📄 হযরত জুয়াইরিয়া বিনতে হারেছ রাযি.
তিনি বনু মুস্তালিকের নেতা হারেসের কন্যা। যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দী হয়ে মুসলমানদের হাতে এসেছিলেন। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন। এ বিবাহের বদৌলতে তাঁর গোত্রের সকল বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তাঁর পিতা ইসলাম গ্রহণ করেন।
📄 হযরত মাইমুনা বিনতে হারেছ হেলালিয়া রাযি.
হযরত মাইমুনা বিনতে হারেছ হেলালিয়া রাযি. প্রথমে মাসউদ ইবনে ওমর রাযি. এর স্ত্রী ছিলেন। মাসউদ ইবনে ওমর তালাক দেওয়ার পর আবু রহম-এর সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিবাহ হয়। আবু রহমের মৃত্যুর পর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন। হযরত মাইমুনা রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ স্ত্রী। তাঁর পরে নবীজি আর কোনো বিবাহ করেননি।
📄 বহু বিবাহ সম্পর্কে বিশেষ আলোচনা
একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী রাখার প্রচলন ইসলামের আগে প্রায় সকল ধর্মে বৈধ মনে করা হত। আরব, ভারতবর্ষ, ইরান, মিসর, গ্রীস, ব্যাবিলন ও অস্ট্রিয়া প্রভৃতি দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়ে বহু বিবাহের প্রথা চালু ছিল। এর স্বাভাবিক প্রয়োজনীয়তা আজও কেউ অস্বীকার করতে পারছে না। সাম্প্রতিককালে ইউরোপ তাদের পূর্বসূরীদের বিপরীতে বহু বিবাহকে অবৈধ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে প্রকৃতির বিধানই বিজয়ী হয়েছে। আর এখন এর প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চলছে। প্রখ্যাত খ্রিস্টান পন্ডিত ডেভিন পোর্ট বহু বিবাহের সমর্থনে ইঞ্জিলের বেশ কিছু অংশ উদ্ধৃত করে লিখেছেন: ইনযিলের এসব আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়, একাধিক বিবাহ কেবল পছন্দনীয়ই নয়; আল্লাহ পাক এতে বিশেষ বরকতও নিহিত রেখেছেন। এভাবে পাদ্রী ফেকস, জন মিলটন এবং আইজাক টেলরসহ আরো অনেকের উক্তি তুলে ধরেছেন।
তবে দেখার বিষয় হল এই, ইসলামের পূর্বে বহু বিবাহের কোনো সীমারেখা ছিল না। একেক জন লোক হাজার হাজার স্ত্রীও রাখত। খ্রিস্টান পাদ্রীগণ তো বরাবরই বহু বিবাহে অভ্যস্থ ছিল। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত জার্মানিতে রীতিমত বহু বিবাহের ব্যাপক প্রচলন ছিল। কনষ্টান্টিনোপলের রাজা এবং তার সঙ্গী-সাথীদের একেক জনের অসংখ্য স্ত্রী ছিল। অনুরূপভাবে বৈদিক আচারে বহু বিবাহ অনুমোদন করতো। এ বিধানে একত্রে দশজন, তেরজন ও সাতাশজন স্ত্রী রাখার অনুমোদন পাওয়া যায়। ইসলামের পূর্বযুগে লাগামহীনভাবে বহু বিবাহের প্রচলন ছিল। বিভিন্ন ধর্ম ও দেশের ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, তাতে সুস্পষ্টভাবে একথা প্রমাণিত হয়, ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু, আর্য, পারসিক, প্রভৃতি কোনো ধর্ম বা কোনো বিধানই এ ব্যাপারে সীমারেখা নির্ধারণ করে দেয়নি।
ইসলামের প্রথম দিকেও এ প্রথা ঠিক পূর্বের ন্যায় প্রচলিত ছিল। প্রথম দিকে কোনো কোনো সাহাবীর ঘরে চারের অধিক স্ত্রীও ছিল। হযরত খাদিজা রাযি.-এর ইনতেকালের পর বিশেষ বিশেষ ইসলামি প্রয়োজনে একে একে ১০ জন স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিবাহ বন্ধনে একত্র হয়ে যান। অতঃপর দেখা গেল, বহু বিবাহের কারণে মহিলাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে শুরু হয়েছে। প্রথম তো মানুষ মোহে পড়ে একাধিক বিবাহ করে বসে। কিন্তু পরে তাদের হক আদায় করতে পারে না। তাই পবিত্র কুরআনের চিরন্তন বিধান দুনিয়া থেকে জুলুম- নির্যাতন উৎখাত করার জন্য যার আবির্ভাব; মানুষের স্বাভাবিক প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রেখে বহু বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেনি বটে, তবে সুনির্দিষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়ে এর অপকারিতার সংশোধন করে দিয়েছে। তাই পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে— فَانْكِحُوا مَا طَابَ লikum মিনান নিসায়ি মাছনা ওয়াসুলাসা ওয়া রুবাআ— এ আয়াতের ব্যাখ্যা হচ্ছে এ শর্তে একত্রে চার বিবাহ করা জায়েয, যে সমভাবে সকল স্ত্রীর হক আদায় করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এতটুকু হিম্মত না থাকলে একের বেশি বিবাহ করা অন্যায়। এ বিধান নাযিল হওয়ার পর উম্মতের পক্ষে চারের অধিক স্ত্রী রাখাও হারাম হয়ে গিয়েছে।
যেসব সাহাবার ঘরে চারের অধিক স্ত্রী ছিল তাঁরা চারজন রেখে বাকিদের তালাক দিয়ে দেন। হাদীসে আছে, হযরত গায়লান রাযি. যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তাঁর ১০ জন স্ত্রী ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আদেশ করলেন, তোমার স্ত্রীদের মধ্য থেকে চারজন রেখে বাকিদের তালাক দিয়ে দাও। এভাবে নওফল ইবনে মুআবিয়া রাযি. ইসলাম গ্রহণের সময় ৫ স্ত্রীর স্বামী ছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে একজন তালাক দিয়ে দেওয়ার আদেশ করলেন। আদেশ মোতাবেক একজনকে তিনি তালাক দিয়ে দেন।
উল্লিখিত সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরও চারের অধিক স্ত্রী না থাকারই কথা ছিল। কিন্তু সাথে সাথে এটাও বাস্তব সত্য, উম্মাহাতুল মুমিনীন তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ অন্যসব মহিলাদের মত নন। স্বয়ং পবিত্র কুরআনের ঘোষণা: يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ "হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা আর সকল মহিলাদের মত নও”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ সমগ্র উম্মতের মা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবর্তমানে তাঁরা উম্মতের কারো স্ত্রী হতে পারেন না। এখন সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যদি চারজন ছাড়া বাকিদের তালাক দিয়ে দেওয়া হত, তা হত তাদের প্রতি চরম জুলুম। গোটা জীবন তাদের অসহায় অবস্থায় কাটাতে হতো। রাহমাতুল্লিল আলামিন-এর ক্ষণকালের সাহচর্য্য তাদের জন্য আযাবের কারণ হয়ে দাঁড়াত। কারণ, এতে একদিকে তাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গ থেকে বঞ্চিত হতে হত, অপরদিকে অন্য স্বামী গ্রহণ করতে না পারায় তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠত।
এ কারণে নবীপত্নীদের এ আইনের আওতায় আসা মোটেই সমীচীন ছিল না। বিশেষ করে যাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জন্য বিয়ে করেছিলেন, তাদের স্বামীগণ জিহাদ করতে গিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন এবং তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন, তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার তো প্রশ্নই ছিল না। নিছক আশ্রয় দানের জন্য নবীজি যাদের বিবাহ করলেন, তালাক দিয়ে দিলে তাদের কি করুণ দশা হত, তা সহজেই অনুমেয়। এসব কারণে শরিয়তের বিধান মোতাবেক চারের অধিক স্ত্রী রাখা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য বলে প্রমাণিত হয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পারিবারিক জীবনের সার্বিক অবস্থা; যা উম্মতের জীবনের জন্য আদর্শ তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছানো কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের মাধ্যমেই সম্ভব। আর এটি এমনই একটি মিশন যা আঞ্জাম দেওয়ার জন্য নয় জন মহিলাও যথেষ্ট নয়। এরপরও কি কেউ এ কথা বলতে পারে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারের অধিক বিবাহ করার মূলে (মাআযাল্লাহ) কোনো রকম জৈবিক লালসা কাজ করেছিল?
এখানে আরো একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হল এই, যে সময়ে আরব-অনারবসহ সমগ্র বিশ্ব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধাচারণের জন্য ছিল এক পায়ে খাড়া, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার পরিকল্পনা আঁটা হয়েছিল, নানা রকম দুর্নাম ও অপবাদ ছড়ানো হচ্ছিল, পাগল বলা হল, মিথ্যাবাদী আখ্যা দেওয়া হল। মোটকথা, তখনকার ইসলাম বিরোধিরা নবুয়ত সূর্যের গায়ে কাদা নিক্ষেপ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে অবশেষে নিজেরাই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সব কিছুই তারা করল, কিন্তু কোনো কাফের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে যৌন লালসা বা নারী সম্পর্কিত অভিযোগ তুলেছে কি? না তোলেনি। এ ব্যাপারে মিথ্যা রটানোর দুর্বল কোনো ভিত্তি তাদের কাছে ছিল না। কারও নামে কলঙ্ক লেপনের জন্য এর চেয়ে বড় হাতিয়ার আর কী হতে পারে? আঙ্গুল রাখার সামান্য একটু ফাঁক যদি থাকত, তা হলে আরবের কাফিররা তাতে সামান্যও অবহেলা কি করত? কিন্তু ওরা এত নির্বোধ ছিল না, চাক্ষুস সত্যকে অস্বীকার করে নিজেদের বিশ্বসযোগ্যতা হারাতে দেবে।
কেননা তাকওয়ার মূর্তপ্রতীক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র জীবন তাদের চোখের সামনে ছিল। তারা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যৌবনের বৃহৎ অংশ কেটেছে একাকীত্ব ও নির্জনতার মধ্যে। পঁচিশ বছর বয়সে হযরত খাদিজা রাযি.-এর পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব পান। খাদিজা ছিলেন বিধবা, কয়েক সন্তানের জননী, চল্লিশ বছর অতিক্রম করে বার্ধক্যে উপনীত। ইতিপূর্বে দুস্বামীর ঘর করে এসেছেন তিনি। নবীজী তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন না। বিবাহ করলেন খাদিজাকে। পরে বাকী জীবনের বৃহৎ অংশ তিনি খাদিজাকে নিয়েই অতিবাহিত করেন। আবার এ সময়েও স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে বসে থাকেন নি। খাদিজাকে ঘরে রেখে হেরা পর্বতের নির্জন এক গুহায় মাসের পর মাস আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। জীবনের বৃহৎ অংশ এই খাদিজাকে নিয়ে কাটানোর ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সব কজন সন্তান খাদিজার গর্ভেই জন্ম লাভ করেছিলেন।
হযরত খাদিজা রাযি.-এর ওফাতের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স যখন পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, ঠিক তখন একের পর এক বাকি বিবাহগুলো সম্পন্ন করেন। বিশেষ বিশেষ শরয়ি প্রয়োজনে একে একে দশটি বিবাহ করেন। আয়েশা রাযি. ছাড়া যাদের বিবাহ করেছেন তাঁরা সকলেই ছিলেন বিধবা। কারো কারো সন্তানও ছিল। এই সব পরিস্থিতির উপর চোখ ফেরালে আমি ধারণাই করতে পারি না, কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বহু বিবাহকে কোনোরকম প্রবৃত্তি চরিতার্থের পরিণাম বলতে পারে। টেরা চোখওয়ালা কেউ যদি নবুয়ত সূর্যের জ্যোতি মাহাত্ম্যকে দেখতে নাও পায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র আমল, তাকওয়া-তাহারাত, অনুশীলন সাধনা ও পবিত্র জীবনের খুঁটি-নাটি যাবতীয় বিষয় দেখেও না দেখার ভান করে। তবু এই একাধিক বিবাহের ঘটনাবলিই তাঁকে একথা বলতে বাধ্য করবে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ বহু বিবাহ কোনো জৈবিক লালসার ওপর ভিত্তি করে সংঘটিত হয়নি। অন্যথায় গোটা যৌবন একজন বৃদ্ধার সঙ্গে অতিবাহিত করে পঞ্চাশের পরবর্তী বয়সকে এ কাজের জন্য মনোনিত করার কথা সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ স্বীকার করতে পারে না। বিশেষত আরবের কাফের এবং কুরাইশ নেতৃবর্গ যে কোনো মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর পছন্দমত সুন্দরী নারী উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিল। সীরাত ও ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ এর সাক্ষ্য বহন করে।
তাছাড়া মুসলমানদের সংখ্যাও তখন লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। যে কোনো মুসলিম নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে উভয় জগতের সাফল্য বলে মনে করত। এতদসত্বেও পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি এক খাদিজাকে নিয়ে জীবন কাটালেন কেন? তাঁর পরেও যাদেরকে বিবাহ করলেন, একজন ছাড়া তাঁদের সকলেই ছিলেন বিধবা। কারো কারো সন্তানও ছিল। এই বয়স-পর্যন্ত উম্মতের একজন কুমারী মেয়েকেও তিনি বিবাহ করলেন না। এখানে এর চেয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই। অন্যথায় দেখিয়ে দেওয়া যেত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বহু বিবাহ কিরূপ ইসলামি ও শরয়ি প্রয়োজনের উপর নির্ভরশীল ছিল। বস্তুতঃ নবী- সহধর্মিণীগণ না হতেন তবে ইসলামের এমন বহু বিধিবিধান যা নারীদেরই মাধ্যমে উম্মতের কাছে পৌঁছার ছিল-তা অজ্ঞাতই থেকে যেত।
টিকাঃ
১. বর্তমান বাইবেলের দ্বারা এটা প্রতীয়মান হয়, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর ৭ শ স্ত্রী এবং ৩ শ হেরেম ছিল। হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম-এর ৯৯ স্ত্রী, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর ৩ স্ত্রী, হযরত মুসা আলাইহিস সালাম-এর ৪ স্ত্রী ছিল।
২. জন ডেভিন পোর্ট রচিত 'লাইফ': ১৫৮।
৩. হিন্দু আর্যদের মধ্যে সর্বস্বীকৃত বুযুর্গ ও নেতা মান্য করা হয় মনুজীকে (মানচী)। তিনি ধর্মশাস্ত্রে লিখেছেন, "যদি এক ব্যক্তির চার পাঁচজন স্ত্রী হয় এবং তাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী হয়, তাহলে অন্যদেরকেও গর্ভবতী বলা হয়।” হিন্দুদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত দেবতা শ্রীকৃষ্ণের হাজার হাজার স্ত্রী ছিল।
৪. তাফসিরে কাবির: ২/৩৭।
৫. হাকিমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলি থানবি রহ. এ প্রয়োজনীয়তা এভাবে পূর্ণ করেছেন, পারিবারিক জীবন সম্পর্কে আযওয়াজে মুতাহহারাতের মাধ্যমে যে সমস্ত হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তা একটি সংকলনে একত্র করতে ওই সংকলনের নাম ইসল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম।
৬. মোটকথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু বিবাহকে জৈবিক লালসা নির্ভর আখ্যা দেওয়া যার পর নাই নির্লজ্জতা ও সত্যের অপলাপমাত্র। অন্যায় প্রীতি যদি বিবেক-বুদ্ধিকে অন্ধ করে না থাকে তাহলে কোনো কট্টর কাফেরও এ ধরনের কথা মুখ দিয়ে বের করতে পারে না।
📄 চাচা ও ফুফুগণ
আবদুল মুত্তালিবের ১০ জন পুত্র ছিল। যথা— (১) হারিস (২) যুবায়ের (৩) হাজল (৪) দিরার (৫) মুকাওয়াম (৬) আবু লাহাব (৭) আব্বাস (৮) হামযা (৯) আবু তালেব (১০) আবদুল্লাহ। এর মধ্যে আবদুল্লাহ হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতা। বাকি নয় জন চাচা। হযরত আব্বাস রাযি. ছিলেন ভাইদের মধ্যে সকলের ছোট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফু ছিলেন ছয় জন। যথা— (১) উমাইমা (২) উম্মে হাকীম (৩) বাররা (৪) আতেকা (৫) সাফিয়া (৬) আরওয়া।