📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত

📄 প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত


৩ বছর পর যখন বিপুল সংখ্যক পুরুষ ও নারী ইসলামে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং মানুষের মধ্যে ইসলাম নিয়ে আলোচনা হতে লাগল, তখন আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে মানুষের কাছে সত্যের বাণী পৌঁছানোর হুকুম করলেন। হুকুম পেয়ে রাসুলুল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করতে শুরু করলেন। মক্কার সাফা পর্বতে উঠে কুরাইশ গোত্র সমূহকে নাম ধরে আহবান করতে লাগলেন। সকলে সমবেত হলে তিনি প্রথমে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি যদি তোমাদেরকে এই সংবাদ দিই, গোনায়ম গোত্রের শত্রুবাহিনী তোমাদের উপর আক্রমণ করার জন্য ছুটে আসছে এবং এক্ষুণি তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, তাহলে তোমরা আমার এই কথা বিশ্বাস করবে? একথা শুনে সকলেই সমস্বরে বলে উঠল, অবশ্যই আপনার এই খবরকে আমরা সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তব মনে করব। কারণ এ পর্যন্ত কখনো আমরা আপনাকে মিথ্যা বলতে শুনিনি। এবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি তোমাদের খবর দিচ্ছি, তোমরা যদি মিথ্যা ধ্যান-ধারণা আর বাতিল আকিদা-বিশ্বাস ত্যাগ না কর, তাহলে আল্লাহ তাআলার কঠিন শাস্তি তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। অতঃপর তিনি বললেন, আমি যতদূর জানি, দুনিয়াতে আজ পর্যন্ত কেউ আমার এই উপহার অপেক্ষা উত্তম উপহার নিয়ে আসেনি, যা আমি তোমাদের সামনে পেশ করেছি। তোমাদের জন্য আমি দীন ও দুনিয়ার কল্যাণ বহন করে এনেছি। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এর প্রতি আহবান করতে আদেশ করেছেন। আল্লাহর কসম! আমি যদি দুনিয়ার অপরাপর মানুষের সাথে মিথ্যা বলতাম, তবুও তোমাদের সামনে মিথ্যা বলতাম না। দুনিয়ার সকল মানুষকে ধোঁকা দিলেও তোমাদেরকে ধোঁকা দিতাম না। কসম সেই পবিত্র সত্ত্বার, যিনি এক, যার কোনো শরিক নেই, আমি তোমাদের প্রতি বিশেষভাবে এবং সারা বিশ্ববাসীর প্রতি সাধারণভাবে আল্লাহর রাসূল ও সংবাদ বাহক হয়ে আগমন করেছি।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সমগ্র আরবের বিরোধিতা ও শত্রুতার মুখে নবীজির দৃঢ়তা

📄 সমগ্র আরবের বিরোধিতা ও শত্রুতার মুখে নবীজির দৃঢ়তা


এই দীনি দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ এভাবেই চলছিল। আরববাসীরা যখন জানতে পারল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে ওহির মাধ্যমে তাদের মূর্তির স্বরূপ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং মূর্তি-পূজারীদের মূর্খতার মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়া হয়েছে, তখনই তারা তাঁর বিরোধিতার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। তাদের একটি দল চাচা আবু তালিবের নিকট এসে বলল, তিনি যেন মুহাম্মদ-কে এ ধরণের কথা-বার্তা থেকে বিরত রাখেন। নতুবা তিনি যেন তাঁর প্রতি স্বীয় সমর্থন উঠিয়ে নেন। আবু তালিব এক সুন্দর পন্থায় তাদের প্রস্তাবের উত্তর দিয়ে বিদায় দিলেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বের ন্যায় সত্যধর্মের প্রচার ও প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত রাখলেন এবং মূর্তিপূজা থেকে মানুষকে বাধা দিতে থাকলেন। আরবরা এটা মেনে নিতে পারল না। তাই তারা পুনরায় আবু তালিবের নিকট এসে কঠোরভাবে এই দাবি উত্থাপন করল, হয়তো আপনি স্বীয় ভাতিজাকে তাঁর কাজ থেকে বিরত রাখুন নতুবা আমরা সকলে আপনার বিরুদ্ধে, একপক্ষ নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকব।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সম্মিলিত আরবের মোকাবেলায় মহানবীর জবাব

📄 সম্মিলিত আরবের মোকাবেলায় মহানবীর জবাব


কাফেরদের কথা শুনে আবু তালিব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তাই এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আলোচনায় বসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন— হে আমার সম্মানিত চাচা, আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্র এনে দেয় এবং তাঁর বিনিময়ে তারা এটা চায়, আমি আল্লাহর বাণী তাঁরই সৃষ্টিজীবকে পৌঁছানো থেকে বিরত থাকি, তাহলেও আমি এ কাজের জন্য প্রস্তুত নই। আমার এ দাওয়াতের ফলে হয়তো আল্লাহর সত্যধর্মের প্রচার-প্রসার ঘটাবে; আর না হয় আমি এ কাজ করতে করতে আমার জীবন বিসর্জন দিয়ে দিব।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 মানুষের মাঝে কুৎসা রটানো এবং তার উল্টো ফল

📄 মানুষের মাঝে কুৎসা রটানো এবং তার উল্টো ফল


কুরাইশরা যখন দেখল যে বনি হাশেম ও বনি আবদুল মুত্তালিব তাঁর সাথে রয়েছে। এদিকে হজের মৌসুম সন্নিকটে এ সুযোগে তিনি পূর্ণোদ্যমে দীন-প্রচারের কাজ চালিয়ে যাবেন। আর হুযুরের সত্যবাণীর আকর্ষণ যে চুম্বকের মতো একথাও সকলের জানা ছিল। তাই তাদের বদ্ধমূল ধারণা হল, এ সুযোগে তাঁর ধর্ম তো সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে। তাই সকলে সমবেত হয়ে পরামর্শের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল, মক্কার সকল রাস্তায় নিজেদের লোক বসিয়ে রাখবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজের জন্য আগত সকল মানুষকে দূর থেকেই একথা বলে দিবে, এখানে একজন যাদুকর আছে। সে তাঁর কথার যাদু দ্বারা পিতা-পুত্র ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেয়। তোমরা কেউ তাঁর নিকট যেও না। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানি! তাদের এ কর্মপদ্ধতি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাবলিগের পক্ষে কাজ করেছে। যদি তারা এ কাজ না করত তা হলে সম্ভাবনা ছিল, অনেক লোক তাঁর নামই শুনত না, কিন্তু তাদের এই প্রচেষ্টা সকলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আরো বেশি আকৃষ্ট করে দিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px