📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত উম্মে সালমা রাযি.

📄 হযরত উম্মে সালমা রাযি.


আসল নাম হিন্দা। প্রথমে আবু সালামার স্ত্রী ছিলেন। এ ঘরে তাঁর কয়েকটি সন্তান জন্মেছিল। চতুর্থ হিজরীর জুমাদাস সানীতে মতান্তরে তৃতীয় হিজরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। বলা হয়, হযরত উম্মে সালামা রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের মধ্যে সকলের পরে মৃত্যুবরণ করেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত যয়নাব বিনতে জাহাশ রাযি.

📄 হযরত যয়নাব বিনতে জাহাশ রাযি.


হযরত যয়নাব বিনতে জাহাশ রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফাতো বোন। প্রথমে তাঁকে তিনি পালক পুত্র যায়েদ ইবনে হারেসার সঙ্গে বিবাহ দিতে ইচ্ছা করেন। যায়েদ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোলাম। পরে আযাদ করে তাঁকে পোষ্য পুত্রের মর্যাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু এক সময় গোলাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে যয়নব তাঁকে পছন্দ করতে পারছিলেন না। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ পালনার্থে এ বিবাহে তিনি সম্মতি দেন। তিনি প্রায় এক বছর যায়েদের ঘর করেন। কিন্তু মনের মিল না থাকার কারণে দুজনের মধ্যে সর্বদা মনোমালিন্য লেগেই থাকত। এক সময় যায়েদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এসে যয়নবকে তালাক দেবেন বলে মতপোষণ করেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বুঝিয়ে তালাক দেওয়া থেকে বিরত রাখেন। কিন্তু তারপরও মনের মিল না হওয়ায় যায়েদ রাযি. বাধ্য হয়ে যয়নব রাযি.-কে তালাক প্রদান করেন।

এবার সান্ত্বনা ও মনের প্রশান্তির উদ্দেশ্যে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তাঁকে বিবাহ করতে মনস্থ করলেন। কিন্তু আরব সমাজে সে সময়ে পালক পুত্রকে ঔরসজাত সন্তানেরই সমতুল্য মনে করা হত। এজন্য সমালোচনার আশঙ্কায় নবীজি পালক পুত্র যায়েদের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী যয়নবকে বিবাহ করা থেকে বিরত থাকেন; কিন্তু যেহেতু এটি জাহেলিয়াতের কুসংস্কার ছাড়া কিছুই ছিল না, তাই আয়াত নাযিল হল— "আপনি মানুষকে ভয় করছেন, অথচ আল্লাহকেই আপনার সর্বাধিক ভয় করা উচিত।” (সূরা আহযাব)

অবশেষে চতুর্থ হিজরীতে মতান্তরে তৃতীয় হিজরীতে আল্লাহ পাকের আদেশে নবীজি যয়নব রাযি.-কে বিবাহ করেন। যাতে মানুষ এ কথা বুঝতে পারে, পালক পুত্র আর ঔরসজাত পুত্র সমান নয়। বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেলে পালক পুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করতে কোনো অসুবিধে নেই। যারা আল্লাহ পাকের এ হালালকে বিশ্বাসে বা কার্যক্ষেত্রে হারাম মনে করে তারা যেন ভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে বের হয়ে আসে এবং অন্ধকার যুগের এ কুসংস্কার যেন সমূলে উৎপাটিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজে আমল করে দেখানোর মাধ্যমেই এ কুসংস্কার নির্মূল করা সম্ভব ছিল।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত সাফিয়া বিনতে হুওয়াই রাযি.

📄 হযরত সাফিয়া বিনতে হুওয়াই রাযি.


হযরত সাফিয়া বিনতে হুওয়াই রাযি. হযরত হারুন আলাইহিস সালাম-এর বংশধর। একমাত্র হযরত সাফিয়ারই বৈশিষ্ট্য, তিনি এক নবীর কন্যা এবং অপর এক নবীর স্ত্রী। প্রথমে কিনানা ইবনে আবুল হাকীমের স্ত্রী ছিলেন। কিনানা নিহত হওয়ার পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত জুয়াইরিয়া বিনতে হারেছ রাযি.

📄 হযরত জুয়াইরিয়া বিনতে হারেছ রাযি.


তিনি বনু মুস্তালিকের নেতা হারেসের কন্যা। যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দী হয়ে মুসলমানদের হাতে এসেছিলেন। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন। এ বিবাহের বদৌলতে তাঁর গোত্রের সকল বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তাঁর পিতা ইসলাম গ্রহণ করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px