📄 ওফাত লাভ
আবু দাউদ রহ. হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহ. এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সর্বপ্রথম যিনি মুসাফাহা প্রবর্তন করেন তিনি হলেন, যুলকারনাইন। কাব আহবাব হযরত মুআবিয়া রাযি. কে বলেছেন: যুলকারনাইনের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তিনি তাঁর মাকে অসিয়ত করেন, আমার মৃত্যু হয়ে গেলে আপনি ভোজের ব্যবস্থা করবেন এবং নগরীতে সমস্ত মহিলাদেরকে ডাকবেন। তারা আসলে তাদের সম্মুখে খানা রেখে সন্তানহারা মহিলাদের ব্যতীত অন্যদেরকে আহার করতে বলবেন। যে সব মহিলা সন্তান হারিয়েছে, তারা যেন উক্ত খাদ্য ভক্ষণ না করে। অসিয়ত অনুযায়ী মা সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করে উক্তরূপে আহার গ্রহণের আহবান জানালেন। কিন্তু একজন মহিলাও খাবার স্পর্শ করল না। যুলকারনাইনের মা আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার তোমরা সকলেই কি সন্তানহারা? তারা বলল, আল্লাহর কসম! আমরা প্রত্যেকেই সন্তান হারিয়েছি। এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তখন তিনি মনে সান্ত্বনা লাভ করলেন।
ইসহাক ইবনে বিশর আবদুল্লাহ ইবনে যিনাদের মাধ্যমে জনৈক আহলে কিতাব থেকে বর্ণনা করেন, যুলকারনাইনের অসিয়ত ও তাঁর মায়ের উপদেশ একটি সুদীর্ঘ মূল্যবান উপদেশ। তাতে বহু জ্ঞানপূর্ণ ও কল্যাণকর কথা আছে। যুলকারনাইন যখন ইনতেকাল করেন, তখন তার বয়স হয়েছিল তিন হাজার বছর। এ বর্ণনাটি 'গরীব' পর্যায়ের। ইবনে আসাকির রহ. অন্য এক সূত্রে বলেছেন, যুলকারনাইন ছত্রিশ বছর জীবিত ছিলেন। কারো মতে তিনি বত্রিশ বছর বেঁচে ছিলেন। হযরত দাউদ আ.-এর সাতশ চল্লিশ বছর পর এবং আদম আ.-এর পাঁচ হাজার একশ একাশি বছর পর তিনি দুনিয়ায় আগমন করেন এবং ষোল বছর রাজত্ব করেন। ইবনে আসাকিরের এ বক্তব্য দ্বিতীয় ইসকান্দারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, প্রথম ইসকান্দারের ক্ষেত্রে নয়। তিনি দুই ইসকান্দারের মধ্যে প্রথম জন ও দ্বিতীয় জনের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। প্রকৃতপক্ষে ইসকান্দার দুজন। হাফেজ আবুল কাসিম সুহায়লী এর জোর প্রতিবাদ এবং কঠোর সমালোচনা করেছেন। সাথে সাথে উভয় ইসকান্দারের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে পার্থক্য নির্ণয় করে দেখিয়েছেন। সুহায়লী বলেছেন, সম্ভবত প্রাচীন যুগের কতিপয় রাজা-বাদশা প্রথম ইসকান্দারের সাথে তুলনা করে দ্বিতীয় ইসকান্দরকেও যুলকারনাইন নামে আখ্যায়িত করেছেন।
📄 যুলকারনাইনের ঘটনা সংক্রান্ত মানচিত্র
সোগদ বাখতর (বলখ)। আরিয়া পার্থিয়া (খোরাসান) পারস্য। পারস্য উপসাগর। আরাকোসিয়া (কান্দাহার ও সীস্তান)। গদরুশিয়া (মাকরান ও কিরমান)। খোরস ও তার উত্তরাধিকারীদের সাম্রাজ্য খৃষ্টপূর্ব সপ্তম শতকের শেষভাগ। এ চিহ্নটি এ সাম্রাজ্যের সীমারেখা নির্দেশ করে। কাসপিয়ান সাগর। সীথিয়া আর্মেনিয়া মিডিয়া (আল জিবাল)। আশুর (আসিরিয়া) বেবিলন কান্দান। সীথিয়া লীডিয়া কাবাজক ফিলিস্তিন সিরিয়া লিবিয়া উত্তর মিশর হিত সাগর। জুলকারনাইন কিস্সা সংক্রান্ত মানচিত্র (সূরা আল-কাহফ ৬২নং টীকা)