📄 সমগ্র আরবের বিরোধিতা ও শত্রুতার মুখে নবীজির দৃঢ়তা
এই দীনি দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ এভাবেই চলছিল। আরববাসীরা যখন জানতে পারল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে ওহির মাধ্যমে তাদের মূর্তির স্বরূপ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং মূর্তি-পূজারীদের মূর্খতার মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়া হয়েছে, তখনই তারা তাঁর বিরোধিতার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। তাদের একটি দল চাচা আবু তালিবের নিকট এসে বলল, তিনি যেন মুহাম্মদ-কে এ ধরণের কথা-বার্তা থেকে বিরত রাখেন। নতুবা তিনি যেন তাঁর প্রতি স্বীয় সমর্থন উঠিয়ে নেন। আবু তালিব এক সুন্দর পন্থায় তাদের প্রস্তাবের উত্তর দিয়ে বিদায় দিলেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বের ন্যায় সত্যধর্মের প্রচার ও প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত রাখলেন এবং মূর্তিপূজা থেকে মানুষকে বাধা দিতে থাকলেন। আরবরা এটা মেনে নিতে পারল না। তাই তারা পুনরায় আবু তালিবের নিকট এসে কঠোরভাবে এই দাবি উত্থাপন করল, হয়তো আপনি স্বীয় ভাতিজাকে তাঁর কাজ থেকে বিরত রাখুন নতুবা আমরা সকলে আপনার বিরুদ্ধে, একপক্ষ নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকব।
📄 সম্মিলিত আরবের মোকাবেলায় মহানবীর জবাব
কাফেরদের কথা শুনে আবু তালিব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তাই এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আলোচনায় বসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন— হে আমার সম্মানিত চাচা, আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্র এনে দেয় এবং তাঁর বিনিময়ে তারা এটা চায়, আমি আল্লাহর বাণী তাঁরই সৃষ্টিজীবকে পৌঁছানো থেকে বিরত থাকি, তাহলেও আমি এ কাজের জন্য প্রস্তুত নই। আমার এ দাওয়াতের ফলে হয়তো আল্লাহর সত্যধর্মের প্রচার-প্রসার ঘটাবে; আর না হয় আমি এ কাজ করতে করতে আমার জীবন বিসর্জন দিয়ে দিব।
📄 মানুষের মাঝে কুৎসা রটানো এবং তার উল্টো ফল
কুরাইশরা যখন দেখল যে বনি হাশেম ও বনি আবদুল মুত্তালিব তাঁর সাথে রয়েছে। এদিকে হজের মৌসুম সন্নিকটে এ সুযোগে তিনি পূর্ণোদ্যমে দীন-প্রচারের কাজ চালিয়ে যাবেন। আর হুযুরের সত্যবাণীর আকর্ষণ যে চুম্বকের মতো একথাও সকলের জানা ছিল। তাই তাদের বদ্ধমূল ধারণা হল, এ সুযোগে তাঁর ধর্ম তো সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে। তাই সকলে সমবেত হয়ে পরামর্শের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল, মক্কার সকল রাস্তায় নিজেদের লোক বসিয়ে রাখবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজের জন্য আগত সকল মানুষকে দূর থেকেই একথা বলে দিবে, এখানে একজন যাদুকর আছে। সে তাঁর কথার যাদু দ্বারা পিতা-পুত্র ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেয়। তোমরা কেউ তাঁর নিকট যেও না। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানি! তাদের এ কর্মপদ্ধতি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাবলিগের পক্ষে কাজ করেছে। যদি তারা এ কাজ না করত তা হলে সম্ভাবনা ছিল, অনেক লোক তাঁর নামই শুনত না, কিন্তু তাদের এই প্রচেষ্টা সকলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আরো বেশি আকৃষ্ট করে দিল।
📄 কোরাইশদের নির্যাতনে নবীজির দৃঢ়তা
যখন কুরাইশরা দেখল তাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হল তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সঙ্গে হুযুরের সাহাবায়ে কেরাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের ওপরও জুলুম অত্যাচার ও নানা রকম নির্যাতনের হাত প্রসারিত করে দিল। হযরত বেলাল রাযি. প্রমুখ সাহাবাগণকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হল। হযরত আম্মার বিন ইয়াসির রাযি. এর আম্মাজান তেমনি এক নির্যাতনের শিকার হয়ে করুণভাবে শাহাদাৎবরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই সর্বপ্রথম শাহাদাতের ঘটনা।