📄 নবুয়ত লাভ
হযরত আলইয়াসা আ. ছিলেন হযরত ইলিয়াস আ.-এর স্থলবর্তী ও প্রতিনিধি। তিনি প্রথম জীবনে তাঁরই সাহচর্যে থাকতেন। তাঁর ইনতেকালের পর আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলদের হেদায়েতের জন্য হযরত আলইয়াসা আ.-কে নবুয়য়তের সম্মানে সম্মানিত করেন। তিনি হযরত ইলিয়াস আ.-এর তরীকা অনুযায়ী বনি ইসরাঈলকে হেদায়েত করেন। হযরত আলইয়াসা আ.-এর বয়স কত হয়েছিল এবং তিনি কতকাল বনি ইসরাঈলদের মধ্যে তাবলীগে দীনের হক আদায় করেছিলেন, তা জানা যায় নি।
ইসহাক ইবনে বিশর আবু হুযাইফা ... হাসান রাযি. সূত্রে বর্ণনা করেন, ইলিয়াস আ.-এর পরে আল-ইয়াসা ছিলেন বনি ইসরাঈলের নবী। তিনি আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী নির্ধাতির সময় পর্যন্ত তাদের মধ্যে অবস্থান করেন। বনি ইসরাঈলকে তিনি আল্লাহর আনুগত্য করার ও ইলিয়াস আ.-এর শরিয়তের অনুবর্তী হওয়ার আহবান জানান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করে যান। তাঁর ইনতেকালের পর বনি ইসরাঈলের বহু প্রজন্ম এ পৃথিবীতে আগমন করে। তাদের মধ্যে ব্যাপকহারে বিভিন্ন প্রকার বেদয়াত ও পাপাচার সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ে। এ সময়ে বহু অত্যাচারী বাদশার আবির্ভাব ঘটে। তারা আল্লাহর নবীগণকে নির্বিচারের হত্যা করে। এদের মধ্যে একজন ছিল অত্যন্ত অহংকারী ও সীমালঙ্ঘনকারী। কথিত আছে, হযরত যুল-কিফল আ. এ অহংকারী বাদশা সম্পর্কে বলেছিলেন, সে যদি তওবা করে ও অন্যায় কাজ ত্যাগ করে, তবে আমি তার জান্নাতের যিম্মাদার। এ কারণে তিনি যুল- কিফল বা যিম্মাদার অভিধায় অভিহিত হন।
কথিত আছে, হযরত আল-ইয়াসা হযরত ইলিয়াসের সঙ্গে কাসিয়ূন নামক পর্বতে বা'লা-বাক্কা বাদশার ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। পরে উভয়ে সেখান থেকে আপন সম্প্রদায়ের নিকট প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর ইলিয়াস আ. ইনতেকাল করলে আল- ইয়াসা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং আল্লাহ তাঁকে নবুয়ত দান করেন। অন্যান্য ঐতিহাসিকগণ বলেছেন, তিনি বানিয়াসে বসবাস করতেন। ইবনে আসাকির 'আল- ইয়াসা' শব্দের বানান সম্পর্কে লিখেছেন, এ শব্দটি তিন প্রকারে উচ্চারিত হয়ে থাকে যথা: আলইয়াসা (اليسع) আল-য়াস' (اليسع) এবং আল-লায়াসা'আ (الليسع)। এ হচ্ছে এক নবীর নামের বিভিন্নরূপ। আবার কথিত আছে, তিনি ছিলেন হযরত আইয়ুব আ.-এর পুত্র।
📄 পবিত্র কোরআনে হযরত আল-ইয়াসা আ.
কুরআন মাজিদ তাঁর অবস্থাবলী সম্বন্ধে অধিক আলোকপাত করে নি। সূরা 'আনআম' ও সূরা' ছোয়াদ'-এর মধ্যে কেবল তাঁর নামই উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সূরা আনআমে বলা হয়েছে: وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُسَ وَلُوطًا وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ "আরও সৎ পথে পরিচালিত করেছিলাম ইসমাঈল, আল-ইয়াসা, ইউনুস ও লুতকে; এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম বিশ্ব জগতের উপর প্রত্যেককে। (আনআম: ৮৬)
তদ্রুপ সূরা ছোয়াদে বলা হয়েছে: وَاذْكُرْ إِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَذَا الْكِفْلِ وَكُلٌّ مِنَ الْأৈখ্য়ারি স্মরণ কর! ইসমাঈল, আল-ইয়াসা ও যুল-কিফলের কথা, এরা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন। (৩৮ ছোয়াদ: ৪৮)
📄 উপদেশ
বনি ইসরাঈল বংশের যে সমস্ত পয়গম্বর ও আম্বিয়ায়ে কেরামের ঘটনাবলী হতে যাঁরা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের সংসর্গ, খাঁটি অনুসরণ ও আনুগত্যের ফলে খেলাফত লাভ করার পর নবুয়তের পদ লাভ করেছেন, তাতে প্রমাণিত হয়, নেককারদের সংসর্গ মঙ্গল লাভের জন্য মহৌষধস্বরূপ। মাওলানা রূমী সত্যই বলেছেন:
এক যমানা সোহবতে বা আউলিয়া + বেহতর আয ছদ সলা তোয়াতে বে-রিয়া
বুযুর্গদের সঙ্গে তোমার মুহূর্তকালের সংসর্গ একশ বছরের অকপট এবাদতের চেয়ে উত্তম!
হাজার হাজার বছর পর্যন্ত অবিরত রিয়াযত ও এবাদত করতে থাকলেও যদি কোনো কামেল ব্যক্তির সোহবত হতে বঞ্চিত থাকে, তবে নিঃসন্দেহ তা বিরাট অপূর্ণতা, যার পূর্ণতা শুধু কামেল ব্যক্তির সংস্পর্শ দ্বারাই হতে পারে।