📄 সাহাবাযে কেরামকে আবিসিনিয়া হিজরতের নির্দেশ
যখন কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হল তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সঙ্গে হুযুরের সাহাবায়ে কেরাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের ওপরও জুলুম অত্যাচার ও নানা রকম নির্যাতনের হাত প্রসারিত করে দিল। হযরত বেলাল রাযি. প্রমুখ সাহাবাগণকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হল। হযরত আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. এর আম্মাজান তেমনি এক নির্যাতনের শিকার হয়ে করুণভাবে শাহাদাৎবরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই সর্বপ্রথম শাহাদাতের ঘটনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দিন পর্যন্ত নিজে কাফেরদের যাবতীয় জুলুম-নির্যাতন নীরবে সহ্য করেছিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন তাদের অত্যাচারের সীমা সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়ে গেছে এবং সাথে সাথে তিনি এটাও প্রত্যক্ষ করলেন, তারা সকল জুলুম-নির্যাতনকে নির্দ্বিধায় সহ্য করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সেই মহান সত্যবাণী যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন— তা থেকে বিন্দু মাত্রও হটতে রাজি নন, তখন তাদেরকে হাবশা বা আবিসিনিয়ায় হিজরত করার অনুমতি দিলেন। নবুয়তের পঞ্চম বছর রজব মাসে বার জন পুরুষ ও চার জন মহিলা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। তন্মধ্যে হযরত উসমান রাযি. ও তাঁর স্ত্রী হযরত রুকাইয়া রাযি. ও ছিলেন।
আবিসিনিয়ার বাদশা নাজ্জাশী (হাবশার প্রত্যেক বাদশাকে নাজ্জাশী বলা হত) এ সকল মুহাজিরকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেন। এরা সকলে সসম্মানে শান্তিতে সেখানে বসবাস করতে লাগলেন। কুরাইশরা যখন এ সংবাদ জানতে পারল, তখন আমর বিন আস ও আব্দুল্লাহ বিন রবিয়াকে এই বলে নাজ্জাশীর নিকট প্রেরণ করল, লোকগুলো সন্ত্রাসী ও দুস্কৃতিকারী। এদেরকে আপনার দেশে বসবাস করতে দেবেন না। বরং তাদেরকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে দিন।
নাজ্জাশী ছিলেন একজন চিন্তাশীল ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। তিনি তাদের প্রস্তাবের জবাবে বললেন, আমি তাদের ধর্ম ও মতবাদ সম্পর্কে পূর্ণ তদন্ত না করে তাদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারি না। অতঃপর তিনি তাদেরকে ডেকে এনে বললেন, তোমরা তোমাদের ধর্ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান কর।
হযরত জাফর বিন আবু তালেব রাযি. অগ্রসর হয়ে বাদশাকে সম্বোধন করে বললেন : "হে মহান বাদশা! পূর্বে আমরা ছিলাম চরম মূর্খ। মূর্তিপূজা করতাম, মৃত জানোয়ার আহার করতাম, অশ্লীলতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ও চরিত্রহীনতায় নিমগ্ন ছিলাম। দুর্বলদের উপর সবলদের অত্যাচার ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। জাতির এহেন চরম দুর্দিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রেরণ করলেন আমাদের জন্য আমাদেরই বংশোদ্ভূত একজন শান্তির দূত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। আমরা তাঁর বংশ পরিচয়, সততা ন্যায়নিষ্ঠ আমানতদারী ও পূতচরিত্র সম্পর্কে ছিলাম পূর্ণ অবগত। তিনি এসে আমাদের এ মর্মে দাওয়াত দিলেন— আল্লাহ এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি আমাদেরকে মূর্তিপূজা ছেড়ে দিতে, সত্য কথা বলতে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৎ ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও যাবতীয় হারাম কাজ, খুন-খারাবি, মিথ্যাচার, এতিমের মাল আত্মসাৎ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। নামায, রোযা ও হজ সম্পাদন করতে আমাদেরকে হুকুম করেছেন। এ সমস্ত কথা শুনেই আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি।"
বাদশা নাজ্জাশী জাফর বিন আবু তালিব রাযি. এর এ সুন্দর ও স্পষ্ট বক্তব্য শ্রবণে অভিভূত হলেন। কুরাইশ দূতদেরকে ফিরিয়ে দিলেন এবং নিজে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। [এ নাজ্জাশী অন্য কোনো ব্যক্তি হবেন, যিনি নবুয়তের পঞ্চম বর্ষে ইসলাম গ্রহণ করেন। আসহামা; ৬ষ্ঠ হিজরীতে যাঁর ইসলাম গ্রহণের উল্লেখ আছে, তিনি অন্য কোনো ব্যক্তি।]
মক্কার মুহাজিরগণ আনুমানিক তিন মাস সেখানে শান্তিতে অবস্থান করে পুনরায় মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন। হযরত ওমর ফারুক রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার বরকতে ইসলাম কবুল করে ধন্য হন। তখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল পুরুষ ৪০ জন আর মহিলা ১১ জন। ওমর ফারুক রাযি. এর ইসলাম গ্রহণের ফলে মুসলমানরা পেল এক নতুন উদ্দীপনা। আর যে সমস্ত লোক স্পষ্ট দলিল-প্রমাণাদি দ্বারা ইসলামের সত্যতা স্বীকার করা সত্ত্বেও কুরাইশদের জুলুম-নির্যাতনের ভয়ে নিজেদের ইসলাম প্রকাশ করতে পারছিলেন না; তারাও এখন প্রকাশ্যে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসতে শুরু করে দিল। এভাবেই আরবে ইসলামের সম্প্রসারণ ও উন্নতি হতে লাগল।
কুরাইশরা যখন দেখতে পেল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের সম্মান-সমৃদ্ধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবিসিনিয়ার বাদশাও মুসলমানদের যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেন। তখন তারা নিজেদের পরিণতি বুঝতে পারল। কুরাইশরা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিল, বনি আবদুল মুত্তালিব ও বনি হাশিমের নিকট এ দাবি করা হবে, তারা যেন স্বীয় ভাতিজা মুহাম্মদকে আমাদের হাতে তুলে দেয়, নতুবা আমরা তাদের সঙ্গে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে দিব।
কিন্তু বনি আবদুল মুত্তালিব তাদের এ দাবি মেনে নিতে পারল না। তাই তারা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক অঙ্গীকারপত্র লিপিবদ্ধ করল— বনি হাশিম ও বনি আবদুল মুত্তালিবের সাথে পূর্ণ মোকাবেলা করতে হবে। তাদের সাথে আত্মীয়তা বিবাহ-শাদি, ক্রয়-বিক্রয়, লেনদেন সব কিছু বন্ধ করে দিতে হবে। অবশেষে সেই অঙ্গীকারনামা বায়তুল্লাহর সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হল। এ অঙ্গীকারনামা মানসূর বিন আকরামা লিখেছিল। এর ফলে তাঁর হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবাদের একটি পাহাড়ী উপত্যকায় অবরোধ করে রাখা হল। তখন আবু লাহাব ছাড়া বনি হাশিম ও বনি আবদুল মুত্তালিবের মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকল ব্যক্তি আবু তালিবের সাথে পাহাড়ের উপত্যকায় অবরুদ্ধ ছিল। সকল দিক থেকে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী যা তাদের সঙ্গে ছিল অবশেষে তাও নিঃশেষ হয়ে গেল। তখন তারা কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়লেন। ক্ষুধার তাড়নায় গাছের পাতা খেয়েও জীবন নির্বাহ করতে হয়েছিল।
মুসলমানদের এই কঠিন দুর্দশা দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে পুনরায় আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দিলেন। এবার হিজরতে মুসলমানদের একটি বিরাট কাফেলা অংশগ্রহণ করে। তাদের সংখ্যা ছিল ৮৩ জন পুরুষ আর ১২জন মহিলা। আবার তাদের সাথে যোগ দিলেন ইয়ামানের মুসলমানরাও। যাদের মধ্যে হযরত আবু মূসা আশআরী রাযি. এবং তাঁর বংশের লোকজন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর অবশিষ্ট সাথী-সঙ্গী ও বন্ধু-বান্ধবগণ সুদীর্ঘ তিনটা বছর এই জুলুম-নির্যাতন ও কষ্টের মধ্যেই জীবন যাপন করেন। অতঃপর কিছু লোক মিলে অঙ্গীকার ভঙ্গ করা ও অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অহির মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া হল, এই অঙ্গীকারপত্রটি উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে এবং আল্লাহর নাম লিখিত স্থানটুকু ছাড়া একটি অক্ষরও অবশিষ্ট নেই। একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের নিকট বর্ণনা করলে তারা গিয়ে দেখল ব্যাপারটা সেরূপই, যেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।
যখন কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হল তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সঙ্গে হুযুরের সাহাবায়ে কেরাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের ওপরও জুলুম অত্যাচার ও নানা রকম নির্যাতনের হাত প্রসারিত করে দিল। হযরত বেলাল রাযি. প্রমুখ সাহাবাগণকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হল। হযরত আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. এর আম্মাজান তেমনি এক নির্যাতনের শিকার হয়ে করুণভাবে শাহাদাৎবরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই সর্বপ্রথম শাহাদাতের ঘটনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দিন পর্যন্ত নিজে কাফেরদের যাবতীয় জুলুম-নির্যাতন নীরবে সহ্য করেছিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন তাদের অত্যাচারের সীমা সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়ে গেছে এবং সাথে সাথে তিনি এটাও প্রত্যক্ষ করলেন, তারা সকল জুলুম-নির্যাতনকে নির্দ্বিধায় সহ্য করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সেই মহান সত্যবাণী যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন— তা থেকে বিন্দু মাত্রও হটতে রাজি নন, তখন তাদেরকে হাবশা বা আবিসিনিয়ায় হিজরত করার অনুমতি দিলেন। নবুয়তের পঞ্চম বছর রজব মাসে বার জন পুরুষ ও চার জন মহিলা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। তন্মধ্যে হযরত উসমান রাযি. ও তাঁর স্ত্রী হযরত রুকাইয়া রাযি. ও ছিলেন।
আবিসিনিয়ার বাদশা নাজ্জাশী (হাবশার প্রত্যেক বাদশাকে নাজ্জাশী বলা হত) এ সকল মুহাজিরকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেন। এরা সকলে সসম্মানে শান্তিতে সেখানে বসবাস করতে লাগলেন। কুরাইশরা যখন এ সংবাদ জানতে পারল, তখন আমর বিন আস ও আব্দুল্লাহ বিন রবিয়াকে এই বলে নাজ্জাশীর নিকট প্রেরণ করল, লোকগুলো সন্ত্রাসী ও দুস্কৃতিকারী। এদেরকে আপনার দেশে বসবাস করতে দেবেন না। বরং তাদেরকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে দিন।
নাজ্জাশী ছিলেন একজন চিন্তাশীল ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। তিনি তাদের প্রস্তাবের জবাবে বললেন, আমি তাদের ধর্ম ও মতবাদ সম্পর্কে পূর্ণ তদন্ত না করে তাদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারি না। অতঃপর তিনি তাদেরকে ডেকে এনে বললেন, তোমরা তোমাদের ধর্ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান কর।
হযরত জাফর বিন আবু তালেব রাযি. অগ্রসর হয়ে বাদশাকে সম্বোধন করে বললেন : "হে মহান বাদশা! পূর্বে আমরা ছিলাম চরম মূর্খ। মূর্তিপূজা করতাম, মৃত জানোয়ার আহার করতাম, অশ্লীলতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ও চরিত্রহীনতায় নিমগ্ন ছিলাম। দুর্বলদের উপর সবলদের অত্যাচার ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। জাতির এহেন চরম দুর্দিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রেরণ করলেন আমাদের জন্য আমাদেরই বংশোদ্ভূত একজন শান্তির দূত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। আমরা তাঁর বংশ পরিচয়, সততা ন্যায়নিষ্ঠ আমানতদারী ও পূতচরিত্র সম্পর্কে ছিলাম পূর্ণ অবগত। তিনি এসে আমাদের এ মর্মে দাওয়াত দিলেন— আল্লাহ এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি আমাদেরকে মূর্তিপূজা ছেড়ে দিতে, সত্য কথা বলতে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৎ ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও যাবতীয় হারাম কাজ, খুন-খারাবি, মিথ্যাচার, এতিমের মাল আত্মসাৎ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। নামায, রোযা ও হজ সম্পাদন করতে আমাদেরকে হুকুম করেছেন। এ সমস্ত কথা শুনেই আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি।"
বাদশা নাজ্জাশী জাফর বিন আবু তালিব রাযি. এর এ সুন্দর ও স্পষ্ট বক্তব্য শ্রবণে অভিভূত হলেন। কুরাইশ দূতদেরকে ফিরিয়ে দিলেন এবং নিজে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। [এ নাজ্জাশী অন্য কোনো ব্যক্তি হবেন, যিনি নবুয়তের পঞ্চম বর্ষে ইসলাম গ্রহণ করেন। আসহামা; ৬ষ্ঠ হিজরীতে যাঁর ইসলাম গ্রহণের উল্লেখ আছে, তিনি অন্য কোনো ব্যক্তি।]
মক্কার মুহাজিরগণ আনুমানিক তিন মাস সেখানে শান্তিতে অবস্থান করে পুনরায় মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন। হযরত ওমর ফারুক রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার বরকতে ইসলাম কবুল করে ধন্য হন। তখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল পুরুষ ৪০ জন আর মহিলা ১১ জন। ওমর ফারুক রাযি. এর ইসলাম গ্রহণের ফলে মুসলমানরা পেল এক নতুন উদ্দীপনা। আর যে সমস্ত লোক স্পষ্ট দলিল-প্রমাণাদি দ্বারা ইসলামের সত্যতা স্বীকার করা সত্ত্বেও কুরাইশদের জুলুম-নির্যাতনের ভয়ে নিজেদের ইসলাম প্রকাশ করতে পারছিলেন না; তারাও এখন প্রকাশ্যে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসতে শুরু করে দিল। এভাবেই আরবে ইসলামের সম্প্রসারণ ও উন্নতি হতে লাগল।
কুরাইশরা যখন দেখতে পেল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের সম্মান-সমৃদ্ধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবিসিনিয়ার বাদশাও মুসলমানদের যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেন। তখন তারা নিজেদের পরিণতি বুঝতে পারল। কুরাইশরা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিল, বনি আবদুল মুত্তালিব ও বনি হাশিমের নিকট এ দাবি করা হবে, তারা যেন স্বীয় ভাতিজা মুহাম্মদকে আমাদের হাতে তুলে দেয়, নতুবা আমরা তাদের সঙ্গে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে দিব।
কিন্তু বনি আবদুল মুত্তালিব তাদের এ দাবি মেনে নিতে পারল না। তাই তারা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক অঙ্গীকারপত্র লিপিবদ্ধ করল— বনি হাশিম ও বনি আবদুল মুত্তালিবের সাথে পূর্ণ মোকাবেলা করতে হবে। তাদের সাথে আত্মীয়তা বিবাহ-শাদি, ক্রয়-বিক্রয়, লেনদেন সব কিছু বন্ধ করে দিতে হবে। অবশেষে সেই অঙ্গীকারনামা বায়তুল্লাহর সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হল। এ অঙ্গীকারনামা মানসূর বিন আকরামা লিখেছিল। এর ফলে তাঁর হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবাদের একটি পাহাড়ী উপত্যকায় অবরোধ করে রাখা হল। তখন আবু লাহাব ছাড়া বনি হাশিম ও বনি আবদুল মুত্তালিবের মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকল ব্যক্তি আবু তালিবের সাথে পাহাড়ের উপত্যকায় অবরুদ্ধ ছিল। সকল দিক থেকে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী যা তাদের সঙ্গে ছিল অবশেষে তাও নিঃশেষ হয়ে গেল। তখন তারা কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়লেন। ক্ষুধার তাড়নায় গাছের পাতা খেয়েও জীবন নির্বাহ করতে হয়েছিল।
মুসলমানদের এই কঠিন দুর্দশা দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে পুনরায় আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দিলেন। এবার হিজরতে মুসলমানদের একটি বিরাট কাফেলা অংশগ্রহণ করে। তাদের সংখ্যা ছিল ৮৩ জন পুরুষ আর ১২জন মহিলা। আবার তাদের সাথে যোগ দিলেন ইয়ামানের মুসলমানরাও। যাদের মধ্যে হযরত আবু মূসা আশআরী রাযি. এবং তাঁর বংশের লোকজন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর অবশিষ্ট সাথী-সঙ্গী ও বন্ধু-বান্ধবগণ সুদীর্ঘ তিনটা বছর এই জুলুম-নির্যাতন ও কষ্টের মধ্যেই জীবন যাপন করেন। অতঃপর কিছু লোক মিলে অঙ্গীকার ভঙ্গ করা ও অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অহির মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া হল, এই অঙ্গীকারপত্রটি উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে এবং আল্লাহর নাম লিখিত স্থানটুকু ছাড়া একটি অক্ষরও অবশিষ্ট নেই। একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের নিকট বর্ণনা করলে তারা গিয়ে দেখল ব্যাপারটা সেরূপই, যেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।
📄 তোফায়েল বিন আমর দাওসি রাযি.-এর ইসলাম গ্রহণ
অবশেষে অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হযরত তোফায়েল বিন আমর দাওসী রাযি. যিনি ছিলেন অত্যন্ত অভিজাত ও স্বীয় গোত্রের সর্দার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট সত্যতা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র দেখে স্বেচ্ছায় ও সানন্দচিত্তে মুসলমান হয়ে যান।
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার গোত্রে আমার কথা মান্য করা হয়। আমাকে অনুমতি দিন, আমি গিয়ে তাদের ইসলামের দাওয়াত প্রদান করি। তবে আপনি আল্লাহর দরবারে দুআ করুন! যেন আমার সাথে এমন স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়, যার দ্বারা আমি তাদেরকে আমার কথা বিশ্বাস করাতে পারি।
আল্লাহর নবী তাঁর জন্য দুআ করলেন। নবীজির দুআর বদৌলতে আল্লাহ তাঁর কপালে এমন এক নূর চমকিয়ে দিলেন; যা গভীর অন্ধকারেও প্রদীপের মতো চমকাতে থাকত। তিনি যখন এ অবস্থায় স্বীয় গোত্রের নিকট গেলেন। তখন তাঁর সংশয় ঘনীভূত হল, না জানি গোত্রের লোকেরা আমার এ নূরকে কোনো বিপদ বা রোগ মনে করে এবং এ ধারণা না করে বসে, ইসলাম গ্রহণের ফলে আমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। তাই তিনি দুআ করলেন, এ নূর যেন তাঁর চাবুকের মধ্যে চলে আসে। আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করে সেই নূরকে তাঁর চাবুকের সঙ্গে ঝুলন্ত প্রদীপের মতো স্থাপন করে দিলেন। তিনি স্বীয় গোত্রে গিয়ে দীনের দাওয়াত দিলেন।
তাঁর তাবলীগী প্রচেষ্টার ফলে কিছু লোক মুসলমান হল। তবে তাদের সংখ্যা আশানুরূপ হয়নি বিধায় হুযুরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে দুআ আরয করলেন, যেন এই প্রচেষ্টা সফল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করে বললেন, এবার গিয়ে দাওয়াতের কাজ কর। আর দাওয়াতি কাজে নম্রতা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়। তোফায়েল বিন আমর রাযি. স্বগোত্রে ফিরে গেলেন এবং মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহবান করলেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে এবার এমন সফলতা অর্জন করলেন, তিনি খন্দকের যুদ্ধের পর ৭০/৮০ পরিবারকে মুসলমান বানিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে এসে খায়বারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
অবশেষে অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হযরত তোফায়েল বিন আমর দাওসী রাযি. যিনি ছিলেন অত্যন্ত অভিজাত ও স্বীয় গোত্রের সর্দার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট সত্যতা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র দেখে স্বেচ্ছায় ও সানন্দচিত্তে মুসলমান হয়ে যান।
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার গোত্রে আমার কথা মান্য করা হয়। আমাকে অনুমতি দিন, আমি গিয়ে তাদের ইসলামের দাওয়াত প্রদান করি। তবে আপনি আল্লাহর দরবারে দুআ করুন! যেন আমার সাথে এমন স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়, যার দ্বারা আমি তাদেরকে আমার কথা বিশ্বাস করাতে পারি।
আল্লাহর নবী তাঁর জন্য দুআ করলেন। নবীজির দুআর বদৌলতে আল্লাহ তাঁর কপালে এমন এক নূর চমকিয়ে দিলেন; যা গভীর অন্ধকারেও প্রদীপের মতো চমকাতে থাকত। তিনি যখন এ অবস্থায় স্বীয় গোত্রের নিকট গেলেন। তখন তাঁর সংশয় ঘনীভূত হল, না জানি গোত্রের লোকেরা আমার এ নূরকে কোনো বিপদ বা রোগ মনে করে এবং এ ধারণা না করে বসে, ইসলাম গ্রহণের ফলে আমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। তাই তিনি দুআ করলেন, এ নূর যেন তাঁর চাবুকের মধ্যে চলে আসে। আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করে সেই নূরকে তাঁর চাবুকের সঙ্গে ঝুলন্ত প্রদীপের মতো স্থাপন করে দিলেন। তিনি স্বীয় গোত্রে গিয়ে দীনের দাওয়াত দিলেন।
তাঁর তাবলীগী প্রচেষ্টার ফলে কিছু লোক মুসলমান হল। তবে তাদের সংখ্যা আশানুরূপ হয়নি বিধায় হুযুরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে দুআ আরয করলেন, যেন এই প্রচেষ্টা সফল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করে বললেন, এবার গিয়ে দাওয়াতের কাজ কর। আর দাওয়াতি কাজে নম্রতা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়। তোফায়েল বিন আমর রাযি. স্বগোত্রে ফিরে গেলেন এবং মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহবান করলেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে এবার এমন সফলতা অর্জন করলেন, তিনি খন্দকের যুদ্ধের পর ৭০/৮০ পরিবারকে মুসলমান বানিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে এসে খায়বারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
📄 আবু তালিবের ইনতেকাল
রাসূলের চাচা আবু তালেব ইনতেকাল করেন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসে। এরই তিন দিন পর ইনতেকাল করেন হযরত খাদিজা রাযি.। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছরটিকে ২ শোকের বছর নামে অভিহিত করেন। এ বছর হযরত সাওদা রাযি. এর সঙ্গে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাদি হয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা রাযি. সঙ্গে বিবাহ হয়।
রাসূলের চাচা আবু তালেব ইনতেকাল করেন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসে। এরই তিন দিন পর ইনতেকাল করেন হযরত খাদিজা রাযি.। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছরটিকে ২ শোকের বছর নামে অভিহিত করেন। এ বছর হযরত সাওদা রাযি. এর সঙ্গে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাদি হয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা রাযি. সঙ্গে বিবাহ হয়।
📄 তায়েফে হিজরত
আবু তালিবের ইনতেকালের পর কুরাইশরা সুযোগ পেয়ে বসল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়া হতে এক মুহূর্তও বিরত থাকল না। যখন তিনি মক্কাবাসীদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়লেন, তখন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসের শেষের দিকে যায়েদ বিন হারেসকে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ গমন করে তায়েফবাসীকে কালিমার দাওয়াত দেন। সেখানে ক্রমাগত এক মাস দাওয়াত ও হেদায়েতের কাজ চালিয়ে যান; কিন্তু এক ব্যক্তিরও ইসলাম গ্রহণের তাওফিক হয়নি। আরো সেই জালিমরা শহরের কিছু বখাটে ও দুষ্ট প্রকৃতির ছেলেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেয়ার জন্য লেলিয়ে দিল। পাষাণ হৃদয় হতভাগারা প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লেগে গেল। সেই মুহূর্তে যদি রাহমাতুল্লিল আলামিনের দয়া ও অনুগ্রহ প্রতিবন্ধক না হত তাহলে তাঁর একটি মাত্র ঠোঁটের কম্পন তাদের সকল প্রকার অপকর্ম ও উম্মাদনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে তায়েফ ও তায়েফবাসীর নাম নিশানা পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে মুছে যেত।
সেই হতভাগারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মারতে শুরু করেছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে হুযুরের পা মোবারক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল। যেদিক থেকে পাথর আসতো, হযরত যায়েদ বিন হারেস রাযি. সেদিক গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করত। অবশেষে যায়েদ রাযি. মাথা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল। রহমতে আলম দীর্ঘ একমাস পর তায়েফ হতে এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর পায়ের গোড়ালী ছিল রক্তে রঞ্জিত। তথাপি তাঁর মুখ থেকে বদদুআর একটি বাক্যও উচ্চারিত হয় নি।
আবু তালিবের ইনতেকালের পর কুরাইশরা সুযোগ পেয়ে বসল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়া হতে এক মুহূর্তও বিরত থাকল না। যখন তিনি মক্কাবাসীদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়লেন, তখন নবুয়তের দশম বছর শাওয়াল মাসের শেষের দিকে যায়েদ বিন হারেসকে সঙ্গে নিয়ে তায়েফ গমন করে তায়েফবাসীকে কালিমার দাওয়াত দেন। সেখানে ক্রমাগত এক মাস দাওয়াত ও হেদায়েতের কাজ চালিয়ে যান; কিন্তু এক ব্যক্তিরও ইসলাম গ্রহণের তাওফিক হয়নি। আরো সেই জালিমরা শহরের কিছু বখাটে ও দুষ্ট প্রকৃতির ছেলেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেয়ার জন্য লেলিয়ে দিল। পাষাণ হৃদয় হতভাগারা প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লেগে গেল। সেই মুহূর্তে যদি রাহমাতুল্লিল আলামিনের দয়া ও অনুগ্রহ প্রতিবন্ধক না হত তাহলে তাঁর একটি মাত্র ঠোঁটের কম্পন তাদের সকল প্রকার অপকর্ম ও উম্মাদনার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে তায়েফ ও তায়েফবাসীর নাম নিশানা পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে মুছে যেত।
সেই হতভাগারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মারতে শুরু করেছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে হুযুরের পা মোবারক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল। যেদিক থেকে পাথর আসতো, হযরত যায়েদ বিন হারেস রাযি. সেদিক গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করত। অবশেষে যায়েদ রাযি. মাথা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেল। রহমতে আলম দীর্ঘ একমাস পর তায়েফ হতে এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর পায়ের গোড়ালী ছিল রক্তে রঞ্জিত। তথাপি তাঁর মুখ থেকে বদদুআর একটি বাক্যও উচ্চারিত হয় নি।