📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 মানুষের মাঝে কুৎসা রটানো এবং তার উল্টো ফল

📄 মানুষের মাঝে কুৎসা রটানো এবং তার উল্টো ফল


কুরাইশরা যখন দেখল যে বনি হাশেম ও বনি আবদুল মুত্তালিব তাঁর সাথে রয়েছে। এদিকে হজের মৌসুম সন্নিকটে এ সুযোগে তিনি পূর্ণোদ্যমে দীন-প্রচারের কাজ চালিয়ে যাবেন। আর হুযুরের সত্যবাণীর আকর্ষণ যে চুম্বকের মতো একথাও সকলের জানা ছিল। তাই তাদের বদ্ধমূল ধারণা হল, এ সুযোগে তাঁর ধর্ম তো সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে। তাই সকলে সমবেত হয়ে পরামর্শের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল, মক্কার সকল রাস্তায় নিজেদের লোক বসিয়ে রাখবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজের জন্য আগত সকল মানুষকে দূর থেকেই একথা বলে দিবে, এখানে একজন যাদুকর আছে। সে তাঁর কথার যাদু দ্বারা পিতা-পুত্র ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেয়। তোমরা কেউ তাঁর নিকট যেও না। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানি! তাদের এ কর্মপদ্ধতি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাবলিগের পক্ষে কাজ করেছে। যদি তারা এ কাজ না করত তা হলে সম্ভাবনা ছিল, অনেক লোক তাঁর নামই শুনত না, কিন্তু তাদের এই প্রচেষ্টা সকলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আরো বেশি আকৃষ্ট করে দিল।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কোরাইশদের নির্যাতনে নবীজির দৃঢ়তা

📄 কোরাইশদের নির্যাতনে নবীজির দৃঢ়তা


যখন কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হল তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সঙ্গে হুযুরের সাহাবায়ে কেরাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের ওপরও জুলুম অত্যাচার ও নানা রকম নির্যাতনের হাত প্রসারিত করে দিল। হযরত বেলাল রাযি. প্রমুখ সাহাবাগণকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হল। হযরত আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. এর আম্মাজান তেমনি এক নির্যাতনের শিকার হয়ে করুণভাবে শাহাদাৎবরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই সর্বপ্রথম শাহাদাতের ঘটনা।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 নবীজিকে হত্যার চক্রান্ত ও প্রকাশ্য মোজেযা

📄 নবীজিকে হত্যার চক্রান্ত ও প্রকাশ্য মোজেযা


একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফের নিকটে নামাযরত ছিলেন। যখন তিনি সিজদায় গেলেন তখন আবু জাহেল এটাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে প্রস্তরাঘাতে হুযুরের মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে উদ্যত হল। কিন্তু প্রবাদ আছে: 'জানি শত্রুর আছে শক্তি প্রচুর, এও জানি অধীন যে, সে শক্তি প্রভূর।' আবু জাহেল পাথর নিয়ে হুযুরের নিকট পৌঁছলে তাঁর হাতে কম্পন সৃষ্টি হল। হাত থেকে পাথর পড়ে গেল। তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। সে দৌড়ে তাঁর দলের নিকট এসে ঘটনার বিবরণ এভাবে দিল, যখন আমি পাথর হাতে নিয়ে তাঁর মাথার দিকে হাত বাড়াতে ইচ্ছা করলাম তখন দেখলাম একটা বিশালাকৃতির উট মুখ খুলে আমার দিকে ধাবিত হয়ে আমাকে খাওয়ার জন্য উদ্যত হল। এ ধরণের উট আমি আজ পর্যন্ত কোথাও দেখিনি। এ ঘটনা সমবেত কাফেরদের সম্মুখেই সংঘটিত হয় এবং তাদের দলপতি আবু জাহেল তা স্বীকার করে। আবু জাহেল, উকবা বিন আবী মুয়াইত, আস বিন ওয়ায়েল, আসওয়াদ বিন আবদ ইয়াগুছ, আসওয়াদ বিন আব্দুল মুত্তালিব, ওয়ালিদ বিন মুগীরা, নযর বিন হারেস— এ লোকগুলো সব সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার কাজে লেগে থাকত। এদের মধ্য হতে কারো ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হয়নি। বরং সকলেই চরম বেইজ্জতির সাথে ধ্বংস হয়েছে। কেউ বদরের যুদ্ধে তরবারির শিকার হয়েছে, আবার কেউ অত্যন্ত কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে পঁচে-গলে মরেছে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কোরাইশদের লোভনীয় প্রস্তাব

📄 কোরাইশদের লোভনীয় প্রস্তাব


কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হল। দিনে দিনে হুযুরের দাওয়াতের কাজ ব্যাপক হয়ে চলেছে এবং দলে দলে লোক ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বপ্রকারের কষ্ট দিতে শুরু করে দিল। মক্কার কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও লম্পট লোক সমবেত করে এ কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে দিল, তারা যেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেক মজলিসে গিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে এবং সম্ভাব্য সকল প্রকার কষ্ট দিতে ত্রুটি না করে।

কুরাইশরা যখন দেখতে পেল, তাদের এ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হল তখন তারা সম্মিলিতভাবে পরামর্শ করে সিদ্ধান্তে উপনীত হল, তাদের সর্বাধিক চতুর নেতা উতবা ইবনে রবিয়াকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রেরণ করবে। সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পার্থিব লোভ লালসা প্রদর্শন করে। হতে পারে এই প্রচেষ্টার দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় দাবি ছেড়ে দিয়ে নীরব হয়ে যাবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উতবা ইবনে রবিয়া হুযুরের দরবারে উপস্থিত হল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নামাযরত ছিলেন। কাছে গিয়ে বলল, ভাতিজা! তুমি বংশ মর্যাদার দিক দিয়ে আমাদের সকলের শ্রেষ্ঠ। এতদসত্বেও তুমি স্বীয় দলের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে দিয়েছ এবং তাদের (উপাস্যদেরকে) মন্দ বলছ, আমাদের বাপ-দাদাদেরকে মূর্খ সাব্যস্ত করে ছেড়েছ। আজ তুমি তোমার অন্তরের কথা আমার নিকট খুলে বল।

এ সমস্ত কার্যকলাপ দ্বারা যদি তোমার উদ্দেশ্য থাকে অগাধ ধন-সম্পদের মালিক হওয়া, তাহলে শুন! আমরা তোমাকে এত পরিমাণ অর্থ-সম্পদ দিতে প্রস্তুত আছি, মক্কার মধ্যে তুমি হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বিত্তবান। আর যদি তুমি সর্দারী বা নেতৃত্ব চাও তাও বল। আমরা এতেও সম্মত আছি। সকল কুরাইশ গোত্র তোমার সর্দারী মেনে নেবে এবং তোমার হুকুম অমান্য করার সাধ্য কারো থাকবে না। আর যদি তুমি রাজত্ব চাও তাহলে তোমাকে রাজা বানাতেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আর যদি তোমার ওপর কোনো খারাপ জিনের কু-প্রভাব পড়ে থাকে এবং তুমি তার সে কথাই (অহি) মানুষদের শুনিয়ে থাক, অথচ তুমি সেই জিন থেকে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম নও, তাহলে ভালো একজন চিকিৎসকের ব্যবস্থা করি, তোমার চিকিৎসা করবে।

উতবা যখন তার দীর্ঘ বক্তব্য শেষ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল কথার জওয়াবে তাঁকে শুধুমাত্র কুরআনের একটি সূরা শুনিয়ে দিলেন। যা শুনে উতবা হতভম্ব হয়ে পড়ে। সেখান থেকে ফিরে স্বজাতীয় লোকদের কাছে এসে সে বলল— “খোদার কসম! আজ আমি এমন বাণী শ্রবণ করেছি যা ইতোপূর্বে আর কখনো শুনিনি। খোদার কসম! না কোনো কবিতার আবৃত্তি; আর না কোনো গণকের কথা বা যাদুমন্ত্র। সুতরাং আমার পরামর্শ হল তোমরা তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাক। কেন না আমি তাঁর মুখ থেকে যেই বাণী শুনেছি, খোদার কসম! অচিরেই তাঁর সম্মান ও সুখ্যাতি প্রকাশ পাবে। আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী। আমার পরামর্শ গ্রহণ কর, আর না হয় অন্তত কিছু দিন অপেক্ষা কর। যদি আরবরা তাঁর ওপর বিজয় লাভ করে তাহলে তোমরা বিনা পরিশ্রমেই এই বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে। আর যদি আরবদের ওপর তাঁর বিজয় সূচিত হয়, তাহলে তাঁর সম্মান আমাদেরই সম্মান। কেন না সে তো আমাদের বংশেরই লোক।"

কুরাইশরা তাদের সর্বাধিক চতুর সর্দারের বক্তব্য শ্রবণে হতবাক হয়ে গেল এবং এই বলে নিজেদের সান্ত্বনা দিল, এ লোকটির ওপরও মুহাম্মদ-এর যাদু প্রভাব বিস্তার করেছে।

কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হল। দিনে দিনে হুযুরের দাওয়াতের কাজ ব্যাপক হয়ে চলেছে এবং দলে দলে লোক ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বপ্রকারের কষ্ট দিতে শুরু করে দিল। মক্কার কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও লম্পট লোক সমবেত করে এ কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে দিল, তারা যেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেক মজলিসে গিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে এবং সম্ভাব্য সকল প্রকার কষ্ট দিতে ত্রুটি না করে।

কুরাইশরা যখন দেখতে পেল, তাদের এ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হল তখন তারা সম্মিলিতভাবে পরামর্শ করে সিদ্ধান্তে উপনীত হল, তাদের সর্বাধিক চতুর নেতা উতবা ইবনে রবিয়াকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রেরণ করবে। সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পার্থিব লোভ লালসা প্রদর্শন করে। হতে পারে এই প্রচেষ্টার দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় দাবি ছেড়ে দিয়ে নীরব হয়ে যাবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উতবা ইবনে রবিয়া হুযুরের দরবারে উপস্থিত হল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নামাযরত ছিলেন। কাছে গিয়ে বলল, ভাতিজা! তুমি বংশ মর্যাদার দিক দিয়ে আমাদের সকলের শ্রেষ্ঠ। এতদসত্বেও তুমি স্বীয় দলের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করে দিয়েছ এবং তাদের (উপাস্যদেরকে) মন্দ বলছ, আমাদের বাপ-দাদাদেরকে মূর্খ সাব্যস্ত করে ছেড়েছ। আজ তুমি তোমার অন্তরের কথা আমার নিকট খুলে বল।

এ সমস্ত কার্যকলাপ দ্বারা যদি তোমার উদ্দেশ্য থাকে অগাধ ধন-সম্পদের মালিক হওয়া, তাহলে শুন! আমরা তোমাকে এত পরিমাণ অর্থ-সম্পদ দিতে প্রস্তুত আছি, মক্কার মধ্যে তুমি হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বিত্তবান। আর যদি তুমি সর্দারী বা নেতৃত্ব চাও তাও বল। আমরা এতেও সম্মত আছি। সকল কুরাইশ গোত্র তোমার সর্দারী মেনে নেবে এবং তোমার হুকুম অমান্য করার সাধ্য কারো থাকবে না। আর যদি তুমি রাজত্ব চাও তাহলে তোমাকে রাজা বানাতেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আর যদি তোমার ওপর কোনো খারাপ জিনের কু-প্রভাব পড়ে থাকে এবং তুমি তার সে কথাই (অহি) মানুষদের শুনিয়ে থাক, অথচ তুমি সেই জিন থেকে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম নও, তাহলে ভালো একজন চিকিৎসকের ব্যবস্থা করি, তোমার চিকিৎসা করবে।

উতবা যখন তার দীর্ঘ বক্তব্য শেষ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল কথার জওয়াবে তাঁকে শুধুমাত্র কুরআনের একটি সূরা শুনিয়ে দিলেন। যা শুনে উতবা হতভম্ব হয়ে পড়ে। সেখান থেকে ফিরে স্বজাতীয় লোকদের কাছে এসে সে বলল— “খোদার কসম! আজ আমি এমন বাণী শ্রবণ করেছি যা ইতোপূর্বে আর কখনো শুনিনি। খোদার কসম! না কোনো কবিতার আবৃত্তি; আর না কোনো গণকের কথা বা যাদুমন্ত্র। সুতরাং আমার পরামর্শ হল তোমরা তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাক। কেন না আমি তাঁর মুখ থেকে যেই বাণী শুনেছি, খোদার কসম! অচিরেই তাঁর সম্মান ও সুখ্যাতি প্রকাশ পাবে। আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী। আমার পরামর্শ গ্রহণ কর, আর না হয় অন্তত কিছু দিন অপেক্ষা কর। যদি আরবরা তাঁর ওপর বিজয় লাভ করে তাহলে তোমরা বিনা পরিশ্রমেই এই বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে। আর যদি আরবদের ওপর তাঁর বিজয় সূচিত হয়, তাহলে তাঁর সম্মান আমাদেরই সম্মান। কেন না সে তো আমাদের বংশেরই লোক।"

কুরাইশরা তাদের সর্বাধিক চতুর সর্দারের বক্তব্য শ্রবণে হতবাক হয়ে গেল এবং এই বলে নিজেদের সান্ত্বনা দিল, এ লোকটির ওপরও মুহাম্মদ-এর যাদু প্রভাব বিস্তার করেছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px