📄 তোফায়েল বিন আমর দাওসি রাযি.-এর ইসলাম গ্রহণ
অবশেষে অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হযরত তোফায়েল বিন আমর দাওসী রাযি. যিনি ছিলেন অত্যন্ত অভিজাত ও স্বীয় গোত্রের সর্দার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট সত্যতা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র দেখে স্বেচ্ছায় ও সানন্দচিত্তে মুসলমান হয়ে যান।
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার গোত্রে আমার কথা মান্য করা হয়। আমাকে অনুমতি দিন, আমি গিয়ে তাদের ইসলামের দাওয়াত প্রদান করি। তবে আপনি আল্লাহর দরবারে দুআ করুন! যেন আমার সাথে এমন স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়, যার দ্বারা আমি তাদেরকে আমার কথা বিশ্বাস করাতে পারি।
আল্লাহর নবী তাঁর জন্য দুআ করলেন। নবীজির দুআর বদৌলতে আল্লাহ তাঁর কপালে এমন এক নূর চমকিয়ে দিলেন; যা গভীর অন্ধকারেও প্রদীপের মতো চমকাতে থাকত। তিনি যখন এ অবস্থায় স্বীয় গোত্রের নিকট গেলেন। তখন তাঁর সংশয় ঘনীভূত হল, না জানি গোত্রের লোকেরা আমার এ নূরকে কোনো বিপদ বা রোগ মনে করে এবং এ ধারণা না করে বসে, ইসলাম গ্রহণের ফলে আমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। তাই তিনি দুআ করলেন, এ নূর যেন তাঁর চাবুকের মধ্যে চলে আসে। আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করে সেই নূরকে তাঁর চাবুকের সঙ্গে ঝুলন্ত প্রদীপের মতো স্থাপন করে দিলেন। তিনি স্বীয় গোত্রে গিয়ে দীনের দাওয়াত দিলেন।
তাঁর তাবলীগী প্রচেষ্টার ফলে কিছু লোক মুসলমান হল। তবে তাদের সংখ্যা আশানুরূপ হয়নি বিধায় হুযুরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে দুআ আরয করলেন, যেন এই প্রচেষ্টা সফল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করে বললেন, এবার গিয়ে দাওয়াতের কাজ কর। আর দাওয়াতি কাজে নম্রতা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়। তোফায়েল বিন আমর রাযি. স্বগোত্রে ফিরে গেলেন এবং মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহবান করলেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে এবার এমন সফলতা অর্জন করলেন, তিনি খন্দকের যুদ্ধের পর ৭০/৮০ পরিবারকে মুসলমান বানিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে এসে খায়বারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
অবশেষে অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হযরত তোফায়েল বিন আমর দাওসী রাযি. যিনি ছিলেন অত্যন্ত অভিজাত ও স্বীয় গোত্রের সর্দার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট সত্যতা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র দেখে স্বেচ্ছায় ও সানন্দচিত্তে মুসলমান হয়ে যান।
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার গোত্রে আমার কথা মান্য করা হয়। আমাকে অনুমতি দিন, আমি গিয়ে তাদের ইসলামের দাওয়াত প্রদান করি। তবে আপনি আল্লাহর দরবারে দুআ করুন! যেন আমার সাথে এমন স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়, যার দ্বারা আমি তাদেরকে আমার কথা বিশ্বাস করাতে পারি।
আল্লাহর নবী তাঁর জন্য দুআ করলেন। নবীজির দুআর বদৌলতে আল্লাহ তাঁর কপালে এমন এক নূর চমকিয়ে দিলেন; যা গভীর অন্ধকারেও প্রদীপের মতো চমকাতে থাকত। তিনি যখন এ অবস্থায় স্বীয় গোত্রের নিকট গেলেন। তখন তাঁর সংশয় ঘনীভূত হল, না জানি গোত্রের লোকেরা আমার এ নূরকে কোনো বিপদ বা রোগ মনে করে এবং এ ধারণা না করে বসে, ইসলাম গ্রহণের ফলে আমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। তাই তিনি দুআ করলেন, এ নূর যেন তাঁর চাবুকের মধ্যে চলে আসে। আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করে সেই নূরকে তাঁর চাবুকের সঙ্গে ঝুলন্ত প্রদীপের মতো স্থাপন করে দিলেন। তিনি স্বীয় গোত্রে গিয়ে দীনের দাওয়াত দিলেন।
তাঁর তাবলীগী প্রচেষ্টার ফলে কিছু লোক মুসলমান হল। তবে তাদের সংখ্যা আশানুরূপ হয়নি বিধায় হুযুরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে দুআ আরয করলেন, যেন এই প্রচেষ্টা সফল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করে বললেন, এবার গিয়ে দাওয়াতের কাজ কর। আর দাওয়াতি কাজে নম্রতা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়। তোফায়েল বিন আমর রাযি. স্বগোত্রে ফিরে গেলেন এবং মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহবান করলেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে এবার এমন সফলতা অর্জন করলেন, তিনি খন্দকের যুদ্ধের পর ৭০/৮০ পরিবারকে মুসলমান বানিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে এসে খায়বারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
📄 আবু তালিবের ইনতেকাল
রাসূলের চাচা আবু তালেব ইনতেকাল করেন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসে। এরই তিন দিন পর ইনতেকাল করেন হযরত খাদিজা রাযি.। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছরটিকে ২ শোকের বছর নামে অভিহিত করেন। এ বছর হযরত সাওদা রাযি. এর সঙ্গে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাদি হয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা রাযি. সঙ্গে বিবাহ হয়।
রাসূলের চাচা আবু তালেব ইনতেকাল করেন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসে। এরই তিন দিন পর ইনতেকাল করেন হযরত খাদিজা রাযি.। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছরটিকে ২ শোকের বছর নামে অভিহিত করেন। এ বছর হযরত সাওদা রাযি. এর সঙ্গে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাদি হয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা রাযি. সঙ্গে বিবাহ হয়।
📄 তায়েফে হিজরত
আবু তালিবের ইনতেকালের পর কুরাইশরা সুযোগ পেয়ে বসল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়া হতে এক মুহূর্তও বিরত থাকল না। যখন তিনি মক্কাবাসীদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়লেন, তখন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসের শেষের দিকে যায়েদ বিন হারেসকে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ গমন করে তায়েফবাসীকে কালিমার দাওয়াত দেন। সেখানে ক্রমাগত এক মাস দাওয়াত ও হেদায়েতের কাজ চালিয়ে যান; কিন্তু এক ব্যক্তিরও ইসলাম গ্রহণের তাওফিক হয়নি। আরো সেই জালিমরা শহরের কিছু বখাটে ও দুষ্ট প্রকৃতির ছেলেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেয়ার জন্য লেলিয়ে দিল। পাষাণ হৃদয় হতভাগারা প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লেগে গেল। সেই মুহূর্তে যদি রাহমাতুল্লিল আলামিনের দয়া ও অনুগ্রহ প্রতিবন্ধক না হত তাহলে তাঁর একটি মাত্র ঠোঁটের কম্পন তাদের সকল প্রকার অপকর্ম ও উম্মাদনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে তায়েফ ও তায়েফবাসীর নাম নিশানা পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে মুছে যেত।
সেই হতভাগারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মারতে শুরু করেছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে হুযুরের পা মোবারক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল। যেদিক থেকে পাথর আসতো, হযরত যায়েদ বিন হারেস রাযি. সেদিক গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করত। অবশেষে যায়েদ রাযি. মাথা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল। রহমতে আলম দীর্ঘ একমাস পর তায়েফ হতে এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর পায়ের গোড়ালী ছিল রক্তে রঞ্জিত। তথাপি তাঁর মুখ থেকে বদদুআর একটি বাক্যও উচ্চারিত হয় নি।
আবু তালিবের ইনতেকালের পর কুরাইশরা সুযোগ পেয়ে বসল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়া হতে এক মুহূর্তও বিরত থাকল না। যখন তিনি মক্কাবাসীদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়লেন, তখন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসের শেষের দিকে যায়েদ বিন হারেসকে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ গমন করে তায়েফবাসীকে কালিমার দাওয়াত দেন। সেখানে ক্রমাগত এক মাস দাওয়াত ও হেদায়েতের কাজ চালিয়ে যান; কিন্তু এক ব্যক্তিরও ইসলাম গ্রহণের তাওফিক হয়নি। আরো সেই জালিমরা শহরের কিছু বখাটে ও দুষ্ট প্রকৃতির ছেলেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেয়ার জন্য লেলিয়ে দিল। পাষাণ হৃদয় হতভাগারা প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লেগে গেল। সেই মুহূর্তে যদি রাহমাতুল্লিল আলামিনের দয়া ও অনুগ্রহ প্রতিবন্ধক না হত তাহলে তাঁর একটি মাত্র ঠোঁটের কম্পন তাদের সকল প্রকার অপকর্ম ও উম্মাদনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে তায়েফ ও তায়েফবাসীর নাম নিশানা পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে মুছে যেত।
সেই হতভাগারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মারতে শুরু করেছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে হুযুরের পা মোবারক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল। যেদিক থেকে পাথর আসতো, হযরত যায়েদ বিন হারেস রাযি. সেদিক গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করত। অবশেষে যায়েদ রাযি. মাথা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল। রহমতে আলম দীর্ঘ একমাস পর তায়েফ হতে এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর পায়ের গোড়ালী ছিল রক্তে রঞ্জিত। তথাপি তাঁর মুখ থেকে বদদুআর একটি বাক্যও উচ্চারিত হয় নি।
📄 ইসরা ও মেরাজ
ইসলামের ইতিহাসে নবুয়তের একাদশ বর্ষটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ বছরই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক আড়ম্বরপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে সম্মান প্রর্দশন করা হয়, যা নবীগণের মধ্যে কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল।
ইসলামের ইতিহাসে নবুয়তের একাদশ বর্ষটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ বছরই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক আড়ম্বরপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে সম্মান প্রর্দশন করা হয়, যা নবীগণের মধ্যে কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল।