📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 চাচা ও ফুফুগণ

📄 চাচা ও ফুফুগণ


আবদুল মুত্তালিবের ১০ জন পুত্র ছিল। যথা— (১) হারিস (২) যুবায়ের (৩) হাজল (৪) দিরার (৫) মুকাওয়াম (৬) আবু লাহাব (৭) আব্বাস (৮) হামযা (৯) আবু তালেব (১০) আবদুল্লাহ। এর মধ্যে আবদুল্লাহ হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতা। বাকি নয় জন চাচা। হযরত আব্বাস রাযি. ছিলেন ভাইদের মধ্যে সকলের ছোট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফু ছিলেন ছয় জন। যথা— (১) উমাইমা (২) উম্মে হাকীম (৩) বাররা (৪) আতেকা (৫) সাফিয়া (৬) আরওয়া।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাহারাদারগণ

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাহারাদারগণ


(১) হযরত সাদ ইবনে মুআয রাযি.। তিনি বদর যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাহারা দিয়েছিলেন। (২) যাকওয়ান ইবনে আবদে কায়েস রাযি. (৩) মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা আনসারী রাযি.। এ দুজন ওহুদ যুদ্ধে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাহারা দিয়েছিলেন (৪) যুবায়র রাযি. খন্দকের যুদ্ধে (৫) আসাদ ইবনে বশীর রাযি. (৬) সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাযি. (৭) আবু আইয়ুব আনসারী রাযি. এবং (৮) বেলাল রাযি. ওয়াদিউল কুরায় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাহারা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এ আয়াত নাযিল হলে এ পাহারাদারীর ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়: وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ (আল্লাহই আপনাকে লোকদের থেকে রক্ষা করবেন।)

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 কাবা নির্মাণ এবং আলআমিন স্বীকৃতি দান

📄 কাবা নির্মাণ এবং আলআমিন স্বীকৃতি দান


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স যখন পঁয়ত্রিশ, তখন কুরাইশরা কাবাগৃহ পুনঃর্নিমাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আল্লাহর ঘর নির্মাণ করাকে তারা প্রত্যেকেই নিজের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় মনে করত। কুরাইশ গোত্রসমূহ বায়তুল্লাহ নির্মাণে কে কতটুকু অংশ নিতে পারে, তাঁর উপর নিজেদের ভাগ্যের ফায়সালা করে রেখেছিল। এক সময় বিবাদ এড়ানোর জন্য এই নির্মাণকার্য গোত্রগুলোর মাঝে বন্টন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এ কর্ম-বন্টন পদ্ধতিতে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন ছাড়া কাবা নির্মাণের বাদ-বাকি কাজ সম্পন্ন হল। কিন্তু নির্মাণের এ পর্যায়ে এসে হাজারে আসওয়াদ উঠিয়ে এর নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করার ব্যাপারে গোত্রগুলোর মাঝে চরম মতানৈক্য দেখা দিল। প্রত্যেক গোত্র এমনকি প্রত্যেক ব্যক্তির প্রাণের দাবি হাজরে আসওয়াদ যথাস্থানে স্থাপনের সুযোগ তাকে দিতে হবে। এ নিয়ে বিবাদ এতদূর গড়ালো, প্রত্যেকেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে লাগল। এবার সমাজের কয়েকজন বিচক্ষণ ও চিন্তাশীল ব্যক্তি পরামর্শের মাধ্যমে কোনো মীমাংসায় পৌঁছা যায় কি না তা ভাবতে লাগলেন। কাবাগৃহেই তাঁরা বৈঠকে মিলিত হলেন।

পরামর্শে সিদ্ধান্ত হল, আগামী কাল ভোরে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম বায়তুল্লায় প্রবেশ করবেন তিনি এ ব্যাপারে মীমাংসা করবেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে কুদরতী ফায়সালা মনে করে সকলেই মেনে নেবেন। আল্লাহর কি মহিমা! পরদিন সকালে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা ঘরে প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে সকলেই এক বাক্যে বলে উঠল, এই তো আল-আমিন এসে গেছেন। আমরা তাঁর মীমাংসা মেনে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নবীজি এগিয়ে আসলেন এবং অত্যন্ত বিজ্ঞোচিত মীমাংসা দিলেন, যা এক বাক্যে সকলেই মেনে নিলেন। তিনি প্রথমে একটি চাদর বিছালেন। চাদরে পাথরটি রেখে প্রত্যেক গোত্রের একজন করে প্রতিনিধিকে তাঁর এক এক কোণ ধরতে বললেন। এভাবে পাথরটি ভিত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হল। এবার নবীজি নিজ হাতে তুলে পাথরটি যথাস্থানে স্থাপন করে দিলেন। এ ঘটনাটি উদ্ধৃত করে ইবনে হিশাম লিখেছেন— নবুয়ত প্রাপ্তির আগে সমগ্র কুরাইশ এক বাক্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল-আমীন বা বিশ্বস্ত বলে সম্বোধন করত।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 নবুয়ত লাভ

📄 নবুয়ত লাভ


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স যখন ৪০ বছর একদিন পূর্ণ হল, ঠিক সে দিন প্রকাশ্যে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে তাঁকে নবুয়তের মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। কেন না বাতেনীভাবে তো হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমস্ত আম্বিয়াদের পূর্বে নবুয়ত প্রদান করা হয়েছে। যে তারিখে নবীজি জন্মলাভ করেন ঠিক সে তারিখে তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হন। অর্থাৎ ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার। এ ছাড়া ভিন্নমতও পাওয়া যায়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px