📄 ইনতেকাল
হযরত আদমের নির্ধারিত আয়ু ছিল ১ হাজার বছর। তা থেকে নিয়ে দাউদ আ.-এর আয়ু আরো ৪০ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হল। হযরত দাউদ আ. একশ বছর বয়সে হঠাৎ এক বুধবারে ইনতেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর দিন ছিল শনিবার। এক দিন তিনি মিহরাব থেকে নিচে অবতরণ করছিলেন। এমন সময় মৃত্যুর ফেরেশতা তাঁর সম্মুখে এসে উপস্থিত হন। তিনি সেখানেই একটি সিঁড়ির উপরে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন এবং সিজদারত অবস্থায়ই তাঁর রূহ কবয করা হয়।
হযরত দাউদ আ.-এর কবর 'মুরাব্বা' নামক গোরস্তানে। যা হযরত সুলাইমান ইবনে দাউদ আ. হিবরূন শহরে তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে এর নাম 'বালাদুল খলীল' (খলীলের শহর)। ইবনে আসাকির ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ.-এর সূত্রে বলেছেন: হযরত ইবরাহীম আ.-এর কবরের কাছে একটি প্রাচীন শিলা পাওয়া গেছে। যার ওপর এ কবিতাটি লেখা ছিল: ‘হে আল্লাহ! যে ব্যক্তির নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে, তার সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা, জলাঞ্জলি দিয়ে মৃত্যুর কাছে সে আত্মসমর্পণ করে। মৃত্যু যার দুয়ারের এসে যায়, তাকে কোনো কলাকৌশল আর বাঁচিয়ে রাখতে পারে না...’।
📄 বনি ইসরাঈলের দুই রাষ্ট্র : ইয়াহুদীয়া ও ইসরাঈল
হযরত মুসা আ.-এর পর বনী-ইস্রাইলীয় ফিলিস্তিনের সমগ্র অঞ্চল জয় করে লয় বটে! কিন্তু তারা ঐক্য ও স্থায়িত্বের সঙ্গে নিজেদের কোনো একটি সুসংবদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় নাই। তারা এই গোটা অঞ্চলটিকে বিভিন্ন বনী ইসরাইল গোষ্ঠীর লোকদের মধ্যে বিভক্ত ও বণ্টন করে লয়। ফলে তারা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা কঠিন বোধ করে। ফিলিস্তিনের সর্ববৃহৎ অঞ্চলটি বনী ইসরাইলের বনু ইয়াহুদা, বনু শামউন, বনু দান, বনু বিনইয়ামিন, বনু এফরাইম, বনু রুবন, বনু জাদ, বনু মানাসা, বনু আশার, বনু যাবূলুন, বনু নাফতালী ও বনু আশীর— এ গোত্রসমূহের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এর ফলে বনি ইসরাঈলের মাঝে ইয়াহুদীয়া ও ইসরাঈল নামক দুই রাষ্ট্রের আবহ তৈরি হয়। তালুত-এর শাসন আমল পর্যন্ত সাইদুন, সুর, দয়্যার ও মুজাম্মু, বাইতশীন, জারা, জেরুজালেম প্রভৃতি শহরগুলি তখনও গিয়াফির জাতির অধিকারের অধীনে ছিল।