📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 তালুত ও জালূতের যুদ্ধ এবং বনি ইসরাইলের পরীক্ষা

📄 তালুত ও জালূতের যুদ্ধ এবং বনি ইসরাইলের পরীক্ষা


এ সমস্ত বাদ-প্রতিবাদের পর বনি ইসরাঈলদের আর অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করার জো রইল না। হযরত শামুয়েল আ.-এর এলহামী মীমাংসার ওপরই তালুতকে বনি ইসরাঈলদের বাদশা করে দেওয়া হল। এখন তালুত বনি ইসরাঈলদের প্রতি সাধারণ ঘোষণা প্রদান করলেন, তারা যেন সকলেই ফিলিস্তিনি শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বের হয়ে পড়ে। বনি ইসরাঈলরা যখন তালুতের নেতৃত্বে যুদ্ধের ময়দানের দিকে যাত্রা করল, তখন বনি ইসরাঈলের পরীক্ষার জন্য আরও একটি ক্ষেত্র সম্মুখে আসল। তা এই, তালুত চিন্তা করলেন, যুদ্ধের ব্যাপারটি নিতান্তই সঙ্গিন ব্যাপার এবং এতে কোনো কোনো সময় একজন লোকের কাপুরুষতা এবং কপটতাপূর্ণ আচরণ পূর্ণ সেনাবাহিনীকেই ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং যুদ্ধে প্রবৃত্ত হওয়ার পূর্বে বনি ইসরাঈলদেরকে পরীক্ষা করে নেওয়া একান্ত আবশ্যক, কার মধ্যে আদেশ পালন, সংযম, সততা ও এখলাছ আছে; আর কার মধ্যে নেই এবং তাদের কে দুর্বল ও কাপুরুষ, যাতে যুদ্ধের কর্তব্য সমাধা করার পূর্বেই ওই সমস্ত লোককে দল হতে পৃথক করে দেওয়া যায়।

অনন্তর যখন এই দল একটি নদীর তীরে পৌঁছিল, তখন তালুত ঘোষণা করলেন, আল্লাহ পাক এই নদীটি দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। তা হলো- কেউই এই নদী থেকে তৃপ্তির সঙ্গে পানি পান করবে না। যে ব্যক্তি এর অন্যথায় করবে, তাকে আল্লাহ তাআলার দল হতে বের করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি আদেশ পালন করবে সে আল্লাহর দলেরই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অবশ্য কঠিন পিপাসায় এক অঞ্জলি পানি পান দ্বারা গলা ভিজিয়ে নেওয়ার জন্য অনুমতি রয়েছে। ফলে মুজাহিদীনের দল সম্মুখের দিকে অগ্রসর হল এবং সৈন্যদের সম্মুখে সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হল। শত্রুপক্ষীয় মুজাহিদরা আল্লাহ পাকের দরবারে অকপট মনে বিনয় ও কান্নাকাটির সঙ্গে দোয়া করল- “আল্লাহ! শত্রুদেরকে পরাজিত করে দিন এবং আমাদেরকে (জিহাদে) দৃঢ়পদ রাখুন এবং স্বীয় সাহায্যে ও বিজয়ে আমাদেরকে সফলকাম করুন।"

📘 কাসাসুল আম্বিয়া 📄 হযরত দাউদ আ.-এর বীরত্ব

📄 হযরত দাউদ আ.-এর বীরত্ব


বনি ইসরাঈলীদের এই সেনাবাহিনীতে জনৈক যুবকও ছিল। যিনি বাহ্যিক দৃষ্টিতে কোনো বৈশিষ্ট্যধারী ছিলেন না। সাহাসিকতা ও বীরত্বেও কোনো বিশেষ খ্যাতিসম্পন্ন ছিলেন না। এ যুবকের নাম হযরত দাউদ। কথিত আছে, তিনি তাঁর পিতার সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন এবং যুদ্ধে যোগদানের ইচ্ছায়ও আসেন নি। বরং বৃদ্ধ পিতার তরফ হতে নিজের ভাইদের এবং অন্যান্য ইসরাঈলীদের অবস্থাবলী অনুসন্ধানের জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু যখন তিনি জালূতের বীরত্বসূচক প্রতিদ্বন্দ্বী আহবান এবং ইসরাঈলীদের উক্ত আহবানে সাড়া প্রদানে ইতস্ততভাব দর্শন করলেন, তখন তিনি আর নীরব থাকতে পারলেন না। তালুতের নিকট অনুমতি চাইলেন, জালূতের প্রতিদ্বন্দ্বী আহবানে জবাব প্রদানের সুযোগ তাঁকে প্রদান করা হোক। তালূত বললেন, তুমি এখনও অনভিজ্ঞ বালক, সুতরাং তুমি জালূতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। কিন্তু দাউদ আ.-এর আবদার বৃদ্ধিই পেতে থাকল। অবশেষে তালূতকে অনুমতি দিতেই হল।

দাউদ আ. সামনে অগ্রসর হলেন এবং জালূতকে হুঙ্কারের সাথে আহবান করলেন। জালূত একজন তরুণ যুবককে প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে সম্মুখে দেখে তাকে তুচ্ছ মনে করে তাঁর দিকে তেমন মনোযোগ দিল না। কিন্তু যখন উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ আরম্ভ হয়ে গেল, তখন দাউদের প্রবল সাহসিকতা ও বীরত্বের অনুমান করতে পারল। দাউদ আ. যুদ্ধ করতে করতে নিজের গুলেল বের করে নিলেন এবং লক্ষ্যস্থির করে জালূতের মস্তকে উপযুপরি তিনটি প্রস্তরখণ্ড নিক্ষেপ করলেন এবং জালূতের মস্তককে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেললেন। এরপর অগ্রসর হয়ে তার গর্দান কেটে নিয়ে আসলেন। জালুত নিহত হওয়ার সাথে সাথেই যুদ্ধের পট পরিবর্তিত হয়ে গেল এবং বনি ইসরাঈলদের পরাজয়মুখী যুদ্ধ আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করল এবং শয়তানী শক্তির পরাজয় ঘটল। বনি ইসরাঈল কৃতকার্য ও সফলকাম হয়ে প্রত্যাবর্তন করল। এই ঘটনাটি শত্রু ও মিত্র উভয় পক্ষের অন্তরে হযরত দাউদ আ.-এর বীরত্বের মোহরাঙ্কিত করে দিল এবং তিনি সকলের নিকট অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠলেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব সকলের দৃষ্টিতে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও দৃষ্ট হতে লাগল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px