📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 নবীজিকে হত্যার চক্রান্ত ও প্রকাশ্য মোজেযা

📄 নবীজিকে হত্যার চক্রান্ত ও প্রকাশ্য মোজেযা


একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফের নিকটে নামাযরত ছিলেন। যখন তিনি সিজদায় গেলেন তখন আবু জাহেল এটাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে প্রস্তরাঘাতে হুযুরের মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে উদ্যত হল। কিন্তু প্রবাদ আছে: 'জানি শত্রুর আছে শক্তি প্রচুর, এও জানি অধীন যে, সে শক্তি প্রভূর।' আবু জাহেল পাথর নিয়ে হুযুরের নিকট পৌঁছলে তাঁর হাতে কম্পন সৃষ্টি হল। হাত থেকে পাথর পড়ে গেল। তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। সে দৌড়ে তাঁর দলের নিকট এসে ঘটনার বিবরণ এভাবে দিল, যখন আমি পাথর হাতে নিয়ে তাঁর মাথার দিকে হাত বাড়াতে ইচ্ছা করলাম তখন দেখলাম একটা বিশালাকৃতির উট মুখ খুলে আমার দিকে ধাবিত হয়ে আমাকে খাওয়ার জন্য উদ্যত হল। এ ধরণের উট আমি আজ পর্যন্ত কোথাও দেখিনি। এ ঘটনা সমবেত কাফেরদের সম্মুখেই সংঘটিত হয় এবং তাদের দলপতি আবু জাহেল তা স্বীকার করে। আবু জাহেল, উকবা বিন আবী মুয়াইত, আস বিন ওয়ায়েল, আসওয়াদ বিন আবদ ইয়াগুছ, আসওয়াদ বিন আব্দুল মুত্তালিব, ওয়ালিদ বিন মুগীরা, নযর বিন হারেস— এ লোকগুলো সব সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার কাজে লেগে থাকত। এদের মধ্য হতে কারো ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হয়নি। বরং সকলেই চরম বেইজ্জতির সাথে ধ্বংস হয়েছে। কেউ বদরের যুদ্ধে তরবারির শিকার হয়েছে, আবার কেউ অত্যন্ত কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে পঁচে-গলে মরেছে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কোরাইশদের লোভনীয় প্রস্তাব

📄 কোরাইশদের লোভনীয় প্রস্তাব


কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হল। দিনে দিনে হুযুরের দাওয়াতের কাজ ব্যাপক হয়ে চলেছে এবং দলে দলে লোক ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বপ্রকারের কষ্ট দিতে শুরু করে দিল। মক্কার কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও লম্পট লোক সমবেত করে এ কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে দিল, তারা যেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেক মজলিসে গিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে এবং সম্ভাব্য সকল প্রকার কষ্ট দিতে ত্রুটি না করে।

কুরাইশরা যখন দেখতে পেল, তাদের এ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হল তখন তারা সম্মিলিতভাবে পরামর্শ করে সিদ্ধান্তে উপনীত হল, তাদের সর্বাধিক চতুর নেতা উতবা ইবনে রবিয়াকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রেরণ করবে। সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পার্থিব লোভ লালসা প্রদর্শন করে। হতে পারে এই প্রচেষ্টার দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় দাবি ছেড়ে দিয়ে নীরব হয়ে যাবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উতবা ইবনে রবিয়া হুযুরের দরবারে উপস্থিত হল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নামাযরত ছিলেন। কাছে গিয়ে বলল, ভাতিজা! তুমি বংশ মর্যাদার দিক দিয়ে আমাদের সকলের শ্রেষ্ঠ। এতদসত্বেও তুমি স্বীয় দলের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে দিয়েছ এবং তাদের (উপাস্যদেরকে) মন্দ বলছ, আমাদের বাপ-দাদাদেরকে মূর্খ সাব্যস্ত করে ছেড়েছ। আজ তুমি তোমার অন্তরের কথা আমার নিকট খুলে বল।

এ সমস্ত কার্যকলাপ দ্বারা যদি তোমার উদ্দেশ্য থাকে অগাধ ধন-সম্পদের মালিক হওয়া, তাহলে শুন! আমরা তোমাকে এত পরিমাণ অর্থ-সম্পদ দিতে প্রস্তুত আছি, মক্কার মধ্যে তুমি হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বিত্তবান। আর যদি তুমি সর্দারী বা নেতৃত্ব চাও তাও বল। আমরা এতেও সম্মত আছি। সকল কুরাইশ গোত্র তোমার সর্দারী মেনে নেবে এবং তোমার হুকুম অমান্য করার সাধ্য কারো থাকবে না। আর যদি তুমি রাজত্ব চাও তাহলে তোমাকে রাজা বানাতেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আর যদি তোমার ওপর কোনো খারাপ জিনের কু-প্রভাব পড়ে থাকে এবং তুমি তার সে কথাই (অহি) মানুষদের শুনিয়ে থাক, অথচ তুমি সেই জিন থেকে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম নও, তাহলে ভালো একজন চিকিৎসকের ব্যবস্থা করি, তোমার চিকিৎসা করবে।

উতবা যখন তার দীর্ঘ বক্তব্য শেষ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল কথার জওয়াবে তাঁকে শুধুমাত্র কুরআনের একটি সূরা শুনিয়ে দিলেন। যা শুনে উতবা হতভম্ব হয়ে পড়ে। সেখান থেকে ফিরে স্বজাতীয় লোকদের কাছে এসে সে বলল— “খোদার কসম! আজ আমি এমন বাণী শ্রবণ করেছি যা ইতোপূর্বে আর কখনো শুনিনি। খোদার কসম! না কোনো কবিতার আবৃত্তি; আর না কোনো গণকের কথা বা যাদুমন্ত্র। সুতরাং আমার পরামর্শ হল তোমরা তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাক। কেন না আমি তাঁর মুখ থেকে যেই বাণী শুনেছি, খোদার কসম! অচিরেই তাঁর সম্মান ও সুখ্যাতি প্রকাশ পাবে। আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী। আমার পরামর্শ গ্রহণ কর, আর না হয় অন্তত কিছু দিন অপেক্ষা কর। যদি আরবরা তাঁর ওপর বিজয় লাভ করে তাহলে তোমরা বিনা পরিশ্রমেই এই বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে। আর যদি আরবদের ওপর তাঁর বিজয় সূচিত হয়, তাহলে তাঁর সম্মান আমাদেরই সম্মান। কেন না সে তো আমাদের বংশেরই লোক।"

কুরাইশরা তাদের সর্বাধিক চতুর সর্দারের বক্তব্য শ্রবণে হতবাক হয়ে গেল এবং এই বলে নিজেদের সান্ত্বনা দিল, এ লোকটির ওপরও মুহাম্মদ-এর যাদু প্রভাব বিস্তার করেছে।

কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হল। দিনে দিনে হুযুরের দাওয়াতের কাজ ব্যাপক হয়ে চলেছে এবং দলে দলে লোক ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বপ্রকারের কষ্ট দিতে শুরু করে দিল। মক্কার কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও লম্পট লোক সমবেত করে এ কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে দিল, তারা যেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেক মজলিসে গিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে এবং সম্ভাব্য সকল প্রকার কষ্ট দিতে ত্রুটি না করে।

কুরাইশরা যখন দেখতে পেল, তাদের এ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হল তখন তারা সম্মিলিতভাবে পরামর্শ করে সিদ্ধান্তে উপনীত হল, তাদের সর্বাধিক চতুর নেতা উতবা ইবনে রবিয়াকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রেরণ করবে। সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পার্থিব লোভ লালসা প্রদর্শন করে। হতে পারে এই প্রচেষ্টার দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় দাবি ছেড়ে দিয়ে নীরব হয়ে যাবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উতবা ইবনে রবিয়া হুযুরের দরবারে উপস্থিত হল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নামাযরত ছিলেন। কাছে গিয়ে বলল, ভাতিজা! তুমি বংশ মর্যাদার দিক দিয়ে আমাদের সকলের শ্রেষ্ঠ। এতদসত্বেও তুমি স্বীয় দলের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে দিয়েছ এবং তাদের (উপাস্যদেরকে) মন্দ বলছ, আমাদের বাপ-দাদাদেরকে মূর্খ সাব্যস্ত করে ছেড়েছ। আজ তুমি তোমার অন্তরের কথা আমার নিকট খুলে বল।

এ সমস্ত কার্যকলাপ দ্বারা যদি তোমার উদ্দেশ্য থাকে অগাধ ধন-সম্পদের মালিক হওয়া, তাহলে শুন! আমরা তোমাকে এত পরিমাণ অর্থ-সম্পদ দিতে প্রস্তুত আছি, মক্কার মধ্যে তুমি হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বিত্তবান। আর যদি তুমি সর্দারী বা নেতৃত্ব চাও তাও বল। আমরা এতেও সম্মত আছি। সকল কুরাইশ গোত্র তোমার সর্দারী মেনে নেবে এবং তোমার হুকুম অমান্য করার সাধ্য কারো থাকবে না। আর যদি তুমি রাজত্ব চাও তাহলে তোমাকে রাজা বানাতেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আর যদি তোমার ওপর কোনো খারাপ জিনের কু-প্রভাব পড়ে থাকে এবং তুমি তার সে কথাই (অহি) মানুষদের শুনিয়ে থাক, অথচ তুমি সেই জিন থেকে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম নও, তাহলে ভালো একজন চিকিৎসকের ব্যবস্থা করি, তোমার চিকিৎসা করবে।

উতবা যখন তার দীর্ঘ বক্তব্য শেষ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল কথার জওয়াবে তাঁকে শুধুমাত্র কুরআনের একটি সূরা শুনিয়ে দিলেন। যা শুনে উতবা হতভম্ব হয়ে পড়ে। সেখান থেকে ফিরে স্বজাতীয় লোকদের কাছে এসে সে বলল— “খোদার কসম! আজ আমি এমন বাণী শ্রবণ করেছি যা ইতোপূর্বে আর কখনো শুনিনি। খোদার কসম! না কোনো কবিতার আবৃত্তি; আর না কোনো গণকের কথা বা যাদুমন্ত্র। সুতরাং আমার পরামর্শ হল তোমরা তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাক। কেন না আমি তাঁর মুখ থেকে যেই বাণী শুনেছি, খোদার কসম! অচিরেই তাঁর সম্মান ও সুখ্যাতি প্রকাশ পাবে। আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী। আমার পরামর্শ গ্রহণ কর, আর না হয় অন্তত কিছু দিন অপেক্ষা কর। যদি আরবরা তাঁর ওপর বিজয় লাভ করে তাহলে তোমরা বিনা পরিশ্রমেই এই বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে। আর যদি আরবদের ওপর তাঁর বিজয় সূচিত হয়, তাহলে তাঁর সম্মান আমাদেরই সম্মান। কেন না সে তো আমাদের বংশেরই লোক।"

কুরাইশরা তাদের সর্বাধিক চতুর সর্দারের বক্তব্য শ্রবণে হতবাক হয়ে গেল এবং এই বলে নিজেদের সান্ত্বনা দিল, এ লোকটির ওপরও মুহাম্মদ-এর যাদু প্রভাব বিস্তার করেছে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সাহাবাযে কেরামকে আবিসিনিয়া হিজরতের নির্দেশ

📄 সাহাবাযে কেরামকে আবিসিনিয়া হিজরতের নির্দেশ


যখন কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হল তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সঙ্গে হুযুরের সাহাবায়ে কেরাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের ওপরও জুলুম অত্যাচার ও নানা রকম নির্যাতনের হাত প্রসারিত করে দিল। হযরত বেলাল রাযি. প্রমুখ সাহাবাগণকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হল। হযরত আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. এর আম্মাজান তেমনি এক নির্যাতনের শিকার হয়ে করুণভাবে শাহাদাৎবরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই সর্বপ্রথম শাহাদাতের ঘটনা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দিন পর্যন্ত নিজে কাফেরদের যাবতীয় জুলুম-নির্যাতন নীরবে সহ্য করেছিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন তাদের অত্যাচারের সীমা সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়ে গেছে এবং সাথে সাথে তিনি এটাও প্রত্যক্ষ করলেন, তারা সকল জুলুম-নির্যাতনকে নির্দ্বিধায় সহ্য করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সেই মহান সত্যবাণী যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন— তা থেকে বিন্দু মাত্রও হটতে রাজি নন, তখন তাদেরকে হাবশা বা আবিসিনিয়ায় হিজরত করার অনুমতি দিলেন। নবুয়তের পঞ্চম বছর রজব মাসে বার জন পুরুষ ও চার জন মহিলা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। তন্মধ্যে হযরত উসমান রাযি. ও তাঁর স্ত্রী হযরত রুকাইয়া রাযি. ও ছিলেন।

আবিসিনিয়ার বাদশা নাজ্জাশী (হাবশার প্রত্যেক বাদশাকে নাজ্জাশী বলা হত) এ সকল মুহাজিরকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেন। এরা সকলে সসম্মানে শান্তিতে সেখানে বসবাস করতে লাগলেন। কুরাইশরা যখন এ সংবাদ জানতে পারল, তখন আমর বিন আস ও আব্দুল্লাহ বিন রবিয়াকে এই বলে নাজ্জাশীর নিকট প্রেরণ করল, লোকগুলো সন্ত্রাসী ও দুস্কৃতিকারী। এদেরকে আপনার দেশে বসবাস করতে দেবেন না। বরং তাদেরকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে দিন।

নাজ্জাশী ছিলেন একজন চিন্তাশীল ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। তিনি তাদের প্রস্তাবের জবাবে বললেন, আমি তাদের ধর্ম ও মতবাদ সম্পর্কে পূর্ণ তদন্ত না করে তাদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারি না। অতঃপর তিনি তাদেরকে ডেকে এনে বললেন, তোমরা তোমাদের ধর্ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান কর।

হযরত জাফর বিন আবু তালেব রাযি. অগ্রসর হয়ে বাদশাকে সম্বোধন করে বললেন : "হে মহান বাদশা! পূর্বে আমরা ছিলাম চরম মূর্খ। মূর্তিপূজা করতাম, মৃত জানোয়ার আহার করতাম, অশ্লীলতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ও চরিত্রহীনতায় নিমগ্ন ছিলাম। দুর্বলদের উপর সবলদের অত্যাচার ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। জাতির এহেন চরম দুর্দিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রেরণ করলেন আমাদের জন্য আমাদেরই বংশোদ্ভূত একজন শান্তির দূত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। আমরা তাঁর বংশ পরিচয়, সততা ন্যায়নিষ্ঠ আমানতদারী ও পূতচরিত্র সম্পর্কে ছিলাম পূর্ণ অবগত। তিনি এসে আমাদের এ মর্মে দাওয়াত দিলেন— আল্লাহ এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি আমাদেরকে মূর্তিপূজা ছেড়ে দিতে, সত্য কথা বলতে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৎ ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও যাবতীয় হারাম কাজ, খুন-খারাবি, মিথ্যাচার, এতিমের মাল আত্মসাৎ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। নামায, রোযা ও হজ সম্পাদন করতে আমাদেরকে হুকুম করেছেন। এ সমস্ত কথা শুনেই আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি।"

বাদশা নাজ্জাশী জাফর বিন আবু তালিব রাযি. এর এ সুন্দর ও স্পষ্ট বক্তব্য শ্রবণে অভিভূত হলেন। কুরাইশ দূতদেরকে ফিরিয়ে দিলেন এবং নিজে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। [এ নাজ্জাশী অন্য কোনো ব্যক্তি হবেন, যিনি নবুয়তের পঞ্চম বর্ষে ইসলাম গ্রহণ করেন। আসহামা; ৬ষ্ঠ হিজরীতে যাঁর ইসলাম গ্রহণের উল্লেখ আছে, তিনি অন্য কোনো ব্যক্তি।]

মক্কার মুহাজিরগণ আনুমানিক তিন মাস সেখানে শান্তিতে অবস্থান করে পুনরায় মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন। হযরত ওমর ফারুক রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার বরকতে ইসলাম কবুল করে ধন্য হন। তখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল পুরুষ ৪০ জন আর মহিলা ১১ জন। ওমর ফারুক রাযি. এর ইসলাম গ্রহণের ফলে মুসলমানরা পেল এক নতুন উদ্দীপনা। আর যে সমস্ত লোক স্পষ্ট দলিল-প্রমাণাদি দ্বারা ইসলামের সত্যতা স্বীকার করা সত্ত্বেও কুরাইশদের জুলুম-নির্যাতনের ভয়ে নিজেদের ইসলাম প্রকাশ করতে পারছিলেন না; তারাও এখন প্রকাশ্যে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসতে শুরু করে দিল। এভাবেই আরবে ইসলামের সম্প্রসারণ ও উন্নতি হতে লাগল।

কুরাইশরা যখন দেখতে পেল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের সম্মান-সমৃদ্ধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবিসিনিয়ার বাদশাও মুসলমানদের যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেন। তখন তারা নিজেদের পরিণতি বুঝতে পারল। কুরাইশরা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিল, বনি আবদুল মুত্তালিব ও বনি হাশিমের নিকট এ দাবি করা হবে, তারা যেন স্বীয় ভাতিজা মুহাম্মদকে আমাদের হাতে তুলে দেয়, নতুবা আমরা তাদের সঙ্গে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে দিব।

কিন্তু বনি আবদুল মুত্তালিব তাদের এ দাবি মেনে নিতে পারল না। তাই তারা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক অঙ্গীকারপত্র লিপিবদ্ধ করল— বনি হাশিম ও বনি আবদুল মুত্তালিবের সাথে পূর্ণ মোকাবেলা করতে হবে। তাদের সাথে আত্মীয়তা বিবাহ-শাদি, ক্রয়-বিক্রয়, লেনদেন সব কিছু বন্ধ করে দিতে হবে। অবশেষে সেই অঙ্গীকারনামা বায়তুল্লাহর সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হল। এ অঙ্গীকারনামা মানসূর বিন আকরামা লিখেছিল। এর ফলে তাঁর হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবাদের একটি পাহাড়ী উপত্যকায় অবরোধ করে রাখা হল। তখন আবু লাহাব ছাড়া বনি হাশিম ও বনি আবদুল মুত্তালিবের মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকল ব্যক্তি আবু তালিবের সাথে পাহাড়ের উপত্যকায় অবরুদ্ধ ছিল। সকল দিক থেকে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী যা তাদের সঙ্গে ছিল অবশেষে তাও নিঃশেষ হয়ে গেল। তখন তারা কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়লেন। ক্ষুধার তাড়নায় গাছের পাতা খেয়েও জীবন নির্বাহ করতে হয়েছিল।

মুসলমানদের এই কঠিন দুর্দশা দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে পুনরায় আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দিলেন। এবার হিজরতে মুসলমানদের একটি বিরাট কাফেলা অংশগ্রহণ করে। তাদের সংখ্যা ছিল ৮৩ জন পুরুষ আর ১২জন মহিলা। আবার তাদের সাথে যোগ দিলেন ইয়ামানের মুসলমানরাও। যাদের মধ্যে হযরত আবু মূসা আশআরী রাযি. এবং তাঁর বংশের লোকজন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর অবশিষ্ট সাথী-সঙ্গী ও বন্ধু-বান্ধবগণ সুদীর্ঘ তিনটা বছর এই জুলুম-নির্যাতন ও কষ্টের মধ্যেই জীবন যাপন করেন। অতঃপর কিছু লোক মিলে অঙ্গীকার ভঙ্গ করা ও অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অহির মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া হল, এই অঙ্গীকারপত্রটি উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে এবং আল্লাহর নাম লিখিত স্থানটুকু ছাড়া একটি অক্ষরও অবশিষ্ট নেই। একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের নিকট বর্ণনা করলে তারা গিয়ে দেখল ব্যাপারটা সেরূপই, যেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

যখন কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হল তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সঙ্গে হুযুরের সাহাবায়ে কেরাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের ওপরও জুলুম অত্যাচার ও নানা রকম নির্যাতনের হাত প্রসারিত করে দিল। হযরত বেলাল রাযি. প্রমুখ সাহাবাগণকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হল। হযরত আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. এর আম্মাজান তেমনি এক নির্যাতনের শিকার হয়ে করুণভাবে শাহাদাৎবরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই সর্বপ্রথম শাহাদাতের ঘটনা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দিন পর্যন্ত নিজে কাফেরদের যাবতীয় জুলুম-নির্যাতন নীরবে সহ্য করেছিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন তাদের অত্যাচারের সীমা সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়ে গেছে এবং সাথে সাথে তিনি এটাও প্রত্যক্ষ করলেন, তারা সকল জুলুম-নির্যাতনকে নির্দ্বিধায় সহ্য করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সেই মহান সত্যবাণী যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন— তা থেকে বিন্দু মাত্রও হটতে রাজি নন, তখন তাদেরকে হাবশা বা আবিসিনিয়ায় হিজরত করার অনুমতি দিলেন। নবুয়তের পঞ্চম বছর রজব মাসে বার জন পুরুষ ও চার জন মহিলা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। তন্মধ্যে হযরত উসমান রাযি. ও তাঁর স্ত্রী হযরত রুকাইয়া রাযি. ও ছিলেন।

আবিসিনিয়ার বাদশা নাজ্জাশী (হাবশার প্রত্যেক বাদশাকে নাজ্জাশী বলা হত) এ সকল মুহাজিরকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেন। এরা সকলে সসম্মানে শান্তিতে সেখানে বসবাস করতে লাগলেন। কুরাইশরা যখন এ সংবাদ জানতে পারল, তখন আমর বিন আস ও আব্দুল্লাহ বিন রবিয়াকে এই বলে নাজ্জাশীর নিকট প্রেরণ করল, লোকগুলো সন্ত্রাসী ও দুস্কৃতিকারী। এদেরকে আপনার দেশে বসবাস করতে দেবেন না। বরং তাদেরকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে দিন।

নাজ্জাশী ছিলেন একজন চিন্তাশীল ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। তিনি তাদের প্রস্তাবের জবাবে বললেন, আমি তাদের ধর্ম ও মতবাদ সম্পর্কে পূর্ণ তদন্ত না করে তাদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারি না। অতঃপর তিনি তাদেরকে ডেকে এনে বললেন, তোমরা তোমাদের ধর্ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান কর।

হযরত জাফর বিন আবু তালেব রাযি. অগ্রসর হয়ে বাদশাকে সম্বোধন করে বললেন : "হে মহান বাদশা! পূর্বে আমরা ছিলাম চরম মূর্খ। মূর্তিপূজা করতাম, মৃত জানোয়ার আহার করতাম, অশ্লীলতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ও চরিত্রহীনতায় নিমগ্ন ছিলাম। দুর্বলদের উপর সবলদের অত্যাচার ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। জাতির এহেন চরম দুর্দিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রেরণ করলেন আমাদের জন্য আমাদেরই বংশোদ্ভূত একজন শান্তির দূত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। আমরা তাঁর বংশ পরিচয়, সততা ন্যায়নিষ্ঠ আমানতদারী ও পূতচরিত্র সম্পর্কে ছিলাম পূর্ণ অবগত। তিনি এসে আমাদের এ মর্মে দাওয়াত দিলেন— আল্লাহ এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি আমাদেরকে মূর্তিপূজা ছেড়ে দিতে, সত্য কথা বলতে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৎ ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও যাবতীয় হারাম কাজ, খুন-খারাবি, মিথ্যাচার, এতিমের মাল আত্মসাৎ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। নামায, রোযা ও হজ সম্পাদন করতে আমাদেরকে হুকুম করেছেন। এ সমস্ত কথা শুনেই আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি।"

বাদশা নাজ্জাশী জাফর বিন আবু তালিব রাযি. এর এ সুন্দর ও স্পষ্ট বক্তব্য শ্রবণে অভিভূত হলেন। কুরাইশ দূতদেরকে ফিরিয়ে দিলেন এবং নিজে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। [এ নাজ্জাশী অন্য কোনো ব্যক্তি হবেন, যিনি নবুয়তের পঞ্চম বর্ষে ইসলাম গ্রহণ করেন। আসহামা; ৬ষ্ঠ হিজরীতে যাঁর ইসলাম গ্রহণের উল্লেখ আছে, তিনি অন্য কোনো ব্যক্তি।]

মক্কার মুহাজিরগণ আনুমানিক তিন মাস সেখানে শান্তিতে অবস্থান করে পুনরায় মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন। হযরত ওমর ফারুক রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ার বরকতে ইসলাম কবুল করে ধন্য হন। তখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল পুরুষ ৪০ জন আর মহিলা ১১ জন। ওমর ফারুক রাযি. এর ইসলাম গ্রহণের ফলে মুসলমানরা পেল এক নতুন উদ্দীপনা। আর যে সমস্ত লোক স্পষ্ট দলিল-প্রমাণাদি দ্বারা ইসলামের সত্যতা স্বীকার করা সত্ত্বেও কুরাইশদের জুলুম-নির্যাতনের ভয়ে নিজেদের ইসলাম প্রকাশ করতে পারছিলেন না; তারাও এখন প্রকাশ্যে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসতে শুরু করে দিল। এভাবেই আরবে ইসলামের সম্প্রসারণ ও উন্নতি হতে লাগল।

কুরাইশরা যখন দেখতে পেল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের সম্মান-সমৃদ্ধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবিসিনিয়ার বাদশাও মুসলমানদের যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করলেন। তখন তারা নিজেদের পরিণতি বুঝতে পারল। কুরাইশরা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিল, বনি আবদুল মুত্তালিব ও বনি হাশিমের নিকট এ দাবি করা হবে, তারা যেন স্বীয় ভাতিজা মুহাম্মদকে আমাদের হাতে তুলে দেয়, নতুবা আমরা তাদের সঙ্গে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে দিব।

কিন্তু বনি আবদুল মুত্তালিব তাদের এ দাবি মেনে নিতে পারল না। তাই তারা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক অঙ্গীকারপত্র লিপিবদ্ধ করল— বনি হাশিম ও বনি আবদুল মুত্তালিবের সাথে পূর্ণ মোকাবেলা করতে হবে। তাদের সাথে আত্মীয়তা বিবাহ-শাদি, ক্রয়-বিক্রয়, লেনদেন সব কিছু বন্ধ করে দিতে হবে। অবশেষে সেই অঙ্গীকারনামা বায়তুল্লাহর সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হল। এ অঙ্গীকারনামা মানসূর বিন আকরামা লিখেছিল। এর ফলে তাঁর হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবাদের একটি পাহাড়ী উপত্যকায় অবরোধ করে রাখা হল। তখন আবু লাহাব ছাড়া বনি হাশিম ও বনি আবদুল মুত্তালিবের মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকল ব্যক্তি আবু তালিবের সাথে পাহাড়ের উপত্যকায় অবরুদ্ধ ছিল। সকল দিক থেকে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী যা তাদের সঙ্গে ছিল অবশেষে তাও নিঃশেষ হয়ে গেল। তখন তারা কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়লেন। ক্ষুধার তাড়নায় গাছের পাতা খেয়েও জীবন নির্বাহ করতে হয়েছিল।

মুসলমানদের এই কঠিন দুর্দশা দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে পুনরায় আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দিলেন। এবার হিজরতে মুসলমানদের একটি বিরাট কাফেলা অংশগ্রহণ করে। তাদের সংখ্যা ছিল ৮৩ জন পুরুষ আর ১২জন মহিলা। আবার তাদের সাথে যোগ দিলেন ইয়ামানের মুসলমানরাও। যাদের মধ্যে হযরত আবু মূসা আশআরী রাযি. এবং তাঁর বংশের লোকজন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর অবশিষ্ট সাথী-সঙ্গী ও বন্ধু-বান্ধবগণ সুদীর্ঘ তিনটা বছর এই জুলুম-নির্যাতন ও কষ্টের মধ্যেই জীবন যাপন করেন। অতঃপর কিছু লোক মিলে অঙ্গীকার ভঙ্গ করা ও অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অহির মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া হল, এই অঙ্গীকারপত্রটি উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে এবং আল্লাহর নাম লিখিত স্থানটুকু ছাড়া একটি অক্ষরও অবশিষ্ট নেই। একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের নিকট বর্ণনা করলে তারা গিয়ে দেখল ব্যাপারটা সেরূপই, যেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 তোফায়েল বিন আমর দাওসি রাযি.-এর ইসলাম গ্রহণ

📄 তোফায়েল বিন আমর দাওসি রাযি.-এর ইসলাম গ্রহণ


অবশেষে অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হযরত তোফায়েল বিন আমর দাওসী রাযি. যিনি ছিলেন অত্যন্ত অভিজাত ও স্বীয় গোত্রের সর্দার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট সত্যতা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র দেখে স্বেচ্ছায় ও সানন্দচিত্তে মুসলমান হয়ে যান।

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার গোত্রে আমার কথা মান্য করা হয়। আমাকে অনুমতি দিন, আমি গিয়ে তাদের ইসলামের দাওয়াত প্রদান করি। তবে আপনি আল্লাহর দরবারে দুআ করুন! যেন আমার সাথে এমন স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়, যার দ্বারা আমি তাদেরকে আমার কথা বিশ্বাস করাতে পারি।

আল্লাহর নবী তাঁর জন্য দুআ করলেন। নবীজির দুআর বদৌলতে আল্লাহ তাঁর কপালে এমন এক নূর চমকিয়ে দিলেন; যা গভীর অন্ধকারেও প্রদীপের মতো চমকাতে থাকত। তিনি যখন এ অবস্থায় স্বীয় গোত্রের নিকট গেলেন। তখন তাঁর সংশয় ঘনীভূত হল, না জানি গোত্রের লোকেরা আমার এ নূরকে কোনো বিপদ বা রোগ মনে করে এবং এ ধারণা না করে বসে, ইসলাম গ্রহণের ফলে আমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। তাই তিনি দুআ করলেন, এ নূর যেন তাঁর চাবুকের মধ্যে চলে আসে। আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করে সেই নূরকে তাঁর চাবুকের সঙ্গে ঝুলন্ত প্রদীপের মতো স্থাপন করে দিলেন। তিনি স্বীয় গোত্রে গিয়ে দীনের দাওয়াত দিলেন।

তাঁর তাবলীগী প্রচেষ্টার ফলে কিছু লোক মুসলমান হল। তবে তাদের সংখ্যা আশানুরূপ হয়নি বিধায় হুযুরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে দুআ আরয করলেন, যেন এই প্রচেষ্টা সফল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করে বললেন, এবার গিয়ে দাওয়াতের কাজ কর। আর দাওয়াতি কাজে নম্রতা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়। তোফায়েল বিন আমর রাযি. স্বগোত্রে ফিরে গেলেন এবং মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহবান করলেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে এবার এমন সফলতা অর্জন করলেন, তিনি খন্দকের যুদ্ধের পর ৭০/৮০ পরিবারকে মুসলমান বানিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে এসে খায়বারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

অবশেষে অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় হযরত তোফায়েল বিন আমর দাওসী রাযি. যিনি ছিলেন অত্যন্ত অভিজাত ও স্বীয় গোত্রের সর্দার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট সত্যতা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র দেখে স্বেচ্ছায় ও সানন্দচিত্তে মুসলমান হয়ে যান।

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার গোত্রে আমার কথা মান্য করা হয়। আমাকে অনুমতি দিন, আমি গিয়ে তাদের ইসলামের দাওয়াত প্রদান করি। তবে আপনি আল্লাহর দরবারে দুআ করুন! যেন আমার সাথে এমন স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করা হয়, যার দ্বারা আমি তাদেরকে আমার কথা বিশ্বাস করাতে পারি।

আল্লাহর নবী তাঁর জন্য দুআ করলেন। নবীজির দুআর বদৌলতে আল্লাহ তাঁর কপালে এমন এক নূর চমকিয়ে দিলেন; যা গভীর অন্ধকারেও প্রদীপের মতো চমকাতে থাকত। তিনি যখন এ অবস্থায় স্বীয় গোত্রের নিকট গেলেন। তখন তাঁর সংশয় ঘনীভূত হল, না জানি গোত্রের লোকেরা আমার এ নূরকে কোনো বিপদ বা রোগ মনে করে এবং এ ধারণা না করে বসে, ইসলাম গ্রহণের ফলে আমি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। তাই তিনি দুআ করলেন, এ নূর যেন তাঁর চাবুকের মধ্যে চলে আসে। আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করে সেই নূরকে তাঁর চাবুকের সঙ্গে ঝুলন্ত প্রদীপের মতো স্থাপন করে দিলেন। তিনি স্বীয় গোত্রে গিয়ে দীনের দাওয়াত দিলেন।

তাঁর তাবলীগী প্রচেষ্টার ফলে কিছু লোক মুসলমান হল। তবে তাদের সংখ্যা আশানুরূপ হয়নি বিধায় হুযুরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে দুআ আরয করলেন, যেন এই প্রচেষ্টা সফল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করে বললেন, এবার গিয়ে দাওয়াতের কাজ কর। আর দাওয়াতি কাজে নম্রতা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়। তোফায়েল বিন আমর রাযি. স্বগোত্রে ফিরে গেলেন এবং মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহবান করলেন। আল্লাহর মেহেরবানিতে এবার এমন সফলতা অর্জন করলেন, তিনি খন্দকের যুদ্ধের পর ৭০/৮০ পরিবারকে মুসলমান বানিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে এসে খায়বারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px