📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 দাদার ইনতেকাল

📄 দাদার ইনতেকাল


পিতামাতা হারিয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদা আব্দুল মুত্তালিবের আশ্রয়ে লালিত-পালিত হচ্ছিলেন। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা দেখাতে চেয়েছিলেন, এই শিশু একমাত্র রহমতের কোলেই পালিত হবেন। জাগতিক উপায় উপকরণের মূল নিয়ামক যাঁর হাতে তিনি নিজেই এই শিশুর জিম্মাদার। যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ৮ বছর ২ মাস ১০ দিনে উপনীত হল, সেদিন দাদা আব্দুল মুত্তালিবও চিরবিদায় গ্রহণ করেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 সিরিয়া সফর

📄 সিরিয়া সফর


দাদার ইন্তেকালের পর আপন চাচা আবু তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লালন-পালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। চাচার কাছে নবীজি বড় হতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স যখন বার বছর দু'মাস দশ দিন তখন চাচা আবু তালিব ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া সফর করার মনস্থ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাথে নিয়ে তিনি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথে তায়মা নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 ইহুদি পণ্ডিতের ভবিষ্যদ্বাণী

📄 ইহুদি পণ্ডিতের ভবিষ্যদ্বাণী


চাচার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়মায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনাক্রমে এক ইহুদি পণ্ডিত যাকে বুহায়রা পাদ্রী বলা হত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। তাকে দেখে ইহুদি পণ্ডিত আবু তালিবকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার সঙ্গের এই ছেলেটি কে? আবু তালিব বললেন, এ আমার ভাতিজা। বুহায়রা বললেন, এ ছেলেটির প্রতি কি আপনার মমতা আছে? আপনি কি একে রক্ষা করতে চান? আবু তালিব বললেন, অবশ্যই। বুহায়রা এবার আল্লাহর শপথ করে বললেন, আপনি একে যদি সিরিয়া নিয়ে যান, তাহলে ওখানকার ইহুদিরা নির্ঘাত একে খুন করবে। কারণ, বালকটি আল্লাহর নবী, যিনি ইহুদিদের ধর্মকে রহিত করে দেবেন। এর যাবতীয় গুণাগুণ আমি আসমানি কিতাবে দেখতে পেয়েছি।

বুহায়রা যেহেতু তাওরাতের আলেম ছিলেন এবং তাওরাতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৈহিক আকার-আকৃতির পূর্ণ বিবরণ ছিল, তাই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে চিনে ফেলেছিলেন- এ বালকই সেই শেষনবি, যিনি তাওরাতকে রহিত এবং ইহুদি পণ্ডিতদের রাজত্ব খতম করে দেবেন। বুহায়রার কথা শুনে আবু তালিব শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কায় ফেরত পাঠিয়ে দেন।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 দ্বিতীয়বার সিরিয়া সফর

📄 দ্বিতীয়বার সিরিয়া সফর


সে সময় মক্কায় খাদিজা নামের এক বিত্তবান মহিলা বাস করতেন। অগাধ সম্পদের সাথে সাথে তিনি যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তা এবং অভিজ্ঞতার অধিকারিণীও ছিলেন। বিচক্ষণ ও বিশ্বস্ত গরীব লোকদের দেখে তিনি ব্যবসার পণ্য দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করতেন এবং লাভের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ তাদেরকে প্রদান করতেন। নবীজি তখনও নবুয়ত প্রাপ্ত হননি ঠিক, কিন্তু সমগ্র মক্কাবাসীর কাছে তার সততা ও বিশ্বস্ততার যথেষ্ট সুনাম ছিল। প্রত্যেকের কাছেই তিনি আস্থাভাজন ছিলেন। সকলের কাছে তিনি আল-আমীন তথা বিশ্বস্ত উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই সুনাম সুখ্যাতি খাদিজার কাছেও গোপন ছিল না। তাই তিনি তার ব্যবসার কাজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে সোপর্দ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিয়ানতদারী দ্বারা উপকৃত হওয়ার মনস্থ করলেন।

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রস্তাব পাঠালেন, আপনি যদি আমার ব্যবসার পণ্য নিয়ে সিরিয়া যেতে রাজি হন তাহলে আপনার খেদমতের জন্য সঙ্গে আমার একটি গোলাম দেব এবং অন্যদের তুলনায় আপনাকে লাভের অংশ বেশী দেব। যেহেতু নবীজি অত্যন্ত সাহসী ও উদার মনের অধিকারী ছিলেন, তাই প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদূর সিরিয়া সফরের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন এবং খাদিজার গোলাম মাইসারাকে সঙ্গে নিয়ে ১৬ই জিলহজ সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সিরিয়া গিয়ে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে অধিক লাভে পণ্য বিক্রি করে সেখান থেকে অন্য মাল ক্রয় করে ফিরে আসেন। মক্কা এসে সিরিয়া থেকে আনা পণ্যগুলো খাদিজার হাতে সোপর্দ করেন। সেই পণ্য বিক্রি করে খাদিজা প্রায় দ্বিগুণ লাভ করেন।

সিরিয়ার পথে একস্থানে নবীজি অবস্থান করছিলেন। সেখানে নাসতুরা নামক এক ইহুদি পণ্ডিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণিত আখেরী নবীর লক্ষণসমূহ দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চিনে ফেলেন। ইহুদি পণ্ডিত মাইসারাকে আগে থেকেই জানতেন। তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সঙ্গের এই লোকটি কে? মাইসারা বলল, ইনি মক্কার কুরাইশ গোত্রের এক ভদ্র যুবক। ইহুদী পণ্ডিত বললেন, ভবিষ্যতে ইনি নবী হবেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px