📄 হযরত দাউদ আ.-এর বীরত্ব
বনি ইসরাঈলীদের এই সেনাবাহিনীতে জনৈক যুবকও ছিল। যিনি বাহ্যিক দৃষ্টিতে কোনো বৈশিষ্ট্যধারী ছিলেন না। সাহাসিকতা ও বীরত্বেও কোনো বিশেষ খ্যাতিসম্পন্ন ছিলেন না। এ যুবকের নাম হযরত দাউদ। কথিত আছে, তিনি তাঁর পিতার সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন এবং যুদ্ধে যোগদানের ইচ্ছায়ও আসেন নি। বরং বৃদ্ধ পিতার তরফ হতে নিজের ভাইদের এবং অন্যান্য ইসরাঈলীদের অবস্থাবলী অনুসন্ধানের জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু যখন তিনি জালূতের বীরত্বসূচক প্রতিদ্বন্দ্বী আহবান এবং ইসরাঈলীদের উক্ত আহবানে সাড়া প্রদানে ইতস্ততভাব দর্শন করলেন, তখন তিনি আর নীরব থাকতে পারলেন না। তালুতের নিকট অনুমতি চাইলেন, জালূতের প্রতিদ্বন্দ্বী আহবানে জবাব প্রদানের সুযোগ তাঁকে প্রদান করা হোক। তালূত বললেন, তুমি এখনও অনভিজ্ঞ বালক, সুতরাং তুমি জালূতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। কিন্তু দাউদ আ.-এর আবদার বৃদ্ধিই পেতে থাকল। অবশেষে তালূতকে অনুমতি দিতেই হল।
দাউদ আ. সামনে অগ্রসর হলেন এবং জালূতকে হুঙ্কারের সাথে আহবান করলেন। জালূত একজন তরুণ যুবককে প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে সম্মুখে দেখে তাকে তুচ্ছ মনে করে তাঁর দিকে তেমন মনোযোগ দিল না। কিন্তু যখন উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ আরম্ভ হয়ে গেল, তখন দাউদের প্রবল সাহসিকতা ও বীরত্বের অনুমান করতে পারল। দাউদ আ. যুদ্ধ করতে করতে নিজের গুলেল বের করে নিলেন এবং লক্ষ্যস্থির করে জালূতের মস্তকে উপযুপরি তিনটি প্রস্তরখণ্ড নিক্ষেপ করলেন এবং জালূতের মস্তককে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেললেন। এরপর অগ্রসর হয়ে তার গর্দান কেটে নিয়ে আসলেন। জালুত নিহত হওয়ার সাথে সাথেই যুদ্ধের পট পরিবর্তিত হয়ে গেল এবং বনি ইসরাঈলদের পরাজয়মুখী যুদ্ধ আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করল এবং শয়তানী শক্তির পরাজয় ঘটল। বনি ইসরাঈল কৃতকার্য ও সফলকাম হয়ে প্রত্যাবর্তন করল। এই ঘটনাটি শত্রু ও মিত্র উভয় পক্ষের অন্তরে হযরত দাউদ আ.-এর বীরত্বের মোহরাঙ্কিত করে দিল এবং তিনি সকলের নিকট অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠলেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব সকলের দৃষ্টিতে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও দৃষ্ট হতে লাগল।