📄 মায়ের ইনতেকাল
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বয়স যখন চার কিংবা ছয় বছর, তখন মদিনা থেকে ফেরার পথে আবওয়া নামক স্থানে মা আমিনা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যান। ছয় বছরের শিশু। মাথার উপর থেকে পিতার স্নেহছায়া তো জন্মের আগেই বিদায় নিয়েছে। এবার জননীর মমতার কোলেরও পরিসমাপ্তি ঘটল। কিন্তু যে রহমতের কোলে লালিত হবেন এ এতিম, তিনি তো এ সকল উপায় উপকরণের মুখাপেক্ষী নন।
📄 দাদার ইনতেকাল
পিতামাতা হারিয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদা আব্দুল মুত্তালিবের আশ্রয়ে লালিত-পালিত হচ্ছিলেন। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা দেখাতে চেয়েছিলেন, এই শিশু একমাত্র রহমতের কোলেই পালিত হবেন। জাগতিক উপায় উপকরণের মূল নিয়ামক যাঁর হাতে তিনি নিজেই এই শিশুর জিম্মাদার। যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ৮ বছর ২ মাস ১০ দিনে উপনীত হল, সেদিন দাদা আব্দুল মুত্তালিবও চিরবিদায় গ্রহণ করেন।
📄 সিরিয়া সফর
দাদার ইন্তেকালের পর আপন চাচা আবু তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লালন-পালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। চাচার কাছে নবীজি বড় হতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স যখন বার বছর দু'মাস দশ দিন তখন চাচা আবু তালিব ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া সফর করার মনস্থ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাথে নিয়ে তিনি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথে তায়মা নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলেন।
📄 ইহুদি পণ্ডিতের ভবিষ্যদ্বাণী
চাচার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়মায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনাক্রমে এক ইহুদি পণ্ডিত যাকে বুহায়রা পাদ্রী বলা হত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। তাকে দেখে ইহুদি পণ্ডিত আবু তালিবকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার সঙ্গের এই ছেলেটি কে? আবু তালিব বললেন, এ আমার ভাতিজা। বুহায়রা বললেন, এ ছেলেটির প্রতি কি আপনার মমতা আছে? আপনি কি একে রক্ষা করতে চান? আবু তালিব বললেন, অবশ্যই। বুহায়রা এবার আল্লাহর শপথ করে বললেন, আপনি একে যদি সিরিয়া নিয়ে যান, তাহলে ওখানকার ইহুদিরা নির্ঘাত একে খুন করবে। কারণ, বালকটি আল্লাহর নবী, যিনি ইহুদিদের ধর্মকে রহিত করে দেবেন। এর যাবতীয় গুণাগুণ আমি আসমানি কিতাবে দেখতে পেয়েছি।
বুহায়রা যেহেতু তাওরাতের আলেম ছিলেন এবং তাওরাতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৈহিক আকার-আকৃতির পূর্ণ বিবরণ ছিল, তাই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে চিনে ফেলেছিলেন- এ বালকই সেই শেষনবি, যিনি তাওরাতকে রহিত এবং ইহুদি পণ্ডিতদের রাজত্ব খতম করে দেবেন। বুহায়রার কথা শুনে আবু তালিব শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কায় ফেরত পাঠিয়ে দেন।