📄 বংশ তালিকা
দাউদ ইবনে ঈশা ইবনে আবীদ ইবনে ইবনে সালমুন ইবনে নাহশূন ইবনে আবি নাযিব ইবনে ইরাম ইবনে হাসীরূন ইবনে ফারিয ইবনে ইয়াহুদা ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম খলীলুল্লাহ আ.।
হযরত দাউদ আ. ছিলেন আল্লাহর বান্দা ও নবী এবং বায়তুল মুকাদ্দাস এলাকায় তাঁর খলিফা। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক কতিপয় আলেমের সূত্রে ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন: হযরত দাউদ আ. ছিলেন বেঁটে, তাঁর চক্ষুদ্বয় ছিল নীলাভ। তিনি ছিলেন স্বল্প কেশ বিশিষ্ট এবং পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী।
📄 নবুয়ত ও রেসালত লাভ
হযরত দাউদ আ.-এর সঙ্গে বনি ইসরাঈলদের ক্রমবর্ধমান প্রীতি ও বন্ধুত্বের ফলে তালুতের জীবদ্দশায়ই মতান্তরে তাঁর মৃত্যুর পরে শাসন-ক্ষমতা হযরত দাউদ আ.-এর হাতে চলে আসে। আর ইতঃমধ্যে তাঁর প্রতি আল্লাহ তাআলার আরেকটি মহা পুরস্কার অবতীর্ণ হয়। তাঁকে নবুয়ত এবং রেসালতের সম্মানেও ভূষিত করা হয়। হযরত দাউদ আ.-এর পূর্বে বনি ইসরাঈলদের মধ্যে প্রচলিত নিয়ম ছিল, শাসনকার্য সংশ্লিষ্ট ছিল এক খানদানের সঙ্গে আর নবুয়ত ও রেসালতের গুরুভার ছিল অন্য খানদানের ওপর। ইয়াহুদার খানদানে নবুয়ত চলে আসছিল আর ইউসুফ আ.-এর খান্দানে ছিল শাসনক্ষমতা ও রাজত্ব। হযরত দাউদ আ.-ই প্রথম ব্যক্তি; যাঁর হাতে আল্লাহ তাআলা উক্ত দুই নেয়ামতই একত্র করে দিয়েছিলেন। কাজেই তিনি আল্লাহ তাআলার পয়গম্বরও ছিলেন এবং রাজসিংহাসনের অধিকারীও ছিলেন।
📄 শাসক পৃথিবীতে আল্লাহর ছায়া স্বরূপ
যদি শাসনকর্তা রূপে বাদশা নিযুক্তির ব্যবস্থা না থাকত, তা হলে সমাজের শক্তিশালী লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিত। এ জন্যে কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে— ‘আস-সুলতানু যিল্লুল্লাহি ফিল আরদ’ (আল্লাহর যমীনে শাসনকর্তা তাঁর ছায়া স্বরূপ)। আমিরুল মুমিনিন হযরত উসমান ইবনে আফ্ফান রাযি. বলেছেন: আল্লাহ শাসনকর্তা দ্বারা এমন অনেক কিছু দমন করেন, যা কুরআন দ্বারা করেন না।
📄 পাহাড়, পাখি ও লোহা ইত্যাদি অনুগত করে দেওয়া
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: ‘আমি নিশ্চয় দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এবং আদেশ করেছিলাম, হে পর্বতমালা! তোমরা দাউদের সঙ্গে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং বিহঙ্গকুলকেও, তার জন্যে নমনীয় করেছিলাম লোহা, যাতে তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরি করতে এবং বুননে পরিমাণ রক্ষা করতে পার এবং সৎকর্ম কর। তোমরা যা কিছু কর, আমি তার সম্যক দ্রষ্টা।’ (সূরা সাবা: ১০-১১)। হাসান বসরী, কাতাদা ও আমাশ রহ. বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হযরত দাউদ আ.-এর জন্যে লোহাকে এমনভাবে নরম করে দিয়েছেন, তিনি হাত দ্বারা যেমন ইচ্ছে, পেঁচাতে ও ভাঁজ করতে পারতেন। এ জন্যে তাঁর আগুন বা হাতুড়ির প্রয়োজন হত না।
হযরত দাউদ আ.-কে আল্লাহ এমন সুউচ্চ ও সুললিত সুমধুর কণ্ঠ দান করেছিলেন, যা পৃথিবীর অন্য কাউকে দান করেন নি। তিনি যখন তাঁর প্রতি অবতীর্ণ যাবুর কিতাব সুর দিয়ে পাঠ করতেন, তখন আকাশে উড়ন্ত পাখিকুল সুরের মূর্ছনায় থমকে দাঁড়াত। হযরত দাউদ আ.-এর সুরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আবৃত্তি করত ও তার সাথে তাসবি পাঠ করত। এভাবেই তিনি সকাল-সন্ধ্যায় যখন তাসবি পাঠ করতেন। পাহাড়-পর্বতও তখন তার সঙ্গে তাসবি পাঠে শরিক হত।
ইমাম আওযায়ি বলেছেন, হযরত দাউদ আ.-কে এমন সুমধুর কণ্ঠস্বর দান করা হয়েছিল, যেমনটি আর কাউকে দান করা হয় নি। তিনি যখন আল্লাহর কিতাব পাঠ করতেন তখন আকাশের পাখি ও বনের পশু তাঁর চারপাশে জড়ো হয়ে যেত। এমনকি তীব্র ক্ষুৎপিপাসায় তারা সে স্থানে মারা গেলেও নড়াচড়া করত না। শুধু তা-ই নয়, নদীর পানির প্রবাহ পর্যন্ত থেমে যেত।