরার সম্পর্কে চাক্ষুস প্রমাণ


সকালে যখন কুরাইশদের মাঝে এ খবর ছড়িয়ে পড়ল তখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। কেউ হাতে তালি দিতে লাগল, কেউ তো অবাক বিস্ময়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। আবার কেউ ঠাট্টাচ্ছলে হাসাহাসি শুরু করে দিল। অতঃপর সকলে ঘটনার সত্যাসত্য যাচাইয়ের জন্য প্রশ্ন করতে শুরু করলো। কেউ জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা বলুন তো বায়তুল মুকাদ্দাস এর নির্মাণশৈলী ও গঠন প্রণালী কেমন? তা পাহাড় থেকে কতটুকু ব্যবধানে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির পূর্ণ নকশা বলে দিলেন। এমনি ধরনের আরো বিভিন্ন প্রশ্ন তারা করতে লাগল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঠিক উত্তর দিতে লাগলেন। এক পর্যায়ে তারা এমন সব অবান্তর প্রশ্ন শুরু করে দিল, যা একবার দেখে কেউ বলতে পারে না। যেমন মসজিদের দরজা কয়টি? কয়টি তাক? ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এ সমস্ত জিনিস কেউ গণনাই করে রাখে না। তাই তিনি বিরক্তিবোধ করতে লাগলেন। তখনই মুজেযা স্বরূপ মসজিদে আকসা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে তুলে ধরা হল। আর তিনি দেখে দেখে গণনা করে সব কিছু বলে দিতে লাগলেন। এ সংবাদ আবু বকর রাযি. শোনামাত্রই বলে উঠলেন: أَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল"। এদিকে কুরাইশরাও সকলে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল এবং পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, তিনি মসজিদের বিস্তারিত বিবরণ তো ঠিকই দিয়েছেন। অতঃপর তারা আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-কে সম্বোধন করে বলল, তুমি কি একথা বিশ্বাস কর, তিনি এক রাতে মসজিদে আকসা পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় ফিরে আসতে পারেন? হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. বলেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক অবিশ্বাস্য বিষয়েও তাঁকে বিশ্বাস করি। যেখানে সকাল সন্ধ্যার সামান্য ব্যবধানে তাঁর কাছে আসমানি খবরাখবর সরবরাহ হয়ে থাকে, সেখানে এই সামান্য ব্যাপারে কোনো প্রকার সংশয় সৃষ্টির অবকাশ কোথায়? আমি সব কিছুকে এক বাক্যে বিশ্বাস করি। এ কারণেই হযরত আবু বকর রাযি.-কে "সিদ্দিক” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

সকালে যখন কুরাইশদের মাঝে এ খবর ছড়িয়ে পড়ল তখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। কেউ হাতে তালি দিতে লাগল, কেউ তো অবাক বিস্ময়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। আবার কেউ ঠাট্টাচ্ছলে হাসাহাসি শুরু করে দিল। অতঃপর সকলে ঘটনার সত্যাসত্য যাচাইয়ের জন্য প্রশ্ন করতে শুরু করলো। কেউ জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা বলুন তো বায়তুল মুকাদ্দাস এর নির্মাণশৈলী ও গঠন প্রণালী কেমন? তা পাহাড় থেকে কতটুকু ব্যবধানে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির পূর্ণ নকশা বলে দিলেন। এমনি ধরনের আরো বিভিন্ন প্রশ্ন তারা করতে লাগল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঠিক উত্তর দিতে লাগলেন। এক পর্যায়ে তারা এমন সব অবান্তর প্রশ্ন শুরু করে দিল, যা একবার দেখে কেউ বলতে পারে না। যেমন মসজিদের দরজা কয়টি? কয়টি তাক? ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এ সমস্ত জিনিস কেউ গণনাই করে রাখে না। তাই তিনি বিরক্তিবোধ করতে লাগলেন। তখনই মুজেযা স্বরূপ মসজিদে আকসা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে তুলে ধরা হল। আর তিনি দেখে দেখে গণনা করে সব কিছু বলে দিতে লাগলেন। এ সংবাদ আবু বকর রাযি. শোনামাত্রই বলে উঠলেন: أَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল"। এদিকে কুরাইশরাও সকলে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল এবং পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, তিনি মসজিদের বিস্তারিত বিবরণ তো ঠিকই দিয়েছেন। অতঃপর তারা আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-কে সম্বোধন করে বলল, তুমি কি একথা বিশ্বাস কর, তিনি এক রাতে মসজিদে আকসা পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় ফিরে আসতে পারেন? হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি. বলেন, আমি তো এর চেয়েও অধিক অবিশ্বাস্য বিষয়েও তাঁকে বিশ্বাস করি। যেখানে সকাল সন্ধ্যার সামান্য ব্যবধানে তাঁর কাছে আসমানি খবরাখবর সরবরাহ হয়ে থাকে, সেখানে এই সামান্য ব্যাপারে কোনো প্রকার সংশয় সৃষ্টির অবকাশ কোথায়? আমি সব কিছুকে এক বাক্যে বিশ্বাস করি। এ কারণেই হযরত আবু বকর রাযি.-কে "সিদ্দিক” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কুরাইশ কাফেরদের চাক্ষুস সাক্ষ্য

📄 কুরাইশ কাফেরদের চাক্ষুস সাক্ষ্য


কুরাইশরা পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল, আচ্ছা বলুন তো আমাদের যেই বাণিজ্য কাফেলাটি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে তারা কোথায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "রওহা” নামক স্থানে অমুক গোত্রের একটি বাণিজ্য কাফেলাকে আমি অতিক্রম করি, তাদের উট হারিয়ে গিয়েছিল। তারা সকলে উটের তালাশে চলে গিয়েছিল। আমি তাদের উটের হাওদার নিকট গিয়ে দেখি সেখানে কেউ উপস্থিত নেই। তাদের একটি মাটির পাত্রে পানি রাখা ছিল। আমি সেখান থেকে পানি পান করলাম। অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটিকে অমুক স্থানে অতিক্রম করি। বোরাক তাদের নিকটবর্তী হলে তাদের উটগুলো ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে দিল। তাদের মধ্যে যে লাল উটটি সাদা ও কালো রংয়ের থলে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। ওটা তো অজ্ঞান হয়ে পড়েই গেল। অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটি আমরা অতিক্রম করি "তানইম" স্থানে যার সর্বাগ্রে ছিল একটি খাকি রংয়ের উট যার পৃষ্ঠে ছিল কালো চট ও দুইটি কালো থলে। কাফেলাটি অচিরেই তোমাদের কাছে এসে পড়বে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, কবে নাগাদ তারা এসে পৌঁছবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা বুধবারে এসে যাবে। বাস্তবিকই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনার সাথে সব কিছুই মিলে গেল। পরবর্তীতে কাফেলা ফিরে এসে হুযুরের সমস্ত বর্ণনার সত্যতা স্বীকার করে। যখন কুরাইশদের উপর মহান রাব্বুল আলামিনের সকল প্রমাণাদি পূর্ণ হয়ে গেল এবং এই বিস্ময়কর ভ্রমণের ব্যাপারে স্বয়ং তাদের লোকেরাই সাক্ষ্য দিয়ে দিল, তখন সেসব হঠকারী লোকগুলোর মেরাজের সত্যতা অস্বীকার করা এছাড়া আর কোনো পন্থাই বাকি রইল না, তারা এ সফরকে নিছক একটি যাদু এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদুকর আখ্যা দিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করল।

কুরাইশরা পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল, আচ্ছা বলুন তো আমাদের যেই বাণিজ্য কাফেলাটি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে তারা কোথায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "রওহা” নামক স্থানে অমুক গোত্রের একটি বাণিজ্য কাফেলাকে আমি অতিক্রম করি, তাদের উট হারিয়ে গিয়েছিল। তারা সকলে উটের তালাশে চলে গিয়েছিল। আমি তাদের উটের হাওদার নিকট গিয়ে দেখি সেখানে কেউ উপস্থিত নেই। তাদের একটি মাটির পাত্রে পানি রাখা ছিল। আমি সেখান থেকে পানি পান করলাম। অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটিকে অমুক স্থানে অতিক্রম করি। বোরাক তাদের নিকটবর্তী হলে তাদের উটগুলো ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে দিল। তাদের মধ্যে যে লাল উটটি সাদা ও কালো রংয়ের থলে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। ওটা তো অজ্ঞান হয়ে পড়েই গেল। অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটি আমরা অতিক্রম করি "তানইম" স্থানে যার সর্বাগ্রে ছিল একটি খাকি রংয়ের উট যার পৃষ্ঠে ছিল কালো চট ও দুইটি কালো থলে। কাফেলাটি অচিরেই তোমাদের কাছে এসে পড়বে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, কবে নাগাদ তারা এসে পৌঁছবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা বুধবারে এসে যাবে। বাস্তবিকই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনার সাথে সব কিছুই মিলে গেল। পরবর্তীতে কাফেলা ফিরে এসে হুযুরের সমস্ত বর্ণনার সত্যতা স্বীকার করে। যখন কুরাইশদের উপর মহান রাব্বুল আলামিনের সকল প্রমাণাদি পূর্ণ হয়ে গেল এবং এই বিস্ময়কর ভ্রমণের ব্যাপারে স্বয়ং তাদের লোকেরাই সাক্ষ্য দিয়ে দিল, তখন সেসব হঠকারী লোকগুলোর মেরাজের সত্যতা অস্বীকার করা এছাড়া আর কোনো পন্থাই বাকি রইল না, তারা এ সফরকে নিছক একটি যাদু এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদুকর আখ্যা দিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করল।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 মদীনায় ইসলাম

📄 মদীনায় ইসলাম


দীর্ঘ দশটি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে আরব গোত্রের মাঝে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। আরবের এমন কোনো মজলিস ও লোক সমাগম বাকি থাকেনি, যেখানে গিয়ে তিনি দীনের দাওয়াত পৌঁছাননি। হজের মৌসুম, উকায মেলা, যিলমাজায প্রভৃতি স্থানে ঘুরে ঘুরে গিয়ে লোকদেরকে সত্যের পথে আহবান জানাতেন। কিন্তু তারা প্রতি উত্তরে এই বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নানাবিধ কষ্ট দিত ও ঠাট্টা করত, আগে নিজের কওমকে মুসলমান বানিয়ে পরে আমাদেরকে হেদায়েত করতে আসুন। এভাবেই দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গেল।

যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইসলামের প্রসার ও উন্নতি দিতে ইচ্ছা করলেন, তখন আউস গোত্রের কিছু লোককে মদিনা থেকে নবীজির খেদমতে প্রেরণ করে দিলেন। যাদের মধ্য হতে আসওয়াদ বিন যুরারা ও যাকওয়ান বিন আবদে কায়স নামক দুজন লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। পরের বছরও তাদের মধ্য হতে আরো কিছু লোক আসে। তন্মধ্যে মতান্তরে ছয় বা আট জন লোক মুসলমান হয়ে যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন— তোমরা কি আল্লাহর বাণী প্রচারে আমাকে সাহায্য করবে? তারা বলল, আল্লাহর রাসূল! এখন আমাদের আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মাঝে গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। [ঐ সময় মদিনায় দু দল লোকের বাস ছিল। (১) মুশরিক (২) ইহুদি। মুশরিকরা দুটি বিরাট গোত্রে বিভক্ত ছিল— আওস ও খাযরাজ। এ দু দল সর্বদা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। প্রায় ১২০ বছর তাদের পারস্পরিক যুদ্ধ চলতে থাকে। এভাবে ইহুদিরাও দুভাগে বিভক্ত ছিল। বনু কুরায়যা ও বনু নযির। এ দুগোত্রও পরস্পর শত্রুতায় লিপ্ত ছিল।]

আপনি যদি এ মুহূর্তে মদিনায় তাশরিফ নিয়ে যান তাহলে আপনার হাতে বায়আত গ্রহণের ব্যাপারে সকলে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে না। আপাতত আপনি আপনার এ ইচ্ছা এক বছরের জন্য মুলতবি রাখুন। হতে পারে শীঘ্রই আমাদের পরস্পরে সন্ধি হয়ে যাবে। আগামী বছর পুনরায় আমরা আপনার খেদমতে উপস্থিত হব। তখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এরূপ আলাপ-আলোচনার পর তারা মদিনায় ফিরে গেলেন। মদিনায় সর্বপ্রথম বনি যুরায়ক মসজিদে কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করা হয়।

দীর্ঘ দশটি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে আরব গোত্রের মাঝে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। আরবের এমন কোনো মজলিস ও লোক সমাগম বাকি থাকেনি, যেখানে গিয়ে তিনি দীনের দাওয়াত পৌঁছাননি। হজের মৌসুম, উকায মেলা, যিলমাজায প্রভৃতি স্থানে ঘুরে ঘুরে গিয়ে লোকদেরকে সত্যের পথে আহবান জানাতেন। কিন্তু তারা প্রতি উত্তরে এই বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নানাবিধ কষ্ট দিত ও ঠাট্টা করত, আগে নিজের কওমকে মুসলমান বানিয়ে পরে আমাদেরকে হেদায়েত করতে আসুন। এভাবেই দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়ে গেল।

যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইসলামের প্রসার ও উন্নতি দিতে ইচ্ছা করলেন, তখন আউস গোত্রের কিছু লোককে মদিনা থেকে নবীজির খেদমতে প্রেরণ করে দিলেন। যাদের মধ্য হতে আসওয়াদ বিন যুরারা ও যাকওয়ান বিন আবদে কায়স নামক দুজন লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। পরের বছরও তাদের মধ্য হতে আরো কিছু লোক আসে। তন্মধ্যে মতান্তরে ছয় বা আট জন লোক মুসলমান হয়ে যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন— তোমরা কি আল্লাহর বাণী প্রচারে আমাকে সাহায্য করবে? তারা বলল, আল্লাহর রাসূল! এখন আমাদের আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মাঝে গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। [ঐ সময় মদিনায় দু দল লোকের বাস ছিল। (১) মুশরিক (২) ইহুদি। মুশরিকরা দুটি বিরাট গোত্রে বিভক্ত ছিল— আওস ও খাযরাজ। এ দু দল সর্বদা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। প্রায় ১২০ বছর তাদের পারস্পরিক যুদ্ধ চলতে থাকে। এভাবে ইহুদিরাও দুভাগে বিভক্ত ছিল। বনু কুরায়যা ও বনু নযির। এ দুগোত্রও পরস্পর শত্রুতায় লিপ্ত ছিল।]

আপনি যদি এ মুহূর্তে মদিনায় তাশরিফ নিয়ে যান তাহলে আপনার হাতে বায়আত গ্রহণের ব্যাপারে সকলে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে না। আপাতত আপনি আপনার এ ইচ্ছা এক বছরের জন্য মুলতবি রাখুন। হতে পারে শীঘ্রই আমাদের পরস্পরে সন্ধি হয়ে যাবে। আগামী বছর পুনরায় আমরা আপনার খেদমতে উপস্থিত হব। তখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এরূপ আলাপ-আলোচনার পর তারা মদিনায় ফিরে গেলেন। মদিনায় সর্বপ্রথম বনি যুরায়ক মসজিদে কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করা হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px