📄 হযরত উযায়ের আ. আল্লাহ তাআলার পুত্র হওয়ার আকীদা
জালেম বাদশা বুখতে নছর বাইতুল মুকাদ্দাসকে বিধ্বস্ত ও বরবাদ করে দিয়েছিল। সে বনি ইসরাঈলদের নর-নারী এবং শিশুদেরকে ভেড়ার পালের মতো হাঁকিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তাওরাতের সমস্ত কপিগুলোকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিল। বনি ইসরাঈলদের নিকট একটি কপিও বাকি রইল না। তাদের মধ্যে তাওরাতের এমন কোনো হাফেযও কেউ ছিল না, তাওরাতের প্রথম হতে শেষ' পর্যন্ত যার মুখস্থ আছে। ফলে বন্দি থাকাকালের পূর্ণ সময়টিতে তারা তাওরাত হতে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘকাল পরে যখন তারা বাবেলের বন্দিদশা হতে মুক্তি লাভ করল এবং তারা পুনরায় বাইতুল মুকাদ্দাসে (জেরুযালেমে) এসে আবাদ হয়ে বসতি স্থাপন করল, তখন তাদের চিন্তা হল, আল্লাহ তাআলার কিতাব তাওরাতকে কিভাবে লাভ করা যায়। তখন হযরত উযায়ের আ. সমস্ত বনি ইসরাঈলকে সমবেত করে তাদের সম্মুখে তাওরাত প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত মুখস্থ পাঠ করে শুনালেন এবং লিখে দিলেন।
কোনো কোনো ইসরাঈলী রেওয়ায়েতে আছে, যখন তিনি বনি ইসরাঈলদের একত্র করলেন, তখন সকলের সম্মুখে আসমান হতে দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নেমে এসে হযরত উযায়ের আ.-এর বক্ষের ভিতর প্রবেশ করল। তখন হযরত উযায়ের আ.. বনি ইসরাঈলদেরকে তাওরাত পুনরায় প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত ক্রমানুসারে সাজিয়ে দিলেন। হযরত উযায়ের আ. যখন এ বিরাট গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে অবসর লাভ করলেন, তখন বনি ইসরাঈলরা অশেষ আনন্দ প্রকাশ করল। তাদের অন্তরে হযরত উযায়ের আ.-এর মূল্য ও মর্যাদা শতগুণ বৃদ্ধি পেল।
ক্রমশ এ মহব্বতের আতিশয্য গুমরাহীর রূপ ধারণ করল। তারা হযরত উযায়ের আ.-কে তেমনি আল্লাহ তাআলার পুত্র মেনে নিল, যেমনি নাসারারা হযরত ঈসা আ.-কে আল্লাহর পুত্র বলে মানে। আর বনি ইসরাঈলদের একটি দল নিজেদের এ আকীদার পক্ষে প্রমাণ স্বরূপ বলল, মূসা আ. যখন আমাদেরকে তাওরাত এনে দিয়েছিলেন, তখন তা তক্তাসমূহে (কাষ্ঠফলকে) লিখিত ছিল। আর উযায়ের আ. তো কোনো তক্তা বা কাগজে লিখিত অবস্থায় নয় বরং অক্ষরে অক্ষরে নিজের স্মৃতিপট হতে তা আমাদের সম্মুখে নকল করে দিলেন। অতএব, উযায়ের আ. আল্লাহর পুত্র বলেই এরূপ ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন। سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَأَنَّ عَظِيمٌ (বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/৪৬)
📄 একটি সন্দেহের উত্তর
কুরআন মাজিদের ঘোষণা "ইহুদিরা উযায়ের আ.-কে আল্লাহ তাআলার পুত্র বলে থাকে" শোনার পর এ কালের কোনো কোনো ইহুদি বলে, আমরা তো উযায়ের আ.-কে আল্লাহ তাআলার পুত্র বলে মানি না। কাজেই কুরআনের এই দাবি ভুল। কিন্তু বর্তমান যমানার ইহুদিদের এ প্রশ্নটিও তাদের পূর্বকালের লোকদের মতো প্রতারণা এবং সত্য গোপনের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। অন্যথায় তারা এবং তারা ছাড়া প্রত্যেক এ সমস্ত লোকও যারা মুসলিম রাজ্যসমূহে ভ্রমণ করেছে এবং দুনিয়ার কওমসমূহের ধর্ম সুম্বন্ধে অনুসন্ধান করার আগ্রহও তাদের আছে- ভালোভাবেই জানে, আজও ফিলিস্তিনের আশেপাশে ইহুদিদের সেই দলটি বিদ্যমান রয়েছে যারা উযায়ের আ.-কে আল্লাহ তাআলার পুত্র বলে মানে এবং রোমান ক্যাথলিকদের মতো হযরত উযায়ের আ.-এর প্রতিমূর্তি নির্মাণ করে তার সঙ্গে যেরূপ আচরণই করে থাকে, সেরূপ আচরণ আল্লাহ তাআলার সঙ্গে হওয়া উচিত।
📄 ওফাত ও সমাধি
ইবনে কাসীর রহ. ওয়াযাহর ইবনে মুনজের সূত্রে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম হতে উদ্ধৃত উযায়ের আ. সম্বন্ধে যে সুদীর্ঘ রেওয়ায়েতটি নকল করেছেন, তাতে বর্ণিত আছে : হযরত উযায়ের আ. ইহুদী কওমের মধ্যে তওরাতের শিক্ষা পুনরায় দাখিল করেছিলেন। ফলে বনি ইসরাঈলদের জন্য তাওরাতের নতুন সংস্করণ লিখে দিয়েছিলেন এবং এরপর সাইরাবায নামক একটি বসতিতে তাঁর ইন্তেকাল হয়। কোনো কোনো সাহাবায়ে কেরাম ও ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর সমাধি দামেশকে অবস্থিত।