📄 ফছলে খিতাব
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। একবার এক গাভী সংক্রান্ত বিচার নিয়ে দু ব্যক্তি দাউদ আ.-এর শরণাপন্ন হয়ে এদের একজন অপর জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল, সে তার গাভী জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু বিবাদী অভিযোগ অস্বীকার করল। হযরত দাউদ আ. তাদের ফয়সালা রাত পর্যন্ত স্থগিত রাখলেন। আল্লাহ ওই রাতে ওহির মাধ্যমে নবীকে নির্দেশ দিলেন, বাদীকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। যখন এ তার নিকট সুস্পষ্ট হল তখন তিনি বলে উঠলেন, আমি জানি যে, আল্লাহ নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ লিখেছেন, বনি ইসরাঈল জাতির মধ্যে পাপাচার ও মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলে হযরত দাউদ আ.-কে একটি ফয়সালাকারী শিকল দেওয়া হয়। এ শিকলটি আসমান থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসের পার্শ্বে রক্ষিত 'সাখরা' পাথর খণ্ড পর্যন্ত ঝুলন্ত ছিল। শিকলটি ছিল স্বর্ণের। ফয়সালা হত এভাবে, বিবদমান দু ব্যক্তির মধ্যে যে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত সেই ওই শিকলটি নাগাল পেত আর অপরজন তা পেত না।
📄 হযরত দাউদ আ.-এর স্ত্রী
মুহাম্মাদ ইবনে সাদ আফরার মাওলা ওমর রাযি. থেকে বর্ণনা করেন। ইহুদিরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক সহধর্মিণী দেখে বলাবলি শুরু করল, “তোমরা এ লোকটিকে দেখো! সে আহারে পরিতৃপ্ত হয় না এবং আল্লাহর কসম! সে নারী ছাড়া কিছু বুঝে না।” এ কুৎসা রটনায় সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে হুয়াই ইবনে আখতাব। কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর দান ও অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। ইবরাহীমের বংশধর বলতে এখানে হযরত সুলাইমান আ.-কে বুঝানো হয়েছে। তাঁর ছিলেন এক হাজার স্ত্রী। আর হযরত দাউদ আ.- এর ছিল একশ জন স্ত্রী। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন হযরত সুলাইমান আ.-এর মা। যিনি ইতোপূর্বে উরিয়ার স্ত্রী ছিলেন। পরে তাঁকে বিবাহ করেছিলেন।
📄 ইনতেকাল
হযরত আদমের নির্ধারিত আয়ু ছিল ১ হাজার বছর। তা থেকে নিয়ে দাউদ আ.-এর আয়ু আরো ৪০ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হল। হযরত দাউদ আ. একশ বছর বয়সে হঠাৎ এক বুধবারে ইনতেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর দিন ছিল শনিবার। এক দিন তিনি মিহরাব থেকে নিচে অবতরণ করছিলেন। এমন সময় মৃত্যুর ফেরেশতা তাঁর সম্মুখে এসে উপস্থিত হন। তিনি সেখানেই একটি সিঁড়ির উপরে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন এবং সিজদারত অবস্থায়ই তাঁর রূহ কবয করা হয়।
হযরত দাউদ আ.-এর কবর 'মুরাব্বা' নামক গোরস্তানে। যা হযরত সুলাইমান ইবনে দাউদ আ. হিবরূন শহরে তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে এর নাম 'বালাদুল খলীল' (খলীলের শহর)। ইবনে আসাকির ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ.-এর সূত্রে বলেছেন: হযরত ইবরাহীম আ.-এর কবরের কাছে একটি প্রাচীন শিলা পাওয়া গেছে। যার ওপর এ কবিতাটি লেখা ছিল: ‘হে আল্লাহ! যে ব্যক্তির নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে, তার সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা, জলাঞ্জলি দিয়ে মৃত্যুর কাছে সে আত্মসমর্পণ করে। মৃত্যু যার দুয়ারের এসে যায়, তাকে কোনো কলাকৌশল আর বাঁচিয়ে রাখতে পারে না...’।
📄 বনি ইসরাঈলের দুই রাষ্ট্র : ইয়াহুদীয়া ও ইসরাঈল
হযরত মুসা আ.-এর পর বনী-ইস্রাইলীয় ফিলিস্তিনের সমগ্র অঞ্চল জয় করে লয় বটে! কিন্তু তারা ঐক্য ও স্থায়িত্বের সঙ্গে নিজেদের কোনো একটি সুসংবদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় নাই। তারা এই গোটা অঞ্চলটিকে বিভিন্ন বনী ইসরাইল গোষ্ঠীর লোকদের মধ্যে বিভক্ত ও বণ্টন করে লয়। ফলে তারা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা কঠিন বোধ করে। ফিলিস্তিনের সর্ববৃহৎ অঞ্চলটি বনী ইসরাইলের বনু ইয়াহুদা, বনু শামউন, বনু দান, বনু বিনইয়ামিন, বনু এফরাইম, বনু রুবন, বনু জাদ, বনু মানাসা, বনু আশার, বনু যাবূলুন, বনু নাফতালী ও বনু আশীর— এ গোত্রসমূহের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এর ফলে বনি ইসরাঈলের মাঝে ইয়াহুদীয়া ও ইসরাঈল নামক দুই রাষ্ট্রের আবহ তৈরি হয়। তালুত-এর শাসন আমল পর্যন্ত সাইদুন, সুর, দয়্যার ও মুজাম্মু, বাইতশীন, জারা, জেরুজালেম প্রভৃতি শহরগুলি তখনও গিয়াফির জাতির অধিকারের অধীনে ছিল।