📄 প্রাচীরটির অবস্থান
ইমাম বুখারী রহ. বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমি ওই প্রাচীরটি দেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেমন দেখেছ? সে বলল, জমকালো চাদরের মতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমিও তাই দেখেছি।
তবে হযরত কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি বলেছিল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর দেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে আমার নিকট সেটির বর্ণনা দাও। সে বলল, সেটি ডোরাদার চাদরের মতো, যার একটি ডোরা কালো এবং অপরটি লাল ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমিও তাই দেখছি। কথিত আছে, খলিফা ওয়াসিক বিল্লাহ যুলকারনাইনের প্রাচীর দেখার জন্য একদল প্রতিনিধি প্রেরণ করেছিলেন। পথে অবস্থিত রাজ্যসমূহের রাজাদের নিকট তিনি চিঠি লিখে দিয়েছিলেন, যেন তাঁরা ওই প্রতিনিধি দলকে নিজ নিজ রাজ্য অতিক্রম করে প্রাচীর পর্যন্ত পৌছুবার ব্যাপারে সাহায্য করেন। যাতে তারা প্রাচীর সম্পর্কে অবগতি লাভ করতে পারেন এবং যুলকারনাইন এটি কিভাবে নির্মাণ করেছেন, তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারে। ওই প্রতিনিধি দলটি ফিরে এসে উক্ত প্রাচীর সম্পর্কে বর্ণনা দেয়, তাতে একটি বিরাট দরজা রয়েছে। দরজায় রয়েছে বহু তালা। এটি সুউচ্চ, মজবুত ও সুদৃঢ়। প্রাচীরটি নির্মাণের পর যে লোহার ইট ও যন্ত্রপাতি অবশিষ্ট ছিল, সেগুলো একটি সুদৃঢ় মহলের মধ্যে রক্ষিত আছে। তারা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজাদের পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রহরীগণ সার্বক্ষণিক ওই প্রাচীরটি প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছে। এটির অবস্থান ছিল পৃথিবীর উত্তর-পূর্ব কোণের উত্তর-পূর্ব অংশে। কথিত আছে, তাদের শহর বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ও প্রশস্ত ছিল। কৃষিকাজ ও জলে-স্থলে শিকার করে তারা জীবিকা নির্বাহ করত। একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত ওদের সংখ্যা কেউ জানে না।
যদি কেউ প্রশ্ন করে, আল্লাহ তাআলার বাণী: 'এরপর তারা সেটি অতিক্রম করতে পারল না এবং ভেদ করতেও পারল না' এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীসটির মাঝে সমন্বয় সাধন করা যাবে কিভাবে? যেমন— উম্মুল মুমিনীন যায়নাব বিনতে জাহাশ রাযি. বলেন: একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তাঁর মুখমণ্ডল তখন রক্তিম বর্ণ। তিনি বলছিলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! আরবদের ধ্বংস নিকটবর্তী। আজ ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর এতটুকু ছিদ্র হয়ে গেছে। (এরপর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দ্বারা বৃত্ত বানিয়ে দেখান)। আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে।
উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তর হতে পারে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "প্রাচীর খুলে গিয়েছে" বাক্যাংশের দ্বারা ফিতনা ও অকল্যাণের দরজাগুলো খুলে গিয়েছে বুঝিয়েছেন। এটি একটি রূপক বাক্য ও বাগধারা স্বরূপ। অথবা বলা হবে, 'প্রাচীর খুলে গিয়েছে' বাক্যাংশের দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাস্তবে প্রাচীর খুলে গিয়েছে বুঝিয়েছেন এবং আয়াতে "তারা এটি অতিক্রম করতে পারল না এবং ভেদ করতেও পারল না" দ্বারা তখনকার সময়ের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে। হতে পারে পরবর্তীকালে আল্লাহর অনুমতিক্রমে এবং আল্লাহ কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে তারা অল্প অল্প করে ক্রমান্বয়ে ওই নির্ধারিত সময়ে প্রাচীর ক্ষয় করে ফেলবে। অবশেষে এক সময়ে নির্ধারিত মেয়াদও পূর্ণ হবে এবং আল্লাহর নির্ধারিত উদ্দেশ্যও সফল হবে। তারপর তারা বেরিয়ে পড়বে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'এবং তারা প্রতি উচ্চ ভূমি হতে ছুটে আসবে।'
অবশ্য অন্য এক হাদিসের কারণে আরও সমস্যা সৃষ্টি হয়। হাদীসটি ইমাম আহমদ রহ. তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আবু হোরায়রা রাযি. সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ইয়াজুজ-মাজুজ প্রতিদিন ওই প্রাচীরটি খুঁড়ে চলছে। খুঁড়তে খুঁড়তে তারা যখন এতটুকু পৌঁছে, যাতে সূর্যের আলো দেখতে পাওয়ার উপক্রম হয়, তখন তাদের উট ও বকরির নাকে জন্ম নেয় এমন কীট। তখন নেতা বলে, আজ তোমরা ফিরে যাও; আগামী কাল অনায়াসে খোঁড়া শেষ করে দিব। পরের দিন তারা এসে দেখতে পায়, পূর্বে যতটুকু ছিল, প্রাচীরটি এখন তার চাইতে অধিকতর মজবুত হয়ে রয়েছে। এভাবে যখন তাদের অবরুদ্ধ রাখার মেয়াদ শেষ হবে এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে লোকালয়ে প্রেরণের ইচ্ছা করবেন, তখন তারা খুঁড়তে খুঁড়তে সূর্যের আলো দেখার পর্যায়ে চলে এলে তাদের নেতা বলবে, এখন ফিরে যাও, আগামীকাল ইনশাআল্লাহ খোঁড়া শেষ করতে পারবে। পরদিন তারা এসে প্রাচীরটিকে পূর্ববর্তী দিবসের রেখে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পাবে। তখন তারা খননকার্য শেষ করে লোকালয়ে বেরিয়ে আসবে। তারা পৃথিবীর সব পানি পান করে ফেলবে। লোকজন নিজ নিজ দুর্গে আশ্রয় নিবে। এরপর ইয়াজুজ-মাজুজ আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। রক্তের চিহ্নসহ তীর ফিরে আসবে। তারা বলবে, আমরা পৃথিবীর অধিবাসীদেরকে পদানত করেছি এবং আকাশের অধিবাসীদের ওপর বিজয় লাভ করেছি। তারপর আল্লাহ তাআলা তাদের ঘাড়ে কীট সৃষ্টি করে দিবেন। এ কীটের দ্বারা তিনি তাদেরকে ধ্বংস করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: 'যে মহান সত্তার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর শপথ! ওদের গোশত ও রক্ত খেয়ে পৃথিবীর জীবজন্তুগুলো মোটা তাজা হয়ে উঠবে এবং শোকর আদায় করবে।'
অন্য এক রেওয়ায়েতে রয়েছে, ওরা প্রতিদিন জিহবা দিয়ে ওই প্রাচীরটি চাটতে থাকে। চাটতে চাটতে প্রাচীরটি এমন পাতলা হয়ে যায়, অপর দিকে সূর্যের কিরণ দেখা যাওয়ার উপক্রম হয়। এটি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি না হয়ে কাব আহবাবের উক্তি হয়— যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন, তবে আমরা ওই অসঙ্গতির হাত থেকে মুক্তি পাই। আর এটি যদি প্রকৃতই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হয়ে থাকে, তবে বলা হবে, তাদের ওই কর্মতৎপরতা চলবে আখেরী যামানায় তাদের বেরিয়ে আসার নিকটবর্তী সময়ে। অথবা বলা যাবে, 'তারা ওটা ভেদ করতেও পারল না' অর্থ— এদিক থেকে ওদিক পর্যন্ত ছিদ্র করে সারতে পারেনি। সুতরাং এটি তাদের জিহবা দিয়ে চাটা। অথচ ছিদ্র না করা এর পরিপন্থী নয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ইমাম বুখারী রহ. বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আমি ওই প্রাচীরটি দেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেমন দেখেছ? সে বলল, জমকালো চাদরের মতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমিও তাই দেখেছি।
তবে হযরত কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি বলেছিল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর দেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে আমার নিকট সেটির বর্ণনা দাও। সে বলল, সেটি ডোরাদার চাদরের মতো, যার একটি ডোরা কালো এবং অপরটি লাল ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমিও তাই দেখছি। কথিত আছে, খলিফা ওয়াসিক বিল্লাহ যুলকারনাইনের প্রাচীর দেখার জন্য একদল প্রতিনিধি প্রেরণ করেছিলেন। পথে অবস্থিত রাজ্যসমূহের রাজাদের নিকট তিনি চিঠি লিখে দিয়েছিলেন, যেন তাঁরা ওই প্রতিনিধি দলকে নিজ নিজ রাজ্য অতিক্রম করে প্রাচীর পর্যন্ত পৌছুবার ব্যাপারে সাহায্য করেন। যাতে তারা প্রাচীর সম্পর্কে অবগতি লাভ করতে পারেন এবং যুলকারনাইন এটি কিভাবে নির্মাণ করেছেন, তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পারে। ওই প্রতিনিধি দলটি ফিরে এসে উক্ত প্রাচীর সম্পর্কে বর্ণনা দেয়, তাতে একটি বিরাট দরজা রয়েছে। দরজায় রয়েছে বহু তালা। এটি সুউচ্চ, মজবুত ও সুদৃঢ়। প্রাচীরটি নির্মাণের পর যে লোহার ইট ও যন্ত্রপাতি অবশিষ্ট ছিল, সেগুলো একটি সুদৃঢ় মহলের মধ্যে রক্ষিত আছে। তারা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজাদের পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রহরীগণ সার্বক্ষণিক ওই প্রাচীরটি প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছে। এটির অবস্থান ছিল পৃথিবীর উত্তর-পূর্ব কোণের উত্তর-পূর্ব অংশে। কথিত আছে, তাদের শহর বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ও প্রশস্ত ছিল। কৃষিকাজ ও জলে-স্থলে শিকার করে তারা জীবিকা নির্বাহ করত। একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত ওদের সংখ্যা কেউ জানে না।
যদি কেউ প্রশ্ন করে, আল্লাহ তাআলার বাণী: 'এরপর তারা সেটি অতিক্রম করতে পারল না এবং ভেদ করতেও পারল না' এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীসটির মাঝে সমন্বয় সাধন করা যাবে কিভাবে? যেমন— উম্মুল মুমিনীন যায়নাব বিনতে জাহাশ রাযি. বলেন: একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তাঁর মুখমণ্ডল তখন রক্তিম বর্ণ। তিনি বলছিলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! আরবদের ধ্বংস নিকটবর্তী। আজ ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর এতটুকু ছিদ্র হয়ে গেছে। (এরপর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দ্বারা বৃত্ত বানিয়ে দেখান)। আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে।
উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তর হতে পারে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "প্রাচীর খুলে গিয়েছে" বাক্যাংশের দ্বারা ফিতনা ও অকল্যাণের দরজাগুলো খুলে গিয়েছে বুঝিয়েছেন। এটি একটি রূপক বাক্য ও বাগধারা স্বরূপ। অথবা বলা হবে, 'প্রাচীর খুলে গিয়েছে' বাক্যাংশের দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাস্তবে প্রাচীর খুলে গিয়েছে বুঝিয়েছেন এবং আয়াতে "তারা এটি অতিক্রম করতে পারল না এবং ভেদ করতেও পারল না" দ্বারা তখনকার সময়ের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে। হতে পারে পরবর্তীকালে আল্লাহর অনুমতিক্রমে এবং আল্লাহ কর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে তারা অল্প অল্প করে ক্রমান্বয়ে ওই নির্ধারিত সময়ে প্রাচীর ক্ষয় করে ফেলবে। অবশেষে এক সময়ে নির্ধারিত মেয়াদও পূর্ণ হবে এবং আল্লাহর নির্ধারিত উদ্দেশ্যও সফল হবে। তারপর তারা বেরিয়ে পড়বে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'এবং তারা প্রতি উচ্চ ভূমি হতে ছুটে আসবে।'
অবশ্য অন্য এক হাদিসের কারণে আরও সমস্যা সৃষ্টি হয়। হাদীসটি ইমাম আহমদ রহ. তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আবু হোরায়রা রাযি. সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ইয়াজুজ-মাজুজ প্রতিদিন ওই প্রাচীরটি খুঁড়ে চলছে। খুঁড়তে খুঁড়তে তারা যখন এতটুকু পৌঁছে, যাতে সূর্যের আলো দেখতে পাওয়ার উপক্রম হয়, তখন তাদের উট ও বকরির নাকে জন্ম নেয় এমন কীট। তখন নেতা বলে, আজ তোমরা ফিরে যাও; আগামী কাল অনায়াসে খোঁড়া শেষ করে দিব। পরের দিন তারা এসে দেখতে পায়, পূর্বে যতটুকু ছিল, প্রাচীরটি এখন তার চাইতে অধিকতর মজবুত হয়ে রয়েছে। এভাবে যখন তাদের অবরুদ্ধ রাখার মেয়াদ শেষ হবে এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে লোকালয়ে প্রেরণের ইচ্ছা করবেন, তখন তারা খুঁড়তে খুঁড়তে সূর্যের আলো দেখার পর্যায়ে চলে এলে তাদের নেতা বলবে, এখন ফিরে যাও, আগামীকাল ইনশাআল্লাহ খোঁড়া শেষ করতে পারবে। পরদিন তারা এসে প্রাচীরটিকে পূর্ববর্তী দিবসের রেখে যাওয়া অবস্থায় দেখতে পাবে। তখন তারা খননকার্য শেষ করে লোকালয়ে বেরিয়ে আসবে। তারা পৃথিবীর সব পানি পান করে ফেলবে। লোকজন নিজ নিজ দুর্গে আশ্রয় নিবে। এরপর ইয়াজুজ-মাজুজ আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। রক্তের চিহ্নসহ তীর ফিরে আসবে। তারা বলবে, আমরা পৃথিবীর অধিবাসীদেরকে পদানত করেছি এবং আকাশের অধিবাসীদের ওপর বিজয় লাভ করেছি। তারপর আল্লাহ তাআলা তাদের ঘাড়ে কীট সৃষ্টি করে দিবেন। এ কীটের দ্বারা তিনি তাদেরকে ধ্বংস করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: 'যে মহান সত্তার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর শপথ! ওদের গোশত ও রক্ত খেয়ে পৃথিবীর জীবজন্তুগুলো মোটা তাজা হয়ে উঠবে এবং শোকর আদায় করবে।'
অন্য এক রেওয়ায়েতে রয়েছে, ওরা প্রতিদিন জিহবা দিয়ে ওই প্রাচীরটি চাটতে থাকে। চাটতে চাটতে প্রাচীরটি এমন পাতলা হয়ে যায়, অপর দিকে সূর্যের কিরণ দেখা যাওয়ার উপক্রম হয়। এটি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি না হয়ে কাব আহবাবের উক্তি হয়— যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন, তবে আমরা ওই অসঙ্গতির হাত থেকে মুক্তি পাই। আর এটি যদি প্রকৃতই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হয়ে থাকে, তবে বলা হবে, তাদের ওই কর্মতৎপরতা চলবে আখেরী যামানায় তাদের বেরিয়ে আসার নিকটবর্তী সময়ে। অথবা বলা যাবে, 'তারা ওটা ভেদ করতেও পারল না' অর্থ— এদিক থেকে ওদিক পর্যন্ত ছিদ্র করে সারতে পারেনি। সুতরাং এটি তাদের জিহবা দিয়ে চাটা। অথচ ছিদ্র না করা এর পরিপন্থী নয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।