📄 নবুয়তপ্রাপ্তি
কথিত আছে, হযরত ইলিয়াস দামেশকের পশ্চিমস্থ বালাবাক-এর অধিবাসীদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। তিনি তাদেরকে আল্লাহ তাআলার প্রতি আহবান করলেন এবং তাদের দেবমূর্তি বা'ল-এর ইবাদত করতে তাদেরকে বারণ করলেন। এ জন্যেই ইলিয়াস আ. তাদেরকে বলেছিলেন: "তোমরা কি সাবধান হবে না? তোমরা কি বা'লকে ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা আল্লাহ তাআলাকে, যিনি তোমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতিপালক?"
তারপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। তাঁর বিরোধিতা করেছিল এবং তাঁকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল। কথিত আছে, তিনি তাদের থেকে পলায়ন করে আত্মগোপন করেছিলেন। কাব আহবার রহ. বলেন, ইলিয়াস আ. নিজ সম্প্রদায়ের বাদশার ভয়ে দম পাহাড়ের নিচে গুহার মধ্যে দীর্ঘ দশ বছর আত্মগোপন করেছিলেন। ওই বাদশার মৃত্যু হলে পরবর্তী বাদশার নিকট ফিরে এসে তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন। বাদশা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দশ হাজার লোক ছাড়া তাঁর সম্প্রদায়ের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন। বাদশার নির্দেশে ওই দশহাজার লোককে হত্যা করা হয়।
মাকহুল রহ. কাব আহবার রহ. থেকে বর্ণনা করেন, চারজন নবী জীবিত রয়েছেন। দুজন যমীনে যথা ইলিয়াস ও খিযির আ. আর দুজন আকাশে যথা ইদরীস আ. ও ঈসা আ.। কোনো কোনো লোক বলে থাকেন: ইলিয়াস আ. ও খিযির আ. প্রতি বছর রমযান মাসে বায়তুল মুকাদ্দাসে একত্র হন। প্রতি বছর একত্রে হজ করেন এবং তাঁরা দু'জনই যমযম কুয়ার পানি এমন পরিমাণে পান করেন যে পরবর্তী বছর পর্যন্ত তাঁদের জন্যে যথেষ্ট হয়ে যায়। আবার কথিত আছে, তাঁরা দুজন প্রতি বছর আরাফাতের ময়দানে একত্র হন। বস্তুত এগুলোর কোনোটিই শুদ্ধ নয়। বরং দলীল-প্রমাণে বোঝা যায়, খিযির আ. ও ইলিয়াস আ. ইনতিকাল করেছেন।
ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ.-সহ অন্যরা বর্ণনা করেন: যখন ইলিয়াস আ.-কে তাঁর সম্প্রদায় মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করল ও তাঁকে কষ্ট দিতে লাগল, তখন তাঁর রূহ কবয করার জন্য তিনি তাঁর প্রতিপালকের কাছে দোয়া করলেন। এরপর তাঁর কাছে একটি চতুষ্পদ জন্তু আসল, যার রঙ ছিল আগুনের মতো। তিনি তার উপর সওয়ার হলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে মূল্যবান নূরের পোশাক পরিধান করালেন, তাঁর পানাহারের স্বাদ তিরোহিত করলেন এবং তিনি একাধারে মানবীয়, ফেরেশতাসুলভ আসমানী ও যমীনী সত্তায় পরিণত হলেন। তিনি ইয়াসা ইবনে আখতুব আ.-কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে যান। এ বর্ণনাটাও ইসরাঈলী ও সন্দেহযুক্ত।
ইমাম বুখারী রহ. আবু হোরায়রা রাযি. এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। খিযির আ.-কে খিযির বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে এ জন্য, একদিন তিনি একটি সাদা চামড়ার উপর বসেছিলেন। হঠাৎ দেখা গেল তাঁর পেছন থেকে সাদা চামড়াটি সবুজ আকার ধারণ করে কেঁপে উঠল। মুজাহিদ রহ. বলেন, তাঁকে খিযির আ. বলা হত এ জন্যে, তিনি যখন কোথাও নামায আদায় করতেন তাঁর আশেপাশের স্থানটিতে ঘাস জন্মাত ও স্থানটি সবুজ হয়ে যেত।
কথিত আছে, হযরত ইলিয়াস দামেশকের পশ্চিমস্থ বালাবাক-এর অধিবাসীদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। তিনি তাদেরকে আল্লাহ তাআলার প্রতি আহবান করলেন এবং তাদের দেবমূর্তি বা'ল-এর ইবাদত করতে তাদেরকে বারণ করলেন। এ জন্যেই ইলিয়াস আ. তাদেরকে বলেছিলেন: "তোমরা কি সাবধান হবে না? তোমরা কি বা'লকে ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা আল্লাহ তাআলাকে, যিনি তোমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতিপালক?"
তারপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। তাঁর বিরোধিতা করেছিল এবং তাঁকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল। কথিত আছে, তিনি তাদের থেকে পলায়ন করে আত্মগোপন করেছিলেন। কাব আহবার রহ. বলেন, ইলিয়াস আ. নিজ সম্প্রদায়ের বাদশার ভয়ে দম পাহাড়ের নিচে গুহার মধ্যে দীর্ঘ দশ বছর আত্মগোপন করেছিলেন। ওই বাদশার মৃত্যু হলে পরবর্তী বাদশার নিকট ফিরে এসে তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন। বাদশা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দশ হাজার লোক ছাড়া তাঁর সম্প্রদায়ের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন। বাদশার নির্দেশে ওই দশহাজার লোককে হত্যা করা হয়।
মাকহুল রহ. কাব আহবার রহ. থেকে বর্ণনা করেন, চারজন নবী জীবিত রয়েছেন। দুজন যমীনে যথা ইলিয়াস ও খিযির আ. আর দুজন আকাশে যথা ইদরীস আ. ও ঈসা আ.। কোনো কোনো লোক বলে থাকেন: ইলিয়াস আ. ও খিযির আ. প্রতি বছর রমযান মাসে বায়তুল মুকাদ্দাসে একত্র হন। প্রতি বছর একত্রে হজ করেন এবং তাঁরা দু'জনই যমযম কুয়ার পানি এমন পরিমাণে পান করেন যে পরবর্তী বছর পর্যন্ত তাঁদের জন্যে যথেষ্ট হয়ে যায়। আবার কথিত আছে, তাঁরা দুজন প্রতি বছর আরাফাতের ময়দানে একত্র হন। বস্তুত এগুলোর কোনোটিই শুদ্ধ নয়। বরং দলীল-প্রমাণে বোঝা যায়, খিযির আ. ও ইলিয়াস আ. ইনতিকাল করেছেন।
ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহ.-সহ অন্যরা বর্ণনা করেন: যখন ইলিয়াস আ.-কে তাঁর সম্প্রদায় মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করল ও তাঁকে কষ্ট দিতে লাগল, তখন তাঁর রূহ কবয করার জন্য তিনি তাঁর প্রতিপালকের কাছে দোয়া করলেন। এরপর তাঁর কাছে একটি চতুষ্পদ জন্তু আসল, যার রঙ ছিল আগুনের মতো। তিনি তার উপর সওয়ার হলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে মূল্যবান নূরের পোশাক পরিধান করালেন, তাঁর পানাহারের স্বাদ তিরোহিত করলেন এবং তিনি একাধারে মানবীয়, ফেরেশতাসুলভ আসমানী ও যমীনী সত্তায় পরিণত হলেন। তিনি ইয়াসা ইবনে আখতুব আ.-কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে যান। এ বর্ণনাটাও ইসরাঈলী ও সন্দেহযুক্ত।
ইমাম বুখারী রহ. আবু হোরায়রা রাযি. এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। খিযির আ.-কে খিযির বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে এ জন্য, একদিন তিনি একটি সাদা চামড়ার উপর বসেছিলেন। হঠাৎ দেখা গেল তাঁর পেছন থেকে সাদা চামড়াটি সবুজ আকার ধারণ করে কেঁপে উঠল। মুজাহিদ রহ. বলেন, তাঁকে খিযির আ. বলা হত এ জন্যে, তিনি যখন কোথাও নামায আদায় করতেন তাঁর আশেপাশের স্থানটিতে ঘাস জন্মাত ও স্থানটি সবুজ হয়ে যেত।
📄 ‘বাআল’ দেবতা
'বাআল' মূর্তিটি পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী সামী কওমসমূহের কুখ্যাত এবং সর্বাপেক্ষা অধিক প্রিয় দেবতা ছিল। এ মূর্তিটি ছিল নর। একে যোহাল ও মুশতারী নামক নারী নক্ষত্র দেবীর স্বামী বলে মনে করা হত। ফাইনাক্কী, কেনানী, মুআবী ও মাদায়েনী গোত্রগুলি বিশেষভাবে এর পূজা করত। সুতরাং 'বাআলের' পূজা প্রাচীনকাল হতে চলে আসছিল, আর মুআবী ও মাদায়েনীরা একে হযরত মূসা আ.-এর যামানা হতে পূজা করে আসছিল। শাম দেশের বিখ্যাত শহর বাআলবাক্কাও এ দেবতার নামের সাথেই সম্পর্কিত। আর হযরত শুআইব আ. মাদায়েনে এ বাআলের পূজকদেরই হেদায়েতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিকদের মতে হেজাযের বিখ্যাত দেবতা 'হুবুল্'ও এ বাআলই বটে। বাআল দেবতার মাহাত্ম্যের অবস্থা ছিল যে সে বিভিন্ন প্রকার মুরব্বীসুলভ দান ও বদান্যতার কারণে বিভিন্ন নামে অভিহিত ছিল।
ইহুদি বা পূর্বাঞ্চলের ইসরাঈলীদের সেখানে বাআলের পূজার জন্য বিভিন্ন মৌসুমে বিরাট মজলিস অনুষ্ঠিত হত এবং এর জন্য বড় ইবাদতখানা এবং কুরবানির স্থান নির্মাণ করা হত। আর শ্রেষ্ঠ ইহুদি জ্যোতিষ পণ্ডিতরা এর ওপর সুগন্ধ দ্রব্যাদির ধোঁয়া দিত এবং নানা প্রকার সুগন্ধ দ্রব্য ছিটাত। কোনো কোনো সময় তার সম্মুখে মানুষও বলি দেওয়া হত। তাফসিরের কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে: 'বাআল' মূর্তিটি ছিল স্বর্ণ নির্মিত, বিশ গজ লম্বা এবং এর চারটা মুখ ছিল। তার সেবার জন্য নিযুক্ত ছিল চারশ সেবক। হযরত ইলিয়াস আ.-এর যামানায়ও ইয়ামন এবং শাম দেশে এ মূর্তিটি প্রিয় দেবতা ছিল। আর হযরত ইলিয়াসের কওম অন্যান্য মূর্তির সাথে এই মূর্তিটিরও বিশেষভাবে পূজা করত।
'বাআল' মূর্তিটি পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী সামী কওমসমূহের কুখ্যাত এবং সর্বাপেক্ষা অধিক প্রিয় দেবতা ছিল। এ মূর্তিটি ছিল নর। একে যোহাল ও মুশতারী নামক নারী নক্ষত্র দেবীর স্বামী বলে মনে করা হত। ফাইনাক্কী, কেনানী, মুআবী ও মাদায়েনী গোত্রগুলি বিশেষভাবে এর পূজা করত। সুতরাং 'বাআলের' পূজা প্রাচীনকাল হতে চলে আসছিল, আর মুআবী ও মাদায়েনীরা একে হযরত মূসা আ.-এর যামানা হতে পূজা করে আসছিল। শাম দেশের বিখ্যাত শহর বাআলবাক্কাও এ দেবতার নামের সাথেই সম্পর্কিত। আর হযরত শুআইব আ. মাদায়েনে এ বাআলের পূজকদেরই হেদায়েতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিকদের মতে হেজাযের বিখ্যাত দেবতা 'হুবুল্'ও এ বাআলই বটে। বাআল দেবতার মাহাত্ম্যের অবস্থা ছিল যে সে বিভিন্ন প্রকার মুরব্বীসুলভ দান ও বদান্যতার কারণে বিভিন্ন নামে অভিহিত ছিল।
ইহুদি বা পূর্বাঞ্চলের ইসরাঈলীদের সেখানে বাআলের পূজার জন্য বিভিন্ন মৌসুমে বিরাট মজলিস অনুষ্ঠিত হত এবং এর জন্য বড় ইবাদতখানা এবং কুরবানির স্থান নির্মাণ করা হত। আর শ্রেষ্ঠ ইহুদি জ্যোতিষ পণ্ডিতরা এর ওপর সুগন্ধ দ্রব্যাদির ধোঁয়া দিত এবং নানা প্রকার সুগন্ধ দ্রব্য ছিটাত। কোনো কোনো সময় তার সম্মুখে মানুষও বলি দেওয়া হত। তাফসিরের কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে: 'বাআল' মূর্তিটি ছিল স্বর্ণ নির্মিত, বিশ গজ লম্বা এবং এর চারটা মুখ ছিল। তার সেবার জন্য নিযুক্ত ছিল চারশ সেবক। হযরত ইলিয়াস আ.-এর যামানায়ও ইয়ামন এবং শাম দেশে এ মূর্তিটি প্রিয় দেবতা ছিল। আর হযরত ইলিয়াসের কওম অন্যান্য মূর্তির সাথে এই মূর্তিটিরও বিশেষভাবে পূজা করত।
📄 উপদেশ
হযরত ইলিয়াস আ. এবং তাঁর কওমের ঘটনা যদিও কুরআন মাজিদে খুব সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে, তথাপি এতে শিক্ষণীয় ব্যাপার হল, বনি-ইসরাঈল বংশীয় ইহুদিদের মনোবৃত্তি এ পর্যায়ে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল- দুনিয়ার মধ্যে এমন কোনো মন্দকাজ ছিল না, যা করার জন্য এরা লালায়িত ছিল না। এবং কোনো ভালো কাজ ছিল না, যার প্রতি তারা আকৃষ্ট হত। আর নবী ও রাসূলদের এক সুদীর্ঘ ও অবিরত ধারা সত্ত্বেও মূর্তিপূজা এবং জড়পদার্থের পূজা, নক্ষত্রপূজা মোটকথা, গায়রুল্লাহর পূজার কোনো শাখাই এমন ছিল না, যার পূজারী এরা হয় নি।
অতএব, কুরআন মাজিদে বনি ইসরাঈল সম্পর্কিত যে সমস্ত ঘটনায় তাদের দুর্ভাগ্য এবং বক্রগতির উপর আলোকপাত হয়, সেখানেই আমাদের এ উপদেশ ও নসিহত লাভ হয়। এখন যেহেতু আম্বিয়ায়ে কেরাম ও রাসূলদের ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং খাতামুন নাবিয়্যিন-এর আবির্ভাব এবং কুরআন মাজিদের সর্বশেষ পয়গাম এ আম্বিয়ায়ে কেরামের ধারাকে খতম করে দিয়েছে, তাই আমাদের জন্য একান্ত কর্তব্য হল, বনি ইসরাঈলের বিকৃত স্বভাব-প্রকৃতি ও বিধ্বস্ত মনোবৃত্তির বিপরীত আল্লাহ পাকের বিধানসমূহকে দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করা এবং তাতে বক্রগতি ও বক্র স্বভাবের আশ্রয় নিয়ে ওই সমস্ত আহকামে ইলাহি অমান্য করার দুঃসাহস না করা। মোটকথা, আমাদের স্বভাব যেন হয়, খোদায়ী বিধানের সম্মুখে আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য; অবিশ্বাস ও বিমুখতা নয়। ইসলামের অর্থ শুধু এটাই।
হযরত ইলিয়াস আ. এবং তাঁর কওমের ঘটনা যদিও কুরআন মাজিদে খুব সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে, তথাপি এতে শিক্ষণীয় ব্যাপার হল, বনি-ইসরাঈল বংশীয় ইহুদিদের মনোবৃত্তি এ পর্যায়ে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল- দুনিয়ার মধ্যে এমন কোনো মন্দকাজ ছিল না, যা করার জন্য এরা লালায়িত ছিল না। এবং কোনো ভালো কাজ ছিল না, যার প্রতি তারা আকৃষ্ট হত। আর নবী ও রাসূলদের এক সুদীর্ঘ ও অবিরত ধারা সত্ত্বেও মূর্তিপূজা এবং জড়পদার্থের পূজা, নক্ষত্রপূজা মোটকথা, গায়রুল্লাহর পূজার কোনো শাখাই এমন ছিল না, যার পূজারী এরা হয় নি।
অতএব, কুরআন মাজিদে বনি ইসরাঈল সম্পর্কিত যে সমস্ত ঘটনায় তাদের দুর্ভাগ্য এবং বক্রগতির উপর আলোকপাত হয়, সেখানেই আমাদের এ উপদেশ ও নসিহত লাভ হয়। এখন যেহেতু আম্বিয়ায়ে কেরাম ও রাসূলদের ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং খাতামুন নাবিয়্যিন-এর আবির্ভাব এবং কুরআন মাজিদের সর্বশেষ পয়গাম এ আম্বিয়ায়ে কেরামের ধারাকে খতম করে দিয়েছে, তাই আমাদের জন্য একান্ত কর্তব্য হল, বনি ইসরাঈলের বিকৃত স্বভাব-প্রকৃতি ও বিধ্বস্ত মনোবৃত্তির বিপরীত আল্লাহ পাকের বিধানসমূহকে দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করা এবং তাতে বক্রগতি ও বক্র স্বভাবের আশ্রয় নিয়ে ওই সমস্ত আহকামে ইলাহি অমান্য করার দুঃসাহস না করা। মোটকথা, আমাদের স্বভাব যেন হয়, খোদায়ী বিধানের সম্মুখে আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য; অবিশ্বাস ও বিমুখতা নয়। ইসলামের অর্থ শুধু এটাই।