📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 আবু তালিবের ইনতেকাল

📄 আবু তালিবের ইনতেকাল


রাসূলের চাচা আবু তালেব ইনতেকাল করেন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসে। এরই তিন দিন পর ইনতেকাল করেন হযরত খাদিজা রাযি.। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছরটিকে ২ শোকের বছর নামে অভিহিত করেন। এ বছর হযরত সাওদা রাযি. এর সঙ্গে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাদি হয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা রাযি. সঙ্গে বিবাহ হয়।

রাসূলের চাচা আবু তালেব ইনতেকাল করেন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসে। এরই তিন দিন পর ইনতেকাল করেন হযরত খাদিজা রাযি.। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছরটিকে ২ শোকের বছর নামে অভিহিত করেন। এ বছর হযরত সাওদা রাযি. এর সঙ্গে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাদি হয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা রাযি. সঙ্গে বিবাহ হয়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 তায়েফে হিজরত

📄 তায়েফে হিজরত


আবু তালিবের ইনতেকালের পর কুরাইশরা সুযোগ পেয়ে বসল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়া হতে এক মুহূর্তও বিরত থাকল না। যখন তিনি মক্কাবাসীদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়লেন, তখন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসের শেষের দিকে যায়েদ বিন হারেসকে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ গমন করে তায়েফবাসীকে কালিমার দাওয়াত দেন। সেখানে ক্রমাগত এক মাস দাওয়াত ও হেদায়েতের কাজ চালিয়ে যান; কিন্তু এক ব্যক্তিরও ইসলাম গ্রহণের তাওফিক হয়নি। আরো সেই জালিমরা শহরের কিছু বখাটে ও দুষ্ট প্রকৃতির ছেলেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেয়ার জন্য লেলিয়ে দিল। পাষাণ হৃদয় হতভাগারা প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লেগে গেল। সেই মুহূর্তে যদি রাহমাতুল্লিল আলামিনের দয়া ও অনুগ্রহ প্রতিবন্ধক না হত তাহলে তাঁর একটি মাত্র ঠোঁটের কম্পন তাদের সকল প্রকার অপকর্ম ও উম্মাদনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে তায়েফ ও তায়েফবাসীর নাম নিশানা পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে মুছে যেত।

সেই হতভাগারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মারতে শুরু করেছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে হুযুরের পা মোবারক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল। যেদিক থেকে পাথর আসতো, হযরত যায়েদ বিন হারেস রাযি. সেদিক গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করত। অবশেষে যায়েদ রাযি. মাথা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল। রহমতে আলম দীর্ঘ একমাস পর তায়েফ হতে এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর পায়ের গোড়ালী ছিল রক্তে রঞ্জিত। তথাপি তাঁর মুখ থেকে বদদুআর একটি বাক্যও উচ্চারিত হয় নি।

আবু তালিবের ইনতেকালের পর কুরাইশরা সুযোগ পেয়ে বসল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়া হতে এক মুহূর্তও বিরত থাকল না। যখন তিনি মক্কাবাসীদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়লেন, তখন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসের শেষের দিকে যায়েদ বিন হারেসকে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ গমন করে তায়েফবাসীকে কালিমার দাওয়াত দেন। সেখানে ক্রমাগত এক মাস দাওয়াত ও হেদায়েতের কাজ চালিয়ে যান; কিন্তু এক ব্যক্তিরও ইসলাম গ্রহণের তাওফিক হয়নি। আরো সেই জালিমরা শহরের কিছু বখাটে ও দুষ্ট প্রকৃতির ছেলেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেয়ার জন্য লেলিয়ে দিল। পাষাণ হৃদয় হতভাগারা প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লেগে গেল। সেই মুহূর্তে যদি রাহমাতুল্লিল আলামিনের দয়া ও অনুগ্রহ প্রতিবন্ধক না হত তাহলে তাঁর একটি মাত্র ঠোঁটের কম্পন তাদের সকল প্রকার অপকর্ম ও উম্মাদনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে তায়েফ ও তায়েফবাসীর নাম নিশানা পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে মুছে যেত।

সেই হতভাগারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মারতে শুরু করেছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে হুযুরের পা মোবারক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল। যেদিক থেকে পাথর আসতো, হযরত যায়েদ বিন হারেস রাযি. সেদিক গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করত। অবশেষে যায়েদ রাযি. মাথা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল। রহমতে আলম দীর্ঘ একমাস পর তায়েফ হতে এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর পায়ের গোড়ালী ছিল রক্তে রঞ্জিত। তথাপি তাঁর মুখ থেকে বদদুআর একটি বাক্যও উচ্চারিত হয় নি।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ইসরা ও মেরাজ

📄 ইসরা ও মেরাজ


ইসলামের ইতিহাসে নবুয়তের একাদশ বর্ষটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ বছরই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক আড়ম্বরপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে সম্মান প্রর্দশন করা হয়, যা নবীগণের মধ্যে কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল।

ইসলামের ইতিহাসে নবুয়তের একাদশ বর্ষটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ বছরই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক আড়ম্বরপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে সম্মান প্রর্দশন করা হয়, যা নবীগণের মধ্যে কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ইসরা ও মেরাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

📄 ইসরা ও মেরাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা


এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার হাতিমে শায়িত ছিলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, তিনি স্বীয় বাড়িতে শুয়েছিলেন। এমন সময় হযরত মীকাঈল আ. ও জিবরাঈল আ. তাশরিফ নিয়ে এসে বললেন— আমাদের সঙ্গে চলুন। তাঁকে বোরাক নামক এক বাহনে আরোহণ করানো হল। যার চলার গতি এত দ্রুত ছিল, দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে সেটি কদম ফেলত। এরূপ দ্রুত গতিতে চলে প্রথমে তাঁকে সিরিয়ার মসজিদে আকসায় নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পূর্বের সকল নবীকে একত্র করে রেখেছিলেন; মুজেযাস্বরূপ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে। এখানে পৌঁছে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আযান দেন। আযানের পর সকল নবী ও রাসূলগণ নামাযের প্রস্তুতিস্বরূপ কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। সকলেই এই অপেক্ষায় ছিলেন, নামায কে পড়াবেন। জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত মোবারক ধরে তাঁকে আগে বাড়িয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সমবেত সকল নবী রাসূল ও ফেরেশতাদের নামাযের জামাতে ইমামতি করেন। বোরাকের পিঠে চড়ে পার্থিব জগতের সফর এখানে এসেই শেষ হয়।

অতঃপর পর্যায়ক্রমে তাঁকে সকল আকাশে সফর করানো হয়। তিনি প্রথম আকাশে হযরত আদম আ. এর সঙ্গে, দ্বিতীয় আকাশে হযরত ঈসা আ., তৃতীয় আকাশে হযরত ইউসুফ আ., চতুর্থ আকাশে হযরত ইদরীস আ., পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন আ. ষষ্ঠ আকাশে হযরত মূসা আ. ও সপ্তম আকাশে হযরত ইবরাহীম আ. এর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন।

অতঃপর তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন। পথিমধ্যে হাউজে কাউসার অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের মহান কুদরতের সৃষ্ট এমন বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক জিনিস প্রত্যক্ষ করেন, যা আজ পর্যন্ত কোনো চোখ দেখেনি। কোনো কান তা শ্রবণ করেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়পটে তাঁর ধারণাও জন্মেনি। অতঃপর হুযুরের সম্মুখে জাহান্নাম উপস্থিত করা হল যা ছিল সর্বপ্রকার শাস্তি ও প্রজ্জ্বলিত আগুনের তীব্রদাহে পরিপূর্ণ। যার সম্মুখে শক্ত পাথর ও লোহার মতো কঠিন বস্তুরও কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সেখানে তিনি একদল লোক দেখতে পেলেন, যারা মৃত জানোয়ার ভক্ষণ করছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? জিবরাঈল আ. উত্তর দিলেন, এরা ঐ সমস্ত লোক যারা দুনিয়ায় মানুষের গোশত ভক্ষণ করত। গীবত বা পরনিন্দা করত। অতঃপর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো সম্মুখে অগ্রসর হলেন। আর জিবরাঈল আ. সেখানেই রয়ে গেলেন। কেন না সেখান থেকে সামনে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি তাঁর ছিল না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের দিদার লাভে ধন্য হন। সঠিক বর্ণনা অনুযায়ী সেই যিয়ারত হৃদয়ের অনুভূতি দ্বারা সংঘটিত হয়নি বরং চর্মচক্ষু দ্বারাই সংঘটিত হয়েছিল। হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. সহ সকল মুহাক্কিক সাহাবায়ে কেরাম ও ইমামগণের অভিমতও তাই। সেখানে পৌছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে যান এবং মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করেন। তখনই পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ হয়। এরপর তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন। সেখান হতে পুনরায় তিনি বুরাকে চড়ে মক্কার দিকে চলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে কুরাইশদের তিনটি বাণিজ্য কাফেলার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে অনেককে তিনি সালাম দিয়েছেন। তারা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গলার আওয়াজ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে মক্কায় এসে এ ঘটনার সাক্ষ্য প্রদান করে। প্রভাতের পূর্বেই এই বরকতময় ভ্রমণ সমাপ্ত হয়।

এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার হাতিমে শায়িত ছিলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, তিনি স্বীয় বাড়িতে শুয়েছিলেন। এমন সময় হযরত মীকাঈল আ. ও জিবরাঈল আ. তাশরিফ নিয়ে এসে বললেন— আমাদের সঙ্গে চলুন। তাঁকে বোরাক নামক এক বাহনে আরোহণ করানো হল। যার চলার গতি এত দ্রুত ছিল, দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে সেটি কদম ফেলত। এরূপ দ্রুত গতিতে চলে প্রথমে তাঁকে সিরিয়ার মসজিদে আকসায় নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পূর্বের সকল নবীকে একত্র করে রেখেছিলেন; মুজেযাস্বরূপ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে। এখানে পৌঁছে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আযান দেন। আযানের পর সকল নবী ও রাসূলগণ নামাযের প্রস্তুতিস্বরূপ কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। সকলেই এই অপেক্ষায় ছিলেন, নামায কে পড়াবেন। জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত মোবারক ধরে তাঁকে আগে বাড়িয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সমবেত সকল নবী রাসূল ও ফেরেশতাদের নামাযের জামাতে ইমামতি করেন। বোরাকের পিঠে চড়ে পার্থিব জগতের সফর এখানে এসেই শেষ হয়।

অতঃপর পর্যায়ক্রমে তাঁকে সকল আকাশে সফর করানো হয়। তিনি প্রথম আকাশে হযরত আদম আ. এর সঙ্গে, দ্বিতীয় আকাশে হযরত ঈসা আ., তৃতীয় আকাশে হযরত ইউসুফ আ., চতুর্থ আকাশে হযরত ইদরীস আ., পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন আ. ষষ্ঠ আকাশে হযরত মূসা আ. ও সপ্তম আকাশে হযরত ইবরাহীম আ. এর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন।

অতঃপর তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন। পথিমধ্যে হাউজে কাউসার অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের মহান কুদরতের সৃষ্ট এমন বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক জিনিস প্রত্যক্ষ করেন, যা আজ পর্যন্ত কোনো চোখ দেখেনি। কোনো কান তা শ্রবণ করেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়পটে তাঁর ধারণাও জন্মেনি। অতঃপর হুযুরের সম্মুখে জাহান্নাম উপস্থিত করা হল যা ছিল সর্বপ্রকার শাস্তি ও প্রজ্জ্বলিত আগুনের তীব্রদাহে পরিপূর্ণ। যার সম্মুখে শক্ত পাথর ও লোহার মতো কঠিন বস্তুরও কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সেখানে তিনি একদল লোক দেখতে পেলেন, যারা মৃত জানোয়ার ভক্ষণ করছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? জিবরাঈল আ. উত্তর দিলেন, এরা ঐ সমস্ত লোক যারা দুনিয়ায় মানুষের গোশত ভক্ষণ করত। গীবত বা পরনিন্দা করত। অতঃপর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো সম্মুখে অগ্রসর হলেন। আর জিবরাঈল আ. সেখানেই রয়ে গেলেন। কেন না সেখান থেকে সামনে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি তাঁর ছিল না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের দিদার লাভে ধন্য হন। সঠিক বর্ণনা অনুযায়ী সেই যিয়ারত হৃদয়ের অনুভূতি দ্বারা সংঘটিত হয়নি বরং চর্মচক্ষু দ্বারাই সংঘটিত হয়েছিল। হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. সহ সকল মুহাক্কিক সাহাবায়ে কেরাম ও ইমামগণের অভিমতও তাই। সেখানে পৌছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে যান এবং মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করেন। তখনই পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ হয়। এরপর তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন। সেখান হতে পুনরায় তিনি বুরাকে চড়ে মক্কার দিকে চলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে কুরাইশদের তিনটি বাণিজ্য কাফেলার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে অনেককে তিনি সালাম দিয়েছেন। তারা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গলার আওয়াজ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে মক্কায় এসে এ ঘটনার সাক্ষ্য প্রদান করে। প্রভাতের পূর্বেই এই বরকতময় ভ্রমণ সমাপ্ত হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px