📄 হযরত যয়নাব বিনতে খোযায়মা হেলালিয়া রাযি.
হযরত যয়নাব বিনতে খোযায়মা হেলালিয়া রাযি. উম্মুল মাসাকিন নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। প্রথমে তোফায়েল ইবনে হারিসের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। তোফায়েল তালাক দিলে দ্বিতীয় পর্যায়ে তোফায়েলের ভাই উবায়দার সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। এ স্বামী শাহাদাতবরণ করলে ওহুদ যুদ্ধের একমাস আগে তৃতীয় হিজরীতে নবীজি তাঁকে বিবাহ করেন। তিনি মাত্র দু মাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘর সংসার করে মৃত্যুবরণ করেন।
📄 হযরত উম্মে হাবিবা রাযি.
হযরত আবু সুফিয়ান রাযি.-এর কন্যা। প্রথম স্বামী ওবাইদুল্লাহ ইবনে জাহাশ। ওবাইদুল্লাহ ইবনে জাহশের ঔরসে তাঁর কয়েকটি সন্তানও জন্মগ্রহণ করেছিল। স্বামী-স্ত্রী দুজন ইসলাম গ্রহণ করে হাবশায় হিজরত করেছিলেন। হাবশা গিয়ে ওবায়দুল্লাহ খ্রিস্টান হয়ে যায়; কিন্তু উম্মে হাবিবা ইসলামের উপর দৃঢ় থাকেন। এ খবর শুনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাবশার বাদশা নাজ্জাশীর কাছে পত্র লিখলেন— তাঁর পক্ষ থেকে উম্মে হাবিবার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দিতে। নাজ্জাশী তাঁর কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেন এবং নিজেই এ বিবাহের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নাজ্জাশী নিজেই বিবাহের চারশ দীনার মহর পরিশোধ করে দেন।
📄 হযরত উম্মে সালমা রাযি.
আসল নাম হিন্দা। প্রথমে আবু সালামার স্ত্রী ছিলেন। এ ঘরে তাঁর কয়েকটি সন্তান জন্মেছিল। চতুর্থ হিজরীর জুমাদাস সানীতে মতান্তরে তৃতীয় হিজরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। বলা হয়, হযরত উম্মে সালামা রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের মধ্যে সকলের পরে মৃত্যুবরণ করেন।
📄 হযরত যয়নাব বিনতে জাহাশ রাযি.
হযরত যয়নাব বিনতে জাহাশ রাযি. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফাতো বোন। প্রথমে তাঁকে তিনি পালক পুত্র যায়েদ ইবনে হারেসার সঙ্গে বিবাহ দিতে ইচ্ছা করেন। যায়েদ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোলাম। পরে আযাদ করে তাঁকে পোষ্য পুত্রের মর্যাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু এক সময় গোলাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে যয়নব তাঁকে পছন্দ করতে পারছিলেন না। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ পালনার্থে এ বিবাহে তিনি সম্মতি দেন। তিনি প্রায় এক বছর যায়েদের ঘর করেন। কিন্তু মনের মিল না থাকার কারণে দুজনের মধ্যে সর্বদা মনোমালিন্য লেগেই থাকত। এক সময় যায়েদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এসে যয়নবকে তালাক দেবেন বলে মতপোষণ করেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বুঝিয়ে তালাক দেওয়া থেকে বিরত রাখেন। কিন্তু তারপরও মনের মিল না হওয়ায় যায়েদ রাযি. বাধ্য হয়ে যয়নব রাযি.-কে তালাক প্রদান করেন।
এবার সান্ত্বনা ও মনের প্রশান্তির উদ্দেশ্যে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তাঁকে বিবাহ করতে মনস্থ করলেন। কিন্তু আরব সমাজে সে সময়ে পালক পুত্রকে ঔরসজাত সন্তানেরই সমতুল্য মনে করা হত। এজন্য সমালোচনার আশঙ্কায় নবীজি পালক পুত্র যায়েদের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী যয়নবকে বিবাহ করা থেকে বিরত থাকেন; কিন্তু যেহেতু এটি জাহেলিয়াতের কুসংস্কার ছাড়া কিছুই ছিল না, তাই আয়াত নাযিল হল— "আপনি মানুষকে ভয় করছেন, অথচ আল্লাহকেই আপনার সর্বাধিক ভয় করা উচিত।” (সূরা আহযাব)
অবশেষে চতুর্থ হিজরীতে মতান্তরে তৃতীয় হিজরীতে আল্লাহ পাকের আদেশে নবীজি যয়নব রাযি.-কে বিবাহ করেন। যাতে মানুষ এ কথা বুঝতে পারে, পালক পুত্র আর ঔরসজাত পুত্র সমান নয়। বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেলে পালক পুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করতে কোনো অসুবিধে নেই। যারা আল্লাহ পাকের এ হালালকে বিশ্বাসে বা কার্যক্ষেত্রে হারাম মনে করে তারা যেন ভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে বের হয়ে আসে এবং অন্ধকার যুগের এ কুসংস্কার যেন সমূলে উৎপাটিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজে আমল করে দেখানোর মাধ্যমেই এ কুসংস্কার নির্মূল করা সম্ভব ছিল।