📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 পিতার বংশধারা

📄 পিতার বংশধারা


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতার দিক থেকে বংশধারা হল : মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাঈ ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নযর ইবনে কিনানা ইবনে খুযাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুযার ইবনে নিযার ইবনে মাআদ ইবনে আদনান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারা এ পর্যন্ত সর্বসম্মতিভাবে প্রমাণিত। এখান থেকে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত বংশ তালিকা সর্বসম্মত নয়। তাই এখানে তা উল্লেখ করা হলো না।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 মাতৃকুল বংশধারা

📄 মাতৃকুল বংশধারা


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মায়ের বংশধারা হল: মুহাম্মদ ইবনে আমিনা বিনতে ওহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে যুহরা ইবনে কিলাব। এ বংশধারা দ্বারা বুঝা গেল, কিলাব ইবনে মুররা পর্যন্ত গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতা ও মাতা উভয়ের বংশ একত্রে মিলে যায়।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 জন্মের পূর্বে বরকত প্রকাশ

📄 জন্মের পূর্বে বরকত প্রকাশ


সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বক্ষণে সুবহে সাদিকের দিগন্ত বিস্তৃত আলোকরশ্মি অতঃপর রক্তিম আভা যেমন বিশ্বজগতকে সূর্যোদয়ের সুসংবাদ প্রদান করে, তেমনি নবুয়তের সূর্য উদয়ের সময় যখন ঘনিয়ে এল, তখন পৃথিবীর দিক দিগন্তে এমন বহু ঘটনা ঘটতে লাগল, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনী বার্তা প্রচার করছিল। মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকদের পরিভাষায় এগুলোকে ইরহাসাত (অপেক্ষমান নিদর্শন) বলা হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মায়ের বর্ণনা, নবীজী তাঁর গর্ভে আসার পর একদিন স্বপ্নে তাকে সুসংবাদ দেওয়া হল, তোমার গর্ভের সন্তানটি এই উম্মতের কর্ণধার। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার জন্য তুমি এই দুআ করবে, আমি একে এক আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করছি। আর তার নাম মুহাম্মদ রাখবে। তিনি আরো বলেন, মুহাম্মদ আমার গর্ভে থাকা অবস্থায় আমি একটি নূর দেখতে পেলাম। যার আলোকে বসরা ও সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে।

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 শুভ জন্ম

📄 শুভ জন্ম


অধিকাংশ আলেমগণই একমত, যে বছর আসহাবে ফীল বাইতুল্লাহ শরীফ আক্রমণ করে এবং আল্লাহ তাআলা ক্ষুদ্র এক ঝাঁক পাখি দ্বারা তাদের ধ্বংস করেন, (যে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা কুরআন মাজিদেও রয়েছে) ঠিক সে বছরের রবিউল আউয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন। বস্তুত আসহাবে ফীলের ঘটনাটিও ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়ায় আগমনের বরকত সমূহের ভূমিকা মাত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ঘরে জন্মলাভ করেন, পরবর্তীতে সে ঘরটি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের ভাই মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের হাতে এসেছিল।

কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে আসহাবে ফীলের ঘটনাটি ঘটেছিল ৫৭১ সনের ২০শে এপ্রিল। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর জন্মের ৫৭১ বছর পরে হয়েছিল। সর্বসম্মত মতানুসারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুণ্যময় জন্ম রবিউল আউয়াল মাসের সোমবারে হয়। কিন্তু তারিখ নির্ধারণের ব্যাপারে ৪টি বর্ণনা প্রসিদ্ধ- দ্বিতীয়, অষ্টম, দশম, দ্বাদশ। হাফেয মুগলতাঈ রহ. ২ তারিখ গ্রহণ করে দ্বিতীয় বর্ণনাকে দুর্বল গণ্য করেছেন। কিন্তু প্রসিদ্ধ বর্ণনা হল ১২ তারিখ। এমনকি হাফেয ইবনুল হাজার আসকালানীর উপর অধিকাংশের মত বর্ণনা করেন। এটাকেই কামেল ইবনে আসীরে গ্রহণ করা হয়েছে এবং মিসরের বাদশা মাহমুদ পাশা হিসাব করে ৯ তারিখ গ্রহণ করেন। এটা অধিকাংশ আলেমের মতের বিরোধী সনদবিহীন বর্ণনা। চন্দ্রোদয়ের স্থান বিভিন্ন হওয়ার ফলে গণনার মধ্যে নির্ভর করা যায় না বলে অধিকাংশের মতের বিরুদ্ধাচরণ করা যায় না।

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনে আসাকির পৃথিবীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এভাবে লিখেছেন, হযরত আদম আ. ও নূহ আ. এর মাঝে ব্যবধান ছিল ১২০০ বছর, নূহ আ. থেকে ইবরাহীম আ. পর্যন্ত ১১৪২ বছর, ইবরাহীম আ. থেকে মূসা আ. পর্যন্ত ৫৬৫ বছর, মূসা আ. দাউদ আ. পর্যন্ত ৫৬৯ বছর, দাউদ আ. থেকে ঈসা (আ.) পর্যন্ত ১৩৫৬ বছর এবং ঈসা আ. থেকে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত ব্যবধান ছিল ৬০০ বছর। এ হিসেবে হযরত আদম আ. থেকে আমাদের প্রিয়নবী পর্যন্ত ৫০৩২ বছর। আর প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী আদম আ. হায়াত পেয়েছিলেন ৯৬০ বছর। তাই আদম আ. পৃথিবীতে আগমনের প্রায় ৬ হাজার বছর পরে অর্থাৎ সপ্তম সহস্রাব্দে সাইয়িদুল মুরসালীন খাতামুল আম্বিয়া মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়ায় আবির্ভাব ঘটে।

মোটকথা যে বছর বাইতুল্লাহর ওপর আসহাবে ফীলের আক্রমণ হয়, সে বছর রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য দিন। এ দিনে জগত সৃষ্টির উদ্দেশ্য, রাত-দিনের বিবর্তনের মূল লক্ষ্য, আদম ও বনি আদমের গৌরব, নূহ আ. এর নৌকার হেফাজতের রহস্য, ইবরাহীম আ. এর দুআ এবং মূসা ও ঈসা আ. এর ভবিষ্যদ্বাণীর জীবন্ত প্রতীক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পৃথিবীতে শুভাগমন করেন। এদিকে পৃথিবীর দিকে দিকে নবুয়তের সূর্যকিরণ আত্মপ্রকাশ করতে লাগল, ওদিকে পারস্যের রাজপ্রাসাদে ভূমিকম্প হতে শুরু করল। যার ফলে প্রাসাদের চৌদ্দটি গম্বুজ ভেঙ্গে পড়ল। হঠাৎ শুকিয়ে গেল পারস্যের খরস্রোতা শ্বেতসাগর। নিস্তেজ হয়ে গেল এক হাজার বছর ধরে প্রজ্বলিত পারসিকদের সেই অগ্নিকুণ্ড, যা প্রজ্বলনের পর এক মুহূর্তের জন্যও হাজার বছরে একবারও নির্বাপিত হয়নি। এক রেওয়ায়েতে এরূপও আছে, তাঁর জন্মের ৭ মাস পর তাঁর পিতার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু যাদুল মাআদ-এ ইবনে কাইয়ুম রহ. এ অভিমত দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। বিভিন্ন সহি হাদীসে আছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের সময় তাঁর মায়ের পেট থেকে এমন একটি আলো বিচ্ছুরিত হয়েছিল, যার আলোতে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ভূমিষ্ঠ হন, তখন তিনি নিজের উভয় হাতের উপর ভর দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর এক মুষ্টি মাটি নিয়ে আকাশপানে দৃষ্টিপাত করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px